25/10/2024
আমার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন বার বার ঘুরপাক খায়– শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ডই হবে, তাহলে যারা সমাজের সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত তাদেরই কেন মেরুদণ্ড ভেঙ্গে যায়?
সমাজে আজ যারাই উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত, শুধুমাত্র তাদেরকেই ৩০-৩৫ বছর বেকার থাকা লাগে। সময়মত বিয়ে করতে পারেনা। বাবা-মা সহ পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারেনা।
এখন উচ্চ শিক্ষিত মানেই পরিবারের বোঝা, সমাজের বোঝা, দেশের বোঝা এমনকি নিজের কাছে নিজের জীবনটাও বোঝা মনে হয়। কেউ কেউ তো আবার এত ভারী বোঝা বইতে না পেরে আত্মহত্যাও করে বসে।
২০ বছর যাবত স্কুল, কলেজ, এবং ইউনিভার্সিটিতে পড়লাম, কিন্তু ২০টা হাজার টাকা কিভাবে কামাতে হয় সেটাই আমাদেরকে শেখানো হলো না। অথচ যে ছেলেটি কোনদিন স্কুলে যায়নি, তার টাকা কামাতে কোন সমস্যা হয়না।
৩০-৩৫ বছর বেকারও থাকা লাগেনা। সময়মত বিয়ে করতেও তার আটকায় না । বাবা-মা সহ পরিবারের দায়িত্ব নিতেও তার বাধেনা। আর আত্মহত্যা শব্দটা- তার পরিবারের ভালোবাসার কারণে তার গ্রামেও তো ঢুকতে সাহস পায়না।
শিক্ষিত মানুষের এত এত সমস্যা দেখে মাঝে মাঝে মনে হয়- শিক্ষা কি আসলেই জাতির মেরুদণ্ড? নাকি এটা ভুয়া কথা?
শিক্ষা নিয়ে গত ৬ বছর যাবত গবেষণা করার পর যা খুজে পেয়েছি তা হলো- হ্যা, শিক্ষাই একমাত্র জাতির মেরুদণ্ড বা তার থেকেও বেশি কিছু।
এটা নিয়ে কোন সমস্যা নেই, সন্দেহও নেই।
সমস্যাটা হলো- শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে। শিক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনা এক জিনিস নয়। এর মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে বা তার থেকেও বেশি বললেও ভুল হবেনা।
আমরা খুব কম মানুষই জানি- এই শিক্ষাব্যবস্থার গোড়ার কাহিনি। কোথা থেকে এলো এই শিক্ষাব্যবস্থা? কেনই বা এলো? কিভাবে এলো? কারা তৈরি করল এই শিক্ষাব্যবস্থা? কেনই বা তৈরি করল? তাদের উদ্দেশ্যটাই বা কি ছিল? কবে থেকে শুরু হলো এই শিক্ষাব্যবস্থা? আর এর বয়সই বা কত?
এই প্রশ্নগুলো আমাদের মাথায় কখনো আসেইনা। আসার কথাও না। কারণ পশ্চিমারা আমাদের ব্রেনকে এমনভাবে প্রোগ্রাম করে দিয়েছে, যে আমাদের চিন্তার প্যাটার্নটাই বদলে গেছে।
আমরা চাষ করি জমি আর ওরা চাষ করে আমাদের মস্তিষ্ক । কারণ ওরা জানে মাটির থেকেও মাথা অনেক বেশি উর্বর। আমরা যেমন জমিনে আলু-পটল চাষ করি পশ্চিমারাও তেমনি আমাদের মস্তিষ্কে ব্যবসা-বানিজ্য চাষাবাদ করে।
এই আজকে আমরা প্রযুক্তির যে সুবিধাটা ভোগ করছি, সেটাও তারা শুধুমাত্র তাদের ব্যবসাকে সারা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই আবিষ্কার করেছে।
সেই কম্পিউটার, ইন্টারনেট থেকে শুরু করে- Microsoft, Apple, Google, Amazon, Facebook, YouTube সহ যাবতীয় সবকিছুই তারা তৈরি করেছে শুধুমাত্র সারা বিশ্বব্যাপী তাদের ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্যই।
অর্থাৎ আজকে যে সারা বিশ্বব্যাপী পশ্চিমা সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত, তার একমাত্র মূল কারণ হলো এই ব্যবসা। ওরা ব্যবসাকে ভগবানের মত সম্মান করে। আমরা যেমন মসজিদ-মাদ্রাসাকে পৃথিবীর সবথেকে পবিত্র স্থান মনে করি, ওরাও তেমনি ব্যবসা-বানিজ্যকে সবথেকে পবিত্র প্রতিষ্ঠান মনে করে।
এক কথায়, ওদের কাছে ব্যবসায় সব। ধ্যানে-জ্ঞানে, শয়নে-স্বপনে ওরা ব্যবসা ছাড়া কিছুই ভাবতে পারেনা। আমাদের এই শিক্ষাব্যবস্থার মূলেও রয়েছে ওদের ঐ ব্যবসা।
ওরা ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সারা পৃথিবীকে শাসন-শোষণও করতে পারে। জুলুম-নির্যাতনও চালাতে পারে পুরা বিশ্বব্যাপী। ইতিহাসও তাই বলে।
সারা বিশ্বব্যাপী ওদের ব্যবসাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ওরা সবকিছুই করতে পারে। সবকিছু মানে সবকিছুই। ওরা চাই আমাদের মস্তিকের নিয়ন্ত্রন। চাই পুরা বিশ্বের কর্তৃত্ব।
যাইহোক আজকের এই শিক্ষাব্যবস্থার পিছনে রয়েছে পশ্চিমাদের এক বিরাট ষড়যন্ত্র। আস্তে-আস্তে আপনাদেরকে সেসব ষড়যন্ত্রের কথা সব বলবো । আগামীতে কোন একটা পোস্টে আপনাদেরকে জানাবো আমাদের (ভারতীয় উপমহাদেশ) শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য কি ছিল।
ভাবছি, শিক্ষাব্যবস্থার গোড়ার কাহিনি নিয়ে সামনে একটা সিরিজ নিয়ে আসবো। জানতে চাইলে- Comment বক্সে আপনাদের মতামত শেয়ার করতে পারেন।
আমার মতে স্কুল, কলেজ, এবং ইউনিভার্সিটিতে আমাদেরকে তা শেখানো হয়না যেটা আমাদের দরকার। তারা সেটায় শেখায় যেটা তাদের দরকার।
আসলে ইচ্ছা করেই আমাদেরকে টাকা কামানো শেখানো হয়না। তাহলে কি শেখানো হয়?
উন্নত মানের লেবার তৈরি করার জন্য যা যা প্রয়োজন তাই শেখানো হয়। এখন উচ্চ শিক্ষা মানেই উচ্চ মানের লেবার। শুনতে খারাপ লাগলেও এটাই সত্য।
কিন্তু এই শিক্ষাব্যবস্থা আর বেশিদিন চলবেনা। কারণ ইতিমধ্যেই এআই এবং অটোমেশন চলে এসেছে। খুব শীঘ্রই আমাদেরকে মেশিন (এআই রোবট) দিয়ে রিপ্লেস করে ফেলা হবে।
এতদিন তারা (পশ্চিমারা) তাদের স্বার্থে আমাদের ব্রেনকে প্রোগ্রাম করেছে। আর এখন মেশিনকে প্রোগ্রাম করছে তাদের সকল কাজ করিয়ে নেওয়ার জন্য। তাই আমাদেরকে এখন আর তাদের দরকার নেই। খুব শীঘ্রই ছুড়ে ফেলা হবে আমাদেরকে।
দেখুন, এটা নিয়ে ইউভ্যাল নোয়া হারারি (একবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ ইতিহাসবিদ) কি বলছেন- ”২০৪০ সালের মধ্যেই পৃথিবীর অর্ধেক মানুষ চাকরি হারাতে পারে।”
বলে রাখা ভালো- আমি কিন্তু কাউকে একাডেমিক পড়াশুনা ছেড়ে দিতে বলছিনা। আমি শুধু আপনাদেরকে সচেতন করছি। আমার কথা হলো- না বুঝে অন্ধের মত কেউ ঘানি টানবেন না।
যেটুকু পড়বেন বা শিখবেন সেটুকু যেন নিজের উপরেই ইনভেস্ট হয়। কারণ আমরা সবাই জানি পৃথিবীর সবথেকে বড় ইনভেস্টমেণ্ট হলো নিজের উপরেই ইনভেস্ট করা। শুধু খেয়াল রাখবেন মাথাটা যেন আবর্জনায় ভর্তি না হয়।
আমি আমার আগের একটি পোস্টে বলেছিলাম- “এক যুগে যেটা শিক্ষা অন্য যুগে সেটাই গিয়ে হয় আবর্জনা।” তাই সাবধান! না বুঝে সময় ও ব্রেনের এনার্জি খরচ করবেন না। তাহলে কিন্তু ৩০ এর আগেই মেরুদণ্ড হারাতে হবে।
শিক্ষা নিয়ে প্রমথ চৌধুরির কথাগুলো আমার বেশ ভালো লাগে। তার মতে– সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। পাশ করা বা সনদ অর্জন করা শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য নয়। শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষের ভিতরের অজ্ঞতা / অন্ধকার দূর করা, তাকে আলোকিত করা।
যে ব্যক্তি নিজে থেকে শিখতে চায়, পড়তে চায়, জ্ঞান অর্জন করতে চায়, স্রষ্টা কেবলমাত্র তাকেই জ্ঞান দান করেন। সেই জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়। আর সেই ব্যক্তিই কেবল প্রকৃত শিক্ষার / জ্ঞানের স্বাদ পায়, কোন সনদধারী নয়।
মোটকথা হলো পৃথিবীর খুব কম মানুষই শিক্ষার আসল স্বাদটা পায়। যারা পায় তারা পচিশেও (২৫ বছর) পেতে পারে। আর যারা পায়না তারা পচাশিতেও ঘানি টেনে যেতে পারে। কেউ কেউ আবার ঠেলা গাড়ির মত ঠেলে-ঠেলে কোনমতে জীবনটাকে পার করেও নেয়। অথচ তারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত।
শিক্ষা জীবনের উচ্চ শিক্ষা হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা। কিন্তু বাস্তব জীবনের সাথে এই শিক্ষা মিলালে দেখবেন, এটা হলো জীবনের প্রাইমারী শিক্ষা। বাস্তব জীবনে শিক্ষার আসল জার্নিটা শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পরে। অথচ আমাদের শিক্ষা জীবনের ইতি ঘটে চাকরি পাওয়ার পরে।
এই ক্ষেত্রে আমেরিকান বিখ্যাত লেখক এবং পশ্চিমা বিশ্বের নাম্বার ওয়ান সেলফ ডেভেলপমেন্ট গুরু টনি রবিনসের কিছু কথা উল্লেখ না করে পারছিনা-
“নিজেকে (Self Development) নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো প্রচুর বই (একাডেমিক বই না) পড়ে। তাই আমি শুরুতে দ্রুত পড়া (Speed Reading) এর উপর কয়েকটি কোর্স করে ফেললাম।
তারপর খুব সচেতনভাবে আমার প্রয়োজন অনুসারে বেছে বেছে ৭০০ বই পড়ে ফেললাম। এরপর আমি লিখলাম আমার প্রথম বই- Unlimited Power: The New Science of Personal Achievement”।
বই লেখা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সেমিনারে তিনি মানুষকে জানাতে শুরু করলেন যে পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের ভেতরেই সুপার পাওয়ার রয়েছে। কিন্তু সেই সুপার পাওয়ারকে কাজে লাগাতে হলে দরকার সঠিক শিক্ষা।
যাইহোক উপরের প্রশ্নেগুলোর উত্তর খুজতে গিয়ে- আমি গত ৬ বছর যাবত ইন্টারনেট চষে বেড়িয়েছি শিক্ষার সত্য সন্ধানে। পড়েছি ২৫০+ বই (একাডেমিক এর বাইরে)।
এখন অল্প-সল্প করে হলেও কিছুটা বুঝতে শুরু করেছি আসমান থেকে আসা বইয়ের কিছু শব্দ এবং বাক্য। বুঝতে শুরু করেছি আসমানি জ্ঞানের আগমনটা কেন ইকরা (পড়) দিয়ে।
এভাবে শিক্ষার সত্য সন্ধান করতে গিয়ে বিল গেটস থেকে শুরু করে পশ্চিমা বিশ্বের বহু ধনী গুরুদেরকে স্টাডি করেছি। শুধু ধনী গুরুদেরকেই নয়, আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (স) থেকে শুরু করে বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন, স্টিভ জবস, চার্লি মাঙ্গার সহ আরও অনেক সফল মানুষের জীবনীও পড়েছি।
জানার চেষ্টা করেছি শিক্ষাকে আদৌ জাতির মেরুদণ্ড বলা যায় কিনা?
যা খুজে পেয়েছি তা হলো- হ্যা, শিক্ষাই একমাত্র জাতির মেরুদণ্ড বা তার থেকেও বেশি কিছু। আমার মতে শিক্ষা জাতির আত্মা। আত্মা ছাড়া যেমন কোন প্রাণীই বাঁচতে পারেনা, তেমনি শিক্ষা ছাড়া কোন মানুষই পৃথিবীতে মানুষ হয়ে বাঁচতে পারেনা।
মানুষ এবং লোয়ার এনিম্যাল এর মধ্যে একমাত্র পার্থক্যই হলো এই শিক্ষা। সঠিক শিক্ষা ছাড়া কোন জাতিই উঠে দাড়াতে পারেনা। সামনে আগাতে পারেনা। কিন্তু সেই শিক্ষা হতে হবে যুগোপযোগী, বাস্তবমুখী, জীবনমুখী এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক।
আজকের আলোচনা এই পর্যন্তই।
আজ আর কাউকে Like, Comment এবং Share করতে বলবো না কারণ তা যে যার ইচ্ছাতেই করে। আমার ইচ্ছার উপর নির্ভর করেনা।
আমি আশরাফুল আলম। পড়াশোনা- ইংলিশ ডিসিপ্লিন, ১৬ ব্যাচ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
একবিংশ শতাব্দীতে ধনী হতে হলে শিক্ষার কোন বিকল্প পথ নেই। আমি যেহেতু টাকা-পয়সা কামানো বা ধনী হওয়া নিয়ে লেখালেখি করি, তাই ভাবলাম- শিক্ষা যে কতটা পবিত্র এবং কতটা পাওয়ারফুল সেই বিষয়টা আপনাদেরকে আগে ক্লিয়ার করা দরকার।
এখন, এই একবিংশ শতাব্দীতে দ্রুত ধনী হয়ে উঠতে চাইলে আপনাকে আগে জানতে হবে- শিক্ষা কি! তা কত প্রকার! ধনী হওয়ার জন্য কোন ধরণের শিক্ষা থাকা দরকার তার এ টু জেড। শিক্ষা নিয়ে এটা প্রথম পোস্ট । ১ম পার্ট এটা, চলবে-----
পোস্টটি একটু বড় হয়ে গেছে, ক্ষমা করবেন।