21/12/2025
বিগত আওয়ামী লীগ আমলে দেখেছি, কিছু দুষ্ট ব্যাংক কীভাবে ততোধিক দুষ্ট কাস্টমারদের লোন দিত।
কাস্টমার সেই বছর লোনের টাকা খরচ করতো। পরের বছর যখন ফেরত দিতে পারতো না, তখন কী হতো?
ব্যাংক পুরোনো লোনটা “খারাপ” বলে ঘোষণা না করে,
লোনের এমাউন্ট ডাবল করে নতুন লোন দিত,
আর সেই নতুন লোন দিয়েই পুরোনো লোন এডজাস্ট করে ফেলত।
সেন্ট্রাল ব্যাংকের নিয়মে এটা ঠিক না।
কিন্তু বাস্তবে-এভাবেই চলেছে।
এই জায়গায় এসে আমরা ভাবি,
“এ রকম চালাকি আর কোথায় আছে?”
আছে।
আর সেটা এক কাঠি সরেস।
আমেরিকার সরকারের কথাই ধরুন।
আমেরিকার হাতে ঠিক আপনার পকেটে থাকা credit card-এর মতো একটা জিনিস আছে—
নাম Debt Ceiling।
এই লিমিটের ভেতরে থেকেই তারা সরকার চালায়,
যুদ্ধ করে,
বিশ্বের মোড়লগিরি করে।
সমস্যা একটাই—
বছর শেষে যে পরিমাণ টাকা ফেরত দেয়ার কথা,
সে অনুযায়ী তাদের আয়-রোজগার হয় না।
আমাদের এস আলম সাহেবের লিমিট বাড়াতে
মন্ত্রী-মিনিস্টার ধরা লাগে,
ব্যাংকে এপ্লিকেশন লাগে।
আমেরিকান সরকারের এত ঝামেলা নেই।
ওরা নিজেরাই নিজেদের সংসদে বসে
ক্রেডিট লিমিট বাড়িয়ে নেয়।
কিন্তু সমস্যা হয় তখনই,
যখন এই লিমিট নতুন করে সেট করতে গেলে
বিরোধী দল বাধা দেয়,
সাংবাদিকেরা লেখে,
আর বুদ্ধিজীবীরা “গেল গেল” রব তোলে।
এই ঝামেলা এড়াতেই
ওদের উর্বর মস্তিষ্ক থেকে জন্ম নেয়
এক অসাধারণ ব্যবস্থা-
Debt Ceiling Suspension
ব্যাপারটা এমন-
ধরেন, আপনার credit card issuer ব্যাংক একদিন এসে বললো:
“বাবা, তোর এক লাখ টাকার কার্ড আছে।
টাকা দিতে বলছি, দিচ্ছিস না।
যাহ, এই বছর তোর কার্ডে কোনো লিমিট নেই।
প্রয়োজন মতো খরচ কর।
বছর শেষে যত টাকা পাওনা থাকবো-
সেটাই হবে তোর নতুন লিমিট।”
এই ব্যবস্থার সুবিধা কী?
আমেরিকা কত টাকা নতুন করে ঋণ নিচ্ছে,
তা নিয়ে আর বড় বড় হেডলাইন হয় না।
পেপারের কোনো এক কোণায় ছোট করে লেখা থাকে—
“Debt ceiling temporarily suspended.”
সাপও মরলো,
লাঠিও ভাঙলো না।
বর্তমানে আমেরিকার ডেট সিলিং
৪১.১০ ট্রিলিয়ন ডলার।
তাই আমি ঠিক করেছি,
সামনে যদি কখনো ব্যাংকের এমডি হই-
আমি আমার কাস্টমারদের জন্য
মাঝে মাঝে
Suspension-এর ব্যবস্থা আনবো।
After all,
এভাবেই তো চলছে।