29/08/2026
নেপালের মর্মান্তিক বিপর্যয়ে গভীর শোক ও সংহতি
নেপালের তিব্বত-চীন সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনায় ব্যাপক প্রাণহানি ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
এই আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বহু মানুষের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু, যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। অসংখ্য মানুষ হারিয়েছেন তাঁদের প্রিয়জন, নিরাপদ আশ্রয় ও জীবনের ন্যূনতম অবলম্বন। এই বিপর্যয় নেপালের মানুষের জন্য এক গভীর মানবিক সংকট।
জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান অভিঘাত আজ আর কোনো একটি দেশ বা অঞ্চলের সমস্যা নয়—এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অস্তিত্বের সংকট। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও হিমবাহ গলনের পেছনে শিল্পোন্নত দেশগুলোর দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশের ওপর নির্বিচার চাপের ঐতিহাসিক দায় অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অথচ এর সবচেয়ে নির্মম পরিণতি ভোগ করছে নেপালের মতো জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো, যারা বৈশ্বিক উষ্ণায়নে তুলনামূলকভাবে সামান্যই অবদান রেখেছে।
তাই নেপালের এই অপূরণীয় মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে ঐতিহাসিকভাবে অধিক কার্বন নিঃসরণকারী শিল্পোন্নত দেশগুলোর উচিত ন্যায্যতা ও জলবায়ু-দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে যথাযথ অর্থনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
এই কঠিন সময়ে নেপালের শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত সুস্থতা ও পুনর্বাসন কামনা করি।
নেপালের জনগণের দুঃখ ও দুর্দশার সঙ্গে আমরা গভীর একাত্মতা প্রকাশ করছি।
নেপালের এই সংকট মানবতার সংকট—এবং এর দায় ও প্রতিকারও হতে হবে বৈশ্বিক।