Qarze Hasna Islamic Investment

Qarze Hasna Islamic Investment We provide interest free personal loans and work to raise the profile of Islamic finance in Kotchand Islamic Investmen

06/01/2019

পেছন দিক থেকে শয়তানের আক্রমণ: উস্তাদ নোমান আলী খান

ইনশাআল্লাহ, আজকের খুতবায় আমি আপনাদের সাথে শয়তানের একটি আক্রমণ কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করবো। পূর্বে আমরা সম্মুখ ভাগ থেকে তার আক্রমণ সম্পর্কে কথা বলেছিলাম। আজ আমরা শয়তানের পেছন থেকে আক্রমণ কৌশল সম্পর্কে কথা বলবো। আর এটা একটা ভিন্ন ধরণের আক্রমণ। সময় পেলে ডান দিক থেকে এবং পরবর্তীতে বাম পাশ থেকে শয়তানের আক্রমণ কৌশল সম্পর্কে আলোচনা করবো।

আমাদের গত হয়ে যাওয়া দিনগুলো জীবন ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেয়। আপনি যখন একটি দিন পার করেন তা অতীত হয়ে গেছে, সেই দিনটি আর ফেরত আসবে না। তাই শয়তানের এই আক্রমণ কৌশল উপলব্ধি করার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল - এটা মনে রাখা যে, সে আমাদের অতীতকে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে। আপনার জীবনের যে ঘটনাগুলো আপনি পার করে গেছেন, যেগুলোর বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ আপনি করেছেন, যে খারাপ সময়ের মাঝ দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেছেন… শয়তান সেই অভিজ্ঞতাগুলো সুকৌশলে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে।

কারণ মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে আমরা নিজেরা আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতাগুলোর সমষ্টি মাত্র। অতীত জীবনের ঘটনাগুলো বিভিন্নভাবে আমাদেরকে প্রভাবিত করে। জীবনের এই অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের চিন্তাভাবনা, আমাদের আবেগ-অনুভূতি এমনকি আমাদের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তগুলোকেও নানাভাবে প্রভাবিত করে। যেমন - কেউ যদি কখনও এক্সিডেন্টের কবলে পড়ে, তাহলে তার ড্রাইভিং করার স্টাইল পরিবর্তিত হয়ে যায়। অথবা, কেউ যদি তার ভাল কোন বন্ধুর সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে পরবর্তীতে কোন সম্পর্ক তৈরির ক্ষেত্রে সে অনেক বেশি সাবধান হয়ে যায়। সুতরাং, জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।

শয়তান চায় যেকোনভাবে আমাদের চিন্তাভাবনাকে প্রভাবিত করে আমাদেরকে তার নিজের পথে পরিচালিত করতে। তাই আজ আমি তার এমন কিছু পদ্ধতি সম্পর্কে কথা বলব যেখানে সে আমাদের অতীতকে আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে। আমরা মনে করি এই চিন্তাগুলো আমাদের নিজেদের, কিন্তু আসলে এগুলো শয়তানের পক্ষ থেকে। এটা শয়তানের অন্যতম একটি সফলতা। আমরা মনে করি এগুলো আমাদের নিজেদের ভাবনা, কিন্তু এগুলো হল শয়তানের ওয়াসওসা। সে চায় আপনি অতীতে যে ভুলটি করেছেন তা যেন আবার করেন।

সম্ভবত তার একটি কৌশল হল - আপনি আগে অনেক ভাল মানুষ ছিলেন, নামাজ সম্পর্কে অনেক বেশি সাবধান থাকতেন, সম্ভবত হারাম বিষয় থেকে বিরত থাকতেন। আর আল্লাহ যার অনুমোদন দিয়েছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকতেন। আপনি আল্লাহর অবাধ্য হননি, ভালো মুসলিম ছিলেন। পেছনে তাকিয়ে দেখেন আপনি অনেক ভালো মুসলমান ছিলেন।

অনেকেই এমন আছেন যারা এরকম জীবনের পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখেন আর বলেন - “ আগে আমি অনেক ভালো মানুষ ছিলাম। এখন আমি নিজের উপর হতাশ। আমি নামাজে দাঁড়িয়ে কাঁদতাম। কিন্তু এখন আর মনে নেই সর্বশেষ কবে কেঁদেছি। আমি আল্লাহর সাথে এত বেশি কানেক্টেড ছিলাম যে, সব সময় আল্লাহর স্মরণ করতাম। বাড়িতে প্রবেশ করার সময়, বের হওয়ার সময় অর্থাৎ প্রতিটি সুযোগেই আমি আল্লাহকে স্মরণ করতাম। আমি কথা বলার সময় অনেক বেশি নরম ছিলাম। কিন্তু আমি এখন গালিগালাজ করি। মানুষের বিরুদ্ধে খারাপ শব্দ উচ্চারণ করি। আমি মেজাজ হারিয়ে ফেলি, গীবত করি, পরনিন্দা করি এই সব খারাপ অভ্যাসগুলো আমার মাঝে তৈরি হয়েছে। আমি এমন ছিলাম না, আগে অনেক ভাল মানুষ ছিলাম।"

নিজেকে অন্য কারো সাথে তুলনা করা এক ব্যাপার আবার নিজেকে নিজের পূর্বের অবস্থার সাথেও তুলনা করা যায়। তখন দেখা যায় অনেকেই আগে ভালো মানুষ ছিলেন।

আপনি যখন এরকম ভাবেন, শয়তান তখন আপনার মনে ওয়াসওয়াসা দেয় আর বলে - "সেই তুমি অনেক আগেই মরে গেছো। তোমার সেই রূপ আর কখনো ফিরে আসবে না। এখনকার তুমিই আসল।" সে চাইবে আপনি যেন নিজের উপর সম্পূর্ণরূপে হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু বাস্তবতা হলো - আল্লাহ যদি আপনাকে একবার ভালো মুসলিম হিসেবে, একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে জীবন যাপন করার সামর্থ্য দিয়ে থাকেন... আর তখন আপনি ঠিকই পেরেছিলেন... এর মানে হলো আপনি সারা জীবন মুসলিম হিসেবে জীবনযাপন করার সামর্থ্য রাখেন। আপনি নিজেই এর প্রমান।

কোন কিছু আপনি যদি জীবনে একবারও সম্পাদন করতে না পারেন সেটা এক ব্যাপার। আপনি হয়তো বলেন আমি কখনই এটা করতে পারিনি। হতে পারে এতে কিছুটা সত্যতা আছে অথবা আপনি হয়তো ভালোভাবে চেষ্টা করেন নি। তাই আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারিনা যে আপনি এই ব্যাপারে সামর্থ্য রাখেন বা রাখেন না। কিন্তু কিছু যোগ্যতা আপনার ছিল, আপনি সে অনুযায়ী একবার জীবন যাপন করেছেন। আপনি তখন অনেক ভালো করছিলেন। এখন এটা প্রমাণিত যে আপনার ভেতরে সেই বিশ্বাস আছে এবং সেই বিশ্বাস অনুযায়ী চলার যোগ্যতাও আছে। কিন্তু শয়তান আপনাকে বুঝাতে চাইবে যে - তোমার সেই সামর্থ্য আর নেই। কারণ জীবনের যে অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়েই তুমি অতিবাহিত হয়েছো এখন সেই ভালো মানুষ হওয়ার যোগ্যতা তুমি হারিয়ে ফেলেছো। অন্তত, আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে গেলে তোমার পক্ষে আর ফিরে আসা সম্ভব নয়।

এখন একটা বিষয় বোঝার চেষ্টা করুন। হতে পারে ইমোশনাল অনেক ব্যাপার আছে যেখানে আর ফেরত যাওয়া সম্ভব নয়। কারো অন্তর হয়ত ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে, ফেরত যাওয়া আর সম্ভব নয়। আর এতে কোন সমস্যা নেই। এর নাম জীবন। যেমন, কারো যদি বাচ্চা সন্তান মারা যায় তাহলে এই ট্রমা থেকে বের হয়ে আসা সহজ নয়। সুতরাং হয়তো এমন অনেক রকম ট্রমা এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে যা সারা জীবনেও সেরে উঠবে না।

কিন্তু শয়তান এটা ব্যবহার করে আপনাকে আবেগগত দিক থেকে নয় বরং ধার্মিক দিক থেকে দূষিত করার জন্য, আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক নষ্ট করার জন্য। আপনার মনে এভাবে ওয়াসওয়াসা দিবে - "হেই, তুমি তো জীবনে অমুক অমুক খারাপ কাজগুলো করেছো। সুতরাং নামাজ পড়ার মানে কি? তোমার নামাজ তো আর কবুল হবে না।"

সুতরাং এটা হল শয়তানের এক ধরনের কৌশল যার মাধ্যমে সে আমাদেরকে আল্লাহর পথ থেকে দূরে রাখে। আপনার মনে সে এভাবে ধারণা দেয় যে, সেই ভালো দিনগুলো আর কখনই ফেরত আসবে না।

26/10/2018

আমার বাসর রাত। বিছানার ঠিক মাঝখানে নববধূ বসে আছে। মাথায় লম্বা ঘোমটা দেওয়া। আমি বিছানার এক কোণায় বসে আছি। রুমে এসি চলছে তবু ঘামছি। বুকের ভেতর হৃৎপিণ্ড এমন ভাবে লাফাচ্ছে, মনে হচ্ছে ড্রাম বাজছে। চেষ্টা করছি কিন্তু মুখ থেকে কোনো কথা বের হচ্ছে না। মনে হচ্ছে সব কথাই ভুলে গেছি। সে এক অস্বস্তিকর অবস্থা। অথচ এমন হওয়ার কথা না। আমি যথেষ্ট সাহসী ও স্মার্ট একটি ছেলে। তা ছাড়া, এই বাসর রাতের জন্য যথেষ্ট প্রস্তুতিও নিয়েছি। বাংলা সিনেমার বাসর ঘরের সিনগুলো বারবার দেখেছি এবং বিভিন্নজনের কাছ থেকে অনেক পরামর্শ নিয়েছি। সবচেয়ে বেশি পরামর্শ পেয়েছি আমার ভাবির কাছ থেকে। তবে তিনি একজন বোকা টাইপের সহজ সরল মহিলা। আর তার অধিকাংশ পরামর্শই ছিল উদ্ভট ও ভয়ংকর।

: শোন বাসর রাতেই কিন্তু বউকে ঠিকমতো টাইট দিবি।

: তুমি যখন বলেছ, অবশ্যই দেব। কোনো ছাড়াছাড়ি নাই। কিন্তু কী দিয়ে টাইট দেব? প্লাস, স্ক্রু ড্রাইভার, নাকি রেঞ্জ দিয়ে।

: সবকিছু নিয়ে ঠাট্টা করবি না। মনে রাখিস বাসর রাতেই বিড়াল মারতে হবে। না হলে সারা জীবন কিন্তু বউয়ের কথায় ওঠবস করতে হবে।

: করলে সমস্যা কী! ওঠবস করা একধরনের ব্যায়াম। শরীর ভালো থাকবে।

: ফাজলামি করবি না। একটু সিরিয়াস হ।

: ওকে আমি সিরিয়াস। কিন্তু বিড়াল যে মারব তা বিড়াল পাব কোথায়? আর ভাবি, এরা এ যুগের মেয়ে এদের এমনিতেই ভয় ডর কম। বিড়াল মারলেও কোনো লাভ হবে বলে মনে হয় না। যদি বাঘ–টাঘ জাতীয় কিছু মারতে পারতাম, তাহলেও একটা কথা ছিল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাঘ পাব কোথায়? আচ্ছা ভাবি তোমার জানাশোনা কোনো ফার্ম আছে? যেখানে বাঘ বিক্রি করে। আমার মাথায় একটা সিরিয়াস আইডিয়া এসেছে। ধরো বিয়ের দিন একটা বাঘ খাঁচাসহ কিনে এনে বাসর ঘরে রেখে দেব। তারপর রাতে টারজানের মতো শুধু লাল রঙের একটা জাঙিয়া পরে বাসর ঘরে ঢুকব। রুমে ঢুকেই কোনো কথা নাই। প্রথমেই মুখের কাছে দুই হাত এনে টারজানের মতো ওওওওওওওওও...বলে একটা চিৎকার দেব। তারপর নতুন বউয়ের সামনে জংলিদের মতো নেচে নেচে বল্লম দিয়ে বাঘটাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে মারব। এরপর বাঘের ডেড বডির ওপর দাঁড়িয়ে আবার ওওওওওওওওও.... বলে চিৎকার দেব। আমি এক শ ভাগ নিশ্চিত বউ ভয় পাবেই। এমনকি ভয়ে অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারে।

খেয়াল করলাম, ভাবি অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।

: এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?

: তোরে বুদ্ধি দিতে আসাটাই আমার ভুল হয়েছে।

: ভাবি একটা কথা, জাঙ্গিয়াটা লাল পরব নাকি হলুদ?

: তুই দুর হ আমার সামনে থেকে।

বাসর ঘরে এভাবে বেকুবের মতো বসে থাকার কোনো মানে হয় না। সিদ্ধান্ত নিলাম কোনো একটা অছিলায় রুম থেকে বের হয়ে পালিয়ে যাব। তারপর রাতে আর বাসায় ফিরব না। বিছানায় বসা থেকে উঠে দাঁড়ালাম। দরজার সামনে যেতেই পেছন থেকে মাস্টারনির মতো কণ্ঠে বলে উঠল, কোথায় যাচ্ছ?

মাইগড প্রথমেই তুমি! কোথায় ভেবেছি প্রথমে আপনি করে বলবে। আর আমি বারবার অনুরোধ করে বলব, আপনি না তুমি বলো। কিছুই তো দেখি পরিকল্পনা মতো এগোচ্ছে না। ঘুরে দাঁড়ালাম। দেখলাম এখনো ঘোমটা দিয়েই বসে আছে।

: বললে না কোথায় যাচ্ছ?

: টয়লেটে যাব।

: ঠিক আছে, কিন্তু বাইরে যাচ্ছ কেন? টয়লেট তো রুমের মধ্যে।

: তাই নাকি? টয়লেট রুমের মধ্যে?

: তোমার বাসা আর তুমি আমাকে প্রশ্ন করছ!

: তাই তো এটাতো আমারই বাসা। বুঝছি না, কেন জানি সবকিছু ওলট পালট হয়ে যাচ্ছে।

: তাই! আচ্ছা যাও, টয়লেট থেকে ঘুরে আসো।

: এখন তো টয়লেটে যেতে ইচ্ছে করছে না।

: আচ্ছা ইচ্ছে না করলে যেতে হবে না। এদিকে আসো সামনে এসে বস।

ভয়ে ভয়ে বিছানার এক কোণে গিয়ে বসলাম।

: ওখানে বসেছ কেন? আমার সামনে বস।

সামনে গিয়ে বসলাম। হৃৎপিণ্ডের গতি আরও বেড়ে গেল। সেই সঙ্গে বেড়ে গেল ঘামের গতি। মনে হচ্ছে প্রতিটি লোমকূপে একটি করে পানির নল বসানো হয়েছে। টের পাচ্ছি শেরওয়ানির নিচে পাঞ্জাবি ঘামে ভিজে গায়ের সঙ্গে লেপ্টে গেছে। সে এক বিশ্রী অবস্থা।

: তোমার সমস্যাটা কি? গত আধা ঘণ্টা থেকে লক্ষ্য করছি তুমি কেমন জানি অ্যাবনরমাল আচরণ করছ।

: আমারও তাই মনে হচ্ছে। কেন জানি সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। আসলে প্রথম বিয়ে তো তাই।

: প্রথম বিয়ে মানে! তোমার কি আরও বিয়ে করার ইচ্ছে আছে?

: নাউজুবিল্লা। এটা কী বললা। আসলে নার্ভাস তো তাই কী বলতে যে কী বলছি বুঝতে পারছি না।

: ইটস ওকে। আচ্ছা আমি আর কতক্ষণ এভাবে ঘোমটা দিয়ে বসে থাকব বলতে পার? আমার ঘাড় ব্যথা করছে।

: তাই নাকি! আসো তোমার ঘাড় টিপে দিই।

: আমি কি তোমাকে ঘাড় টিপতে বলেছি!

: না তা বলো নি। ঠিক আছে বলো আমাকে কী করতে হবে।

: তোমাকে কিছুই করতে হবে না।

বলেই ঝামটা দিয়ে ঘোমটা খুলে ফেলল।

হায় খোদা সব সময় ভেবেছি, বাংলা সিনেমার মতো বাসর রাতে আমি ঘোমটা খুলব, সে লজ্জায় জড়সড় হয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকবে। আমি চিবুকে হাত দিয়ে বলব, চোখ খোলো লক্ষ্মীটি, আমার দিকে তাকাও। তা না সে নিজেই ঘোমটা খুলে ফেলেছে।

: কী হলো, নিচের দিকে তাকিয়ে আছ কেন? আমার মুখের দিকে তাকাও।

বউয়ের মুখের দিকে তাকালাম। মনে হলো আমার সামনে এক অপ্সরী বসে আছে।

: চুপ করে আছ কেন? বলো আমাকে দেখে কেমন লাগল।

: বুঝতেছি না।

: মানে কি!

: না, আসলে ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। তুমি অনেক সুন্দর।

: তাহলে মাশ আল্লাহ বল।

: মাশ আল্লাহ, সুবহান আল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ।

: এত বেশি বলতে হবে না।

: তোমাকে দেখে অনেক খুশি হয়েছি তো, তাই সবকিছু এক সাথে বের হয়ে গেছে।

: খুশি হয়েছ? তাহলে যাও এখন দুরাকাত নফল নামাজ পড়ে খোদার কাছে শুকরিয়া আদায় কর।

: এখনই পড়তে হবে?

: হ্যাঁ এখনই পড়তে হবে।

: শোনো এই রুমে তো জায়নামাজ নাই। জায়নামাজ ছাড়া নামাজ পড়াটা ঠিক হবে না।

: সমস্যা নাই। আমার সুটকেসের মধ্যে জায়নামাজ আছে। বের করে দিচ্ছি।

বউ সুটকেস থেকে জায়নামাজ বের করে দিল। জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ পড়তে দাঁড়িয়ে গেলাম। নামাজ শেষ করে মোনাজাত ধরতে যাব ঠিক তখনই বউ বলে উঠল।

: অজু করেছিলে?

: না।

: অজু ছাড়াই নামাজ শেষ করে ফেললে?

: ও মাই গড অজু করার কথা মনেই ছিল না। তবে সমস্যা নাই। আল্লাহ এই সব ছোটখাটো ব্যাপার ধরেন না। উনি মহান।

: নিজে নিজে হাদিস বানিয়ো না। যাও অজু করে আবার নামাজ পড়। আরেকটি কথা, আজ সারা দিনে কয় ওয়াক্ত নামাজ পড়েছ?

: আজ পড়িনি।

: কেন?

: মনে হয় বিয়ের টেনশনে।

: বিয়ের টেনশনে নাকি খুশিতে?

: সম্ভবত দুটোই।

: শোনো বিয়ে করছ এটা অবশ্যই খুশির ব্যাপার। কিন্তু এই খুশিতে তো আর নামাজ বাদ দিতে পারবে না। সে জন্য এখন দুরাকাত নফল নামাজ তো পড়বেই তার সাথে সারা দিনের সব কাজা নামাজও পড়বে।

: মাই গড! বলো কী। সারা দিনের এত নামাজ পড়তে পড়তে তো রাতই শেষ হয়ে যাবে।

: শেষ হলে হবে। কোনো সমস্যা আছে?

: অবশ্যই আছে। এটা আমার বাসর রাত। এটা শবে বরাতের রাত না যে, সারা রাত নামাজ পড়ব।

: শোনো, নামাজ কালাম নিয়ে কখনো ফান করবে না।

: আচ্ছা করব না।

: দাঁড়িয়ে আছ কেন? যাও নামাজ শেষ করো। আমি এর মধ্যে বিয়ের পোশাক চেঞ্জ করে একটু ফ্রেশ হই। তা কী পরব?

: মানে কি?

: মানে আমি তোমার পছন্দের পোশাক পরতে চাচ্ছি। এখন বল শাড়ি পরব নাকি সালোয়ার কামিজ?

: শোনো আমার রুচি তোমার পছন্দ হবে না।

: পছন্দ না হলেও বলো শুনি।

: একবার একটা বাংলা সিনেমায় দেখেছিলাম অঞ্জু আপা লুঙ্গি আর শার্ট পরেছে। তুমি...।

কথাটা শেষ করতে পারলাম না। দেখলাম আমার দিকে কেমন ভাবে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে আছে। কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, তুমি কি এখন আমাকে তোমার অঞ্জু আপার মতো লুঙ্গি পরতে বলছ!

: দেখ, আমি তো আগেই বলেছি আমার রুচি তোমার পছন্দ হবে না। অবশ্য তুমি চাইলে আরেকটি ইউনিক আইডিয়া দিতে পারি।

: না। তোমার ইউনিক আইডিয়া আর শুনতে চাচ্ছি না। তুমি যাও নামাজ শেষ কর।

বিসমিল্লাহ বলে নামাজ শুরু করলাম। নামাজ শেষ করে দেখি বউ বিয়ের পোশাক পাল্টে নীল একটা শাড়ি পরে বসে আছে।

: কেমন লাগছে আমাকে?

: নীল পরির মতো লাগছে।

: তাই। তুমি কি কখনো পরি দেখেছ?

: না দেখিনি।

: তাহলে কী করে বুঝলে আমাকে পরির মতো লাগছে।

: সরি ভুল হয়ে গেছে। তোমাকে পরির মতো লাগছে না।

: তার মানে কী!

বলেই রিনিঝিনি করে হেসে উঠল।

: না মানে আমি বলতে চেয়েছি, তোমাকে পরির চেয়েও সুন্দর লাগছে।

: ধন্যবাদ। আচ্ছা তোমার কি আমার হাত ধরতে ইচ্ছে করছে?

: একটু একটু করছে।

: ধরতে চাইলে ধরতে পার। তবে তার আগে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে।

: বুঝলাম না। তোমার হাত ধরার জন্য কেন আমাকে টাকা দিতে হবে? তাও আবার ৫০ হাজার!

: এটা আমার কাবিনের টাকা। কাবিনের টাকা পুরোটা না দিলে আমাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

এত দেখি বিরাট সমস্যা। কিন্তু এত রাতে টাকা পাব কোথায়? হঠাৎ মনে পড়ল, কাবিনের টাকা না দিয়ে মুক্তি পাওয়ার কৌশল। যে কৌশল ভাবি শিখিয়ে দিয়েছেন। ভাবি গ্যারান্টি দিয়ে বলেছেন এ কৌশলে কাজ হবেই। এখানে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। ভাবির শেখানো ডায়ালগই বাংলা ছবির ভিলেনদের মতো ঝেড়ে দিলাম।

: দেখ তোমাকে এখন একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তুমি কী চাও? আমাকে চাও না কাবিনের টাকা চাও? দুটো এক সাথে পাবে না।

এই ডায়ালগের পর ভিলেনের মতো একটা হু হা হা হা.... হাসি দেওয়ার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু সাহসে কুলাল না।

: শোনো আমার সাথে বাংলা সিনেমার ডায়ালগ দিয়ে কোনো লাভ হবে না। আমি কাবিনের টাকা চাই এবং পুরোটাই চাই। কোনো রকম ধানাই পানাই চলবে না। বাসর ঘরেই আমার স্বামী যেন কাবিনের টাকা শোধ করে আমাকে স্পর্শ করে সে কারণেই আমার কাবিন মাত্র ৫০ হাজার টাকা রেখেছি। না হলে ৫০ লাখ রাখতাম।

মেজাজটাই গরম হয়ে গেল। না বউয়ের ওপর না, নিজের ওপর। কেন যে ভাবির মতো মাথা মোটা মহিলার পরামর্শ শুনে এ ধরনের সস্তা ডায়ালগ দিতে গেলাম।

: আমার কাছে তো এখন এত টাকা নাই। তুমি চাইলে কাল ব্যাংক থেকে এনে দেব।

: তা হলে আজ আর হাত ধরার দরকার নেই। কাল ধরো।

: মানে কী! আমি কি বাসর রাতে হাতটিও ধরতে পারব না?

: না, পারবে না। তবে তুমি চাইলে আমার শাড়ির আঁচলটা ধরে বসে থাকতে পার।

: এর জন্য কি টাকা লাগবে?

: না। এটা ফ্রি।

বলেই আবার রিনিঝিনি করে হেসে উঠল।

আমি ঠিক করেছিলাম পরিচিত কাউকে বিয়ে করব না। বিয়ের আগে মেয়েকে দেখব না, মেয়ে কী করে না করে তাও জানব না। কারণ ঘটা করে মেয়ে দেখে যাচাই বাছাই করে মেয়ে নির্বাচন করাটা আমার পছন্দ নয়। আমার মনে হয় এইভাবে মেয়েটাকে ছোট করা হয়। মা বলেছিলেন মেয়েটা সুন্দর কিনা দেখ। সরাসরি না দেখিস কমপক্ষে ছবি দেখ। আমি বলেছিলাম, শোনো মা পৃথিবীর কোনো মেয়েই অসুন্দর না। আমি মেয়েকে দেখব না। অবশ্য মেয়ে বা মেয়ে পক্ষ চাইলে আমাকে দেখতে পারে, তবে দুর থেকে এবং আমাকে না জানিয়ে।

: আচ্ছা তুমি যে বিয়ের আগে আমাকে দেখলে না, যদি আমি কালো হতাম?

: এটা কোনো ব্যাপারই না। কারণ ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল উগান্ডার কোনো মেয়েকে বিয়ে করা।

: মানে কী?

: কিছু না, এমনি বললাম। আসলে আমি কালো সাদা খুঁজিনি। আমি খুঁজেছি একজন মায়াবতীকে। যার সারা দেহ-মন জুড়ে থাকবে মায়া আর মায়া।

: আমাকে দেখে কি তোমার মায়াবতী মনে হচ্ছে?

: না।

: তা হলে এখন কী করবে?

: ঠিক বুঝতে পারছি না।

: থাক অত বুঝতে হবে না। আচ্ছা তোমার চোখ বন্ধ করে হাতটা একটু বাড়াও তো। তোমার জন্য একটা উপহার আছে। আমি না বলা পর্যন্ত চোখ খুলবে না।

চোখ বন্ধ করে হাত বাড়ালাম। হাতের কবজিতে কিছু একটা পরিয়ে দিল। আমার মনে হলো ব্রেসলেট।

: এবার চোখ খোল।

চোখ খুলে হাতের দিকে তাকিয়ে ভয় পেয়ে গেলাম।

: এটা কী!

: তাবিজ।

: তাতো দেখতেই পাচ্ছি। কিন্তু এটা কীসের তাবিজ।

ভয় পেয়ে প্রশ্ন করলাম।

: এটা এক পির সাহেবের তাবিজ। এ তাবিজ হাতে নিয়ে যে মিথ্যা বলবে, তারই নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হবে। অতএব সাবধান। এখন যা যা জিজ্ঞেস করব তার সঠিক উত্তর দেবে। বলো জীবনে কয়টা প্রেম করেছ।

: মাই গড তুমি তো দেখি একটা ডেঞ্জারাস মেয়ে। আমার প্রেমের তথ্য জানার জন্য তুমি তাবিজ নিয়ে এসেছ! তুমি চাও আমার নাক মুখ দিয়ে রক্ত বের হোক, আমি মারা যাই।

: মিথ্যে বলে যদি মারা যাও, তবে আমার কোনো আফসোস নাই। মিথ্যেবাদী স্বামীর সংসার করার চেয়ে বিধবা থাকা অনেক ভালো। কী ব্যাপার তুমি দেখি আবার ঘামছ।

: পানি খাব।

বেড সাইড টেবিলে রাখা পানির জগ হাতে দিয়ে বলল, নাও জগ থেকেই খাও। আমার ধারণা তোমার পুরো জগই লাগবে।

ঢক ঢক করে অর্ধেক জগ শেষ করে ফেললাম।

শোনো আমি তাবিজ টাবিজ ভয় পাই। এই দেখ ভয়ে আমার শরীর কাঁপছে। আমি কিন্তু জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে পারি।

: থাক তোমাকে আর জ্ঞান হারাতে হবে না। এটা কোনো তাবিজ না। ভেতরে খালি, কিছুই নাই। তোমার সঙ্গে মজা করার জন্য কিনে এনেছি। শোনো তোমার পেট থেকে কথা বের করার জন্য আমার তাবিজ লাগবে না। তুমি আমার প্রকৃত পরিচয় জানলে মিথ্যে বলার সাহসই পাবে না।

: তাই নাকি! কে তুমি?

: এই যে আমার আইডি। ভালো করে দেখ।

: এত সেনাবাহিনীর আইডি। এ আইডি তোমার কাছে কেন?

: কারণ আমি সেনাবাহিনীতে চাকরি করি তাই।

সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ স্বরে বলে উঠলাম, লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবাহানাকা ইন্নি কুন্তু মিনাজ যোয়ালেমিন। আর মনে মনে বললাম, হে মাবুদ তুমি আমারে এ কোন বিপদে ফেললা। চেয়েছিলাম মায়াবতী। আর তুমি এটা কী দিলা। বউয়ের আঁচল ছেড়ে দিয়ে দূরে সরে বসলাম।

: কী ব্যাপার আর্মি অফিসার শুনেই দুরে সরে গেলে?

: কারণ আমি আর্মি ভয় পাই।

: তাই! তা তোমার কি এখনো হাত ধরতে ইচ্ছে করছে।

: না। আর ইচ্ছে করেছে না।

: আচ্ছা তোমার মানিব্যাগটা বের কর তো। দেখি কত টাকা আছে।

মানিব্যাগটা হাতে দিলাম। ব্যাগ থেকে টাকা বের করে গুনল।

: চার হাজার টাকা আছে। এটা এখন নিলাম আর বাকি ৪৬ হাজার টাকা কাল দেবে।

বলে টাকাগুলো বউ ব্যাগে রাখল।

: নাও এখন হাত ধরো।

: না, না লাগবে না। আমার হাত ধরতে ইচ্ছে হচ্ছে না।

: ইচ্ছে না হলেও ধরবে। কারণ এখন আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছে।

হাত ধরলাম। বুকের ভেতর আবার ড্রাম বাজতে শুরু করল।

; একটা গান গাও তো।

বউয়ের আবদারে অবাক হয়ে গেলাম।

: আমাকে বলছ?

: এখানে তো তুমি ছাড়া আর কেউ নাই।

: আমি গান গাইতে পারি না। আমি বাথরুমেও কখনো গান গাইনি।

: তারপরও গাও। আসলে ছোটবেলা থেকে আমি স্বপ্ন দেখতাম বাসর রাতে আমার বর আমার হাত ধরে চোখের দিকে তাকিয়ে রোমান্টিক গান গাইছে। আর আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছি।

: কিন্তু আমার গান তোমার ভালো লাগবে না।

: লাগবে।

: ঠিক আছে তুমি যখন জোর করছ। তা কী গান গাইব।

: তোমার সবচেয়ে প্রিয় গানটাই গাও। তবে তার আগে আমার হাত ধরে চোখের দিকে তাকাও।

কাঁপা কাঁপা হাতে বউয়ের এক হাত ধরে চোখের দিকে তাকালাম। দেখলাম বউয়ের চোখে মুখে রোমান্টিকতা। আমিও আমার চাহনিতে রোমান্টিক একটা ভাব আনার চেষ্টা করলাম। তারপর কাঁপা কাঁপা গলায় গান ধরলাম।

‘বন্ধু তুই লোকাল বাস বন্ধু তুই লোকাল বাস। আদর...।’

বউ হাত তুলে গান থামিয়ে দিল।

: তোমার সমস্যা কি?

: কোনো সমস্যা নাই। কেন?

: মাইগড! তোমার রুচি তো দেখি ভয়াবহ রকমের খারাপ।

: কেন এটা তো হিট গান। তোমার পছন্দ হয়নি? অন্য আরেকটা গাইব।

: খবরদার। তুমি জীবনেও আমার সামনে গান গাইবে না। এমনকি একা একাও গাইবে না।

: ঠিক আছে গাইব না। আচ্ছা আমি কি তোমার কোলে একটু মাথা রেখে শুতে পারি।

: না পার না। এত আহ্লাদ ভালো না। চার হাজার টাকায় শুধু হাত ধরে রাখতে পারবে। তাও চার মিনিট। এর মধ্যে অলরেডি দু মিনিট শেষ।

: থাক বাকি দুই মিনিট আর হাত ধরব না। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। আমি এখন ঘুমাব।

বলেই হাত ছেড়ে দিলাম।

: মানে কী! বাসর রাতে কেউ ঘুমায়?

: কেউ ঘুমায় কিনা জানি না। কিন্তু আমি ঘুমাব।

: খবরদার, এখন যদি তুমি ঘুমাও একেবারে খুন করে ফেলব। মনে রেখ আমার ভ্যানিটি ব্যাগে কিন্তু পিস্তল আছে।

: মিসাইল থাকলেও কিছু করার নেই। সত্যি মাথা ধরেছে। বিয়ের টেনশনে গত দুরাত ঘুমাতে পারিনি। কেমন জানি লাগছে।

: আচ্ছা যাও ঘুমাও।

আসলে বউ আর্মি অফিসার জানার পর থেকে ভয় পেয়ে গেছি। ভয়ে কিনা জানি না। রাজ্যের ঘুম এসে জড়ো হয়েছে দুচোখে। কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম বুঝতেই পারিনি। ভোররাতে ঘুম ভাঙল। কিন্তু চোখ পুরোপুরি খুললাম না। মিটমিট করে চোখ খুলে দেখি আমার মিলিটারি বউ জেগে বসে আছে। আর আমার মাথা তার কোলে। নরম হাতে আমার চুলে বিলি কাটছে। মনে হলো তার হাত থেকে মায়া গলে গলে ঝরে পড়ছে আমার চুলে। বুঝতে দিলাম না যে আমি জেগে আছি। ঘুমের ভান করেই তার কোলে মাথা রেখে শুয়ে থাকলাম। বুকের ভেতর কেমন জানি শান্তির হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। মনে মনে বললাম এই তো আমার মায়াবতী, আমার স্বপ্নের মায়াবতী।

বি: দ্রষ্টব্য: বাসর রাত মানুষের জীবনে সবচেয়ে মধুর রাত। এ রাত মানুষের জীবনে একবারই আসে। (অবশ্য যারা একাধিক বিয়ে করেন তাদের কথা আলাদা।) তবে আমার জীবনে বাসর রাত বারবার এসেছে। কারণ মায়াবতীর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি রাতই আমার কাছে বাসর রাত।.

15/05/2018

|| এক টুকরো জান্নাত ||

"জান্নাতের মাটি আর জমীন হচ্ছে জাফরান আর কস্তুরীর।
এর ছাদ হচ্ছে আল্লাহর আসন।
শিলাখণ্ডগুলো মণিমুক্তোর।
দালানগুলো সোনারূপায় তৈরি।
গাছের শাখা-প্রশাখাগুলো সোনারূপার।
ফলগুলো মাখনের চেয়ে নরম, মধুর চেয়ে মধুর।
পাতাগুলো সবচেয়ে কোমল কাপড়ের চেয়েও কোমল।

কিছু নদী দুধের। যার স্বাদ কখনো বদলায় না। কিছু শরাবের। যারা পান করবে তাদের তৃপ্তি মিটবে। কিছু নদী পবিত্র মধুর। কিছু নদী সতেজ পানির।

যে-ফলমূল তারা চাইবে তা-ই তাদের খাবার। যে-পাখির গোশত তারা খেতে চাইবে তা-ই পাবে।

তাদের পানীয় হচ্ছে তাসনীম, সজীবতা উদ্দীপক ও কাাফূর।

তাদের পেয়ালাগুলো স্বচ্ছ, সোনারূপার তৈরি।

এর ছায়া এত বড় যে, দ্রুতগতির কোনো অশ্বারোহী একশ বছর ধরে চললেও সেই ছায়া থেকে বের হতে পারবে না।

এর বিশালতা এত বেশি যে, জান্নাতের সবচেয়ে নিচু অবস্থানে যে থাকবে তার রাজত্বে যেসব দেওয়াল, ভবন আর বাগান থাকবে সেগুলো পার করতে হাজার বছর লেগে যাবে।

এর তাঁবু আর শিবিরগুলো যেন লুকোনো মুক্তো। একেকটা প্রায় ষাট মাইল লম্বা।

এর ভবনগুলোতে রুমের উপর রুম। তাদের নিচ দিয়ে নদী বয়ে যায়।

এগুলোর উচ্চতা যদি জানতে চান তাহলে আকাশের যেসব উজ্জ্বল তারা দেখা যায় সেগুলোর দিকে তাকান। দৃষ্টি যেসব তারার নাগাল পায় না সেগুলোও দেখার চেষ্টা করুন।

জান্নাতবাসীর পোশাক হচ্ছে রেশম আর স্বর্ণ।

তাদের বিছানায় যেসব কাঁথা থাকবে সেগুলো হবে সবচেয়ে উঁচু মাপের রেশমি কাপড়ের।

তাদের চেহারা হবে চাঁদের মতো।

তাদের বয়স হবে ৩৩। মানবজাতির পিতা আদামের অবয়বে।

সেখানে তারা শুনবে তাদের পবিত্র স্ত্রীদের গান। তার চেয়েও ভালো হচ্ছে সেখানে তারা ফেরেশতা আর নাবীদের কণ্ঠ শুনতে পাবে। এর চেয়েও ভালো হচ্ছে সেখানে তারা নিখিল বিশ্বজগতের প্রভুর কথা শুনতে পাবে।

তাদের খেদমতে থাকবে চিরতরুণ বালকেরা। তাদের নমুনা হচ্ছে ছড়ানো-ছিটানো মুক্তোদানার মতো।

তাদের স্ত্রীরা হবে পূর্ণ-যৌবনা। তাদের অঙ্গ-প্রতঙ্গে যৌবনের উন্মাদনা ছড়াতে থাকবে। সে যদি তার সৌন্দর্য দেখায় তাহলে মনে হবে চেহারায় যেন সূর্য খেলে গেল। তার হাসিতে আলো চমকে উঠবে। তাদের ভালোবাসা হবে দুই আলোর মিলন। কোনো স্বামী যখন তার স্ত্রীর দিকে তাকাবে তার গালে নিজের চেহারার প্রতিচ্ছবি দেখবে। যেন কোনো উজ্জ্বল আয়নায় তাকিয়ে আছে। তার পেশি আর হাড়ের পেছন থেকে দ্যুতি ঠিকরে পড়বে।

সেই স্ত্রী যদি দুনিয়াতে তার সৌন্দর্য অবারিত করত, তাহলে পৃথিবী ও মহাবিশ্বের মাঝে যা কিছু আছে সবকিছু সুন্দর বায়ু দিয়ে পূর্ণ হয়ে যেত। সব সৃষ্টি তার প্রশংসা করত, গুণকীর্তন করত। পূর্ব-পশ্চিম সব তার সৌন্দর্যে অলংকিত হতো। সব চোখ কেবল তারই দিকে ফিরে থাকত। সূর্যের আলোয় যেমন তারার আলো হারিয়ে যায়, তার সৌন্দর্যে সূর্য সেভাবে হারিয়ে যেত। পৃথিবীর বুকে সবাই তখন চিরঞ্জীব সেই মহান সত্ত্বা এক আল্লাহয় বিশ্বাসী হতো।

তার মাথার অবগুণ্ঠন পৃথিবী ও এর মাঝে যা কিছু আছে তার সবকিছুর চাইতে ভালো। সময়ের সাথে সাথে কেবল তার সৌন্দর্য বাড়তেই থাকবে। সব নোংরা জিনিস থেকে পবিত্র থাকবে। তার যৌবন কখনো মিইয়ে যাবে না। পোশাক কখনো জীর্ণ হবে না। তার সৌন্দর্যের ধারেকাছে যায় এমন কোনো পোশাক হবে না। তার স্বামী কখনো তার কাছ থেকে বিরক্ত হবে না। স্ত্রীর মনোযোগ কেবল তার স্বামীর দিকেই থাকবে। সে তাকে ছাড়া আর কাউকে চাইবে না। স্বামীর চাওয়া-পাওয়াও কেবল তাকে ঘিরেই হবে। দুজন দুজনকে নিয়ে থাকবে সর্বোচ্চ স্বস্তি ও নিরাপত্তায়। মানুষ কিংবা জ্বীনদের মধ্যে থেকে কেউ তাকে কখনো ছুঁয়ে দেখেনি।

সর্বশক্তিমান, সর্বজ্ঞানী আল্লাহর চেহারা যিনি সবধরনের সাদৃশ্য থেকে মুক্ত সেদিন এমনভাবে দেখা যাবে যেভাবে দুপুর বেলায় সূর্য দেখা যায়। কিংবা মেঘমুক্ত আকাশে যেভাবে চাঁদ দেখা যায়। এক আহ্বানকারী ডেকে বলবে, "জান্নাতবাসী! তোমাদের সুমহান আল্লাহ তাঁকে দেখার জন্য ডাকছেন। কাজেই তাঁকে দেখতে আসো!" তারা বলবে, "আমরা শুনলাম ও মানলাম!"

তারা সবাই যখন প্রশস্ত উপত্যকায় জড়ো হবে, মহামহিম আল্লাহ তাঁর চেয়ার আনতে বলবেন। আলোর মিম্বার আসবে। আরও আসবে মুক্তো, খনি, সোনা-রূপার মিম্বার। জান্নাতের সবচেয়ে নিচু মর্যাদার অধিকারী কস্তুরীর চাদরে বসবে। আর তার উঁচু মর্যাদায় যারা থাকবে তারা যা দেখবে সে তা দেখবে না। যখন তারা সবাই আয়েশ করবে বসবে, তখন আহ্বানকারী ডেকে বলবে, "জান্নাতবাসী! আজ তোমাদের সঙ্গে আল্লাহর এমন এক সাক্ষাত হবে যেখানে তিনি তোমাদের পুরস্কার দেবেন!" তারা বলবে, "আবার কী পুরস্কার? তিনি কি ইতোমধ্যেই আমাদের চেহারাকে উজ্জ্বল করেননি, আমাদের ভালো কাজের পাল্লাকে ভারী করেননি, জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে জান্নাতে দেননি? [আর কী বাকি আছে!?]"

এমন অবস্থায় হঠাৎ করে পুরো জান্নাত জুড়ে আলোর রশনিতে ভরে যাবে। তারা তাদের মাথা উঁচু করে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে রইবে। মহান আল্লাহ বলবেন, "জান্নাতবাসী! আস-সালামু 'আলাইকুম!" [এই লাইনটা অনুবাদ করার সময় কয়েক মুহূর্তের জন্য থমকে গিয়েছিলাম। মহান আল্লাহ জান্নাতবাসীদেরকে নিজের মুখে সালাম জানাচ্ছেন! আল্লাহু আকবার!!] জান্নাতাবাসীরা উত্তরে বলবে, "আল্লাহ, আপনিই শান্তি! আপনার থেকেই শান্তি আসে! আপনি সুমহান। সব সম্মান আর মাহাত্ম্য আপনারই!" সুমাহন আল্লাহ তখন তাদের দিকে তাকিয়ে হাসবেন [এই জায়গাটা লেখার সময়ও গা শিউরে উঠছিল, ভাবা যায় স্রষ্টা নিজে তাঁর সৃষ্টির দিকে তাকিয়ে হাসছেন। আর সৃষ্টি তা দেখছে!]। বলবেন, "জান্নাতবাসী! তারা কোথায় যারা আমাকে না দেখে আনুগত্য করত? এটাই হচ্ছে ইয়াওমুল-মাযীদ (সর্বোচ্চ দিন)!"

তারা সবাই তখন উত্তর দেবে, "আমরা সন্তুষ্ট, আপনিও আমাদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে যান!" তিনি বলবেন, "জান্নাতবাসী! আমি যদি তোমাদের উপর সন্তুষ্ট না হতাম, তাহলে আমার জান্নাতের অধিবাসী তোমাদের করতাম না!" তারা সবাই সমস্বরে বলবে, "আপনার চেহারা দেখান যাতে আমরা দেখতে পারি!" সুমহান আল্লাহ তখন তার আবরণ সরিয়ে দেবেন। তাদেরকে মহিমাময়িত করবেন। তার আলো দিয়ে মুড়ে দেবেন। আল্লাহ যদি ইচ্ছে না-করতেন তাহলে এটা তাদের পুড়িয়ে ফেলত।

জনে জনে আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন, "তোমার কি সেই দিনের কথা মনে আছে, যখন তুমি এটা করেছ, ওটা করেছ?" তিনি তখন তাদেরকে তাদের দুনিয়ার কিছু খারাপ কাজের কথা মনে করিয়ে দেবেন।" সে তখন বলবে, "প্রভু, আপনি কি আমাদের ক্ষমা করবেন না?" তিনি বলবেন, "অবশ্যই! আমার ক্ষমা ছাড়া তুমি জান্নাতের এই জায়গায় পৌঁছাতে পারতে না।"

কর্ণকুহরে এই ধ্বনি কতই না মধুর। পরকালে তাঁর মহিমান্বিত চেহারা দেখে ধার্মিকদের চোখ কতই-না শীতল হবে।"

[হাাদি আল-আরওয়াাহ ইলা বিলাাদিল-আফরাাহ, ইবনুল-ক়ায়্যিম, পৃষ্ঠা ১৯৩]

24/04/2018

মালেক বিন দীনার ছিলেন ইরাকের বিখ্যাত এক আলেম। একবার তিনি বিশাল এক মজলিসে বক্তব্য দিতে দাঁড়াতেই এক শ্রোতা বললেন, 'আপনার বক্তব্য শুরু করার আগে একটি প্রশ্নের জবাব দিন।'

মালেক বিন দীনার প্রশ্ন করার অনুমতি দিলেন।

বয়স্ক শ্রোতা বললেন, 'প্রায় দশ বছর আগে আপনাকে শহরের এক রাস্তায় মাতাল অবস্হায় পড়ে থাকতে দেখেছি। আপনি সে অবস্হা থেকে কিভাবে ফিরে এলেন?

মালেক বিন দীনার কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে রইলেন। তারপর বললেন, আপনি ঠিক বলেছেন, আমিই সেই ব্যক্তি। শুনুন তাহলে আমার কাহিনী-

এক কদরের রাতে মদ কিনতে গিয়ে দেখি মদের দোকান বন্ধ। দোকানীকে অনুরোধ করে এক বোতল মদ কিনলাম বাসায় খাবো এই শর্তে। বাসায় ঢুকলাম। ঢুকেই দেখি আমার স্ত্রী নামায পড়ছে। আমি আমার ঘরে চলে গেলাম। টেবিলে বোতলটা রাখলাম। আমার তিন বছরের শিশু মেয়েটা দৌড়ে এলো। আমাকে ধরতে গিয়ে টেবিলে সাথে সে ধাক্কা খেলো আর মদের বোতলটি পড়ে ভেঙে গেলো। অবুঝ মেয়েটি খিলখিল করে হাসতে লাগলো।

ভাঙা বোতল ফেলে দিয়ে আমি ঘুমিয়ে গেলাম। সে রাতে আর মদ খাওয়া হলো না।

পরের বছর আবার লাইলাতুল ক্বদর এলো।

আমি আবার মদ নিয়ে বাড়ি ফিরে এলাম। বোতলটা টেবিলে রাখলাম। হঠাৎ বোতলের দিকে তাকাতেই বুক ভেঙে কান্না এলো। তিন মাস হলো আমার শিশু কন্যাটি মারা গেছে । বোতলটা বাইরে ফেলে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।

ঘুমের মাঝে স্বপ্নে দেখছি, এক বিরাট অজগর সাপ আমায় তাড়া করছে। এতো বড়ো মোটা সাপ আমি জীবনে দেখিনি। আমি ভয়ে প্রাণ পণে দৌড়াচ্ছি। এমন সময় এক দুর্বল বৃদ্ধকে দেখে বললাম, 'আমায় সাহায্য করুন।'

বৃদ্ধ বলল, 'আমি খুব দুর্বল এবং ক্ষুধার্ত। এ সাপের সাথে আমি পারবোনা। তুমি এই পাহাড়ের ডানে উঠে যাও।'

পাহাড়ে উঠেই দেখি বামদিকে দাউ দাউ আগুন জলছে। আর পেছনেই এগিয়ে আসছে সাপ।

বৃদ্ধের কথা মতো ডানে ছুটলাম।

দেখলাম সুন্দর এক বাগান। বাচ্চারা খেলছে। গেটে দারোয়ান। দারোয়ান বললো, বাচ্চারা দেখো তো এ লোকটিকে? একে সাপটা খেয়ে ফেলবে নয়তো আগুনে ফেলে দেবে।

দারোয়ানের কথায় বাচ্চারা ছুটে এলো। দেখলাম তার মাঝে আমার মেয়েটাও আছে। মেয়েটা আমায় ডান হাত জড়িয়ে রেখে তার বাম হাতে সাপটাকে থাপ্পর দিলো। অমনি সাপ চলে গেলো। আমি অবাক হয়ে বললাম, মা তুমি কত ছোট আর এত বড় সাপ তোমায় ভয় পায়?

মেয়ে বললো, 'আমি জান্নাতি মেয়ে, জাহান্নামের সাপ আমাদের ভয় পায়। বাবা ঐ সাপকে তুমি চিনতে পেরেছো?'

আমি বললাম, 'না মা।'

আমার মেয়ে বললো, 'বাবা ও তো তোমার নফস। নফসকে এতো বেশী খাবার দিয়েছো যে সে এমন বড় আর শক্তিশালী হয়েছে। সে তোমাকে জাহান্নাম পর্যন্ত তাড়িয়ে এনেছে।'

তখনি আমি বললাম, 'পথে এক দুর্বল বৃদ্ধ আমাকে এখানে আসার পথ বলে দিয়েছে। সে কে?'

মেয়ে বললো, 'তাকেও চেনোনি!! সে তোমার রুহ। তাকে তো কোনদিন খেতে দাওনি। তাই না খেয়ে দুর্বল হয়ে কোনো মতে বেঁচে আছে।'

আমার ঘুম ভেঙে গেলো।

সেইদিন থেকে আমার রূহকে খাদ্য দিয়ে যাচ্ছি আর নফসের খাদ্য একদম বন্ধ করে দিয়েছি। চোখ বুঝলেই নফসের সেই ভয়াল রূপ দেখতে পাই। আর দেখি রূহকে। আহা কতো দুর্বল হাঁটতে পারেনা।

ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন মালিক বিন দীনার ।

#শিক্ষা :
আসুন, নিজের নফসকে হেফাজত করি। নয় তো চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে জাহান্নাম। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তৌফিক দান করুন।

02/04/2018

|| দৃঢ় প্রত্যয়ী মুসলিমের দুইটি অসামান্য উদাহরণ ||
২য় পর্ব।

আমার অত্যন্ত প্রিয় আরেকটি বর্ণনা দিয়ে আজকের আলোচনার সমাপ্তি টানবো। এটাও দৃঢ় প্রত্যয়ী ঈমানের উদাহরণ নিয়ে। দৃঢ় ঈমান বলতে আসলে কী বুঝায়? অধ্যাত্বিকতা বলতে আসলে কী বুঝায়।
তাবারানী শরীফের একটি অসাধারণ বর্ণনা... "রাসূল (স) একদিন এক বেদুঈনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন সে আল্লাহর নিকট দোয়া করছিল..." এখন বেদুইন বলতে আসলে কারা? সহজভাবে বললে আমাদের সময়কার গ্রামাঞ্চলের সহজ সরল মানুষদের মত। যারা খুবই সিম্পল জীবন যাপন করতেন।
তো, রাসূল (স) থামলেন এবং সে কী বলছে তা মনোযোগ দিয়ে শুনতে লাগলেন। তিনি শুনতে পেলেন লোকটি বলছে--

“হে একক সত্তা! এই পৃথিবীর চোখ দিয়ে যাকে দেখা সম্ভব নয়, যার মহানুভবতা মানুষের ক্ষুদ্র মস্তিস্কের পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, তিনি যেমন প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য মানুষের পক্ষে সেরূপ প্রশংসা করা সম্ভব নয়, কোন ঘটনা তাঁকে পরিবর্তন করতে পারে না, তিনি সময় শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় করেন না, তিনি পৃথিবীর সকল পাহাড় পর্বতের একেবারে সঠিক ওজন জানেন, তিনি পৃথিবীর সকল মহাসাগরের একেবারে সঠিক আয়াতন জানেন, বৃষ্টির ফোটার একেবারে সঠিক সংখ্যা তিনি অবগত আছেন, তিনি পৃথিবীর সকল গাছের সর্বমোট পাতার একেবারে সঠিক সংখ্যা জানেন, রাত তার অন্ধকারে যা কিছু লুকিয়ে রাখে এবং দিন তার আলোতে যা প্রকাশ করে তার সবই তিনি জানেন, আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য এক আকাশ অন্য আকাশকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না, আল্লাহর কাছ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাটির একটি স্তর অন্য স্তরকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে না, পাহাড়ের গভীর অন্ধকারের কোন গর্তও তাঁর কাছ থেকে কিছু লুকিয়ে রাখতে পারে না এবং গভীর সমুদ্রের গহীন অন্ধকারও আল্লাহর কাছ থেকে কিছু গোপন রাখতে পারে না।”

এমন অসাধারণ ছিল তাঁর বিশ্বাস, তাঁর ঈমান। এভাবে আল্লাহর প্রশংসা করার পর সে দোয়া করতে লাগলো। তাঁর দোয়াও ছিল অসম্ভব সুন্দর।

“ ও আল্লাহ! আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময় যেন আমার জীবনের সর্বশেষ সময় হয়, আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ যেন আমার জীবনের সর্বশেষ কাজ হয়, আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ দিনে যেন আমি আপনার সাক্ষাত লাভ করি।”

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ডেকে আনলেন। তিনি বললেন এই লোকের নামাজ শেষ হলে আমার কাছে আসতে বলো। সে আসলে রাসূল (স) তাঁকে তাঁর নাম জিজ্ঞেস করলেন। সে কোন গোত্রের তাও জানতে চাইলেন। সে বলল- আমি বনু আমর ইবনে সা’সা’ থেকে এসেছি। তারা রাসূল (স) এর দূর সম্পর্কের আত্মীয় ছিলেন। তারপর রাসূল (স) তাঁকে একটি উপহার দিলেন। লোকটি কেমন সরল মনের ছিল অথচ তাঁর বিশ্বাস এতো দৃঢ় ছিল তা আমাদের দেখানোর জন্য রাসূল (স) তাঁকে বললেন, জানো কেন আমি তোমাকে এই উপহার দিয়েছি? সে বলল- কারণ আমি আপনার আত্মীয়। রাসূল (স) বললেন - না, না এই কারণে না। আত্মীয়তার সম্পর্কের নিজস্ব অধিকার রয়েছে। আমি তোমাকে এই উপহার দিয়েছি কারণ তুমি কেমন অসম্ভব সুন্দর করে আল্লাহর প্রশংসা করেছো, আর কেমন অনন্যসুলভ তোমার ঈমান।”

[শায়েখ আব্দুন নাসের জাংদার Strengthening Belief in Times of Uncertainty লেকচার থেকে]

30/03/2018

|| মৃত্যুর পর যে আরেকটি জীবন আছে তার প্রমান কী? ||

কুরআনের অন্যতম একটি প্রধান থিম, আক্ষরিকভাবে কুরআনের প্রতিটি পৃষ্ঠায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মৃত্যুর পরের জীবনের কথা উল্লেখ করেছেন। এটি আমাদের ধর্মের অন্যতম একটি মৌলিক স্তম্ভ। এটি অন্যতম একটি প্রধান বিষয় যা রাসূল (স) কুরাইশদের শিক্ষা দিয়েছিলেন। কারণ কুরাইশরা বিশ্বাস করতো না যে, মৃত্যুর পর আরেকটি জীবন রয়েছে।

আর আল্লাহ এই বিষয়টি বিভিন্নভাবে মানুষকে বুঝিয়েছেন। যৌক্তিক প্রমানের মাধ্যমে - আল্লাহ বলেন - মৃত জমিনের দিকে তাকাও যাকে আমি পুনরায় জীবন দান করি। মৃত গাছের দিকে তাকাও, মরার পর সেগুলো আবার জীবন ফিরে পায়। শক্তিশালী সব সৃষ্টির দিকে তাকাও, তোমার নিজের জীবনের দিকে তাকাও। নিশ্চয়ই যিনি তোমাকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন; তিনি তোমাকে পুনরায়ও সৃষ্টি করতে পারবেন।

আল্লাহ যে প্রমাণগুলো ব্যবহার করেছেন সেগুলো নৈতিক প্রমান। আল্লাহ বলেন - তোমরা কি মনে করো আমি ধর্মভীরু এবং ধর্মহীনকে অথবা সৎ এবং অসৎ ব্যক্তিকে একই রকম প্রতিদান দিবো?

এই পৃথিবীতে কখনো কখনো হাজার হাজার মানুষকে খুন করা ব্যক্তিও পার পেয়ে যায়। এই পৃথিবীতে চরম কোনো পাপিষ্ঠ ব্যক্তিকেও মাঝে মাঝে দেখা যায় উন্নত জীবন যাপন করতে। তারা নিরপরাধ মানুষকে নির্যাতন করে, হত্যা করে। এখন যদি মৃত্যুর পর কোনো জীবন না থাকে, জান্নাত-জাহান্নাম না থাকে, তাহলে জীবনটা তো খুবই অন্যায্য হয়ে পড়ে। ন্যায়ের আশ্রয় গ্রহণ করার তো আর কোনো সুযোগ থাকে না। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন - তিনি ন্যায় বিচারক। তিনি সীমাহীন ন্যায়বিচারক। আর তাই বিচার দিবস অবশ্যই সত্য। সেই বিচার দিবসে মানুষকে তার ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হবে; আর হ্যাঁ, তাদের অন্যায় কাজের শাস্তি দেয়া হবে।

আবারো বলছি কুরআনে পরকাল বিষয়ে অসংখ্য আয়াত রয়েছে। কিন্তু দিনশেষে আপনাকে এটা বিশ্বাস করতে হবে। আমি আপনাদের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমান দিতে পারবো না। এমন কোনো ইকুয়েশন দিতে পারবো না যা প্রমান করবে যে মৃত্যুর পর আরেকটি জীবন রয়েছে। কিন্তু আল্লাহ যথেষ্ট পরিমান এনালজি ব্যবহার করেছেন, বহু উপায়ে আমাদের বুঝিয়েছেন পরকালীন জীবনের কথা। এবং পরিশেষে, এটা একটা অদৃশ্য জগতের জ্ঞান। আমাদেরকে আল্লাহ সুব হানাহু ওয়া তায়ালার কথায় বিশ্বাস করতে হবে।

সত্যি কথা বলতে, যদি এই জীবনের পর আর কোনো জীবন না থাকে, তাহলে এই জীবনের তো কোনো মানে হয় না। তাহলে এই জীবনের অর্থ কী, এতো সব দুঃখ কষ্টের মানে কী? আমাদের এই অস্তিত্বের কি বা অর্থ আছে? প্রকৃতপক্ষে, এই জীবনের পর আরকেটি জীবন আছে বলেই তো আমাদের আশা আছে, জীবনটা অর্থপূর্ণ মনে হয়, চিন্তার প্রতিটি খাপে খাপে এটা মিলে যায়; কুরআন যেভাবে প্রমান করতে চায়। আমি যেমন বলেছি, এই বিশ্বাস আমাদের ধর্মের অন্যতম একটি মৌলিক স্তম্ভ - তাওহীদ, রিসালাত এবং আখিরাত; আল্লাহকে বিশ্বাস করা, রাসূলদের বিশ্বাস করা এবং পরকালে বিশ্বাস করা।

Address

Kotchandpur
Jhenida
7330

Telephone

01617944945

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Qarze Hasna Islamic Investment posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share