08/02/2024
জীবন বীমা (Life Insurance) এর মার্কেটিং নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শেয়ার করতে যাচ্ছি, আশা করি আপনার ভালো লাগবে। ইন্স্যুরেন্স মার্কেটিং যদিও ‘তাড়াতাড়ি ধনী হোন’ টাইপের কোনো খেলা নয়, কিন্তু তারপরেও এই মার্কেটিংয়ের দ্বারা খুব সহজেই আপনি আপনার নিজের একটি পার্ট টাইম বা ফুল টাইম ব্যবসা দাঁড় করাতে পারবেন। কিন্তু এই খাতে সফল হওয়ার জন্য কীভাবে সামনে এগুতে হবে? চলুন তাহলে জেনে নেয়া যাক সে সম্পর্কে।
✒️ সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া শিখুন
ইন্স্যুরেন্স মার্কেটিংয়ের একটি সুযোগ গ্রহণ করার জন্য আপনাকে ছয়টি ‘কি এলিমেন্টের’ দিকে নজর রাখতে হবে। যেগুলো হচ্ছে-
👉 স্ট্যাবিলিটি বা স্থায়িত্ব: যে কোম্পানির সাথে চুক্তি করতে যাচ্ছেন বা কাজ করতে যাচ্ছেন সেটার ব্র্যান্ড Value কত? মানুষ উক্ত ব্র্যান্ডকে কিভাবে দেখছে, কত বছর যাবৎ মানুষের কল্যাণে কাজ করছে?
👉 ইউনিক প্রোডাক্টস বা অনন্য পণ্যসমূহ: যে কোম্পানির সাথে কাজ করতে যাচ্ছেন সেটার পন্যগুলো কী কী ও সেগুলো মানুষের কাছে কতটুকু যুক্তিসম্মত, গ্রহণযোগ্য?
👉 পে প্ল্যান বা অর্থ প্রদানের ধারণা: যে কোম্পানির সাথে চুক্তি করতে যাচ্ছেন তারা আপনাকে বা আপনার টিমকে কী পরিমাণ অর্থ প্রদান করবে? কীভাবে অর্থ প্রদান করবে? গ্রাহকের সেবার বিষয়ে তারা কতটুকু আন্তরিক?
👉 ইন্টেগ্রিটি অফ কোম্পানি ম্যানেজমেন্ট বা কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের সততা: যে কোম্পানির জন্য কাজ করতে যাচ্ছেন, পুর্বে সেই কোম্পানির সততা-সম্পর্কিত কোনো ঘটনা আছে কি না।
👉 ভ্যালুয়েশন অফ কোম্পানি বা কোম্পানির মূল্য-নির্ণয়: যে কোম্পানির সাথে কাজ করতে যাচ্ছেন সেই কোম্পানি দু বছর বা পাঁচ বছর পরে কোন অবস্থানে দাঁড়াবে সে সম্পর্কে জেনে নিন।
👉 সাপোর্ট এন্ড বিজনেস সিস্টেম বা ভারবহন ও ব্যবসার নিয়মকানুন: যে কোম্পানির জন্য কাজ করতে যাচ্ছেন সেই কোম্পানি আপনাকে ও তার কর্মীদের কি পরিমাণ সহায়তা প্রদান করে এবং তারা কোন পদ্ধতিতে ব্যবসা করে আসছে সে সম্পর্কে জেনে নিন।
শিক্ষা নিন ও প্র্যাকটিস করার মনমানসিকতা তৈরি করুন
ইন্স্যুরেন্স মার্কেটিংয়ে সফল হওয়ার জন্য মেন্টরদের কথাবার্তা শোনার ও তাদের থেকে শিক্ষা নেয়ার মনমানসিকতা থাকতে হবে। একজন মেন্টর মূলত বেশ কয়েকবছর ধরে এই স্ট্রাকচারের সাথে যুক্ত আছেন। যার ফলে তিনি ভালোভাবেই জানেন যে, কীভাবে নেটওয়ার্ক তৈরি করতে হবে ও একটা নেটওয়ার্ক সাজাতে হবে। ইন্স্যুরেন্স মার্কেটিংয়ে প্রত্যেক মুহূর্তেই হয়তো নতুন কোনো মেথড যুক্ত হচ্ছে বা হবে কিন্তু কাজ করার ধরণ একই। যার ফলে একজন মেন্টর যেভাবে মার্কেটিং নিয়ে কাজ করেছেন ঠিক একইভাবে আপনাকেও সেটা নিয়ে কাজ শিখতে হবে তার থেকে।
✒️ উচ্চপদস্থদের সাহায্য নিনঃ
এটাকে অনেক কিছুই বলে। যদিও এটাকে মূলত মার্কেটিংয়ে ‘আপলাইন’ হিসেবেই বলা হয়ে থাকে। একই নেটওয়ার্ক বা ম্যানেজমেন্টে আপনার উপরে যিনি থাকেন তাকেই আপলাইন বলা হয়। খেয়াল করে দেখুন তো, আপনার আপলাইন আপনাকে কতটা সাহায্য করছেন? তারা কি বিভিন্ন কাজের জন্য আপনাকে ডেকে থাকে? যদি আপনি তাদের থেকে সাড়া না পান তাহলে যেভাবেই হোক তাদের সাথে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করুন ও তাদের থেকে সাহায্য নিন। তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন। নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে আপলাইনের সহায়তার খুবই প্রয়োজন।
আপনার নিচের কর্মচারীদের সাহায্য করুন
প্রত্যেক নেটওয়ার্ক কিংবা ম্যানেজমেন্টে যেমন একজন আপলাইন থাকেন, যিনি আপনার উপরে অবস্থান করেন ঠিক একইভাবে প্রত্যেক ম্যানেজমেন্টেই আপনার নিচে এক বা একাধিক ডাউনলাইন থাকেন যাদেরকে আপনার সাহায্য করতে হবে। তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলুন। অনেকেই ভেবে থাকেন যে, একটা কোম্পানিতে বা নেটওয়ার্কে শুধুমাত্র উচ্চপদস্থদের সাথে সম্পর্ক করাটাই জরুরী। আসলে এটা সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। আপনাকে শুধুমাত্র উচ্চপদস্থদের সাথে সম্পর্ক রাখলেই হবে না। আপনাকে একইসাথে আপনার ডাউনলাইনদের সাথেও ভালো সম্পর্ক রাখতে হবে।
আপনার নিচ থেকে যারা কাজ করছেন তাদেরকে যদি আপনি ভালো সময় দিয়ে থাকেন, তাদের সাথে যদি আপনার সম্পর্ক ভালো থাকে, তাহলে আপনি খুব সহজেই আপনার উচ্চপদস্থদের থেকেও সাহায্য পেতে পারবেন। যদি আপনি আপনার ডাউনলাইনদের সাহায্য করতে না পারেন বা তাদেরকে কোনোকিছু শেখাতে না পারেন তাহলে সেটা সম্পর্কে জানুন, নিজে শিখুন। তারপর শেখান। একটা নেটওয়ার্কে বা ম্যানেজমেন্ট প্রত্যেকটা কর্মীই, সেটা ডাউনলাইন কিংবা আপলাইনই হোক; প্রত্যেকেই সমানভাবে জরুরী।
ইন্টারনেটের যথাযথ ব্যবহার করা শিখুন
বর্তমানে ফিজিক্যাল মার্কেটিং বা অফলাইন মার্কেটিংয়ের পাশাপাশি অনলাইন বা ডিজিটাল মার্কেটিংও খুবই জরুরী এবং কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করা থেকে শুরু করে তাদের যেকোনো ধরণের টাস্ক কিংবা আপনার আপলাইনের যেকোনো কাজ করে দেয়ার ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। যদি আপনি ‘স্প্যামিং’ থেকে বাঁচার নিয়ম জানেন আর স্প্যামিং না করে থাকেন, তাহলে খুব সহজেই আপনার ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেটাকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ের বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করতে পারেন।
🤔 এটাকে ব্যবসার মতো করে দেখুনঃ
একটা ব্যবসার ক্ষেত্রে যেমন আমরা প্রায় সবদিকেই খেয়াল রাখি, ঠিক একইভাবে এক্ষেত্রেও নেটওয়ার্কটাকে একটা ব্যবসা হিসেবেই দেখুন। একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করার পর সেটাকে কীভাবে ব্যবহার করবেন, কোথায় ব্যবহার করবেন, কোথায় কতটুকু অর্থ খরচ করবেন, কী পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় হয়েছে বা হবে ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে জেনে নিন। তারপরে কাজ করুন। একইভাবে ব্যবসায় যেমন মার্কেট রিসার্চ করাটা জরুরী, তেমনি এক্ষেত্রেও ভাবুন যে আপনার নেটওয়ার্কের গুরুত্ব কতটুকু, নেটওয়ার্কের আপলাইন ও ডাউনলাইন কেমন কাজ করছে, দু বছর বা পাঁচ বছর পর এর ভ্যালুয়েশন কেমন হবে ইত্যাদি।
👉 সুযোগ হাতছাড়া করবেন নাঃ
অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, আমরা একটা চাকরি করছি কিন্তু আরেকটা কাজের অফার চলে আসলে আমরা সাথে সাথেই আগের চাকরিটি ছেড়ে দিই। এটা করা মোটেও উচিত নয়। নতুন কাজের অফারটি খতিয়ে দেখুন। এই কাজটি আপনার জন্য কতটা জরুরী, আগের কাজ থেকে এর পার্থক্য কোথায়, এর বেতনের অবস্থান কেমন, আপনার অবস্থান এর থেকে কতটা নিকটে বা দূরে, আপনি দুটো কাজ একইসাথে করতে পারবেন কি-না ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে ভাবুন। কোনভাবেই সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।