28/09/2015
মারা যাবার আগে তার শেষ কিছু
স্ট্যাটাস !
Tahmida Jannat নামের এই মেয়েটা
কিছুদিন আগে মারা গেছে
ক্যানসারে । তার ফেসবুক
আপডেটগুলো একজন শেয়ার করেছে ।
পড়ে শেয়ার না করে পারলাম না ।
বাস্তবতা কি জিনিস, তা দেখিয়ে
দিয়ে গেলো......
৭-৩-২০১৩.........
আজ আমার ক্যান্সার জীবনের সপ্তম
দিন। খবরটা বাবা মা আমাকে
দেয়ার সাহস করে নাই । সারিন
আমাকে জানায় আমার
লিউকেমিয়া । কিভাবে নিব
ব্যাপারটা বুঝতে পারছিলাম না ।
আমিতো ক্যানসারকে চাই নাই ।
তাহলে সে কেন আসলো আমার
কাছে । আমিতো অন্য কাউকে
চেয়েছিলাম...
যাহা পাই তাহা চাইনা ।
১৩-৭-২০১৩.........
শেষ পর্যন্ত স্কুলে যাওয়াও বন্ধ হল
আমার.. । ব্লিডিং বেড়ে যাচ্ছে ।
কি অদ্ভুত । একসময় জ্বরের ভান করে
পড়ে থাকতাম । আর এখন স্কুলে
যাওয়ার জন্য সুস্থ থাকার অভিনয়
করতে হয় । পোয়েটিক জাস্টিস ।
ক্যান্সার মনে হয় একটা মানুষের
অতীতের সব খোজ খবর নিয়ে আসে ।
এই যে একসময় বৃষ্টি ভালো লাগত না ।
কিন্তু এখন যেন বৃষ্টিকেই আপন মনে হয়
। রোদ অসহ্য লাগে । রোদ আমাকে
আমার অক্ষমতার কথা মনে করিয়ে
দেয় ।
২২-৯-২০১৩.........
আজ আমার বন্ধুরা আমাকে দেখতে
এসেছিল । ঐশি, মৌমিতা,সানি,
রিয়ন । অনেকদিন পর একটা ভালো সময়
কাটালাম । কিন্তু কোথায় যেন সুরটা
কেটে গেছে । আমি জানি ওরা
আমায় প্রচন্ড ভালোবাসে । সানি
আমার চোখের দিকে তাকাচ্ছিল
না। লজ্জায় বোধহয় । সম্পর্কটা শেষ
হয়েছে প্রায় তিনমাস । আমার
ক্যান্সারের কথা শুনে সানিই আস্তে
আস্তে দূরে সরে যায় । আমি জানি ও
আর মৌমিতা প্রেম করা শুরু করেছে ।
খারাপ লেগেছে ওরা আমাকে
খোলা মনে ব্যাপারটা জানালেই
পারত। সত্যি কথা শোনার অধিকার
কি থাকেনা একজন ক্যন্সার রোগীর ।
সবাই এমন অভিনয় করে কেন ?
১৬-১-২০১৪.........
অনেকদিন লিখিনি । অনেক দেরি
হয়ে গেছে । রোগটা আমাকে গ্রাস
করে ফেলছে । ইদানিং সানিকে খুব
মনে পড়ে । ওকে ফোন দেই ধরেনা ।
ক্যান্সার তো ছোঁয়াচে না । তবে
কেন এত অবহেলা । আজকাল
রিসানের সাথে কথা বলে সময়
কাটে আমার। ছেলেটার সাথে
আমার ফোনে পরিচয় । কোন শর্ত
ছাড়াই ভালোবাসে আমায় । কিন্তু
আমার কিছু করার নেই । একজন
ক্যান্সার রোগীর কাউকে
ভালোবাসার কিংবা কারো
ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার নেই
।
২৬-১-২০১৪.........
দ্বিতীয় কেমো দিয়ে বাসায়
আসলাম । চুলের ব্যপারে সবসময় একটু
বেশি খুত খুতে ছিলাম আমি । নতুন নতুন
ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু কন্ডিশনার কিনতাম
। এখন আর ওসবের প্রয়োজন হয়না । চুলই
নেই, শ্যাম্পু দিয়ে কি করব । কাজের
বুয়াকে বলে ড্রেসিং
টেবিলটাকে ঘর থেকে বের করে
দিয়েছি । আয়নায় তাকাতে ভালো
লাগেনা । এদিকে বাবা মার মধ্যে
ঝগড়া বেড়েই চলেছে দিন দিন । এই
সম্পর্ক বেশিদিন টিকবে না আমি
জানি । ওইদিন মাঝরাতে ঘুম
ভেঙ্গে দেখি বাবা আমার পায়ের
কাছে বসে কাদছে । ভালোবাসার
বিয়ের এ কি পরিণতি ।
ভালোবাসার থেকে বোধহয়
ক্যান্সারও ভালো...
২-২-২০১৪.........
২৬ ঘন্টা পর আমার জ্ঞ্যান ফিরল ।
রিসানের সাথে ঝগড়া করলাম
অনেকক্ষন । ওর সাথে ঝগড়া করতে
আমার ভালো লাগে । ঝগড়া করার
কেউ থাকা লাগে জীবনে । না
হলে বেঁচে থাকাটাই বৃথা...
১৩-৩-২০১৪.........
গত ৪৮ ঘন্টায় আমায় নিয়ে যমে
ডাক্তারে টানাটানি হয়েছে ।
আমি আমার সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা
করেছি ডাক্তাররা যাতে জিতে ।
কিন্তু জানি শেষ পর্যন্ত জয়টা
ক্যান্সারের হবে । লিখার শক্তি
পাচ্ছিনা...
সানিকে অনেক মিস করছি । যদিও
মিস করাটা উচিত না । ক্যান্সার
রোগীদের কাউকে মিস করার
অধিকার নেই...
২৫-৫-২০১৪.........
এই লিখাটাই বোধহয় আমার শেষ
লেখা হতে যাচ্ছে । শেষ শক্তিটুকু
জমিয়ে লিখাটা লিখছি । আমার
রেখে যাওয়া জিনিসের মধ্যে
ডায়রিটা রিসানের ভাগে পড়েছে
। ছেলেটার মধ্যে মানুষের মুখে
হাসি ফোটানোর ঈশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতা
আছে । ও অনেক ভালো থাকুক ।
লিখতে লিখতে চোখের কোণে জল
জমে একফোটা । এই জলটা কার জন্য ।
জানিনা । খুব মিস করব । বাবা
মাকে, আমার ছোট্ট বোনটাকে ।
বন্ধুদের মিস তো করবই । সানি ভালো
থাকুক । স্কুলের সামনে যে মামাটা
আচার বিক্রি করত, তাকেও মিস করব
অনেক । আচ্ছা, স্বর্গে কি আঁচার
বিক্রি হয় । মনে হয়না । আরেকটা
দিন বেঁচে থাকার শখ ছিল । আফসোস
। যাহা চাই তাহা পাইনা ।
অবশেষে মে মাসের ২৭ তারিখে
তার যুদ্ধটা শেষ হয়..
খবর টা শেয়ার না করে থাকতে পারলাম না তাই তোমাদের মাঝে জানিয়ে দিলাম.....