03/06/2020
১০টি ফজিলতপূর্ণ আমল যা আমাদের সারাবছরের দৈনন্দিন রুটিনে থাকা উচিত :
✪আমলঃ- ১ ★
🍁প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষে "আয়াতুল কুরসি' পাঠ-
🔘ফজিলতঃ-
আবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামায শেষে আয়াতুল কুরসী পড়ে, তার জান্নাতে প্রবেশ করতে মৃত্যু ছাড়া কোন কিছু বাধা হবে না।
[সহীহ আল্ জামে :৬৪৬৪]
[সিলসিলাহ সহিহাহ, হাদিস নং- ৯৭২]🍁
✪আমলঃ- ২ ★
🍂 বারো রাকাত সুন্নত সালাত;
প্রতিদান হল "জান্নাতের মহল"
আম্মাজান আয়েশা (রাযিঃ) হইতে বর্নিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ১২ রাকাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ নিয়মিত আদায় করবে তার জন্য আল্লাহতায়ালা জান্নাতে মহল নির্মান করবেন।
৪ রাকাত যোহরের পূর্বে, ২ রাকাত যোহরের পর, ২ রাকাত মাগরিবের পর, ২ রাকাত ইশার পর, ২ রাকাত ফজরের পূর্বে।
[সুনানে নাসায়ী, তিরমিযী] 🍂
✪আমলঃ- ৩ ★
🍁প্রত্যেক ওযুর পর কালেমা শাহাদত পাঠ -
"উচ্চারনঃ-আশহাদু আল্লাহ ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়ারাসুলূহু'
🔘ফজিলতঃ-
"যে ব্যাক্তি ওযু করার পড় কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করবে ঐ ব্যাক্তির জন্য জান্নাতের ৮টি দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং যে কোন দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে"
[সহিহ মুসলিম, হাদিস নং-২৩৪]🍁
✪আমলঃ- ৪ ★
🍂প্রত্যেক ফরজ নামাজ শেষেঃ-
🔘৩৩ বার সুবহানাল্লাহ,
🔘৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ্,
🔘৩৪ বার আল্লাহু আকবার
এবং ১বার এই দোয়াটি পড়া লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন কাদীর পাঠ করে সর্ব মোট ১০০বার পূর্ণ করবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ হইয়া যাবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনার সমতুল্য হয় (মুসলিম, মিশকাত তাহকীক ৯৬৭/৩০৫)🍂
✪আমলঃ- ৫ ★
🍁 সকাল ও সন্ধ্যায় সাইয়িদুল ইস্তিগফার পড়া।
ক্ষমার শ্রেষ্ঠ দুয়া।
~~~~~
রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এই দো‘আ পাঠ করবে, দিনে পাঠ করে রাতে মারা গেলে কিংবা রাতে পাঠ করে দিনে মারা গেলে, সে জান্নাতী হবে’।
ﺍَﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻰْ ﻵ ﺇِﻟﻪَ ﺇﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻰْ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ، ﺃَﻋُﻮْﺫُﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ، ﺃﺑُﻮْﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻰَّ ﻭَﺃَﺑُﻮْﺀُ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻰْ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْﻟِﻰْ، ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻻَﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮْﺏَ ﺇِﻻَّ ﺃَﻧْﺖَ -
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা আনতা রববী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা খলাক্বতানী, ওয়া আনা ‘আবদুকা ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু, আ‘ঊযুবিকা মিন শাররি মা সানা‘তু। আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া ওয়া আবূউ বি যাম্বী ফাগফিরলী ফা ইন্নাহূ লা~ ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।
[সহীহ বুখারী ৬৩০৬]🍁
✪আমলঃ- ৬ ★
🍂সুরা ইখলাস পাঠ করা – ১০ বার, না পারলে ৩ বার।
🔘ফজিলতঃ-
আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে রাতে বারবার সুরা আল-ইখলাস পড়তে শুনেছেন। অতঃপর সকালে মহানবী (সা.)-কে এ বিষয়টি অবহিত করা হলো। মহানবী (সা.) তখন বলেন, ওই সত্তার শপথ, যার কুদরতের হাতে আমার জীবন, অবশ্যই এ সুরা কোরআন মাজিদের এক-তৃতীয়াংশের সমান।
(সহিহ বুখারি : ৫০১৩, আবু দাউদ : ১৪৬১, নাসায়ি : ২/১৭১, মুআত্তা মালেক : ১/২০৮🍂
✪আমলঃ- ৭ ★
🍁১০০ বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি
যে ব্যাক্তি সকালে ও সন্ধ্যায় ১০০ বার করে ‘সুবহা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী’ পড়বে।তার গোনাহ মাফ হয়ে যাবে, যদিও তা সাগরের ফেনা থেকেও বেশী হয়’। (বুখারী ও মুসলিম)🍁
✪আমলঃ- ৮ ★
🍂প্রতিরাতে সূরা মুলক পাঠ-
ফজিলত-
আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন; ” কোরআন শরীফে ৩০ আয়াত বিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার তেলাওয়াতকারীকে ক্ষমা করে না দেয়া পর্যন্ত তার জন্য সুপারিশ করতেই থাকবে। সূরাটি হলো تبارك الذي بيده الملك.– #তাবারাকাল্লাযী বি ইয়াদিহিল মূলক অর্থাৎ #সূরা মূলক #
(আবু দাউদ-১৪০২, তিরমিজি-২৮৯১, ইবনে মাজাহ-৩৭৮৬, মুসনাদে আহমদ-২/২৯৯)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো রাতে সুরা মূলক না পড়ে ঘুমাতেন না।
(তিরমিজি-২৮৯২, হিসনে হাসিন)
🍂
✪আমলঃ- ৯ ★
🍁সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পড়া –
রাতে ঘুমানোর আগে ১ বার
বাংলা উচ্চারণ-
"আ-মানার-রাসুলু বিমা- উনজিলা ইলাইহি মির রাব্বিহি ওয়াল মু’মিনুন। কুল্লুন আমানা বিল্লাহি ওয়া মালা-ইকাতিহি ওয়া কুতুবিহি ওয়া রুসুলিহি, লা নুফার-রিকু বাইনা আহা’দিম-মির রুসুলিহ। ওয়া 'ক্বলু সামি’না, ওয়া আতা’ না, গুফরা নাকা, রব্বানা ওয়া ইলাইকাল মাসির।
লা~ ইউ কাল্লিফুল্লাহু নাফসান ইল্লা উস-আ’হা। লাহা মা কাসাবাত ওয়া আ’লাইহা মাক তাসাবাত। রব্বানা লা~ তু আখিজনা- ইন্ নাসিনা- আও আখত্বা’না। রাব্বানা ওয়ালা তাহ’মিল আ’লাইনা ইসরান কামা হা’মালতাহু আ’লাল্লাজিনা মিন ক্ববলিনা। রব্বানা ওয়ালা তুহা’ম্মিল না মা-লা~ ত্ব কতালানা বিহ। ওয়া আ’ফু আ’ন্না, ওয়াগ ফিরলানা, ওয়ার হা’মনা। আনতা মাওলানা, ফানসুরনা আ’লাল ক্বওমিল কা-ফিরিন।
নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রাতে এ দুটি আয়াত পাঠ করবে তার জন্য এটাই যথেষ্ট।’
এর ব্যাখ্যায় কেউ বলেন, এর অর্থ রাতের নামাজ, কেউ বলেন শয়তান থেকে মুক্তি, কেউ বলেন বিপদ থেকে মুক্তি, কেউ বলেন, মানুষ ও জ্বীনের অনিষ্ট থেকে মুক্তি। )🍁
✪আমলঃ- ১০ ★
রাতের_বেলা_একশো_আয়াত_তেলাওয়াত
ফজিলত-
🍂তামীম দারী রা.থেকে বর্ণিত , নবী(সা:)বলেছেন,
যে ব্যক্তি একরাতে ১০০টি আয়াত তেলাওয়াত করবে,সেই ব্যক্তিরর আমলনামায় ঐ রাতের ইবাদত বন্দেগী ও নফল সলাত এর সোয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে।
সূত্র আহমদ:১৬৯৫৮,নাসাঈ কুরবা:১০৫৫৩, ত্বাবারানী:১২৩৮,সিলসিলাহ সহীহ :৬৪৪
১০০ আয়াত যেভাবে পূর্ণ করতে পারেন-
১.সূরা মুলক--------------------৩০ আয়াত।
২.সূরা কাহাফ-------------------প্রথম১০আয়াত।
৩.সূরা ফাতিহা-------------------৭আয়াত।
৪.সূরা কাফিরুন-----------------৬আয়াত।
৫.সূরা ইখলাস(৩বার)--------------১২আয়াত।
৬.সূরা ফালাক(৩বার) --------------১৫ আয়াত।
৭.সূরা নাস(৩বার)--------------------১৮আয়াত।
৮.বাকারার শেষ (২আয়াত)--------২ আয়াত।
--------------------------------------------------------------------------
সর্বমোট =১০০আয়াত
✪বি:দ্র: যেকোনো সূরার যেকোনো আয়াত হলেই হবে।উপরের আয়াত গুলো দেওয়ার কারণ হলো ঐগুলোর আলাদা কিছু ফজিলতও আছে। তাই আশা করা যায় একসাথে দুই ফজিলত ই পাওয়া যাবে ইন শা আল্লাহ।🍂
💜সবশেষে ১০টি আমলই রিপিট করা যাক :
১।আয়াতুল কুরসি
২।বারো রাকাত সুন্নাত নামাজ
৩।কালেমায়ে শাহাদত
৪।৩৩➤সুবহানাল্লাহ;৩৩➤আলহামদুলিল্লাহ ;৩৪➤আল্লাহু আকবার
৫।সকাল ও সন্ধ্যায় সাইয়িদুল ইস্তিগফার
৬।সুরা ইখলাস-৩ বার ও ১০ বার
৭।১০০ বার সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি
৮।রাতে সূরা মুলক
৯।রাতে সুরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত
১০।রাতের বেলা ১০০ আয়াত তেলাওয়াত
(সংগৃহীত ও সম্পাদিত)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, যদি তা একটি আয়াত ও হয়।
(বুখারী-৩৪৬১)