12/06/2026
আসলে, আজকের (১১ জুন, ২০২৬) বাজেট অধিবেশনে অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণাটি দিয়েছেন, তাই নিউজটি সম্পূর্ণ সত্যি। তবে এই ৩০% গ্র্যাচুইটির একটি বিশেষ শর্ত বা প্রেক্ষাপট রয়েছে, যা সাধারণ বেসরকারি খাতের নিয়মিত গ্র্যাচুইটির চেয়ে আলাদা।
প্রকৃত বিষয়টি নিচে সহজ করে বুঝিয়ে দেওয়া হলো:
১. এটি কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
এই সুবিধাটি সব বেসরকারি চাকরিজীবীর জন্য ঢালাওভাবে প্রযোজ্য নয়। এটি প্রযোজ্য হবে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের (Universal Pension Scheme) আওতাভুক্ত বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য, যারা 'প্রগতি স্কিম'-এ যুক্ত আছেন বা হবেন।
২. মূল ঘোষণাটি কী?
আজ সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে, সর্বজনীন পেনশনের আওতাধীন বেসরকারি খাতের কর্মীরা (প্রগতি স্কিম) যখন ৬০ বছর পূর্ণ করে অবসরে যাবেন, তখন তাদের জমানো মোট টাকার (কর্পাস বা ফান্ড) সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ টাকা এককালীন গ্র্যাচুইটি বা আনুতোষিক হিসেবে তুলতে পারবেন। বাকি ৭০ শতাংশ টাকা থেকে তারা আজীবন মাসিক পেনশন সুবিধা পাবেন।
৩. প্রগতি স্কিমের মূল নিয়মগুলো:
চাঁদার ভাগ: কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এই স্কিমে যোগ দিলে মাসিক চাঁদার ৫০% কর্মী এবং বাকি ৫০% প্রতিষ্ঠান দেয়।
চাঁদার পরিমাণ: মাসে ১,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।
অবসরকালীন সুবিধা: ৬০ বছর বয়স হওয়ার পর জমানো মোট ফান্ডের সর্বোচ্চ ৩০% এককালীন তোলা যাবে (যা আজ ঘোষণা করা হলো) এবং বাকিটা আজীবন পেনশন হিসেবে পাওয়া যাবে।
সংক্ষেপে মূল কথা: আপনি যদি কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন এবং আপনার প্রতিষ্ঠান যদি সরকারি সর্বজনীন পেনশন স্কিমের (প্রগতি স্কিম) সাথে যুক্ত থাকে, তবেই অবসরের সময় এই এককালীন ৩০% গ্র্যাচুইটি সুবিধাটি পাওয়া যাবে। সাধারণ শ্রম আইনের অধীনে প্রচলিত গ্র্যাচুইটির নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসেনি, এটি সম্পূর্ণ নতুন পেনশন স্কিমের একটি আকর্ষণীয় ফিচার হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে বেসরকারি মালিদের কে বাধ্য করবে সরকারের এই প্রগতি স্কিমের সাথে যুক্ত হতে। তারা যদি সেচ্ছায় যুক্ত না হয় তাহলে সাধারণ চাকুরীজীবিদের কোন লাভ ই হবে না।