26/02/2026
ন্যাশনাল ব্যাংককে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন ইস্যুতে একটা ভয়াবহ অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল) পুরনো বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন ৭ সদস্যের বোর্ড গঠন করে, যার মধ্যে আব্দুল আওয়াল মিন্টুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
পরবর্তীতে, ২২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে ব্যাংকের ৫০৫তম বোর্ড মিটিংয়ে আব্দুল আওয়াল মিন্টুকে সর্বসম্মতিক্রমে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়।
আগস্ট ২০২৪ এর আগে চেয়ারম্যান ছিলেন খলিলুর রহমান (২০২১-২০২৪), যার নেতৃত্বে ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিষদে এস আলম গ্রুপের যোগসূত্র ছিল।
এবং এর আগে এই ব্যাংক কুখ্যাত সিকদার ফ্যামিলির সদস্যদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
জয়নুল হক সিকদার (২০০৯-২০২১ মৃত্যু পর্যন্ত চেয়ারম্যান), তারপর মনোয়ারা সিকদার (২০২১), পারভীন হক সিকদার ।
২০০৯ থেকে তারা বোর্ডে পরিবারের সদস্যদের নিয়োগ দিয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে। এ সময় লোন অনিয়ম, কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের অভাব এবং অভ্যন্তরীণ সংঘাত দেখা যায়, যা এই ব্যাংকের পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সিকদার ফ্যামিলি ২০১৭-২০২১ সালে ক্রেডিট কার্ডের লিমিট অতিক্রম করে মানি লন্ডারিং করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে।
রন হক সিকদার ৭টি কার্ড ব্যবহার করে ৫০ কোটি টাকা ও রিক হক সিকদার ২১ কোটি টাকাসহ আরও বিভিন্ন উপায়ে মোট ৪৫৯ কোটি টাকা তুলে নেয়, যা তারা ফেইক ডকুমেন্টস এবং লোন ফ্রডের মাধ্যমে করেছিল।
পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা যেমন মমতাজুল হক, লিসা ফাতেমা হকও এই আত্মসাতের সাথে জড়িত।
৩১ মার্চ ২০২৪ তারিখে অ্যান্টি-করাপশন কমিশন (এসিসি) রন এবং রিকের বিরুদ্ধে ৭১ কোটি টাকা মানি লন্ডারিংয়ের দুটি মামলা করে।
পরবর্তীতে সিকদার ফ্যামিলির বিরুদ্ধে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে ৪৫৯ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা হয়, ০৯ মার্চ ২০২৫ তারিখে তাদের ৪২টি BO অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়।
১৯ অগাস্ট ২০২৫ তারিখে ১১০ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলা হয়, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে থাইল্যান্ডের ইনভেস্টমেন্ট ফ্রিজ করা হয়।
এই সিকদার ফ্যামিলির সহায়তায় বসুন্ধরা গ্রুপ ভূয়া ডকুমেন্টস দিয়ে ১৩২৫ কোটি টাকা এই ব্যাংক থেকে আত্মসাৎ করে। এর সাথে জড়িত ছিল ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি চৌধুরী মোস্তাক আহমেদ, ডিরেক্টর একেএম এনামুল হক শামীম, ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. একরামুল হক প্রমুখ।
তখন বোর্ডে ছিল সিকদার ফ্যামিলি (জয়নুল হক সিকদার, পারভীন হক সিকদার, খলিলুর রহমান) এবং অন্যান্য ডিরেক্টর।
২০২০ সালে ফেইক সিভিল ওয়ার্কস কনট্রাক্ট ব্যবহার করে ৯০৩.৬৭ কোটি টাকা লোন নেয় ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল। যেটি ব্লুম সাকসেস ইন্টারন্যাশনাল স্ক্যাম নামে বহুল পরিচিত।
এই ঘটনায় ব্লুম সাকসেসের এমডি আহমেদ জালাল খান মজলিশ, ডিরেক্টর খাদিজা আখতার; ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি চৌধুরী মোস্তাক আহমেদ, অ্যাডিশনাল এমডি এএসএম বুলবুল, প্রাক্তন ডিরেক্টর এবং সিনিয়র অফিসাররা জড়িত।
খলিলুর রহমানের বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের সময়ে এসআলম গ্রুপ সিকদার ফ্যামিলির সহায়তায় ৪৫৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে।
এই সব লোন স্ক্যাম ও সিকদার ফ্যামিলির সীমাহীন দূর্নীতিতে বিপর্যস্থ ব্যাংকের দুরাবস্থা কাটাতে ২০২৪ সালে দায়িত্ব পাওয়া নতুন বোর্ড ২০২৫ এর জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ৬০০০ কোটি টাকার ঋণের আবেদন করে।
প্রথম ধাপে তাদের ৪০০০ কোটি টাকা দেয়া হয়, এবং এই ১০০০ কোটি টাকাও সেই অনুমোদনের একটি অংশ।
এই ১০০০ কোটি টাকা আবার ৯০ দিনের মেয়াদী ঋণ, ১১.৫% সুদের হারে, এবং ডিমান্ড প্রমিসরি নোটের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে।
মানে এইখানে লুটপাটের কোন উদ্দেশ্য নয় বরং ব্যাংকের গ্রাহকদের ডিপোজিট ফেরত দেয়ার চেষ্টাতেই এই লোন সাবেক সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইস্যু করেছে।
এই যে প্রতিটা ঘটনাকে মিসলীড করে মানুষকে অপতথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার যে ভয়ংকর রাজনীতির খেলা চলছে এটা করে যাচ্ছে নির্বাচনে পরাজিত হওয়া সেই দলটারই অনলাইন বাহিনী।
ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে এরকম অপতথ্য ছড়ানোটা একটা ভয়ংকর চক্রান্ত। মানুষকে ব্যাংক বিমুখ করে সরকারকে বিপদে ফেলে রাষ্ট্রকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করে রাখার প্ল্যান এটি।
ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো মানুষগুলো হয়তো সরকার পক্ষ হয়ে এই চক্রান্তগুলো এখনো ডিবাংক চেষ্টা করে যাচ্ছে।
কিন্তু তা আর কতদিন?