11/02/2021
আমি স্টার্টআপ বুঝিনা, কিভাবে ইনভেস্ট করবো?
==============================
ব্যাঙ্ক এ টাকা রাখলে টাকার মূল্য কমে যায়। ফ্ল্যাট-জমিতে বিনিয়োগও আগের মত লাভজনক নয়, শেয়ার বাজার খুবই আনরিলায়েবল। তাহলে জমানো টাকা মানুষ বিনিয়োগ করবে কোথায়?
স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ করা হতে পারে খুবই ভাল সিদ্ধান্ত, যদি সঠিক ভাবে বিনিয়োগ করা যায়।
আমার ফ্রেন্ডলিস্টের অনেকেই আগ্রহী স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ করার ব্যাপারে। কিন্তু তাঁরা ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না বেসিকগুলো। যে কারণে এই সেক্টরে বিনিয়োগের অপরচুনিটি তাঁরা হারাচ্ছেন। বিশেষ করে স্টার্টআপ সেক্টরই নেতৃত্ব দিতে যাচ্ছে আগামী দশকের বাংলাদেশের উন্নয়নে, কাজেই, এখনই সঠিক সময় স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ এর।
তাঁদের জন্য খুব সহজ করে কিছু বেসিক টিপস দিচ্ছি, আশা করি কাজে লাগবে।
১)
স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ এ ঝুঁকি বেশি, কিন্তু রিটার্ণ ও বেশি। সেজন্য একটা/দুইটা স্টার্টআপ এ বেশি বিনিয়োগ না করে অধিক সংখ্যক স্টার্টআপ এ ছোট ছোট বিনিয়োগ করলে ঝুঁকিটা কমিয়ে ফেলা যায়। হিসেবটা হচ্ছে এমন যে, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা ছোট ছোট আকারে (যেমনঃ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা করে) ১০ টা "বাছাই করা" স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ করলে মোটামুটি নিশ্চিত যে, ভাল রিটার্ণ পাবেন।
২)
সাধারণত দেখে শুনে ১০ টা বাছাই করা স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ করলে ৩ থেকে পাঁচ বছরের ভেতর ৩ টা স্টার্টআপ ব্যর্থ হবে, ৩ টা মোটামুটি রিটার্ন দেবে (1X to 3X), ৩ টা ভাল রিটার্ণ দেবে (3X to 6X) এবং একটা অসাধারণ রিটার্ণ দেবে 10X or more. কাজেই, ৫ লাখ টাকা করে ১০ টা স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ করলে মোটের উপর হিসেবটা হবে এরকম কিছুঃ
৩ টা ব্যর্থ হবেঃ ১৫ লাখ টাকার রিটার্ণ ০ টাকা
৩ টা মোটামুটি রিটার্ন দেবেঃ ১৫ লাখ টাকার রিটার্ন ৩০ লাখ
৩ টা ভাল রিটার্ন দেবেঃ ১৫ লাখ টাকার রিটার্ণ ৭০ লাখ টাকা
১ টা দারুণ রিটার্ণ দেবেঃ ৫ লাখ টাকার রিটার্ণ ৫০ লাখ টাকা
====================================
মোট বিনিয়োগঃ ৫০ লাখ টাকা
মোট রিটার্নঃ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা
মোট সময়ঃ এভারেজ ৩-৪ বছর
মোট রিটার্নঃ ৩ গুণ
৩)
স্টার্টআপ এ ইনভেস্ট করলে রিটার্ণ ঠিক কিভাবে পাবো?
আপনি যে স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ করছেন, সেটির একটি ভ্যালুয়েশন করা হবে, এবং সেই ভ্যালুয়েশনের বিপরীতে আপনার বিনিয়োগ করা টাকার বিপরীতে নির্দিস্ট সংখ্যক শেয়ার আপনাকে দেয়া হবে।
বিনিয়োগ পাবার পর এই স্টার্টআপ গ্রো করতে চেষ্টা করবে, এবং পরবর্তীতে এই স্টার্টআপ যখন আবার ইনভেস্টমেন্ট রেইজ করবে, তখন আবারো ভ্যালুয়েশন করবে, এবং এই ভ্যালুয়েশন এর বিপরীতে নতুন ইনভেস্টরদের শেয়ার ইস্যু করবে।
যেহেতু পরবর্তী বিনিয়োগের সময় এই স্টার্টআপ এর আগের তুলনায় বেশি ভ্যালুয়েশন থাকার সম্ভাবনা থাকবে, সেহেতু তখন আপনি চাইলে আপনার শেয়ারগুলো তখন নতুন ইনভেস্টরদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করে এক্সিট নিতে পারেন।
৪)
ভাল এবং বাছাই করা স্টার্টআপ কিভাবে পাওয়া যাবে?
সেটার জন্য যারা ইতিমধ্যে স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ করেছে কিংবা করছে, তাঁদের পরামর্শ নিতে হবে। সবচাইতে ভাল হচ্ছে কোন একটা এঞ্জেল নেটওয়ার্ক (যেমনঃ Bangladesh Angels) এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করলে। তাঁরা যেমন বাছাই করা স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ করার ব্যবস্থা করে দেন, তেমনি স্টার্টআপ এ বিনিয়োগ করার লিগ্যাল ও ফিনান্সিয়াল প্রসেসগুলোও সঠিকভাবে নিজেরাই সম্পন্ন করেন, ফলে বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি থাকে অনেক কম।
আশা করি এটা কাজে লাগবে অনেকেরই। অল দ্য বেস্ট!
লিখেছেন Shubho Al-Farooque ভাই, ফাউন্ডার এন্ড সিইও, Zantrik-যান্ত্রিক