29/11/2022
ব্যাংক আপনার নিরাপদ ভরসাস্থল।
ডাচ্ বাংলা ব্যাংক লিমিটেড এজেন্ট ব্যাংকিং ** খলিলপুর বাজার শাখা। আপনার বিশ্বস্ত সহযোগী।
গুজবে কান দেন... প্লিজ একটু মনোযোগ সহকারে পড়ুন...
ফরেন রেমিট্যান্স নিয়ে শুরুতে একটু কথা বলি। বিদেশ থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কিংবা ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন, রিয়া, মানিগ্রাম, ট্রান্সফাস্ট ইত্যাদি নানান উপায়ে গোপন নাম্বারের মাধ্যমে আপনার টাকা আসতে পারে। এগুলো সব বৈধ উপায়। এসবের মাধ্যমে আপনার প্রিয়জন আপনার কাছে ডলার পাঠায়, সরকার বাজারদর থেকে ২.৫% বেশি দিয়ে আপনার কাছ থেকে সেই ডলারটা কিনে নেয়। কারণ সরকারের বা দেশের বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করতে ডলার লাগবে। আপনি নিশ্চয়ই টাকার বান্ডিল দিয়ে আমেরিকা থেকে পণ্য কিনতে পারবেন না। বিদেশী ইঞ্জিনিয়ার সেতু বানালে সে নিশ্চয়ই টাকা নিবে না, সে ডলারই নিবে। তাই দেশের ডলারটা প্রয়োজন।
এদিকে বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর আরেকটা জনপ্রিয় উপায় আছে। হুন্ডি। এটা একটা অবৈধ প্রক্রিয়া। দাঁড়ান পুরো প্রক্রিয়াটা ব্যাখ্যা করছি।
মনে করেন, আপনার ভাই সিঙ্গাপুর বা আমেরিকা থাকে। সে প্রতিমাসে আপনার কাছে রেমিট্যান্স পাঠায়। এদিকে চৌধুরী সাহেব ঘুষ খেয়ে, জমি দখল করে, চুরি-ডাকাতি করে প্রচুর পরিমান অবৈধ টাকা আয় করেছে। চৌধুরী সাহেব ২০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী। তার অবৈধ কোটি কোটি টাকা ব্যাংকেও জমা করতে পারে না। কারণ ব্যাংক জিজ্ঞেস করে, এতো টাকা কোথায় পেলেন। সেই এই টাকায় বাড়ি-গাড়ি-জমি কিনতে পারে না। কারণ ইনকাম ট্যাক্স বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জিজ্ঞেস করবে, এই টাকার উৎস কী? সে তার অবৈধ টাকা খাটের নিচে, বালিশের মধ্যে, চালের ড্রামে লুকিয়ে রেখেছে। সে চান্সে আছে টাকাটা কানাডা পাঠিয়ে বেগমপাড়ায় একটা বাড়ি কিনবে। কিন্তু বেগমপাড়ার বাড়িওয়ালা তো আর টাকা নিবে না। তার দরকার ডলার। বস্তাভর্তি ডলার নিয়ে এয়ারপোর্ট দিয়ে কানাডার বিমানেও ওঠা সম্ভব না। তাহলে করণীয় কী?
সে যোগাযোগ করবে আপনার ভাইয়ের কাছে। আপনার ভাই ১ লক্ষ টাকা পাঠালে সরকার আপনাকে ১ লক্ষ ২ হাজার ৫ শত টাকা দিবে। এদিকে চৌধুরী সাহেব আপনার ভাইকে বললো, "আপনি ডলারটা আমার কানাডার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। আর আমি আপনার ভাইকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে দিচ্ছি।"
সাড়ে সাত হাজার টাকা বেশি পেয়ে আপনি খুশি, বিনা খরচায় টাকা পাঠিয়ে আপনার ভাইও খুশি, অবৈধ টাকা ব্যবহার করতে পেরে চৌধুরী সাহেবও খুশি। তিনজনেরই লাভ হয়েছে। তাহলে লসটা আসলে কার? লসটা হলো দেশের। কীভাবে?
সরকারের কাছে যে ডলারটা আসার কথা ছিলো সেটা আসেনি। সেটা কানাডায় চৌধুরী সাহেবের অ্যাকাউন্টে ঢুকে গেছে। এটাই ডলার পাচার। ফলে সরকার তার পরিকল্পনা মতো কাজটা করতে পারবে না। ধরেন সরকারের আরেকটা পদ্মাসেতু বানানোর ইচ্ছা ছিলো। কিন্তু হাতে ডলার না থাকলে দামি দামি বিদেশী মেশিন কিনবে কোথা থেকে? পদ্মা সেতু হলো না। সরকার যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তার জন্য অনেককিছু বিদেশ থেকে কিনতে হয়। কিন্তু সরকারের কাছে ডলার না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না। ফলে আপনি-আমি লোডশেডিংয়ে বসে আছি। আপনার স্ত্রী বা ছেলেমেয়ের জটিল রোগের জন্য একটা বিদেশী ওষুধ দরকার। সেটা আপনি সারা দেশ খুঁজেও পাবেন না। কারণ ডলার না থাকায় ইমপোর্টাররা কেউ সেটা বিদেশ থেকে আনতে পারেনি। কিছুদিন আগে শ্রীলঙ্কা কাগজ কিনতে না পারায় স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা নিতে পারেনি। এভাবে তাদেরর ছেলেমেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়েছে।
আলটিমেট দেশের ক্ষতি মানে আপনারই ক্ষতি। আপনি এক লাখের জায়গায় এক লাখ দশ হাজার টাকা পেয়ে খুব খুশি হয়েছিলেন। এবার বুঝেন মজা।
আরেকটা প্রশ্নের উত্তর কিন্তু পেয়ে গেছেন। ব্যাংক টাকা দিতে পারছে না। এই গুজবটা আসলে কে ছড়িয়েছে? উত্তর: চৌধুরী সাহেব। কারণ তখন আপনি ভয় পেয়ে আপনার টাকা ব্যাংকে না পাঠিয়ে হুন্ডি করবেন। আপনার মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে কামানো বৈধ টাকাটা, অবৈধ উপায়ে দেশে পাঠিয়ে চৌধুরী সাহেবের ডলার পাচারে সহায়তা করলেন।
আবার ফিরে আসি ব্যাংকের টাকা উত্তোলনে। আপনি ভয় পেয়ে আপনার জমানো সব টাকা ব্যাংক থেকে তুলে আপনার ঘরের কাঠের আলমারিতে তুলে রাখলেন। চোর-ডাকাতরা তো এটাই চায়। সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রহরী, ২৪ ঘন্টা সিসি ক্যামেরা, সেন্সর, বিশেষভাবে তৈরী ব্যাংকের অত্যাধুনিক ভল্ট থেকে টাকা ডাকাতি কঠিন হলেও, আপনার আলমারি ভাঙ্গা কোনো ব্যাপারই না।
লাভবান পার্টি আরও আছে। আপনি এবার টাকাটা রাখবেন এলাকার মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে। আপনি টাকাটা রাখবেন কোন কোম্পানিতে। এসবে ব্যাংকের চেয়ে দ্বিগুণ, তিনগুণ লাভ দেয়। একদিন শুভ সকালে দেখবেন, মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ নাই, পল-পল কোম্পানি কোমায়, আপনার টাকাও নাই।
কিন্তু টাকাটা ব্যাংকে থাকলে ব্যাংক সেটা ইনভেস্ট করতে পারতো, অনেক কোম্পানি হতো, অনেকের কর্মসংস্থান হতো, অনেক সংসার সচ্ছল হতো, কোম্পানিগুলো উৎপাদিত পণ্য বিদেশে এক্সপোর্ট করতে পারতো। সেই ডলার দিয়ে আরেকটা পদ্মাসেতু হতো, আরেকটু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতো, আপনার অসুখের সময় দুষ্প্রাপ্য বিদেশী ওষুধ কেনা যেতো।
আপনিও বাঁচতেন, দেশও বাঁচতো।
তাই হুজুগে পড়ে নিজের বৈধ টাকা হুন্ডিতে পাঠিয়ে অবৈধ করবেন না। চিলে কান নিয়েছে শুনে দৌঁড়ে ব্যাংকে এসে এফিডিআর, ডিপিএস ভেঙ্গে চালের ড্রামে টাকা রাখবেন না। বাংলাদেশের ৫১ বছর বয়সে একটা ব্যাংক এখন পর্যন্ত বন্ধ হয়নি, হবেও না। আপনার টাকার নিরাপত্তা ব্যাংকের চেয়ে বেশি অন্য কেউ দিতে পারবে না।
ধন্যবাদ