13/05/2026
বিশ্বমঞ্চে মৌলভীবাজারের গৌরব: ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মাতাবেন মৌলভীবাজারের ডিজে সঞ্জয়।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আলো ঝলমলে উদ্বোধনী আয়োজনে এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে লাল-সবুজের বাংলাদেশের নাম, যার নেপথ্যে রয়েছেন মৌলভীবাজারের এক কৃতী সন্তান। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় এই আসরে প্রথমবার কোনো বাংলাদেশি হিসেবে সুরের জাদু ছড়াবেন মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের প্রবাসী বাংলাদেশি-মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী ডিজে সঞ্জয়।
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত ‘সোফাই স্টেডিয়াম’-এর জমকালো মঞ্চে লাখো দর্শকের সামনে পারফর্ম করবেন তিনি। আগামী ১১ জুন প্যারাগুয়ের বিপক্ষে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। আর এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের ঠিক আগেই স্টেডিয়ামের মূল মঞ্চে সুরের ঝড় তুলবেন এই তরুণ তুর্কি।
বিশ্বকাপের মতো মহোৎসবের অংশ হতে পেরে উচ্ছ্বসিত ডিজে সঞ্জয়। তার এই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সঞ্জয় বলেন, "দুই সপ্তাহ আগে আমার সঙ্গে ফিফা কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করে। এরপর জানতে পেরেছি, বিশ্বকাপের মঞ্চে পারফর্ম করছি। আমি অনেক ভাগ্যবান—ফিফা কর্তৃপক্ষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানায়, সেখানে আমিও আছি। পুরো বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা ও দোয়ার কারণে হয়তো এটা করতে পেরেছি।
তবে এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের খবরটি এখনও তার পরিবার পর্যন্ত পৌঁছায়নি। সঞ্জয় জানান, তিনি যখন এই সুখবরটি পান, তখনও তার মা-বাবা ছেলের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার খবরটি জানতেন না। দ্রুত বাসায় পৌঁছে নিজ মুখে মা-বাবাকে এই সারপ্রাইজ ও আনন্দের খবরটি দিতে চান তিনি।
ডিজে সঞ্জয়ের এই বিশ্বজয়ের নেপথ্যের গল্পটা যেকোনো তরুণকে অনুপ্রাণিত করার মতো। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে জন্ম ও শৈশব কেটেছে তার। মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে মাতৃভূমি ছেড়ে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে।
নতুন পরিবেশ ও ভিন্ন সংস্কৃতিতে বেড়ে উঠলেও নিজের শিকড় আর ভেতরের সঙ্গীতচেতনাকে কখনো হারিয়ে যেতে দেননি তিনি। প্রবাসের মাটিতে কঠোর পরিশ্রম, মেধা আর সুরের প্রতি নিখাদ ভালোবাসাই আজ তাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বমঞ্চের দ্বারপ্রান্তে, যেখানে কোটি কোটি চোখ থাকবে তার দিকে।
সঞ্জয়ের এই অবিস্মরণীয় অর্জন কেবল একজন শিল্পীর একক সাফল্য নয়; বরং এটি দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনে বেড়ে ওঠা এক স্বপ্নবাজ প্রজন্মের জন্য এক বিরাট অনুপ্রেরণা। শ্রীমঙ্গলের ছোট্ট চা-বাগানের শহর থেকে শুরু হওয়া পথচলা যে লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়াম পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে—তা তিনি প্রমাণ করে দেখালেন।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক মঞ্চে সঞ্জয়ের এই রাজকীয় উপস্থিতি প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ পুরো মৌলভীবাজার ও বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক পরম গর্বের মুহূর্ত। আগামী ১১ জুন কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, কোটি বাঙালি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই অনন্য প্রতিচ্ছবিকে দেখার জন্য।