06/05/2026
ধরেন, স্বামী এক্সিডেন্ট করে বিছানায় পড়ে গেছে ১০ মাসের জন্য।
বৌ এর সাথে সেক্স করার শক্তি নাই।
এই পরিস্থিতিতে বৌ যদি স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে আরেকটা বিবাহ করে,
সেইটা কি হারাম হবে? না। হারাম হবে না। ইসলামে যে কোন সময়ই যে কাউকে ডিভোর্স দেওয়া যায়।
কিন্তু কাজটা কি মানবিক হবে?
উত্তরটা হলো, না, হবে না।
এবার চিন্তা করেন, একজন নারী প্রেগনেন্ট। এক সপ্তাহ পর তার ডেলিভারি। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে আছেন।
এই পরিস্থিতিতে স্বামী আরেকটা বিবাহ করে আনতেসেন।
লজিক কী? "গোনাহ থেকে বাঁচার জন্য", পরকীয়া না করে হালাল উপায়ে সেক্স করার জন্য।
সেইটা আবার ফেসবুকে প্রকাশ করতেসেন। হাজার হাজার মানুষকে এনকারেজ করতেসেন, যেহেতু তিনি একজন সেলিব্রিটি আলেম।
এইসবে সমাজে কী মেসেজ যায়?
মেসেজ যায় যে বৌ অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকুক, সেক্স এর ব্যবস্থা করতেই হবে। সেক্স থামানো যাবে না।
কারণ একটাই, বিষয়টা "হালাল", "হারাম" না।
অথচ একটা সম্পর্ক কি হালাল হারাম দিয়ে টিকে থাকে?
এই যে আমার জ্বর হইলে আমার মা না ঘুমাইয়া সেবা যত্ন করে, এই যে ঘরের সবার ভালো মন্দ হিসেব করে গোটা সংসারটা চালানো,
এসবের একটাও ধর্মে নাই।
আই রিপিট, ধর্মে নাই।
মানে আমার মা আমার খাবার দাবার তো দূরের কথা, আমার জন্মের পর যদি আমাকে বুকের দুধ না খাওয়ায়, ধর্ম অনুযায়ী তিনি কোন "হারাম" কাজ করতেন না।
বৌদের উপর সংসারের কোন কাজ তো না ই, ইভেন বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানোও ফরজ না।
ফাঁক খুজলে এইটা খুঁজতেই পারত।
কিন্তু কয়টা মা এইটা খুজে?
কয়টা মা বলে যে বাচ্চার জন্য রানতে পারব না? বাচ্চাকে খাওয়াইতে পারব না?
একটা মাও বলে না।
বলে না, কারণ, হালাল হারামের বাইরেও সংসারে একটা জিনিস আছে, তার নাম ভালোবাসা, মায়া।
আপনি হাসপাতালে ভর্তি থাকলে কোন ধর্মেই বলা নাই যে আপনার বৌ কে আপনার সেবা করতে হবে।
কোথাও লেখা নাই।
বৌরে করে না সেবা?
হালাল হারাম মেনে করে?
নাকি ভালোবাসা থেকে করে?
বাংলাদেশের বেশিরভাগ পুরুষের জীবনই গরিবি জীবন।
এদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়।
অথচ আর্থিক স্ট্রাগল করার কোন বাধ্যবাধকতা কি ইসলাম বৌদের উপর দিয়েছে?
দেয়নি।
ইভেন, বৌদের চাহিদা পূরণ করা স্বামীদের উপর ফরজ।
অথচ কয়টা বৌ স্বামীদের কাছে মুখ ফুটে কিছু চায়?
শুধু সংসারের দিকে তাকাইয়া কত মেয়ে তাদের "হালাল" স্বর্ণ, বিলাসিতা, শৌখিনতা এমনকি দেনমোহর পর্যন্ত স্যাক্রিফাইস করে দেয়।
জাস্ট স্বামীর মুখের দিকে তাকাইয়া এরা এদের ধর্মীয় অধিকার পর্যন্ত স্যাক্রিফাইস করে।
কেন?
ভালোবাসা, মায়া।
তো এই ভালোবাসা আর মায়া দিয়ে দিয়ে একটা মেয়ে সেইটা কেন এক্সপেক্ট করবে না?
প্রেগনেন্ট হইলে কেন একটা মেয়েকে দেখতে হবে সেক্স করার জন্য তার স্বামী "হালাল" "হারামের" খাতা খুলে আরেকটা বিবাহ করে আনসে?
বহুদিন আগে লিখেছিলাম,
ধর্ম আর ধার্মিকতা বিবাহের কোন ক্রাইটেরিয়া হইতে পারে না।
কেন বলসিলাম, এখন বুঝতেসেন?
কে কত ধার্মিক, কে কত বড় আলেম, কে কত নামাজ রোজা করে, এইগুলা কোনদিনই মানুষের ক্রাইটেরিয়া না।
একজন মানুষ তখনই মানুষ যখন তার মধ্যে মায়া থাকে, ভালোবাসা থাকে।
যারা করে ফেলেছেন, তারা তো করেই ফেলেছেন,
বাট যারা বিবাহ করেন নাই, ছেলে হোন বা মেয়েই হোন,
লেবাস দেখে, জোব্বা দেখে, বোরকা দেখে বা হিজাব দেখে বিয়ে কইরেন না, কে কত ভালো ফতোয়া দিতে পারে তা দেখে পার্টনার চুজ কইরেন না,
করলে দেখবেন,
আপনি অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন, আর আপনার স্বামী সেই অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় বৌ এর ফতোয়া নিয়ে হাজির হয়ে গেছে।
মায়াহীন আর ভালোবাসাহীন মানুষ, পশুরও অধম, তা সে যত ফতোয়াই দিক না কেন!!
-সাদিকুর রহমান