26/07/2026
🌙 হেরা গুহার আলো ও হাজার মাসের শ্রেষ্ঠ রাত: লাইলাতুল কদরের গল্প
মক্কার চারদিকে তখন অন্ধকারের রাজত্ব। মানুষ মূর্তিপূজায় নিমজ্জিত, অন্যায়-অত্যাচার আর কুসংস্কারে সমাজ ভরে গেছে। এসব দেখে সত্যের সন্ধানে প্রায়ই জাবালে নূরের হেরা গুহায় নির্জনে ইবাদত করতেন ৪০ বছর বয়সী মুহাম্মদ (ﷺ)। তিনি জানতেন, এই পৃথিবীর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অবশ্যই সত্যের পথ রয়েছে।
রমজানের এক বরকতময় রাতে হেরা গুহায় উপস্থিত হন ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.)। তিনি বললেন, "ইক্বরা" (পড়ো)। নবীজি (ﷺ) বললেন, "আমি পড়তে জানি না।" তিনবার আলিঙ্গনের পর জিবরাঈল (আ.) আল্লাহর প্রথম ওহী পৌঁছে দিলেন। এভাবেই শুরু হয় পবিত্র কোরআন নাজিলের মহান যাত্রা এবং মানবজাতি পায় হেদায়েতের চিরন্তন আলো।
বহু বছর পরে একদিন নবীজি (ﷺ) সাহাবীদের বনী ইসরাইলের এমন এক ব্যক্তির কথা শোনালেন, যিনি টানা এক হাজার মাস আল্লাহর পথে ইবাদত ও সংগ্রামে কাটিয়েছিলেন। এই কথা শুনে সাহাবীরা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। তাঁরা ভাবলেন, তাঁদের আয়ু তো অনেক কম—তাহলে এত বেশি নেক আমল কীভাবে অর্জন করবেন?
সাহাবীদের এই অনুভূতি দেখে আল্লাহ তাআলা নাজিল করলেন সূরা আল-কদর। সেখানে ঘোষণা করা হলো, "লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।" অর্থাৎ, এই এক রাতের আন্তরিক ইবাদত, তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার সওয়াব হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও বেশি।
এই মহিমান্বিত রাতে আল্লাহর নির্দেশে অসংখ্য ফেরেশতা এবং জিবরাঈল (আ.) পৃথিবীতে নেমে আসেন। তাঁরা ইবাদতরত বান্দাদের জন্য রহমত ও ক্ষমার দোয়া করেন। রাতভর পৃথিবী শান্তি ও বরকতে ভরে থাকে, আর ফজর পর্যন্ত আল্লাহর বিশেষ রহমত বর্ষিত হতে থাকে।
✨ শিক্ষা
লাইলাতুল কদর আমাদের শেখায়, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য রহমতের দরজা সবসময় খোলা রাখেন। তাই এই রাতকে ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, তওবা এবং আন্তরিক দোয়ায় কাটানোই একজন মুমিনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য।