08/06/2022
রাসূল সাঃ এর বিবিদের মর্যাদায় আল্লাহপাক কুরআনুল কারীমে ইরশাদ করেছেন যে, রাসূলের বিবিগণ হলেন উম্মতের মাতা। কাজেই রাসূল সাঃ ও তাঁর বিবিদের সাথে উম্মতের সম্পর্ক, পিতা-মাতার সম্পর্কের ন্যায়। পিতা-মাতার প্রতি অসম্মান, কোন কউম প্রদর্শন করবে না। তেমনিভাবে পিতা-মাতার প্রতি অসম্মান, কোন কউম বরদাস্ত করবে না।
রাসূলপাক সাঃ আল্লাহপাকের নিকট কি পরিমাণ প্রিয়, তার ছোট একটি উদাহরণ পেশ করছি। যুগে যুগে এই পৃথিবীতে যত নবী-পয়গম্বর প্রেরিত হয়েছেন তাদের প্রত্যেককে আল্লাহপাক তাদের নিজ নিজ নাম ধরে সম্বোধন করেছেন। কুরআনে এরকম অসংখ্য বিবৃতি আছে, যেমনঃ
হে আদম- তুমি আর তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর!
হে নূহ- আমার পক্ষ থেকে শান্তি ও বরকতসহ অবতরণ কর!
হে ইব্রাহিম - তুমি স্বপ্নে দেখা হুকুমকে সত্যে পরিণত কর!
হে মূসা- ভয় করো না!
হে ইয়াহিয়া - তুমি এ কিতাবকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর!
হে জাকারিয়া - আমি আপনাকে একটি পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি। তার নাম ইয়াহিয়া!
কিন্তু রাসূলেপাক সাঃ কে সম্বোধনের বেলায়- সমস্ত কুরআনে সুরা ফাতিহা থেকে সুরা নাস পর্যন্ত এমন একটা উদাহরণ নেই যেখানে আল্লাহপাক রাসূল সাঃ কে নাম ধরে সম্বোধন করেছেন। আল্লাহপাক তবে রাসূল সাঃ কে কিভাবে সম্বোধন করেছেন। আল্লাহপাক রাসূল সাঃ কে সম্বোধন করে বলেছেনঃ
হে নবী- কাফের ও মুনাফিকদের মান্য করবেন না!
হে বস্ত্রাচ্ছিদ ব্যক্তি - রাতে সালাতে দাঁড়ান কিছু অংশ ছাড়া!
হে বস্ত্রাবৃত - উঠুন এবং সতর্ক হউন!
আল্লাহপাক এটি করেছেন রাসূল সাঃ এর সম্মানার্থে। হ্যাঁ, আল্লাহপাক রাসূলের নাম মুহাম্মদ উচ্চারণ করেছেন। তিনি রিসালাত এবং নব্যুয়তকে তাঁর সাথে যুক্ত করার সময় রাসূল সাঃ এর নিজ নাম নিয়েছেনঃ
মুহাম্মদ - একজন রাসূল ব্যতীত কিছু নন!
মুহাম্মদ- রাসূল ও শেষ নবী!
রাসূল সাঃ কে স্বয়ং আল্লাহপাক যে কি পরিমাণ ভালবাসেন, তার আর একটি সুমহান নমুনা এবার পেশ করছি।
উহুদের যুদ্ধে রাসূল সাঃ এর দুইটি দাঁত মুবারক শহীদ হয়। কুরাইশরা উহুদের প্রান্তের তাঁকে আহত করেন। ৭০ জন সাহাবী ও কুরআনের হাফিজ শাহাদাত বরণ করেন। এত ক্ষতি স্বীকারের পরও রাসূল সাঃ সেই কওমকে বদদোয়া করেননি। বরং দোয়াতে হাত তুলে সেই কওমের জন্য নাজাত চেয়েছেন; হেদায়েত চেয়েছেন।
পক্ষান্তরে, খনদকের যুদ্ধে ২ জন সাহাবীর শাহাদাতের বিনিময়ে আল্লাহপাক মুসলমানদের বিজয়ী দান করেছিলেন। সে যুদ্ধে জয়লাভের পরও একটি বিষয়ে রাসূল সাঃ এতটাই ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন যে তিনি নামাযের দোয়াতে কাফিরদের জন্য জাহান্নামের আগুন চেয়েছিলেন। কাফিরদের কারণে সেবার খনদকের যুদ্ধে রাসূল সাঃ এবং তাঁর সাহাবিদের আসরের নামায কাযা হয়েছে এবং মাগরিবের নামাযের শেষে আসরের কাযা নামায আদায় করতে হয়েছে। সেই কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বদদোয়া করেছেন।
নিজের দাঁত শহীদ হওয়াটা ছিল রাসূল সাঃ এর কাছে নিজের হকের ব্যাপার। তিনি তা মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু আসর নামায কাযা হওয়া ছিল আল্লাহপাকের হক। এই হক আদায় করতে না পারায় তিনি তা মানতে পারেননি।
আল্লাহপাক রাসূল সাঃ এর এই আচরণে এতটাই খুশি হয়েছিলে যে, তাৎক্ষণিকভাবে হাদীসে কুদসির মাধ্যমে আল্লাহপাক ঘোষণা করেন যে, আপনি যেহেতু আপনার হককে বাদ দিয়ে আমার হককে তুলে ধরেছেন, আজ থেকে আমি নতুন নিয়ম চালু করলাম। আজ থেকে আমি আমার হকের উপরে আপনার হককে তুলে ধরলাম। সেটা কিভাবে।
সেটা এভাবে- যদি আজ থেকে আপনার কোন উম্মত নামায না পড়তে পারে, সে কাফের হবে না, ফাসেক হবে, জাহান্নামে জ্বলবে, কোনদিন মুক্তি পাবে। বিপরীতে
কোন হতভাগা যদি আপনি রাসূলেপাক সাঃ এর একটি নূরময় চুল মোবারক নিয়েও মন্তব্য করে, আমি আল্লাহ আজকে আইন করে দিলাম- সে কাফের হয়ে যাবে।
পূর্বের কোন নবীর ক্ষেত্রে এই বিধান আল্লাহপাক রাখেননি যে সম্মান আল্লাহপাক রাসূল সাঃ এর জন্য রেখেছেন; তাঁকে দিয়েছেন।
সেজন্য ৪ মাযহাবের সবাই মিলে এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, কোন মুসলমান যদি আল্লাহপাকের শানে বেয়াদবি করে, ইসলামকে অস্বীকার করে, তাকে ৩ দিন সময় দেয়া হবে তওবা করার জন্য। সে তওবা করলে কতল করা হবে না। কিন্তু
কেউ যদি নবীর শানে গুস্তাখি করে, তাকে মুরতাদ ঘোষণা করে তাকে ক*ল করা হবে। তার জন্য তওবার সুযোগ দেয়া হবে না।
রাসূল সাঃ মুমিন বান্দাদের নিকট তাদের নিজদের অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ঠ। এটি কুরআনের নির্দেশনা। আল্লাহর হাবিব আল্লাহর নিকট এত প্রিয় হলে মুমিন মুসলমানদের নিকট আল্লাহর হাবিব অসীম প্রিয়; জান কুরবান প্রিয়।
অতএব, রাসূলের শানে বেয়াদবি বরদাস্তের অযোগ্য।।
(পোস্টটি শেয়ার করা যাবে। তবে কষ্ট করে লিখিত বিধায় উপযুক্ত ক্রেডিট দিতে হবে)