22/07/2023
এই দেশে সৎ কে?
একটু সুযোগ পেলেই কাচামরিচের দাম উঠে যাচ্ছে আকাশে। আবার ভারত থেকে আমদানীর কথা শুনেই সেই দাম নেমে যাচ্ছে। গরম আসলেই চার্জার ফ্যানের দাম নিজে নিজেই বেড়ে যায়। প্রতি ফ্যানে ২০০০ টাকা লাভ করে নিজেকে সৎ দাবি করা ব্যবসায়ী তো আছেই।
মুরগীর ডিম মুরগী থেকে বের হলেই কারসাজি শুরু।বড় ব্যবসায়ী ছোট ব্যবসায়ী পাড়ার দোকানদার যে যেমনে পারে কারসাজি করে। নিজে নিজে মুরগীর দাম বাড়ায়া বসে থাকা এক ব্যবসায়ী ব্যাংকে চাকরী করা বন্ধুকে বলতাছে মামা, আল্লাহ ব্যবসাকে করেছে হালাল, আর সুদকে হারাম। আমিও ভাবি, কোরানে তো ভুল নাই,ভুল তো হয় মানুষের।
ব্যবসায়ীদের কথা বাদ,যারা কায়িক পরিশ্রম করে, হতে পারে তারা সৎ।গেলাম রিক্সাওয়ালা মামার কাছে।একটু বৃষ্টির ছোয়া পেলেই মামা ৩০টাকার ভাড়া ১০০ টাকা করে বসে আছে।তাও হাত পা ধরে ১০০ টাকায় রাজী করাইলাম।প্যাডেল চালাতে চালাতেই উনি জ্ঞান দেয় সততা নিয়ে।আমি শুনি, চুপ থাকি।
২০টাকা রিক্সা ভাড়া না দিয়ে হলে ঢুকে পরা ছাত্রটি শুনিয়েছিল সততার গল্প। ক্যাম্পাসের মিন্টুর কথা বলি,মিন্টুর ভাই চাকরী করে চতুর্থ শ্রেণীর,চার লাখ টাকার বাইক কিনে দিছে মিন্টুকে।সেই বাইকে বসেই আমারে বলতেছিল অসৎ মানুষ তার ভয়ংকর অপছন্দের। আমিও মাথা নেড়ে জানান দিলাম কথা সত্য।
প্রেমিকের চাকরী হয় নাই বলে ছেড়ে যাওয়া প্রেমিকা বলছিল বিদেশ চলে যাবে, এই অসৎ এর দেশে টিকে থাকা দায়।
২০১৫-১৬ সালের দিকে মেবি একবার ইন্টার পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হইল।স্টুডেন্টের মা বাবারা আমার মাথা খারাপ করে দিলো প্রশ্নের জন্য। তারা তাদের সন্তানদের হাতে তুলে দিতে চায় ফাঁস হওয়া প্রশ্ন।তেমন এক আন্টি বলেছিল, উনি চান উনার ছেলে সৎভাবে চলুক।হায়রে সততার শিক্ষা।
সততার গল্প শুনতে গিয়েছিলাম ওয়াজ মাহফিলে।নাদুস নুদুস চেহারার হুজুর এসে এক ঘন্টা গল্প করে দুই লাখ টাকা নিয়ে চলে গেলো।তিনিও হাদীস কোরান দিয়ে বুঝাইলেন এই দেশে কে কে অসৎ।আমি হাসলাম।
বেসরকারী হাই স্কুলে ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিয়ে ইসলাম শিক্ষার সহকারী শিক্ষক হিসেবে জয়েন করেছে আমার বন্ধু। সে ক্লাসে এখন সততা পড়ায়।
আমি চারপাশে তাকিয়ে দেখি অসৎ এর হাটবাজার।কেও আর্থিকভাবে অসৎ,কেও সুবিধাবাদী অসৎ,কেও ছোট অসৎ,কেও বড় অসৎ।কিন্তু সবাই আঙুল তুলে আছে অন্যের দিকে।
এই দেশে সবাই নিজে নিজে সৎ।
অসৎ তো থার্ড পার্সন সিঙুলার নাম্বার।
লেখা
নাজিরুল ইসলাম