11/12/2022
জনগণের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক ইসলামী ব্যাংক
প্রিয় গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রথম শরী‘আহ্ভিত্তিক ইসলামী ব্যাংক। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের আপামর জনসাধারণের সহযোগিতা, সমর্থন ও ভালবাসায় সিক্ত ইসলামী ব্যাংক আজ দেশের বৃহত্তম ব্যাংক। সুদমুক্ত ও কল্যাণমুখী ব্যাংকিং ধারার প্রবর্তক ইসলামী ব্যাংক সকল সূচকে দেশের শীর্ষ ব্যাংক। চার দশকের পথচলায় ইসলামী ব্যাংক শরীআহভিত্তিক ব্যাংক ব্যবস্থার সফল বাস্তবায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষি ও ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়ন, শিল্পায়ন, প্রবাসী সেবা, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন প্রভৃতির ক্ষেত্রে জাতীয় অর্থনীতিতে অনবদ্য অবদান রেখে চলেছে।
দেশের প্রায় ১ কোটি ৯০ লক্ষ গ্রাহক আস্থার সাথে ১ লক্ষ ৫২ হাজার কোটি টাকা জমা রেখেছেন ইসলামী ব্যাংকে যা দেশের মোট ব্যাংকিং আমানতের এক-দশমাংশ। গ্রাহকদের এই বিপুল আমানত বিনিয়োগ করা হয়েছে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও শিল্প উন্নয়নে। এ ব্যাংকের বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৮৫ লক্ষ মানুষের।
দেশের তৈরি পোশাক খাতের ৩৬ শতাংশ এবং টেক্সটাইল খাতের ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এবং ২ হাজারের বেশি কৃৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠেছে ইসলামী ব্যাংকের অর্থায়নে। দেশের ৪০ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার বিকাশ ঘটেছে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক এ পর্যন্ত দেশের ৩০ হাজার গ্রামের প্রায় ১৫ লক্ষ প্রান্তিক পরিবারের মাঝে ৪২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রদান করেছে যার ৯২ শতাংশের বেশি সুবিধাভোগী হচ্ছেন নারী।
প্রবাসীদের বিশ্বস্ত বন্ধু ইসলামী ব্যাংক। দেশের রেমিট্যান্সযোদ্ধা প্রবাসী ভাই-বোনদের আয় ব্যাংকিং চ্যানেলে আহরণে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করছে ইসলামী ব্যাংক। এককভাবে দেশের এক-তৃতীয়াংশ বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরিত হয় এ ব্যাংকের মাধ্যমে। এ যাবত প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ থেকে ব্যাংক তার নিজস্ব চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ১২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে জমা করেছে। দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও সর্বাধিক অর্থায়ন করে থাকে ইসলামী ব্যাংক। দেশে খাদ্য ঘাটতি পূরণে চাল, গম, ডাল, চিনি, ভোজ্য তেলসহ অন্যান্য পণ্য আমদানিতেও বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ প্রদান করেছে ইসলামী ব্যাংক। দেশের মোট চাহিদার সিংহভাগ সার আমদানি হয় ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে।
সম্প্রতি কয়েকটি শিল্পগ্রুপে ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য পরিবেশন করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের বক্তব্য হচ্ছে, ইসলামী ব্যাংক কোন কাগুজে প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেনি। যেসব প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ দেয়া হয়েছে অতীতে তাদের কোন বিনিয়োগ খেলাপি হয়নি। কোভিড-১৯ পরবর্তী বাস্তবতায় সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা চালানো এবং সারাদেশে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর পর্যাপ্ত সরবরাহ অব্যাহত রাখার জন্য ইসলামী ব্যাংক ২০২২ সালে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের হারে অস্থিরতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানির চাহিদা বৃদ্ধি প্রভৃতি কারণেও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া দেশের সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবেলায় ইসলামী ব্যাংকের পরীক্ষিত আমদানিকারক ও সরবরাহকারী গ্রাহকদের মধ্যে যাদের সর্বাধিক সরবরাহ চ্যানেল রয়েছে তাদের মাধ্যমে ভোগ্য পণ্য আমদানি ও যোগান অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে বিনিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। এক্ষেত্রে দেশের নিয়ম কানুনের কোন ব্যত্যয় হয়নি।
এ ব্যাংক দেশের সকল বিধিবদ্ধ আইন, নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের নিয়ম-নীতি আন্তরিকতার সাথে পরিপালন করে আসছে। ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং রেটিং এজেন্সি ইসলামী ব্যাংকের অবদানকে মূল্যায়ন করছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরভিত্তিক দ্য এশিয়ান ব্যাংকার ম্যাগাজিন ইসলামী ব্যাংককে ‘স্ট্রংগেস্ট ব্যাংক ইন বাংলাদেশ’ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেছে। এছাড়া বিগত ১০ বছর ধরে বিশ্বসেরা এক হাজার ব্যাংকের তালিকায় ইসলামী ব্যাংক দেশের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্যাংক হিসেবে অবস্থান করছে। ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ক্রেডিট রেটিং সম্পন্ন “মোস্ট সাসটেইনেবল” ব্যাংক।
আমরা সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, গত ৪০ বছরের পথচলায় ইসলামী ব্যাংক কখনো লক্ষ্যচ্যূত হয়নি। এখনো ইসলামী ব্যাংক দেশের জনসাধারণের আস্থা ও ভালোবাসায় তার আপন মহিমায় অগ্রসরমান। ব্যাংকে কোন তারল্য সঙ্কট নেই। এ ব্যাংকে সবার গচ্ছিত আমানত সবচাইতে নিরাপদ। অতীতের মতোই আগামী দিনে দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংক সর্বোচ্চ অবদান রেখে যাবে ইনশাআল্লাহ।