27/05/2022
ফরেক্স ট্রেডিং কি হালাল না হারাম?
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত মানুষ এর জীবনে যে সকল কার্য কলাপ করে থাকে তার একটি মাপকাঠি ইসলাম এ দেয়া ররেছে। এটি সম্পূর্ণ ভাবে স্বচ্ছ এবং খুব বেশি জটিল করেও দেয়া হয় নি। যাতে সাধারণের বুঝতে এবং মেনে চলতে যেন অসুবিধা না হয়। কিন্তু কিছু মানুষ এটাকে খুবই জটিল ভাবে বোঝে বা উপস্থাপন করে। অনেক সময় গুলিয়েই ফেলে। যেমনটি ফরেক্স এর ক্ষেত্রে সবাই করে থাকেন। আসুন আমরা আগে দেখি ইসলামে কোন ধরণের লেনদেন নিষিদ্ধ।
পবিত্র কোরআনে রয়েছে, ‘অথচ আল্লাহ বেচা-কেনা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। অতএব, যার কাছে তার রবের পক্ষ থেকে উপদেশ আসার পর সে বিরত হল, যা গত হয়েছে তা তার জন্যই ইচ্ছাধীন। আর তার ব্যাপারটি আল্লাহর হাওলায়। আর যারা ফিরে গেল, তারা আগুনের অধিবাসী। তারা সেখানে স্থায়ী হবে। (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৭৫)
হজরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) এর পিতা থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়, তার সাক্ষী যে হয়, আর দলিল যে লিখে তাদের সকলেরই ওপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৩৮০৯, মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস নং-৪৯৮১)
আমরা দেখতে পেলাম এখানে আল্লাহ ও তার রাসূল কঠোর ভাবে সুদ কে নিষিদ্ধ করেছেন । এখন আমাদের সাথে দেখতে হবে আমরা যারা ফরেক্স এ ট্রেড করছি আমরা সুদ নিচ্ছি বা দিচ্ছি কিনা। সে ক্ষেত্রে আমাদের সকলের উদ্দেশ্য বা নিয়ত অনুযায়ী আমরা ফরেক্সে কেউই সুদের লেনদেন করছি না। অর্থাৎ আমাদের কারো এখানে উদ্দেশ্য নেই আমরা একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ জমা করে কিছু না করেই বসে বসে প্রফিট গ্রহণ করবো। অন্য দিকে ব্রোকার ও আমাদের কোন অর্থ দিচ্ছে না এই শর্তে যে আমরা উহার উপরে একটি নির্দিষ্ট অর্থ তাদেরকে দিবো।আপনি যখন ডিপোজিট করছেন তখন আপনি হয়তো একটি চার্জ ব্রোকার কি দিতে বাধ্য হন তবে এটি সুদ নয়. এটি তাদের লেনদেন ব্যবস্থাকে ব্যবহার করবার একটি ফি। তবে স্ক্রিল নেটেলার দিয়ে deposite করলে কোনো ফি কাটে না।
এরপরে আপনি যখন লিভারেজ গ্রহণ করেন তখনি কেবল আপনার একাউন্ট এ ব্রোকার অর্থ বিনিয়োগ করে। এখন আমাদের দেখতে হবে এই লিভারেজটি কি হারাম না হালাল? লিভারেজ হলো ঋণ। পৃথিবীতে সবার অর্থনৈতিক অবস্থা সব সময় অনুকূল থাকে না। কখনো কখনো সমস্যা ও প্রয়োজন মানুষকে ঋণ করতে বাধ্য করে। তাই বাধ্য হয়ে অন্যের সহযোগিতার মুখাপেক্ষী হতে হয়। তাই জীবন চলার পথে ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইসলাম এ বিষয়ে মানুষকে উৎকৃষ্ট পদ্ধতি ও দিকনির্দেশনা দিয়েছে। মহান আল্লাহ মানবজাতিকে ঋণ গ্রহণ করার অনুমতি দিয়েছেন, তেমনি যথাসময়ে ঋণ পরিশোধের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন।ফরেক্স করতে গিয়ে কেউ শখ করে লিভারেজ নেন না। বাধ্য হয়েই নেন। আর এই লিভারেজ বা ঋণ পরিশোধ এর কন মেয়াদ নেই আপনাকে এই ঋণের পরিবরতে কোন অর্থ বা মুনাফা দিতে হয় না।অর্থ এখানে ঋণদাতা ঋণ গ্রহিতাকে কোনরূপ লাভ দেবার ব্যপারে শর্ত দেয় না। ইসলামের পরিভাষায়, ‘ঋণ হলো শুধুমাত্র সহযোগিতার জন্য অন্যকে কোনো অর্থ-সম্পদ দেওয়া, যেন গ্রহীতা এর মাধ্যমে উপকৃত হয়, পরে দাতাকে সেই সম্পদ কিংবা তার অনুরূপ ফেরত দেওয়া।’ লিভারজের অর্থ ব্রকার তখনি ফেরত নেয় যখন আপনার বিনিয়োগ ক্রিত অর্থ সম্পুন লস হয় অথবা আপনি অর্থ উত্তলন করে ফেলেন ।
ইসলামে ঋণ আদান-প্রদান করা বৈধ। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত। রাসুল (সা.) নিজেই ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। ঋণ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। এবং তাঁর উম্মতকে ঋণমুক্তির দোয়া শিখিয়েছেন। এমনকি রাসুল (সা.) অমুসলিমের কাছ থেকেও ঋণ গ্রহণ করেছেন। সুতরাং ইসলাম মুসলমানদের বিপদে-আপদে এবং বিভিন্ন প্রয়োজনে অন্যের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করার অনুমতি দিয়েছে। তারপরেও যদি আপনার কোনরূপ আশঙ্কা থাকে লিভারেজ নিয়ে আপনি ১:১ লিভারেজ বেছে নিবেন । ১:১ লিভারেজ বেছে নিলে আপনি শুধুই আপনার অর্থ দিয়েই ট্রেড করবেন। সেক্ষেত্রে লাভ লস খুব কম হবে ।আর আপনাকে অনেক অর্থ বিনিয়গ করতে হবে । কম অর্থ থাকলে ট্রেড ওপেন হবে না । কম অর্থ থাকলে ট্রেড ওপেন হবে না ।
এরপর স্প্রেড এর বিষয়ে অনেকে আপত্তি করে থাকেন।কিন্তু যারা এই বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলেন তাদের ব্রোকার সম্পরকে কোন ধারনাই নাই। ব্রোকার বা দালাল হল সেই ব্যাক্তি বা সংস্থা যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অপরের মাল বিক্রি করে দেয় অথবা অপরকে মাল ক্রয় করে দেন ।যদিও আমাদের সমাজে দালালকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয় তবুও দালালরা আধুনিককালের বিস্তৃত বিশাল ব্যবসা-বাণিজ্যের অপরিহার্য অংশ। শুধু এ কালেই নয়, প্রাচীনকাল থেকেই হাটে-বাজারে ছিল তাদের সরব উপস্থিতি। সময়ের স্বল্পতা, অনুপস্থিতি, মাল বা মূল্য সম্পর্কে ধারণার অপরিপক্কতা, নিরাপত্তার অভাব ইত্যাদি কারণে মালের মালিক বা কিনতে আগ্রহী ব্যক্তি অপরকে বেচা-কেনার দায়িত্ব দিতে বাধ্য হন।ওই দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা দালাল তার মেধা, শ্রম ও সময় ব্যয় করে অপরের উপকার করে থাকে। আবহমানকালের মানুষের স্বাভাবিক এ প্রয়োজনকে স্বভাব ধর্ম ইসলাম স্বীকৃতি দিয়েছে।ইসলামের দৃষ্টিতে দালাল হলো- আজিরে মুশতারিক বা সময়মুক্ত শ্রমিক। অতএব, অন্যান্য শ্রমিকের মতোই দালালি হালাল হওয়ার জন্য শর্ত হলো, পারিশ্রমিক পূর্বেই নির্দিষ্ট করে নেওয়া।
পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট হওয়ার দু’টি পদ্ধতি। যথা-
ক. পরিমাণ নির্দিষ্ট করা।
খ. দামের অংশ নির্দিষ্ট করা।
দালালের উপরোক্ত উভয় ধরণের পারিশ্রমিক হালাল। পরিষ্কার ভাষায় বিনিময়ের পরিমাণ নির্দিষ্ট করে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকলে একটি মাল বেচা-কেনা করে দিয়ে উভয় পক্ষ থেকে দালালি গ্রহণ করাও হালাল হবে। সুতরাং আপনি ব্রকারকে স্প্রেড
এর মাদ্ধ্যমে যে কমিশন দিতে বাধ্য হন এটিও হারাম নয় । এ ছাড়াও আপনি যদি ব্রোকার এর আন্ডারে কেনাবেচা করার জন্য কোন প্রকার চার্জ এর সম্মুখিন হন সেটিও হালাল। কারন রাসুল সাঃ ব্যবসা করতেন এবং হাট বাজার এর নিরধারিত ফি বা ঠন কি উনি প্রদান করতেন না? ইহা মহানবির জন্মের আগ থেকেই প্রচলিত একটি প্রথা। আরব সহ সকল বাজারেই এটি প্রচলিত ছিল।
এরপরে আরও যে বিষয়ে বিতর্ক তোলা হয় সেটা হল সোয়াপ মানি ।যেটা আপনি ট্রেড একধিক দিনের জন্য ওপেন করে রাখলে দিতে হয় । এটিও কিন্তু প্রচলিত সুদ বা রিবা নয় যেটি ইসলাম এ ঘ্রিনা করা হয়েছে । এটি নেগেটিভ বা পসেতিভ হয় ।কখন ফি কাটবে বা আরও অর্থ যুক্ত হয়। আমি এটির বিষয়ে কারো সাথেই তরকে যাই না কারন আমি এটি সম্পূর্ণ স্কিপ করতে পারি সোয়াপ ফ্রি একাউন্ট ব্যবহার করি বিধায় । আপ্নারাও সোয়াপ ফ্রি একাউন্ট বা ইসলামিক একাউনট ব্যবহার করে সুদের আসঙ্কা দূর করতে পারেন ।
এবার কিছু বুজুরগানে দিন (যদিও কতটুক জানে আল্লাহ ভাল বঝেন ) ইসলামে কারেন্সি ট্রেডিং হালাল না হারাম এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বসবেন। তাদের বলি রাসুলের যুগে কিন্ত কোন কারেন্সিই ছিল না । তখন বিনিময় প্রথা চালু ছিল । এখন কারেন্সি যদি পণ্য হিসেবে বিবেছনা করা হয় তাহলে আপনি কি পেয়ার গুলতে ট্রেড এর সময় এক মুদ্রার বা পণ্য এর বিনিময়ে অন্য মুদ্রা বা পণ্য দিচ্ছেন না ? এটি কিভাবে হারাম হতে পারে। এখানে মুদ্রাটিই পণ্য। কেউ আবার যাহা রাসুলের যুগেই ছিল না এমন সব কিছুকেই হারাম বলে ফেলেন!! আপনি কোরান এর কোন আয়াত দেখাতে পারবেন যেখানে আল্লাহ নিজে ঘোষণা দিচ্ছেন যে কুরান এর বাইরে কোন বিষয় এই মহাজগতেই নেই ? আল্লাহত সকল নবির কথাই কুরান এ উল্লেখ করেন নি মাত্র ২৫ জন নবি সম্পরকে বলেছেন । কিন্তু এই পর্যন্ত তিনি অসংখ্য নবি রাসুল প্রেরন করেছেন । তেমনি রাসুলের যুগে ছিল না কিন্তু এখন আছে এবং যে জিনিশ সম্পরকে রাসুল ভবিষ্যৎ বানীও করেন নি তা থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে এই লজিক কই পাইলেন আপনারা? রাসুলের যুগে সোনা রুপা কেনা বেচা হত তাই গোল্ড আর রুপায় ছাড়া ট্রেড করা যাবে না এইতা সম্পূর্ণ হাস্যকর যুক্তি ।রাসুলের যুগেত আরবের তেল এর আবিস্কার হয়নি তাই বলে কি তারা তেল বেচবে না? এগুলো একধরনের ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং শুধু ফরেক্স নয় অন্যান্ন বিষয়ে এইরুপ ঘারতেরামির কারনে ফিতনা ফ্যাসাদে লিপ্ত হন কথিত মুমিনগন । আবার কেউ কেউ বলেন ফরেক্স এর ট্রেডিং ভার্চুয়াল তাই এটি হালাল নয়। ব্যবসা করতে হবে হাতে হাতে । ভাই এটিও সম্পূর্ণ মূর্খতা অন্তত এই যুগে যে যুগে আপনি বিকাশ,রকেট,নগদে, ক্রেডিট ডেবিট কার্ড, পেপাল,স্ক্রিল এ লেনদেন এ বাধ্য। এগুলো দিয়ে লেনদেন এর সময়্ কি হাতে হাতে টাকা দেন? আর এসব চুল চেরা বিশ্লেশন কারিগন আসলে প্রকৃত রুপে ভণ্ড। তর্কের খাতিরে তারা ডাবের বিশুদ্ধ পানি ছাড়া খান না কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ডোবার পানিও খান । অনেক কট্টরপন্থি জান্নাতি পাখিকে আমি দেখেছি সুদ ভিত্তিক ইন্সুরেন্স,ব্যাংক সহ আরও ধান্দাবাজি এম এল এম ব্যবসা করতে এমনকি ইভালির এজেন্ট হইতে ।এদের মত ভাবলে বিদ্দুত, আধুনিক সব যন্ত্র, মসজিদের মাইক,আই পি এস, বাতি, ফ্যান,এসি পর্যন্ত হারাম কারন রাসুলের যুগে ছিল না এগুলো !!
রিবা বা সুদের পরে যে বিষয়টি দেখতে হবে তা হল ফরেক্সকি জুয়া বা ভাগ্য নিয়ন্ত্রিত কিছু? এ ব্যাপারে সফল ট্রেডকারি ব্যক্তিরা আমার সাথে একমত হবেন যে এটি কোন ভাগ্যের ব্যাপার নয় । ফরেক্স এর কারেন্সির দাম কত হবে তা একটি ভ্যারিয়েবল বিষয় এবং কিছু গানিতিক কিনবা জ্যামিতিক হিসাবের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রাইস সম্পরকে ধারনা পাওয়া যায় মাত্র। আপনার গননা নিরভুল হলে আপনি লাভ করবেন আর ভুল হলে অবশ্যই লস খাবেন । কিনবা বৈশ্বিক ঘটনার ফলে তাৎক্ষনিক পরিবরতন হতে পারে । তবে এখানে কারো ভাগ্য জড়িত না । সবজি ওয়ালা ও জানেনা পরেরদিন সবজির দাম কেমন হবে সে আন্দাজ করে মাত্র । আবার কিছুমানুষ বলে আহ্ তোমারত জানা নেই এই ব্রোকার গুল কি করে সুদ ভিত্তিক কেনা বেচা করে। সুদি ব্যাংক থেকে লোণ নিয়ে তোমাকে দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি তাদেরকে বলি ভাই ব্রোকার সম্পরকে আপনার ধারনা আসলেই নেই । প্রতিটি ব্রোকার একটি বড় ব্যাংক এর মত। এদের প্রচুর প্ররিমানে অর্থ থাকে বিনিয়োগ এর জন্য এবং তারা আপনার প্রতিটি ট্রেড এর বিরুদ্ধেও একটি ট্রেড দিয়ে রাখে। আপনি লস করলে সেই অর্থ তাদের পকেটেই ঢোঁকে।আপনি লাভ করলে তাদের পকেট থেকেই তারা দেয়। আপনি কারো কাছে টাকা গচ্ছিত রাখলে সে সেটা দিয়ে সে ড্রাগস কিনলেও দোষ তার আপনার না ।
আজকে আশাকরি এটুক আলোচনা যথেষ্ট। পরে আরও ভ্রান্ত ধারনা গুল নিয়ে আলোচনা করব । আর যারা আমার ইসলামিক ইলম নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তাদের বলব আমি কে বা কি জানি সেটা হতে আমি কি বলি সেটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিৎ।ছোট কাল থেকে ইসলাম এর প্রতি ভালবাসাই আমাকে প্রতিদিন ১০ আয়াত কুরআন এর অর্থ এবং তার তাফসির পাঠে এবং মাঝে মাঝে বিভিন্ন হাদিস ও তার ব্যাখ্যা অধ্যয়নে উৎসাহিত করেছে । আমি অগনিত বার কুরআন খতম করেছি অর্থ এবং ব্যাখ্যা সহ । যে সকল বিষয়ে আমি মাথা ঘামাই সে সকল বিষয়ে বিভিন্ন আলেমগনের মতামত আলোচনা গ্রন্থ ও পর্যালোচনা করি। কাউকেই ঘ্রিনার চোখে দেখি না । পুর্বের পোস্টে যে বিষয় বলেছেন আপনারা তাও আমি একবার বিবেচনা করেছি । আমার ইসলামিক ইল্ম একেবারে কম না আবার আলেমগনের মত বিশাল ও না । ধর্ম এবং বিজ্ঞান দুটির সমন্বয় ছাড়া আধুনিক এবং ভবিষ্যতে পৃথিবীতে ইমান নিয়ে চলা যাবে না । ইসলামে চরম পন্থা, বাড়াবাড়ি, সীমা লঙ্ঘন, ফিতনা-ফ্যাসাদ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। ইসলামি জীবনব্যবস্থায় ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ, জাতি-গোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান, সম্প্রীতিপূর্ণ ব্যবহার, পরম সহনশীলতার মনোভাবের মধ্যম পন্থা অবলম্বন মুসলমানদের চরিত্রের অনুপম বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘ধর্মে কোনো জোর-জবরদস্তি ও কঠোরতা নেই।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৫৬)
নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোমলব্যবহার থেকে বঞ্চিত, সে কল্যাণ থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত। কোমলতার ফলে আল্লাহ তাআলা এমন কিছু দান করেন, যা চরম পন্থা অবলম্বনকারীকে দান করেন না।’ (মুসলিম)
নবী করিম (সা.) ঘোষণা করেছেন, ‘আমাকে সরল পন্থা অবলম্বন করার জন্য পাঠানো হয়েছে, চরম পন্থা অবলম্বনের জন্য নয়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘সহজ, সরল পন্থা অবলম্বন করবে, কঠোরতা প্রদর্শন করবে না। সুসংবাদ দাও, ঘৃণা ছড়িয়ো না।’ (বুখারি) সমাজে ফিতনা-ফ্যাসাদ, বিপর্যয়, নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করাকে হত্যার চেয়েও মহাপাপ সাব্যস্ত করে বলা হয়েছে, ‘ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯১) আনাস (রা). থেকে বর্ণিত রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা সহজ করো, কঠিন করো না। তোমরা মানুষকে সুসংবাদ দাও, তাদের মধ্যে বিরক্তি সৃষ্টি করো না। ’ (সহিহ বোখারি, হাদিস: ৬১২৫) কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তাআলা তোমাদের জন্য যা সহজ তা করতে চান, তিনি তোমাদের জন্য জটিলতা সৃষ্টি করতে চান না। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)। অনত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি দ্বিনের ব্যাপারে তোমাদের প্রতি কোনো সংকীর্ণতা আরোপ করেননি। ’ (সুরা হজ, আয়াত : ৭৮)
কিন্তু আমাদের সমাজে কথিত মুমিন ফেসবুক আলেমগন ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে সকল্ মানুষকেই গালি দেন এবং ব্যাক্তিগত আক্রমন করেন । এদের এই কাজের জন্য শাস্তিত তারা পাবেই । তবে আফসোস না জানি মরার আগে এরা কত লোক কে বিভ্রান্ত করে মরবে ।
#সংগ্রহীত