10/23/2026
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। বয়স ৮০। ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে, ফ্লোরিডার একটি ছোট চার্চে দাঁড়িয়ে তিনি শোনালেন তাঁর মেয়ের গল্প। তাঁর মেয়ে চেলসি, যখন মাত্র ১৫ বছরের কিশোরী, তখন নাকি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো পবিত্র কোরআন পড়ে শেষ করেছিলেন। তারপর বাবার হাতে একটি পৃষ্ঠা তুলে দিয়ে বলেছিলেন, "বাবা, এটা পড়ো।"
ঘটনাটি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার। ২০ অক্টোবর ২০২৬। ফ্লোরিডার ব্রাওয়ার্ড কাউন্টির Koinonia Worship Center-এ "Multiple Faiths, One Florida" শীর্ষক আন্তঃধর্মীয় অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে বক্তব্য রাখছিলেন বিল ক্লিনটন।
তিনি বলছিলেন, ধর্মের নামে মানুষকে হেয় করার এই সংস্কৃতিতে তিনি ক্লান্ত।
"আমি ক্লান্ত, মানুষকে কেবল মুসলিম হওয়ার কারণে হেয় করা হচ্ছে দেখে" — তাঁর সেই কথাটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে।
এই প্রসঙ্গেই তিনি টেনে আনেন চেলসির কথা। তাঁর একমাত্র মেয়ে চেলসি ক্লিনটন। যিনি তখন হাইস্কুলের ছাত্রী। কোনো পরীক্ষার জন্য নয়, কোনো চাপে নয়, নিছক জানার আগ্রহ থেকে তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন কোরআন। প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত পড়েছিলেন।
ক্লিনটন মঞ্চে বলেন, মেয়ে পড়া শেষ করে তাঁকে একটি আয়াত পড়তে বলেছিল। সেই আয়াতটি ছিল সুরা আল-হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াত। যেখানে বলা হয়েছে, মানবজাতিকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে সৃষ্টি করা হয়েছে যাতে তারা একে অপরকে জানতে পারে, চিনতে পারে। ঘৃণা করার জন্য নয়।
এই গল্পটাই সেদিন তিনি আবার শোনালেন। মেয়েই তাঁকে এই আয়াতের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
চেলসি ক্লিনটনের জন্ম ১৯৮০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। ১৫ বছর বয়স মানে ১৯৯৫ সাল। হোয়াইট হাউসে থাকার সময়টা। বাবা প্রেসিডেন্ট, মা ফার্স্ট লেডি। সেই ব্যস্ত জীবনের মাঝেও মেয়ের বইয়ের টেবিলে ছিল কোরআন। এটা ধর্মান্তর নয়, এটা ছিল অন্য ধর্মকে জানার এক কিশোরীর নির্মল কৌতূহল।
বিল ক্লিনটন সেদিন আরও একটি কথা বলেছিলেন, "প্রতিটি ধর্মেই খারাপ মানুষ আছে, কারণ আমরা সবাই তো ত্রুটিপূর্ণ মানুষ।" ভালো-মন্দের এই সহজ সত্যটাই তিনি শিখেছিলেন তাঁর ১৫ বছর বয়সী মেয়ের কাছ থেকে।
আজ চেলসি নিজেও একজন মা, লেখক এবং জনস্বাস্থ্য গবেষক। কিন্তু বাবার স্মৃতিতে তিনি এখনো সেই ১৫ বছরের কিশোরী, যে বাবাকে ডেকে বলছে — বাবা, এটা পড়ো।
এই গল্প কোনো রাজনীতির নয়। এটা এক বাবা ও মেয়ের গল্প। জানার আগ্রহ কীভাবে ঘৃণার দেয়াল ভাঙতে পারে, তার গল্প। একটি বই কীভাবে দুটি প্রজন্মকে আরও কাছাকাছি আনতে পারে, তার গল্প।
Disclaimer: এই প্রতিবেদনটি Al Jazeera, The Economic Times এবং The Siasat Daily সহ প্রথম সারির আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে তথ্য যাচাই করে লেখা। এটি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য বা ধর্মীয় প্রচারণা নয়, বরং একটি আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারিবারিক মূল্যবোধের মানবিক গল্প হিসেবে উপস্থাপিত।