25/08/2026
পবিত্র ঈদ ই মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আলো ও মহিমান্বিত শিক্ষা আমাদের সবার জীবনের দিকনির্দেশনা। কিন্তু বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন যুগে এই পবিত্র দিনটি কীভাবে উদযাপিত হয়ে এসেছে, তার পেছনে রয়েছে বহু বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় ইতিহাস।
হিজরি ১০ম শতাব্দীতে মিসরের ফাতেমীয় খিলাফতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম মিলাদুন্নবী উদযাপিত হয়। শুরুতে এটি সাধারণ মানুষের জন্য ছিলো না। কেবল রাজপরিবারের সদস্য ও দরবারের মানুষদের মধ্যে মিষ্টান্ন বিতরণের মাধ্যমে পালিত হতো। এরপর ১২০৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবির ভগ্নিপতি মুজাফফর আল-দিন গোকবোরি প্রথম সর্বসাধারণের জন্য মিলাদুন্নবী উদযাপনের সূচনা করেন। রাজকীয় আয়োজন, মেলা এবং সুফি-আলেমদের নিয়ে কাসিদা পাঠের প্রথা চালু হয়।
১৫৮৮ সালে অটোমান (উসমানীয়) সাম্রাজ্য এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। মিলাদুন্নবীর রাতে সব মসজিদের মিনারে মোমবাতি বা প্রদীপ জ্বালিয়ে আলোকসজ্জা করা হতো। সেই থেকে তুরস্কে এই রাতকে ‘মেভলিদ কান্দিলি’ বা ‘প্রদীপের রাত’ বলা হয়।
মিলাদুন্নবীতে তিউনিসিয়ায় পাইন গাছের বীজ দিয়ে 'আসিদাত জোগুগো' নামের পুডিংজাতীয় বিশেষ এক মিষ্টান্ন তৈরি করা হয়। এদিকে ভারতবর্ষে তৈরি করা হয় হালুয়া-রুটি। সুদূর পূর্ব আফ্রিকার লামু দ্বীপে জিকিরের পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী গাধা দৌড় (Donkey Race) প্রতিযোগিতা অয়োজিত হয়।
পবিত্র ঈদ ই মিলাদুন্নবীর দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব সাহিত্যে 'মাওলিদ সাহিত্য' (Mawlid Literature) নামের সম্পূর্ণ পৃথক একটি ধারার সৃষ্টি হয়েছে। বিখ্যাত 'কাসিদা বুরদা' বা ইমাম আল-বারজানজির মতো কালজয়ী কাব্যগুলো এই উদযাপনকে কেন্দ্র করেই রচিত হয়েছিলো।
আর এভাবেই ঈদ ই মিলাদুন্নবী হয়ে উঠেছে সারা পৃথিবীর মুসলিমদের উদযাপনের বিশেষ একটি দিন।
#ঈদে_মিলাদুন্নবী_ﷺ_মাহফিল
#১২ইরবিউল_আউয়াল #ইসলামিক #ইতিহাস