25/09/2019
সাফল্য :
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার অনেক নারীর জীবনে যে আমোঘ পরিবর্তন এসেছে, তা ভাগ্যের জোরে বদলায়নি, বরং নিজের চেষ্টা আর পরিশ্রমে সচ্ছলতা এসেছে তাদের ঘরে। প্রায় ৫০ জন নারীকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করছে সর্বজয়া প্রকল্প। বলা চলে ছোটো একটা গ্রামের প্রায় প্রতিটা নারীকে স্বাবলম্বী করে তোলার পেছনে কাজ করছে তারা।
সাদুল্লাপুর উপজেলায় পরিচালিত একটি প্রকল্প সর্বজয়ার এক একজন উদ্যোক্তা প্রায় ২০টি গরুর লালন-পালন তদারক করেন। এসব গরুর খাবার থেকে শুরু করে চিকিত্সা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়। এসব কাজে তারা সহায়তা পান সর্বজয়ার মাঠকর্মীদের কাছে। দুই দিন অন্তর মাঠকর্মীদের সঙ্গে গবাদিপশুর ডাক্তার এসে পরীক্ষা করে যান গরুর স্বাস্থ্য, যা সর্বজয়া প্রকল্পের অংশ। এই নারীদের গরুর খামার করার জন্য অর্থ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ আর পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করে যাচ্ছে সর্বজয়া। নিজের পরিশ্রম আর সর্বজয়ার সাহায্য এই দুইয়ে মিলে গৃহিণী থেকে একেকজন উদ্যোক্তা বনে যান। তাদের তত্ত্বাবধানে চলা এ গরুর খামারের অর্ধেক মালিকানা এখন তাদের হাতেই। যার লভ্যাংশ প্রতি বিক্রিতেই তারা বুঝে পান।
সর্বজয়া প্রকল্পের পেছনের গল্প জানতে চাইলে এ প্রকল্পের প্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকারিয়া মোহাম্মদ পলাশ জানান— ‘এ গ্রামের প্রতিটি পরিবারের পুরুষ সদস্যটি যখন কৃষিকাজ কিংবা জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য কোনো কাজে ব্যস্ত থাকে তখন সে বাড়ির কর্ত্রী কিন্তু সারাদিনের কাজ শেষে অলস সময়ই পার করছেন। অন্যদিকে পরিবারগুলো খুব যে সচ্ছল তাও কিন্তু না। সবমিলিয়ে নারী যদি অলস সময়টুকুকে কাজে লাগিয়ে খানিকটা বাড়তি আয় করতে সক্ষম হন তাহলে কিন্তু পুরো পরিবারে সচ্ছলতা নেমে আসবে। তথা পুরো গ্রামের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নতি হবে।’ এ চিন্তা থেকেই সর্বজয়ার শুরু হয় ২০১৭ সালে। ‘টেকসই উন্নয়নে নারীর ক্ষমতায়ন’ এ বাক্যকে মূলনীতি বিবেচনা করে গড়ে উঠেছে সর্বজয়া। নারীর উদ্যোম, প্রবল ইচ্ছা আর কর্মস্পৃহাকে কাজে লাগিয়ে এত দূর আসা সম্ভব বলেই এটি সর্বজয়া নামকরণের কারণও। তারা চাইলেই পারে অসাধ্যকে জয় করতে সবমিলিয়ে এ প্রকল্পের অধীনে থাকা একেকজন খামারি কিন্তু সমাজ ও সংসারে একেকজন বিজয়িনী। এ প্রকল্পের শুরুতে মোট পাঁচজন নারীকে বেছে নিয়ে, তাদের প্রত্যেককে চারটি করে গরু কিনে দেওয়া হয়। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। বেছে নেওয়া পাঁচজনকে উপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর একটি আদর্শ খামারের কাঠামো তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সে কাঠামো অনুযায়ী সর্বজয়ার তত্ত্বাবধানে তাদের নিজেদের বাড়িতে বিনা সুদে একটি খামার তৈরি করে দেওয়া হয়, গরু কিনে দেওয়া হয়। গরুর খাবার, চিকিত্সা, প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণ ইত্যাদি বিষয়গুলোতেও তদারকি করা হয়। এ প্রকল্পের অধীনে থাকা প্রতিটি নারী খামারি একেকজন সর্বজয়া। সবমিলিয়ে মাত্র পাঁচ জন সর্বজয়া আর ২০টি গরু নিয়ে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বছর দুয়েক না গড়াতেই এখন ৫০ জন সর্বজয়ার অধীনে রয়েছে ২০০টি গরু।
গ্রামীণ নারীকে যোগ্য করে তোলা এবং তাদের যোগ্যতা দ্বারা অর্থনৈতিক সচ্ছলতা আনাই মূখ্য উদ্দেশ্য সর্বজয়া প্রকল্পের। এর পাশাপাশি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রক্রিয়ায় গরুর উত্পাদন বাড়ানো, বিক্রি, পুষ্টিমান সম্পন্ন গরুর মাংসের চাহিদা পূরণ ইত্যাদি সম্পৃক্ত পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে। সাদুল্লাপুরের সর্বজয়াদের হাত ধরে ঘরে ফিরে এসেছে সচ্ছলতা।
Link: https://www.ittefaq.com.bd/print-edition/features/mohila-ongon/91229/সর্বজয়ার--যাত্রা?fbclid=IwAR3qwVrxPrVW54RgSPWW08CYRGjL44uu6jR5VEGPHOSKYTY5SfxyAiOrKSQ
Published date: 25th September 2019
সাফল্য ইফফাত ই ফারিয়া গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার অনেক নারীর জীবনে যে আমোঘ পরিবর্তন এসেছে, তা ভাগ্যের জোরে ...