সম্পর্ক

সম্পর্ক � প্রেম, ভালবাসা, সম্পর্কের কথা ও গল্প?

We would like to invite you with your family to join us in celebrating Puja of Devi Saraswati (Goddess of Knowledge and Art) with due religous fervour and rekindle the bonds of culture, fraternity and friendship....

09/07/2025
🚨 "আমরা একবার IIT-তে ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগে গিয়েছিলাম, কিন্তু বেতনের কাঠামো দেখেই ৬০% প্রার্থী উঠে চলে গেলেন" — প্রাক্তন I...
16/06/2025

🚨 "আমরা একবার IIT-তে ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগে গিয়েছিলাম, কিন্তু বেতনের কাঠামো দেখেই ৬০% প্রার্থী উঠে চলে গেলেন" — প্রাক্তন ISRO চেয়ারম্যান এস. সোমনাথের খোলাখুলি স্বীকারোক্তি!

🛰️ তিনি আরও বলেন, “আমি সত্যিই চাই আরও বেশি IIT শিক্ষার্থী ISRO-তে যোগ দিন।” কিন্তু বাস্তবতা হল — যোগ্যতা থাকলেও তারা যোগ দেন না। কারণ? অত্যন্ত কম বেতন ও অপ্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।

🇮🇳 ভারতের ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ এখানেই বড় বাধা

আজও আমাদের দেশে সরকারি পদে এমন এক মাপকাঠি চলে, যেখানে বলা হয় — "ক্যাবিনেট সেক্রেটারির চেয়ে বেশি বেতন কেউ পাবে না, কারণ তিনিই দেশের 'সর্বোচ্চ কর্মচারী'।"

কিন্তু প্রশ্ন হল:
🔬 একজন বিজ্ঞানী, যিনি কোয়ান্টাম ফিজিক্স, রকেট ডায়নামিক্স বা স্যাটেলাইট ন্যাভিগেশন-এ দক্ষ,
তিনি কেন একজন আমলা বা ইতিহাস মুখস্থ করে IAS হওয়া ব্যক্তির চেয়ে কম বেতন পাবেন?

🎓 শুধু “পানিপথের তিনটি যুদ্ধ” আর “হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো” মুখস্থ করে প্রশাসনিক চাকরি করা মানুষ যদি সবচেয়ে বেশি মূল্য পায়, তাহলে বৈজ্ঞানিক চিন্তা, গবেষণা আর আবিষ্কারের কদর কোথায়?

🧠 এটাই কারণ — ISRO বা DRDO-তে যোগ দিচ্ছে না মেধাবীরা

IIT, IISc-এর মতো প্রতিষ্ঠানে পড়ে অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী আজ পেছনে ফিরছে কারণ:
✔️ গবেষণার সুযোগ থাকলেও
❌ আর্থিক নিরাপত্তা নেই
❌ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো সহায়তা নেই

🗣️ সময় এসেছে চিন্তাভাবনা বদলানোর

✅ পেশাগত দক্ষতা থাকলে, তার উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে
✅ বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, গবেষক – এদের জন্য থাকতে হবে ভালো বেতন ও সুযোগ
✅ আমলাতন্ত্র বনাম মেধাতন্ত্র – এই বৈষম্য দূর করতে হবে

🔧 "Professional Expertise Deserves Professional Pay" — এই মন্ত্রে বিশ্বাস রেখে আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, তাহলে বিজ্ঞানীদের মর্যাদা দিতে হবে, শুধু কথা নয়, কাজে।

👇 আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না!


Collected

ছবিটা তোলার উদ্দেশ্য হল: গাড়ির সামনে দুজন  #বাইকার,, দুজনের দুই রকম চিন্তাভাবনা...একজন ডেলিভারির বাইক চালাচ্ছে, আরেকজন ...
17/02/2024

ছবিটা তোলার উদ্দেশ্য হল: গাড়ির সামনে দুজন #বাইকার,, দুজনের দুই রকম চিন্তাভাবনা...একজন ডেলিভারির বাইক চালাচ্ছে, আরেকজন বিলাসিতার বাইক চালাচ্ছে। দুজনের বাইক চালানোর গতি ছিল বেপরোয়া।
কিন্তু দেখা গেছে তারা একপর্যায়ে #সিগনালে এসে তাদের গতি থামিয়ে দেয়। তারা চাইলেই আর আগে বাড়তে পারবে না নির্দিষ্ট একটা সময় ছাড়া।

কাজেই:- আমরা যে যতই ধনী-গরিব প্রভাবশালী হয় না কেন ? এমন একটা জায়গা আসবে সেখানে আমাদের গতি থামাতে হবেই এটা বাধ্যতামূলক।

না বলতে শিখুন,,,প্রয়োজন হলে সম্পর্ক বাদ দিয়ে দিন তারপর ও না বলতে শিখুন।  এই লোকটি একটি দোকান দিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করেছি...
21/01/2024

না বলতে শিখুন,,,

প্রয়োজন হলে সম্পর্ক বাদ দিয়ে দিন তারপর ও না বলতে শিখুন।

এই লোকটি একটি দোকান দিয়ে নতুন ব্যবসা শুরু করেছিল,,, এবং তার সমস্ত পরিচিতজন বন্ধু_প্রতিবেশী এবং পরিবার সেখানে কেনকাটা করতো এবং মাঝে মাঝে বাকী ও চাইতো
কয়েক বছর পরে, এই সব বাকী মিলে বড় আকার ধারন করে
কখনও কখনও আমরা হ্যাঁ বলি যখন আমাদের না বলা উচিত ছিল।
আপনি হ্যাঁ বলবেন ভাবছেন আপনি মানুষকে সাহায্য করছেন..
কিন্তু আসলে আপনি হেরে যাচ্ছেন
এবং আপনার কঠোর পরিশ্রম এবং ত্যাগ স্বীকার করছেন,
আপনার সময় খারাপ যাবে এবং বাকী টাকা চাইবেন তখন সবাই আপনার দিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

সবসময় হ্যাঁ বলবেন না...

আপনার ব্যবসায় বিনিয়োগ করুন এবং সঞ্চয় করুন, স্মার্ট হন, সবকিছু হারিয়ে যেতে দেবেন না,,,,,

এটি একটি উদাহরণ এর মধ্যে আরও অনেক কিছু লুকিয়ে আছে।

দয়া করে বন্ধু হউক আত্মীয় হউক পাড়া প্রতিবেশী হউক যে কেউ হউক না বলতে শিখুন কেননা শুন্য হওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ আপনাকে ছাড়বে না যদি না বলতে না শিখুন।

#রাজ_কাব্য
#উপদেশ

 #খারাপ_মানুষ-একটা নীল রঙের শাড়ি দেবেন তো..চোখ ঢুলুঢুলু অবস্থায় বুটিকের ভেতরে প্রবেশ করে বুটিকের মালকিনের সামনে দেবার্পণ...
11/11/2023

#খারাপ_মানুষ

-একটা নীল রঙের শাড়ি দেবেন তো..

চোখ ঢুলুঢুলু অবস্থায় বুটিকের ভেতরে প্রবেশ করে বুটিকের মালকিনের সামনে দেবার্পণ যখন কথাটা বললো তখন তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা তীব্র মদের গন্ধটা বুটিকের মালকিন মানে শুভ্রার নাকে প্রবেশ করা মাত্রই তার অসহ্য বিরক্তি লাগলো।সহ্য হলোনা তার সামনের মানুষটাকে।তাই সে সঙ্গে সঙ্গে দেবার্পনকে উদ্দেশ্য করে মুখের ওপর বলে দিলো-

-বাইরে যান এখান থেকে এখনই..

দেবার্পন বাইরে যাওয়ার ছেলে না।তার পা টলছে,কথা উলটে যায় যায় তবু সে সেই অবস্থাতেই শুভ্রাকে উত্তর করলো-

-কী ভেবেছেন,মদ খেয়ে আছি বলে কী টাকা নেই আমার কাছে..

বলে পকেট থেকে একটা পাঁচশো টাকার নোটের তাড়া বের করে মেয়েটার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে আবার বললো-

-আমি নেশা করতে পারি,কিন্তু আমার হুঁশ আছে।আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আপনার কপালে ওই যে লাল মতন টিপটা..

দেবার্পন যত কথা বাড়াচ্ছে তত তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা মদের গন্ধে শুভ্রার যেন অস্বস্তি লাগছে।তাই সে আগের চাইতে জোর গলায় বললো-

-আপনার টাকা আপনি নিয়ে বেরিয়ে যান।আমি আপনাকে কোনো কিছু বিক্রি করবো না।

দেবার্পন এবার এক কান্ড বাধিয়ে বসলো।সে শুভ্রার পায়ের কাছে
একেবারে বসে পড়ে-

-আমার প্রিয় মানুষটার কাল জন্মদিন।ওকে আমি শাড়িটা দিতে চাই।প্লিজ।দয়া করুন আমার উপর।

এতো বেশ সমস্যার মধ্যে পড়া গেলো।ভাবলো শুভ্রা।আর তাই সে
দেবার্পনকে তার সামনে থেকে সরে যেতে বলে জানালো যে-

-দাঁড়ান দিচ্ছি দিচ্ছি..আপনি ওই খানটায় গিয়ে বসুন..

অনিচ্ছা থাকার সত্ত্বেও শুধু মাত্র ছেলেটা তার বান্ধবীর জন্মদিনে
শাড়ি দেবে বলে অমন করছে সে কয়েকটা নীল শাড়ি বের করবে
বলে ভেতরে গেলো।দেবার্পন নিজের জায়গায় বসে বসে বললো-

-একটাই আনুন।যত দাম হয় হোক।কিন্তু সেটা যেন এখানে আর
কারোর কাছে না পাওয়া যায়।

তবুও শুভ্রা বেশ কয়েকটা শাড়ি নিয়ে এসে দূর থেকেই দেখিয়ে
জিজ্ঞেস করলো-

-কোনটা দেবো?

-যেটা বেস্ট।ইউনিক।একটাই।আপনিই পছন্দ করে দিননা প্লিজ।

-না না,তা বললে হয় নাকি,আপনি আমার পছন্দ কেন নেবেন।টাকা দিয়ে নিচ্ছেন,যেটা আপনার মন যায় সেটাই নিন।

-প্লিজ।ধরুন যদি আপনাকে পছন্দ করতে দেওয়া হত নিজের জন্য সেটা আপনি যেটা পছন্দ করতেন সেটাই দিন।

শুভ্রা দেখলো ছেলেটাকে তাড়াতাড়ি বুটিকের ভেতর থেকে বের
করতে হবে।তাই সে নিজের সব চাইতে পছন্দের শাড়ি যেটা সেটা
সে দেবার্পনের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললো-

-এটা বেশ।৩৫০০ টাকা পড়বে।

দেবার্পন হাতে শাড়িটা নিয়ে ঘোলা চোখে দেখতে দেখতে বলল-

-এটা বেস্ট তো।ওর সবসমই বেস্টটাই চাই।

বলে সে টাকাটা শুভ্রাকে দিয়ে শাড়িটা নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল।
সে চলে যাওয়ার পর শুভ্রার চোখের চেহারায় যেন প্রশান্তি নেমে এলো।কিন্তু মনে মনে আবার এটাও ভাবলো,ছেলেটা মদ্যপ হতে
পারে কিন্তু মন আছে।প্রেমিকার জন্য সাড়ে তিন হাজারের শাড়ি
নিতে দুবার ভাবলোনা।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেবার্পনের যখন খেয়াল পড়লো
যে তার বিছানার পাশে একটা প্যাকেট পড়ে আছে,সে সেইটা খুলে
তার ভেতর থেকে নীল শাড়িটা বের করে নিজেই যেন একবার অবাক হয়ে গেলো।তারপর একটু ভাবতেই তার আগের রাতের
কিছু কথা স্মৃতিতে ভেসে উঠলো।হয়তো নেশার খেয়ালে নিয়েছে
কিন্তু সত্যিই অয়ন্তিকার সেদিন জন্মদিন।অয়ন্তিকা এমনই একটা
শাড়ি চেয়েছিলো তার কাছে।তখন সে দিতে পারেনি।তার কাছে
টাকা ছিলোনা।আজ টাকা আছে অথচ অয়ন্তিকা নেই।জীবন থেকে সে হারিয়ে গেছে চিরতরে।শাড়িটা হাতে নিয়ে স্মৃতির পাতা
য় ভেসে গিয়ে তার চোখের কোনায় অব্যক্ত বেদনা ফুটে উঠলো।
খানিক্ষন নীরব অবস্থায় বসে রইলো সে,হঠাৎ বেজে ওঠা সেল
ফোনের শব্দে তার বুকের ভেতরে জমে ওঠা নীরবতায় কম্পন উঠলো।সে চোখ মুছে সেলফোনটা হাতে নিয়ে দেখে ট্রু কলারে
নাম উঠছে- শুভ্রা লেডিস কর্ণার।শাড়ির প্যাকেটের ওপরে একটু
আগে সে যেই নামটা দেখেছে সেই নাম।কী ব্যাপার,আগের দিন
মদ্যপ অবস্থায় তার সাথে কোনো খারাপ ব্যবহার করেছে নাকি!
ভাবতে ভাবতে ফোনটা রিসিভ করলো-

-হ্যালো..

-হ্যালো,আমি শুভ্রা লেডিস কর্ণার থেকে শুভ্রা বোস বলছি।গতকাল রাতে আপনি একটা শাড়ি নিয়ে গেছেন আমার এখান
থেকে।আপনার মনে আছে আশা করি।আসলে আপনি কাল যা
অবস্থায় ছিলেন...

দেবার্পন,শুভ্রা কেন ফোন করেছে সেটা না জেনেই আগে থেকে-

-সরি,আসলে কাল আমার..আমি কী কিছু..

শুভ্রা তার বলতে চাওয়া কথার অর্থ বুঝে নিয়েই কথার মাঝখানে-

-আরে না না,আসলে কাল আপনি ভুল করেই হয়তো টাকার মাঝ
খানে একটা কাগজ দিয়ে ফেলেছেন আমাকে।আমিও তাড়াহুড়ো
তে খেয়াল করিনি।আজ খেয়াল পড়তেই আপনাকে ফোনটা করলাম।আসলে যদি আপনার কোনো বিশেষ দরকারী কিছু হয়।

দেবার্পন এক ভাবছিলো আর হলো এক।সে সঙ্গে সঙ্গে উঠে গিয়ে
প্যান্ট থেকে পার্সটা বের করে চেক করে দেখলো।একজন ক্লায়ন্ট
যার সাথে আগের দিন বিকালে দেখা করেছিলো।তারই ডিটেলস
যে কাগজটায় লিখেছিলো ওটা হয়তো সেটাই।প্রয়োজনীয় তো বটেই।

-বলছি কি,থ্যাংক ইউ।ভাগ্যিস আপনি আমায় ফোন করলেন।না হলে তো আমি...মানে অসংখ্য ধন্যবাদ।আমি আপনার ওখানে
গিয়ে নিয়ে আসছি ওটা।

-বেশ আসুন।

নীল শাড়িটা সে সুন্দর করে গুছিয়ে তুলে রেখে সেই কাগজটা আনার উদ্দ্যেশ্যে সে বেরিয়ে পড়লো।দেবার্পন একজন ছবি আঁকিয়ে।খ্যাতিও আছে তার বেশ।জীবনে তাই কোনোকিছুর অভাব নেই।শুধু একমাত্র অয়ন্তিকাকে ছাড়া।তার চলে যাওয়াটা
সে মেনে নিতে পারেনি।আর তাই যেদিন সে ভীষন কষ্ট পায়।সে
নিজেকে নেশায় ডুবিয়ে ফেলে।পুরুষ জাতিটাই এই।ভালোবাসায়
আঘাত পেলে তারা নিজের ক্ষতি করতে মুখিয়ে ওঠে।

শুভ্রা লেডিস কর্ণারে পৌছে দেবার্পণ যখন শুভ্রার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো তখন শুভ্রা যেন তাকে চিনতেই পারছেনা।আগের রাতে
কী অবস্থায় দেখেছিলো তাকে,আর আজ তার কী রূপ!দেবার্পন
শুভ্রার থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে একটা নমস্কার করে জানালো-

-অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে।আমি জানিওনা আপনার সাথে কাল
কি বিহেব করেছি,খারাপও লাগছে..

বলতে বলতে আত্মলজ্জায় তার মাথা শুভ্রার সামনে নত হলো।চোখের পলক শান্ত হয়ে গেলো।শুভ্রা কাগজটা বের করেই রেখে
ছিলো,সেটা সে দেবার্পনের দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো-

-আরে ঠিক আছে..এই যে নিন আপনার কাগজটা।আর নম্বরটা
আপনার পেয়েছিলাম কাগজে লেখা কন্ট্যাক্ট নম্বরে ফোন করে।

দেবার্পন এবার ফের তার নত চোখের চাহনি শুভ্রার চোখের দিকে
তুলে তার হাত থেকে কাগজটা নিলো।মেয়েটার ব্যবহার সত্যিই
তাকে মুগ্ধ করেছে।তাই সে আর একবার তাকে ধন্যবাদ না দিয়ে
থাকতে পারলোনা।তাই শুনে শুভ্রা এবার একটু হেসে বললো-

-হয়েছে হয়েছে।তা যার জন্য শাড়ি নিলেন তার শাড়িটা পছন্দ হয়েছে তো,না হলে চেঞ্জও করতে পারেন।অসুবিধা নেই।

শুভ্রার মুখে এই শেষের কথাগুলো শোনামাত্র দেবার্পনের মুখ চোখের ভাষা কেমন যেন বদলে গেলো।শুভ্রা তা বুঝলো।আর তা
বুঝেই বললো-

-পছন্দ হয়নি বুঝি!

-না,তা নয়..

দেবার্পণ আরও কিছু বলতে চেয়েও থেমে গেলো।তারপর একটা
নমস্কার বলে বিদায় নিলো।শুভ্রা এবার বুঝলোনা যে হঠাৎ তার হলো কি।এমনভাবে চলে গেলো যে।যাই হোক,যাক গে।তার কি,
তার তো শুধু ওইটা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব একটা ছিলো।আর সেটা ও দিয়েছে।

এই ঘটনার পর প্রায় এক সপ্তাহ কেটে গিয়েছে।শুভ্রা দেবার্পণের কথা ভুলেও গিয়েছিলো।হঠাৎ করতে সেদিন শুভ্রা তার প্রিয় বান্ধবী অনীশার এনিভার্সারিতে গিয়ে দেবার্পণের সাক্ষাৎ পেলো।
আর সেটা ছিলো ভীষনই আনএক্সপেক্টেড।হলো কি,সেদিন ওর
মানে অনীশার শ্বশুর বাড়িতে সন্ধ্যায় পার্টি এটেন্ড করতে গিয়ে সে
অনীশার ঘরের দেওয়ালে একটা হাতে আঁকা ছবি দেখে মুগ্ধ হয়ে
গেলো।ছবিটা দেখেই সে অনীশার কাছে জানতে চেয়েছিলো-

-কোথায় পেলি রে এটা?

অনীশা বলেছিলো-

-ভীষন সুন্দর না?

-হুম তাই তো জানতে চাইছি..যদি আমিও একটা পেতাম..

-অপেক্ষা কর..স্বয়ং শিল্পীর দেখা পেয়ে যাবি..

সেদিন অনীশার এনিভার্সারির পার্টিতে শুভ্রা যখন চোখের সামনে ওই অদ্ভুৎ ছবিটা যে এঁকেছে তাকে দেখলো,সে তো দেখেই অবাক।দেবার্পন!তার যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস হলোনা।যখন অনীশা দেবার্পনের সাথে শুভ্রার আলাপ করাতে গিয়ে বললো-

-আপনার ওই আমাকে দেওয়া ছবিটার কোনো কপি আছে নাকি
আর?

তখন শুভ্রা আর দেবার্পন একে অপরের দিকে এমন ভাবে চেয়ে ছিলো যে অনীশা তাদের চাহনি দেখে প্রশ্নটা না করে থাকতে পারলোনা-

-আগে থেকে পরিচয় আছে নাকি দুজনের?

ঠিক সেই মুহুর্তে দুজনেই দুজনের চোখের ভাষা পড়ে নিয়ে জানালো-

-কই..না তো..

তারপর অনীশা ওদের মাঝখান থেকে চলে গেলে পর শুভ্রাই প্রথম
প্রশ্নটা করলো-

-আপনি যে এত ভালো ছবি আঁকেন বিশ্বাসই হয় না।

দেবার্পন প্রত্যুত্তরে বললো-

-ওটাই এখন জীবন আমার।

-বেশ কিন্তু সেদিন অমন ভাবে হঠাৎ করতে চলে গেলেন কেন?

দেবার্পন এই প্রশ্নের উত্তরটা দিতে একটু দেরী করলো।তবে দিলো

-আসলে যে মানুষটার জন্য শাড়িটা নিয়েছিলাম,সেই মানুষটা আমার সাথে নেই।আমায় ছেড়ে গেছে।

এই কথাটা শুনে শুভ্রা আরও অবাক হলো।যে নেই তার জন্মদিন
এর কথা মনে তার জন্য উপহার নেওয়া..তাই প্রশ্নটা না করেও সে
থাকতে পারলোনা।

-তাহলে শাড়িটা নিলেন যে?এত ভালোবাসেন মানুষটাকে আজও?

-সে হয়তো আমায় ভুলে গেছে।কিন্তু তার ভালোবাসা আমাকে বয়ে বেড়াতে হয়।আসলে কি জানেন তো,ভালোবাসা এত সহজ না।একবার কাউকে অন্তর দিলে সেখান থেকে সেখান থেকে আর
বেরিয়ে আসা যায়না।

শুভ্রা নীরব হয়ে গেলো দেবার্পনের কথাগুলো শুনে।তার জীবনে কোনোদিন ভালোবাসা আসেনি।তাই হয়তো সে জানেনা ভালবাসা হারালে মানুষের ভেতরে কী চলে।তার নীরব থাকা দেখে দেবার্পন বললো-

-কখনও ভালোবেসেছেন কাউকে?

শুধু একবার ঘাড় নেড়ে জানালো -'না।'তারপর দেবার্পন বললো-

-কখনও কারো ভালোবাসায় পড়োনা।নিজেকে শেষ হয়ে যেতে হবে।

শুভ্রা আবারও ঘাড় নাড়লো ঠিকই কিন্তু সে যে তার নিজের অজান্তেই কখন দেবার্পনকে নিজের মনের কোনে কোনো একটা
জায়গা দিয়ে ফেলতে শুরু করেছিলো তা হয়তো সে নিজেও জানতো না।হয়,এমনটাই হয়..।প্রেম কীভাবে কখন আসে তা কেউ
কী জানে?

খানিক্ষন দু দিকে ফের নীরবতার পর দেবার্পন হঠাৎ করতে হেসে বলে উঠলো-

-আপনি কিন্তু আমার কথা একদম সিরিয়াসলি নেবেন না?

-কেন?

-আমি খারাপ মানুষ।দেখলেন না সেদিন কেমন নেশাগ্রস্ত অবস্থায়
এসেছিলাম।

শুভ্রা দেবার্পনের এই কথার কোনো উত্তর করলোনা।কিন্তু মনে মনে এটা ভেবে কোথাও গিয়ে একটা প্রশান্তি অনুভব করলো যে,এমন একটা খারাপ মানুষ পেতে কার না ইচ্ছে হয়❤️

-শুভঙ্কর সাউ

(ছবি-সংগৃহিত)

প্রতি বছর  #পনেরোই_আগস্টের পরের দিন পাগলটাকে দেখা যায় এ গলিতে ও গলিতে, এ রাস্তায় ও রাস্তায়, এ মোড়ে ও মোড়ে, ডাস্টবিন...
19/08/2023

প্রতি বছর #পনেরোই_আগস্টের পরের দিন পাগলটাকে দেখা যায় এ গলিতে ও গলিতে, এ রাস্তায় ও রাস্তায়, এ মোড়ে ও মোড়ে, ডাস্টবিনের পাশে, নর্দমার ধারে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চষে বেড়ায় শহরের এ কানা থেকে সে কানা, কাঁধে বস্তা নিয়ে ।

সকালবেলা কৌতুহল বশে জিজ্ঞাসা করেছিলাম,
"তোমার নাম কী?"
বলেছিল, "ক্ষুদিরাম" ।

দুপুরে দেখলাম পোষ্ট অফিসের সামনে, ডাস্টবিনে হাত ঢুকিয়ে কী সব খুঁজছে, বললাম,
"কী খুঁজছ ক্ষুদিরাম?"
উত্তর দিল, "আমি ক্ষুদিরাম নই, প্রফুল্ল চাকী।"
অবাক হলাম ।

বিকালে আবার দেখা, বললাম,
"প্রফুল্ল চাকী চা খাবে?"
ও বলল, "আমার নাম কানাইলাল" ।
এবার বিস্ময়।

সন্ধের মুখে বড় রাস্তার মোড়ে জটলা দেখে থমকে দাঁড়ালাম। জিজ্ঞাসা করলাম,
"কী হয়েছে?"
ভীড়ের থেকে একজন বলল, "একটা চোর ধরা পড়েছে।"

ভীড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম, ল্যাম্প পোষ্টে বাঁধা সকালের ক্ষুদিরাম দুপুরের প্রফুল্ল চাকী বিকালের কানাইলাল।
পাশে মাল বোঝাই বস্তা, যা ছিল সকালে খালি।

একজন বলল, ঐ বস্তায় আছে চুরি করা জিনিস ।
খটকা লাগল, জিজ্ঞাসা করলাম,
"চুরি করেছ?"
ও নির্বিকার, কোনো উত্তর দিল না।
আমি বস্তার মুখের বাঁধন খুলে মাটিতে ঢেলে দিলাম , বেরোল ছেঁড়া, ফাটা, দুমড়ানো, মোচড়ানো, প্লাস্টিকের ও কাগজের যত জাতীয় পতাকা । রাস্তা, ডাস্টবিন, নর্দমা থেকে কুড়িয়ে ভরেছে বস্তায় ।

মুহূর্তে ভীড় হল অদৃশ্য, .চোখ ভরা জল নিয়ে বাঁধন খুলে দিলাম পাগলের। আমার মুখের দিকে তাকাল একবার, তারপর মৃদুস্বরে বলল,
"যেন কেউ পা দিয়ে মাড়িয়ে না যায় তাই ...."
তারপর আবার পতাকা গুলো বস্তায় ভরে নিয়ে চলে গেল দূর থেকে দূরে ।
আমি দাঁড়িয়ে রইলাম স্থানুর মতো অপার বিস্ময় আর যন্ত্রণা বুকে নিয়ে ।

(সংগৃহীত)

আজকাল ট্রেনে বাসে রাস্তায় রেস্তোরাঁয় সর্বত্রই জল তেষ্টা পেলে আমাদের হাতে উঠে আসে ঠান্ডা বা নর্মাল সিল করা জলের বোতল।কি...
22/06/2023

আজকাল ট্রেনে বাসে রাস্তায় রেস্তোরাঁয় সর্বত্রই জল তেষ্টা পেলে আমাদের হাতে উঠে আসে ঠান্ডা বা নর্মাল সিল করা জলের বোতল।
কিন্তু এই ফ্রিজ তো হালে এলো!
প্রশ্ন উঠতেই পারে, তখন কি মানুষ ঠান্ডা জল খেতেন না?
আজ্ঞে খেতেন, আলবাত খেতেন।
তখন ফ্রিজ না থাকলেও ছিল ‘ভিস্তি’।
‘ভিস্তি হল এক ধরনের বস্তার মত দেখতে ব্যাগ।
ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি এই বিশেষ থলেকে ‘মশক’ও বলে।
এতে রাখলে ফ্রিজের মতোই ঠান্ডা থাকত জল।
আর স্বয়ং জলদাতা হয়ে এই ভিস্তির জল যারা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিতেন তাদের বলা হত ভিস্তি ওয়ালা।

এই ভিস্তিওয়ালাদের সঙ্গে রয়েছে ইতিহাসের যোগ।
কথিত আছে, মুঘল নবাব হূমায়ুন একবার জলে ডুবে যাচ্ছিলেন।
তখন নবাবকে বাঁচিয়েছিলেন এক ভিস্তিওয়ালা।
এমনকি এই ভিস্তির উপর ভরকরেই সাঁতরে উঠেছিলেন হূমায়ুন।
কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সেই ভিস্তিওয়ালাকে একদিনের জন্য তার আসনেও বসিয়েছিলেন তিনি।
অভিবক্ত ভারতবর্ষের ঢাকায় এবং কলকাতায় জল বিলোনোর কাজ করতেন এই ভিস্তিওয়ালারাই।

কিন্তু স্মার্টফোন সর্বস্ব এই ওভারস্মার্ট যুগে আজকের প্রজন্ম হয়ত জানেইনা ভিস্তিওয়ালাদের কথা।
পার্সি শব্দ ‘বেহেস্ত’ শব্দের অপভ্রংশ হয়ে এসেছে ভিস্তি, এর অর্থ হল স্বর্গ। পৃথিবীর পশ্চিম ও মধ্য প্রান্তে স্বর্গের বেশীরভাগ ছবিতেই মিলেছে নদী ও বাগানের ছবি।
কথিত আছে সেই স্বর্গের নদী থেকে জল এনেই ভিস্তিরা তা বিলিয়ে দিতেন মানুষকে, তাই তাদের স্বর্গের-দূতও বলা হত।

তিলোত্তমাতেও এককালে এদের একচেটিয়া আনাগোনা ছিল।
ভোরবেলা দোর খুলে রাস্তায় বেরোলেই দেখা মিলত ভিস্তিওয়ালাদের।
কাঁধে জল ভরতি চামড়ার ব্যাগ নিয়ে বেড়িয়ে পড়তেন মুসলিম সম্প্রদায়ের এই মানুষগুলো।
দিল্লিতেও একসময় ছিল ভিস্তির চল।
তবে এখনও এই প্রাচীন পদ্ধতি বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম জামা মসজিদের বাইরে মুশতাকিম চায়ের দোকান।
দোকানে গেলেই দেখা যাবে, ঝোলানো রয়েছে ছাগলের চামড়া দিয়ে তৈরি লম্বা লম্বা ভিস্তি।
বহুযুগ ধরে প্রাচীন দিল্লির সাক্কে ওয়ালি গলিতেই ভিস্তিওয়ালাদের বাস।

(সংগৃহীত)

”মানুষ জন্মগত ভাবে মানুষ কিন্তু মনুষ্যত্ব অর্জন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।”____ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 🙏
22/05/2023

”মানুষ জন্মগত ভাবে মানুষ কিন্তু মনুষ্যত্ব অর্জন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।”

____ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 🙏

আমি আমার স্ত্রী নীলা কে সন্দেহ করি। কিন্তু কোন প্রমাণ পাচ্ছি না। তাই বাসার সিসি ক্যামরা লাগিয়েছি। ব্যাপারটা শুনতে অদ্ভুত...
12/06/2022

আমি আমার স্ত্রী নীলা কে সন্দেহ করি। কিন্তু কোন প্রমাণ পাচ্ছি না। তাই বাসার সিসি ক্যামরা লাগিয়েছি।
ব্যাপারটা শুনতে অদ্ভুত লাগছে। কিন্তু তাও আমাকে পরিবারের জন্য এইটা করতে হচ্ছে৷

নীলাদ্রীকে আমি ভালোবেসেই বিয়ে করেছি। তিন বছর প্রেম করে অনেক যুদ্ধ শেষে বিয়ে। কিন্তু আমি সংসারের জন্য দিনরাত কাজ করতে করতে আর বড় ছেলেটা আর ছোটো মেয়েটা হওয়ার পর ভালোবাসা বলতে ফেসবুকে ছবি আপলোড করে ভালোবাসি বলাতেই আটকে রইলো।

নীলাকে এখন আমি চিনতে পারি না। কি খিটখিটে আর ঝগড়াটে হয়েছে। কথায় কথায় খোটা দিয়ে কথা বলা সারাক্ষন রাগ যেন নাকের উপর৷ প্রায় দেখি সন্ধ্যা অবধি চুল ভেজা। জিজ্ঞেস করলে বলে কাজ করতে দেরীতে স্নান। কি এমন কাজ ঘরে?

মা বাবা আর দুইটা বাচ্চা। ভাব এমন যেন মায়েদের মতো পনেরো বিশ জনের কাজ করছে। কোন কাজ ঠিক মতো করে না। একটা জিনিস পাওয়া যায় না। মাঝেমধ্যে শার্ট অবধি আয়রণ করা পাওয়া যায় না। রান্না কোন দিন ঝাল, তো কোন দিন লবণ নেই।
সারাদিন অনলাইন দেখা যায়৷ জিজ্ঞেস করলে বলে একবার হয়ত ডুকি আর অফ করা হয় না। তাই আমার সন্দেহ লাগে। তাই কাল চুপি চুপি সারাঘরে ক্যামরা লাগিয়েছি৷ অফিস থেকে বসে দেখবো।

আমি মনিটর অন করলাম। ফাইল গুলো নিয়ে চোখ বুলাচ্ছি। নীলা এখন রান্নাঘরে সকালে নাস্তার পরে থালাবাসন গুলো পরিস্কার করছে। ফাইল থেকে চোখ তুলতেই দেখি নীলা বেড়রুমে বিছানা গুছিয়ে রাখছে সব রুমের৷ অনিন্দ স্কুলে গিয়েছে। দুই বছরের মেয়ে টিয়া তখনো ঘুম।

টিয়ার জন্য চুলায় খাবার বসিয়ে রুটি সবজি নিয়ে বসলো । আমরা তো অনেক আগে করেছি নীলা এখন নাস্তা করছ। সাথে মোবাইল নিয়ে অনলাইন ঢুকল। আমি এইবার নড়েচড়ে বসলাম। এইবার বুঝি ধরা খেলো বাচাধন।

রুটি কিছুটা মুখে দেওয়ার সাথে সাথে টিয়া উঠে গেলো৷ টিয়ার কাছে গিয়ে ওকে অনেকক্ষন আদর করে ঘুম থেকে তুলে নিলো। টিভির সামনে বসিয়ে দিলো একবার ওর খাবারটা খাচ্ছে আবার রান্না ঘরে টিয়ার খাবার টা রেডি করছে।
টিয়াকে খাওয়াতে নিলো । টিভি দেখছে, দৌড়াচ্ছে। কত কিছু করছে। কিন্তু তখনো অনলাইন দেখাচ্ছে নীলাকে কিন্তু ও বাচ্চার পিছনে ছুটছে।

আমি কাজ করছি আর মনিটরে চোখ বুলাচ্ছি। মেয়ের খাবার শেষ হলো এক ঘন্টায়। নীলা আমার কালকের শার্ট প্যান্ট ছেলের ড্রেস, মেয়ের অনেকগুলো ছোট ছোট ড্রেস সব তুলছে। বাথরুম নিয়ে সব সবান পানিতে রেখে আবার রান্না ঘরে। ফ্রিজ থেকে মাছ মাংস নামিয়ে মাকে বলল তরকারী কেটে দিতে। ভাত আর টিয়ার জন্য খিচুড়ি তুলে দিয়ে একটা কাপড় নিয়ে ঘরে সব ফার্নিচার পরিস্কার করছে। তখনো অনলাইন শো করছিল নীলাকে। মোবাইলে চোখ গেলে এসে ডাটা অফ করে৷ কাজ করছে আবার রান্না ঘরে গিয়ে রান্না দেখছে৷
চুলায় একদিকে তরকারী দিলো খুব দ্রুত আবার পেয়াজ কেটে চুলায় দিচ্ছে। আবার মাংস কাটছে।
তখন বাবা এসে বলল-
- চা দাও তো একটু কড়া করে। আর একটু নাস্তা দাও৷
নীলা চুলায় তরকারী নাড়ছে আবার বাবাকে খাবার দিচ্ছে।
নীলা আবার ছুটছে টিয়া পিছনে ফ্রুটস খাওয়াচ্ছে। এরপর বাথরুমে গিয়ে কাপড় সব ধুয়ে শুকাতে দিলো। নীলা পুরো ভিজে গিয়েছে কিন্তু স্নান করে নি। এত দ্রুত কাজ করছে কেন?
নীলা রান্না শেষ করে সব গুছিয়ে ফেলেছে। তখন মা এসে বলল -
-বেগুন ভর্তা করিও তো শুটকি দিয়ে।
নীলা মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল কিন্তু কোন কিছু বলল না। হঠাৎ আমার ব্যাপারটা চোখে লাগলো। নীলা রাগ ও দেখালো না। এইটা হয়ত প্রতিদিন চলতে চলতে নীলার রাগ হয়ত আগে করতে এখন থেতো হয়ে গেছে। অসহায় লাগছে। নীলা আবার মেয়ের খাবার নিয়ে ছুটছে। কি দুষ্টমি যখন খাচ্ছে না তখন একটা থাপ্পড় দিলো, তখন মা এসে নীলাকে উল্টা বকা দিয়ে টিয়াকে নিয়ে গেলো। খাবার রয়ে গেলো।
নীলা একটু চা খেতে নিলো তখন টিয়া আবার কান্না ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিলো।

নীলা চুলায় বেগুন আর শুটকি দিয়ে ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে। তখন অনিন্দকে স্কুল থেকে নিয়ে এলো বাবা। অনিন্দ এসে শুরু করলো দুষ্টমি। নীলা অনিন্দ আর টিয়াকে স্নান করাতে নিলো। যেন যুদ্ধ করছে। আবার এইদিকে রান্নাঘরে ভর্তার জন্য দেওয়া বেগুন প্রায় পুড়ে গেছে।

নীলা ঘর মুছতে নিলো। রান্নাঘরে গিয়ে ভর্তা করছে আবার ঘর মুছতেছে। বাচ্চাগুলো টিভি দেখা নিয়ে মারামারি করছে। নীলার পরিস্কার করা ঘরে আবার ময়লা করছে। নীলা ওদের বকাবকি করছে। বাসায় থাকলে আমি উল্টা নীলাকে বকা দিই ওদের কিছু বললে। অদ্ভুত ব্যাপার এখন আমার স্বাভাবিক লাগছে।নীলার জায়গায় আমি হলে আরো বেশি রাগ করতাম মনে হচ্ছে। নীলা ঘর মুছে, বাথরুম গুলো পরিস্কার করছে। তখন প্রায় দুইটা।
বাবা ভাত চেয়ে যাচ্ছে। মা কিন্তু টিভি দেখছে তখন। নীলাকে ক্লান্ত লাগছে। নীলা এক গ্লাস পানি খেয়ে আবার রান্না ঘরে গিয়ে ভাত তরকারী সব এনে টেবিলে রাখলো। বাচ্চাদের জন্য খাবার নিচ্ছে। বাবা চিৎকার করছে,
- ভাত দিছো পানি কে দিবে? গলায় ভাত লাগিয়ে মারতে চাও নাকি? আগে পানি দিবে।
নীলা আবার দৌড়ে এসে ফিল্টার থেকে পানি নিয়ে দিলো। এইটা তো বাবাও করতে পারতো।
আমার আবার কেমন যেন লাগছে বুকে। আমি কি করি কখনো এই কাজ টা।

নীলা টিয়াকে খাওয়াচ্ছে। অনিন্দকে বাবা মায়ের সাথে খেতে দিলেও ও খাচ্ছে না। নীলা টিয়াকে চেপে ধরে কোন মতে কার্টুন দেখিয়ে খাওয়াচ্ছে। আবার অনিন্দকে খাটের উপর থেকে ব্যালখনি থেকে ধরে এনে পিঠে একটা দিয়ে ভাত খাওয়াচ্ছে।

বাচ্চারা যখন খাচ্ছে না। নীলা অসহায় ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে। কারো দিকেই না। কিন্তু নীলা বিরক্ত ও না রাগেও না। কেমন যেন।
নীলা এখনো কিছু খায় নি। তাও বাচ্চাদের পিছনে ছুটছে। তখন মা বাবা নীলাকে আবার বকাবকি করছে।
- মাছে ঝাল বেশি হয়েছে, ভাত আরেকটু ফোটাতে পারো না শক্ত থেকে যায়, বেগুন ভর্তায় তো লবণের ছিটেফোঁটা নাই।

-সারাদিন কোন কাজ নাই। টিভি দেখো মোবাইল চালাও আর দুইটা রান্না আরকি। খাওয়া সময়ও যদি ঠিক মতো খেতে না পারি কেমন লাগে?

নীলাকে চরম বিরক্ত দেখাচ্ছে কিন্তু কিছু বলছে না। তখন ও বাচ্চাদের আরো জোরে জোরে থাপ্পড় দিয়ে ভাত খাওয়াচ্ছে।

সবার খাওয়া শেষে নীলা সব থালা বাসন তুলে পরিস্কার করল। বাচ্চাদের আরো কাপড় হয়েছে সেগুলো ধুয়ে শুকাতে দিলো। ব্যালখনির চারাগুলোর যত্ন করে নিজে স্নান করতে গেলো। ওমা নীলা দশ মিনিটে বের হয়ে গেলো। নীলা খেতে বসলো তখন প্রায় সাড়ে তিনটা। নীলা আবার মোবাইল হাতে নিলো। কিছুক্ষন ফেসবুক চালিয়ে ওর মায়ের সাথে কথা বলছে। নীলা ভাত খাচ্ছে তখন বাবা এসে টিয়াকে দিয়ে গেলো বাবা ঘুমাবে। টিয়া বিরক্ত করছে তাও খেয়ে নিলো।
নীলাকে এখন ভীষণ ক্লান্ত লাগছে কিন্তু রেস্ট নিতে পারছে না। টিয়া ঘুমাচ্ছে না। টিয়া ঘুমালো ৫ টার দিকে।
অনিন্দ তখন কি যেন ভেঙে ফেলেছে। ওটা পরিস্কার করে আবার শুয়ে পড়ল। সাড়ে পাচ টায় বাবা আবার চা চাইছে। মা চিৎকার করছে,
-এতক্ষন কিসের ঘুম? ঘরের বউ এতক্ষন ঘুমালে ঘর তো লক্ষীছাড়া হবে৷

নীলা উঠতে পারছে না। পা রাখতে পারছে না। তাও উঠে আবার ঘর ঝাড়ু দিচ্ছে বাবাকে চা দিলো। সবার জন্য নুডুস বানিয়ে আমার জন্য কিছুটা রেখে দিলো। অনিন্দকে পড়াতে বসেছে আর বার বার বাইরের দিকে দেখছে। হয়ত আমার অপেক্ষায়।
তখন আমার বুকটা আবার থম দিয়ে উঠল। অফিস থেকে বের হওয়ার আগে দেখলাম শার্ট আয়রন করছে। তারপর শুয়ে আছে। কোমর ধরেছে।

বাসায় ফিরে এলাম। আজ নীলার সাথে চোখ মেলাতে পারছি না। কিন্তু এইটা নীলা দশ বছর ধরে করে আসছে। কত দিন হিসাব করলে আমি নীলার সামনে দাঁড়াতেই পারব না।
পরের দিন ও সেইম রুটিন নীলার। কোন দিন আরো বেশি। মাঝে মাঝে টিয়াকে কোলে নিয়ে কাজ করে। কারো সাথে মোবাইল কথা বললে সেটায় ওর কথা। সারাদিন আর কার সাথেই বা কথা ওর। আমিও তো দরকারি ছাড়া পাশে বসে কখন গল্প করেছি ভুলে গিয়েছি।

এইভাবে তিন চার দিন দেখার পর নিজেকে ভীষণ অপরাধী লাগছে। কত আদরের মেয়ে ছিলো নীলা। দশটায় ঘুম থেলে উঠে ভার্সিটি যেতো। আমার সাথে দেখা করতে এলে কত সেজে গুজে আসতো, অনেক লম্বা চুল ছিলোম, যত্ন করতো, আর এখন। আমার ঘর আমার সন্তাদের জন্য তো কোন শখ ওর নেই। আর আমি ওকে ভালোবাসতেই ভুলে গেছি।

তখন আমার কলিগ শফিক সাহেব এলো। ওনাকে বললাম,
-শফিক ভাই, আপনার মিসেস তো জব করে,ঘরের কাজ বাচ্চা আপনার মা বাবা কে দেখে?
- আমার মিসেস অনেক করে ভাই, সকালে উঠে রান্না টা করে আসে। দুইটা কাজের মেয়ে আছে। একটা বাচ্চা দেখে আর একটা ছুটা কাজ করে। মা বাবা অসুখ বিসুখ হলে ঝামেলায় পড়ি। নার্স আনতে হয়। বাচ্চাটা সবে স্কুলে দিয়েছি তার জন্য ও টিচার আছে।
- বেতন কেমন তাদের?
-ওরে বাবা, সেটা বলিয়েন না ভাই, ছুটা বুয়ার বেতন ২০০০ টাকা, পার্রমেন্টটা ৫০০০ টাকা। টিচার ৩০০০ টাকা। নার্স আনলে তো ডেইলি ১২০০ টাকা।
আপনার তো ভাই সেসব খরচ নেই। সব একা মিসেসেই করে ফেলে।
আর আমরা ছুটির দিনে প্রায় ঘুরতে যায়। মিসেস সারা উইকেন্ডে কাজ করে রিলেক্স চায়। সেটাও একটা খরচ।

তারপর ভাই মেয়েদের ধন্যবাদ দিতেই হয়। আমার মিসেস সারাদিন কাজ করে আবার ঘরে সব দিকে নজর। কাজের মেয়েটাকে আসলেই ধন্যবাদ এত কিছু সামলাই।

আমার নিজেকে এখন অপর্দাথ মনে হচ্ছে। টাকা দিয়ে কাজ করানো কাজের মেয়েকেও ধন্যবাদ দেওয়া যায় কিন্তু সব কিছু বির্সজন দিয়ে সে এত বছর ধরে আমার সংসার বিনা বেতনেই কাজ করে যাচ্ছে তাকে কখনো কি আমি ধন্যবাদ দিয়েছি একটা?

এখন আমি টুকটাক কাজ করে দিই নীলাকে। নিজের কাপড় নিজে ধুয়ে ফেলি। নীলাকে বলি
-আগে তো কত সেজে থাকতে। যত্নে করতে এখন করো না কেন?
-আগে তো দেখার মানুষ ছিলো এখন আছে নাকি?
-আমাকে বলো কি কি লাগবে এনে দিবো।
নীলা ভ্রু কুচকে তাকায়। আবার মিষ্টি হাসে।

খাওয়া দাওয়ার আগে টেবিলটা ঠিক করে রাখি পানি নিয়ে রাখি। মাঝেমধ্যে ফার্নিচার গুলো আমিই মুছে রাখি। খাওয়া শেষে নীলা যখন থালাবাসন পরিস্কার করে আমি তখন টেবিলটা গুছিয়ে ফেলি। নীলাকে বলেছি তোমাকে আর আয়রন করতে হবে না। ছুটির দিনে আমি দোকানে দিয়ে আসবো।
-টাকা?
- সপ্তাহে ছয়টা শার্ট আয়রন করতে যত টাকা লাগবে তত টাকার তো আমি একবারের চা নাস্তা খাই।

খেয়াল করলাম আমার ছোট্ট ছোট্ট কাজে নীলার কাজের অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে। নিজের যত্ন করে৷ এখন অত রাগারাগিও করে না। আমি ফোন দিয়ে তারাতারি খেয়ে নিতে বলি। এইটা করতে আমার সময় ব্যয় হয় না। কিন্তু নীলাকে দেখি আয়নায় সামনে গিয়ে একটু হাসে। তখন আমার বুকের থম ধরা ভাবটা একটু কাটে।

কেন ক্যামরা লাগিয়েছিলাম নিজেই ভুলে গেছি। এত কিছুর মধ্যে আমি নীলাকে কত সময় দিয়েছি। যা সন্দেহ করেছি তা যদি ঠিক ও হতো দোষটা কি আমার হতো না?
আরেক ছুটির দিনে সব ক্যামরা খুলে ফেলি। নীলাকে সব বলি। নীলা বলে - কি পেলে তো?
- তোমাকে খুজে পেলাম আবার, আমার ঘরের বউ আর বাচ্চার মা নয়। নীলা হিসেবে তোমায় পেলাম।
ধন্যবাদ তোমাকে নীলা।
-কেন?
- এই যে এত কিছু করো আমাদের সংসারের জন্য।
- ধন্যবাদ তোমাকে আকাশ। আমার মতো হাজারো নীলা তো প্রতিটি ঘরেই আছে। যারা সবটা দিয়েই সামান্য ধন্যবাদ আশা রাখেনা। কিন্তু তোমার মতো দেরীতে হলেও কয় জনে সেটা বুঝতে পারে বলো তো?

- তাই? তা তোমাকে ধন্যবাদ হিসেবে জামদানী দিবো ভাবছিলাম। তাহলে লাগবে না মনে হয়। হি হি হি।

- ওমা। কেন লাগবে না? আর আমি তোমাকে ধন্যবাদ হিসেবে তিতা করলার রস খাওয়াবো কাল থেকে।
তোমার পেট বেড়ে যাচ্ছে।
-এমা, না না।

নীলা তখন উচ্চস্বরে হেসে উঠল। ঠিক আগের প্রেমিকার মতো। ও তো প্রেমিকায় রয়ে গেছে শুধু আমি প্রেমিক হতে ভুলে গেছি।

নীলা হাসছে, তার সাথে হাসছে ঘরের দেওয়াল টা, ছবির ফ্রেমটা দেখি দুলে দুলে হাসছে, বারান্দার সিল্কের পর্দাটা খুব জোরে বাতাসে দুলছে। বারান্দার নয়নতারা ফুলের গাছটা হাওয়ার ঝোকে হাসছে নীলার হাসির সাথে।

💟💟 collected 💟💟

সমাপ্ত


ভালো লাগলে লাইক কমেন্ট শেয়ার করতে ভুলবেন না ধন্যবাদ

এক জন ব্যক্তি আগুনের শিখার মধ্যে থেকে একটি সাপকে পুড়তে দেখে সেটিকে আগুন থেকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি সাপটিকে ধরত...
01/06/2022

এক জন ব্যক্তি আগুনের শিখার মধ্যে থেকে একটি সাপকে পুড়তে দেখে সেটিকে আগুন থেকে মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি সাপটিকে ধরতে না ধরতেই সাপটি তাকে কামড়ায় ৷
এবং এটি ব্যক্তিটির যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার কারণ হয়। ব্যক্তিটি তৎক্ষণাৎ সাপটিকে ফেলে দেয় এবং সাপটি আবার জ্বলন্ত শিখায় পড়ে যায়।
এই মুহুর্তে ব্যক্তিটি চারদিকে তাকাতে গিয়ে একটি ধাতব লাঠি খুঁজে পায় ৷ আগুনের শিখা থেকে সাপটিকে বাঁচাতে তিনি লাঠিটি ব্যবহার করেন ৷
আরেকজন ব্যক্তি, যিনি ঘটনাটি দেখছিলেন তিনি ব্যক্তিটির কাছে এসে তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "এই সাপটি আপনাকে কামড়ালো! আপনি কেন তার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করছেন?"
প্রথম ব্যক্তিটি জবাব দেয়: "সাপের স্বভাব কামড়ানো, তবে এটি আমার স্বভাব পরিবর্তন করবে না,
আর আমার স্বভাব হচ্ছে সাহায্য করা৷"
কারো আঘাতের কারণে আপনার স্বভাবের পরিবর্তন করবেন না। আপনার মনের পবিত্রতাকে হারাবেন না।সাবধানতার সাথে কাজ করতে শিখুন.!

সূত্র - ইন্টারনেট
পোস্টেড বাই - লিপি সরকার

💡💙⚖️
27/05/2022

💡💙⚖️

Unbelievable😂😅
27/05/2022

Unbelievable😂😅

Address

Netai, Lalgarh;
Medinipur
721516

Telephone

9734040260

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when সম্পর্ক posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share