13/12/2021
_*"শুধু ওষুধ লিখে দিলেই হয় না কিনে খাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কিনা তাও ডাক্তারবাবুকে জানতে হবে"*_
_পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত চিকিৎসক রবি কান্নানের সাক্ষাৎকার থেকে অনুলিখিত..._
*_রোগীর ছেলে বন্ধক!!! বদলে দিল ডাক্তারবাবু রবি কান্নানকে..._*
_ছেলে বন্ধক রেখে চিকিৎসা করাচ্ছিলেন ধর্মনগরের এক ক্যানসার রোগী। বরাক উপত্যকার ক্যানসার বিশেষজ্ঞ রবি কান্নানের পদ্মশ্রী প্রাপ্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছে সেই ঘটনা। *কান্নানের কথায়, ‘‘ছোটখাটো ঘটনা মনে হতে পারে। কিন্তু ওই পরিস্থিতিগুলির মুখে না-পড়লে জীবনটাকে জানতে পারতাম না। সাধারণ চিকিৎসক হয়েই থাকতাম।’’*_
_ক্যানসার ধরা পড়েছিল ধর্মনগরের রমেশ নমঃশূদ্রের (নাম পরিবর্তিত)। কাছাড় ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল তার। *ধর্মনগর থেকে বারবার শিলচর আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন।* ২০০৮ সালে শেষ ডোজটি নেওয়া হয়ে গেলে চিকিৎসক কান্নান যখন পরবর্তী তারিখটা লিখতে যাবেন, *রমেশ কাঁদতে থাকেন। হাতজোড় করে বলেন, আর তারিখ দেবেন না। চোখে জল তাঁর স্ত্রীরও।*_
_কান্নান জানতে চান, সমস্যাটা কী? ৪৫ বছর বয়সি দিনমজুর রমেশ বলেন, *‘‘এ বারই আসতে চাইছিলাম না। কী করে আসব। কাজকর্ম বন্ধ কত দিন!’’ সব বিক্রি করে চিকিৎসা করাচ্ছেন রমেশ। এখন বাকি শুধু বসতবাড়িটা। খদ্দের মেলেনি। তাই এলাকারই এক জনের কাছে সাত বছরের ছেলেকে বন্ধক রেখে পাঁচ হাজার টাকা নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন এবার। ফিরে গিয়ে বাড়ি বিক্রি করে ছেলেকে মুক্ত করবেন।*_
_কথাটা শুনে স্থির থাকতে পারেননি কান্নানও। চশমা খুলে রুমালে চোখ মোছেন। ডেকে পাঠান হাসপাতালের মুখ্য প্রশাসনিক অফিসার কল্যাণ চক্রবর্তীকে। পাঁচ হাজার টাকা রমেশকে দিতে বলেন। সঙ্গে জানান, তার পুরো চিকিৎসা বিনা খরচে হবে। কিন্তু সমস্যা হল, কাজের মরসুমে টাকা পেলেই কি ছেলেকে ছেড়ে দেবে! কিছু দিন তো খাটাবেই। কান্নান ফোন করেন ধর্মনগরের তখনকার বিধায়ক অমিতাভ দত্তকে। তাঁর মধ্যস্থতায় ছেলেকে মুক্ত করান রমেশ।_
_*কান্নান সে দিন বুঝতে পারেন, শুধু ওষুধ লিখে দিলেই হয় না। কিনে খাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে কি না, তা-ও ডাক্তারকে জানতে হবে। না-থাকলে ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে।* রমেশের ঘটনা সোসাইটি পরিচালিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনে। শুরুতে রোগীর তথ্যপঞ্জি লিপিবদ্ধ করা হয়। সঙ্গে নিজের বা পরিচিত জনের ফোন নম্বর। নির্ধারিত দিনে না-এলেই হাসপাতাল থেকে ফোন যায়, কেন এলেন না? কী সমস্যা? দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে রোগীকে নিয়ে আসার দায়িত্ব নেয় হাসপাতাল।_
_শিলচরের মানুষ সোসাইটি বানিয়ে চাঁদা তুলে গড়ে তুলেছেন কাছাড় ক্যানসার হসপিটাল সোসাইটি। ২০০৬ সালে কান্নান চেন্নাই থেকে এখানে আসেন। এখন তিনিই ডিরেক্টর। সঠিক হিসেব জানা না গেলেও অনেকই বলছেন, ৭ হাজারের বেশি ক্যানসার রোগীর জটিল অস্ত্রোপচার করেছেন কান্নান। একটি টাকাও নেননি রোগীর কাছ থেকে। সে জন্যই বাছাই করা হয়েছে তাঁকে। *অনেকে বলেন, এখনও তিনি সোসাইটি থেকে যে বেতন নেন, তা রাজ্য সরকারের এক জন এমবিবিএস ডাক্তারের থেকে বেশি নয়। কান্নান মনে করেন, পদ্মশ্রী এনে দিয়েছেন ওই রমেশই।*_
_*এবার সত্য ঘটনার বিশ্লেষণ। সব জায়গায় কি রবি কান্নানের মত ডাক্তারবাবু পাবেন?* সাদা বাংলায় হলফ করে বলতে পারি পাবেন না। তাহলে? কি করবেন? যদি সত্যিই নিজের জীবনে বা পরিবারের কারও জীবনে এটা ঘটে, তাহলে তো *ভিটেমাটি বন্ধক রেখে টাকার ব্যবস্থা করতে হয়।* আর এইখানেই *ভারতীয় জীবন বীমা নিগমের ক্যানসার কভার পলিসিটির সার্থকতা।* প্রতিদিন *মাত্র ছয় টাকার (একটা চায়ের দাম) বিনিময়ে (বয়স ও মেয়াদের উপর প্রিমিয়াম নির্ভর করে) আপনি পাবেন পঞ্চাশ লাখ টাকার বেশি সুরক্ষা, ক্যান্সারের প্রতিরোধে।* বিশেষ সময়ে সুরক্ষার মেয়াদ চল্লিশ বছর পর্যন্ত বিস্তৃত ( *কি, অবাক হচ্ছেন মেয়াদ যেখানে তিরিশ বছর!!!)*।_
_নিচের প্রেজেন্টেশনটি পুরোটা ধৈর্য্য ধরে পড়ে দেখুন। তাহলে উপরে যা লেখা হয়েছে, তার যথার্থতা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারবেন।_
_*ক্যান্সার কভার পলিসিটি মেয়াদ শেষে কিছু ফেরত দেয় না, এটা সত্যি। কিন্তু ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আর্থিক শক্তি দেয়।* তাই পরিবারের সবার জন্য পলিসিটি অতীব প্রয়োজনীয়। আর *তিরিশ বছর ধরে নিশ্চিন্তে যে ঘুম আপনি দিতে পারেন (পঞ্চাশ লাখ টাকারও বেশি ক্যান্সার সুরক্ষা), তার দাম কি কখনও হিসেব করেছেন?*_
*_তথ্যসূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা_*
_বার্তা ছড়িয়ে পড়ুক দিকে দিকে। জাগ্রত হোক সকলের বিবেক। *চিন্তাভাবনায় আনলে বদল... জীবনে সবাই হবে সফল...*_