07/03/2015
মুঠোফোন ব্যবহার করে ৩৬৪ কোটি মানুষ
শওকত হোসেন, বার্সেলোনা (স্পেন) থেকে।
খুব সহজ তথ্য, বিশ্বে জনসংখ্যা এখন ৭২৯ কোটি। আর নিবন্ধিত মুঠোফোন সংযোগের সংখ্যা হচ্ছে ৭০৫ কোটি। এই হিসাবে বিশ্বের ৯৭ শতাংশ মানুষের কাছেই পৌঁছে গেছে মুঠোফোনসেবা, যাকে পরিভাষায় বলা হয় পিনেট্রেশন। হিসাবটা একটু বিস্ময়কর। তাই একটু কমিয়ে বলা যায়। যেমন, বিশ্বে এখন নিবন্ধিত মুঠোফোন সংযোগের মধ্যে সক্রিয় সংযোগের সংখ্যা ৬৫০ কোটি। এর অর্থ ৮৯ শতাংশ মানুষের হাতেই এখন মুঠোফোন আছে।
এবার পরিসংখ্যানের আরেকটু ভেতরে গেলে পাওয়া যাবে আসল তথ্য। বিশ্বে জনসংখ্যা ৭২৯ কোটি হলেও এর ২৬ শতাংশেরই বয়স ১৪ বছরের কম। সুতরাং মুঠোফোন ব্যবহারের যোগ্য মানুষ তাহলে ৫২৯ কোটি। মুঠোফোন প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন জিএসএম অ্যাসোসিয়েশন (জিএসএমএ) ইন্টেলিজেন্সের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে একজন ব্যক্তির একাধিক সিম সংযোগ রয়েছে। সুতরাং একাধিক সিম থাকলেও ব্যবহারকারী একজনই বলা হবে। এই হিসাবে বিশ্বে এখন মুঠোফোন সংযোগ আছে ৩৬৪ কোটি মানুষের। এর অর্থ একজন গ্রাহকের গড় সংযোগ ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ। তাহলে হিসাবটা আরও পরিষ্কার হলো। মুঠোফোন ব্যবহারযোগ্য মানুষ যদি ৫২৯ কোটি হয়, তাহলে বিশ্বের ৫০ শতাংশ মানুষের হাতেই এখন মুঠোফোন আছে।
এখন দেখা যাক ইন্টারনেট ব্যবহারের তথ্যগুলো। ৩৬৪ কোটি মুঠোফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে কেবল কথা বলেন ও বার্তা আদান-প্রদান করেন ১২০ কোটি মানুষ। বাকি ২৪৪ কোটি মানুষ মুঠোফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এর মধ্যে আবার ৬৪ শতাংশের আছে মুঠোফোন ব্রডব্যান্ড সংযোগ। সুতরাং সামগ্রিকভাবে বলা যায়, মুঠোফোন ইন্টারনেট পৌঁছেছে মাত্র ৩৩ শতাংশ মানুষের হাতে।
বার্সেলোনায় এখন চলছে বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেস ২০১৫। এখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে ‘দ্য মোবাইল ইকোনমি-২০১৫’ প্রতিবেদন। আয়োজক জিএসএমএর করা এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে অর্থাৎ ২০২০ সালের মধ্যে মুঠোফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা আরও ১০০ কোটি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এটাই এখন লক্ষ্যমাত্রা। এর ফলে ২০২০ সালে বিশ্বে একক মুঠোফোন ব্যবহারকারীর (ইউনিক মোবাইল সাবস্ক্রাইবার) সংখ্যা হবে ৪৬০ কোটি। এখন বিশ্বের অর্ধেক মানুষ মুঠোফোন ব্যবহার করে, পাঁচ বছর পর হবে ৬০ শতাংশ। অথচ মাত্র ১০ বছর আগেও প্রতি পাঁচজনের মাত্র একজন মুঠোফোন ব্যবহার করত।
মুঠোফোনের ব্যবহার বাড়লেও সর্বত্র একইভাবে তা বৃদ্ধি পায়নি। যেমন, ইউরোপে ৮০ শতাংশের হাতেই মুঠোফোন পৌঁছে গেছে। সাব-সাহারা আফ্রিকায় আবার তা মাত্র ৩৯ শতাংশ। সুতরাং পরবর্তী পাঁচ বছরে মুঠোফোনের প্রবৃদ্ধি হবে মূলত উন্নয়নশীল বিশ্বে। এ জন্য প্রয়োজন কম মূল্যে সেবা ও হ্যান্ডসেট পাওয়া। পল্লি অঞ্চলে নিয়ে যেতে হবে মুঠোফোনসেবা।
সবশেষে প্রতিবেদনটিতে বলা আছে, এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করেন ৩৭ শতাংশ, ২০২০ সালে তা হয়ে যাবে ৬৫ শতাংশ।
মেয়েদের মুঠোফোন ব্যবহারের ওপরও এবারের কংগ্রেসে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জিএসএমএ। সে অনুযায়ী, মুঠোফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও লিঙ্গবৈষম্য রয়েছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশের ১৭০ কোটি নারী মুঠোফোন ব্যবহার করেন না। এই অর্থনীতিতে পুরুষদের তুলনায় মেয়েরা ১৪ শতাংশ কম মুঠোফোন ব্যবহার করছেন। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ, এখানে পুরুষের তুলনায় নারীরা ৩৮ শতাংশ কম মুঠোফোন ব্যবহার করছেন। আবার দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের হাতে মুঠোফোন থাকলেও ব্যবহার করতে পারেন অনেক কম। পুরুষেরাই মুঠোফোন বেশি সময় ব্যবহার করেন।বার্সেলোনায় চলমান বিশ্ব মোবাইল কংগ্রেসে মুঠোফোনসেবার ওপর পুরস্কার দেওয়া হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:
সেরা স্মার্টফোন
অ্যাপল আইফোন ৬ এলজি জি৩
সেরা সাশ্রয়ী স্মার্টফোন
মটোরোলা মটো ই
সেরা মুঠোফোন অবকাঠামো
হুয়াউই (চীন), প্রযুক্তি- ল্যাম্পসাইট সমাধান
সেরা মুঠোফোন অ্যাপ্লিকেশন সেবা
ভারতী এয়ারটেল বিষয়- ওয়ান টাচ ইন্টারনেট
সেরা মুঠোফোন বিজ্ঞাপন
এমনেট মোবাইল (অস্ট্রেলিয়া) বিজ্ঞাপনের নাম- গেম অন
সেরা মুঠোফোন প্রযুক্তি উদ্ভাবন (স্বাস্থ্য)
ট্রাইস ইমেজিং অ্যান্ড কোয়ালকম ওয়্যারলেস (যুক্তরাষ্ট্র)
সেরা মুঠোফোন ব্যাংকিং সেবা
ডায়ালগ আজিয়াটা (শ্রীলঙ্কা)
সেবা-ইজিক্যাশ
সেরা মুঠোফোন প্রযুক্তি উদ্ভাবন (শিক্ষা)
এডুমোবি, বিষয়- এডুমোবি মোবাইল লার্নিং
উন্নয়নশীল বাজারে নারীদের উপযোগী সেরা মুঠোফোনসেবা
বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন (যুক্তরাজ্য)
সেরা মুঠোফোন উদ্ভাবন অটোমোটিভ শ্রেণি
এরিকসন (সুইডেন)
বিষয়- সংযুক্ত ভেহিকেল ক্লাউড