BRAC Microfinance

BRAC Microfinance BRAC is a pioneer of microfinance and also the world’s largest microfinance institution.
(1)

সময় এগিয়ে গেছে অনেক দূর, কিন্তু রাজশাহীর তানোর উপজেলার মাদারিপুরের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তার প্...
27/08/2026

সময় এগিয়ে গেছে অনেক দূর, কিন্তু রাজশাহীর তানোর উপজেলার মাদারিপুরের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তার প্রভাব কম।

নবম শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়েই সংসার জীবনে পা রাখেন সোনালী টুডু। বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়িতে এসে দেখলেন দিনের আলোয় শৌচাগার ব্যবহার করবেন এমন কোন ব্যবস্থা নেই। রাতের আঁধারই ভরসা।

রাজশাহীতে কর্মরত মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে মনে হয়েছিল এ যেন ভয়ানক এক সংগ্রাম।

অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বাইরে যাওয়া শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিতেই ফেলত না, মনে জাগাত এক তীব্র ভয় আর নিরাপত্তার অভাব। একজন নারীর এই দৈনন্দিন যন্ত্রণা, শারীরিক ঝুঁকি আর আত্মসম্মানের সংকটই ছিল তার জীবনের সবচাইতে বড় বাস্তবতা।

এখানকার বাসিন্দা বেরজিতা টুডু, স্যামুয়েল কিসকো ও সেবাস্টিয়ান মার্ডির জীবনের গল্প যেন একই বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। আধুনিক সময়েও নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে তাদের প্রতিদিন কাটত স্বাস্থ্যঝুঁকি, অস্বস্তি আর অনিরাপত্তার মধ্যে।

সম্প্রতি তাদের ঘরে তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ স্যানিটারি শৌচাগার। বদলে গেছে শুধু একটি পরিবারের দৈনন্দিন অভ্যাস নয়—ফিরে এসেছে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হওয়ায় পরিবর্তনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে পরিবার ও আশপাশের সমাজেও।

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নতুন প্রজন্মের ওপর। সন্তানরা আজ শিক্ষার আলোয় এগিয়ে যাচ্ছে, আর পরিবারগুলো বুঝতে শিখছে—নিরাপদ স্যানিটেশন শুধু রোগ প্রতিরোধের বিষয় নয়, এটি সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের একটি মৌলিক অধিকার।

একটি নিরাপদ শৌচাগার তাই তাদের কাছে শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি পরিবর্তনের দরজা। ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সহায়তায় সেই দরজা খুলে তৈরি হচ্ছে আরও সচেতন, স্বাস্থ্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ—একটি পরিবার থেকে আরেকটি পরিবারে।

দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কাপাসিয়া বাজারে পোশাক ও খাদ্যপণ্যের ব্যবসা করে আসছেন সাব্বির মোল্লা। তার দোকানে পাঞ্জাবি, টুপি, ...
25/08/2026

দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কাপাসিয়া বাজারে পোশাক ও খাদ্যপণ্যের ব্যবসা করে আসছেন সাব্বির মোল্লা। তার দোকানে পাঞ্জাবি, টুপি, জায়নামাজ, রুমালসহ ঘি, মধু, খেজুর, তেল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হতো।

ব্যবসাকে আরও বড় করার পাশাপাশি পরিবারের জীবনমান উন্নত করার স্বপ্ন ছিল তার। সেই লক্ষ্যেই গত জুন মাসে মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি থেকে তিনি আর্থিক সেবা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতের ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রহণ করেন ফায়ার সেফটি ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা।

কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যে নেমে আসে বড় বিপর্যয়। জুলাই মাসে হঠাৎ আগুনে পুড়ে যায় তার দোকান। মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যায় দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা ব্যবসার পুঁজি।

একরকম সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন সাব্বির। কঠিন সেই সময়ে ফায়ার সেফটি ইন্স্যুরেন্স হয়ে ওঠে তার জন্য আশার জায়গা। তিনি মাত্র ৩৪৫ টাকার একটি প্রিমিয়াম জমা দিয়েছিলেন। যার ফলে ফায়ার সেফটি ইন্স্যুরেন্সের শর্ত অনুযায়ী তিনি বিমাদাবির আওতায় পান সম্পূর্ণ ২ লক্ষ টাকা। যা তাকে ক্ষতি সামলে নতুন করে ব্যবসা শুরু করার সাহস জোগায়।

সাব্বিরের এই প্রাপ্তি মনে করিয়ে দেয়, ব্যবসায় শুধু মূলধন থাকলেই হয় না; অনিশ্চিত ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতিও জরুরি। সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।

বজ্রপাত ও দুর্ঘটনাজনিত আগুন থেকে সুরক্ষা পেতে ফায়ার সেফটি ইন্স্যুরেন্সের আওতায় বিমাকৃত একজন ব্যবসায়ী নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিমাদাবি করতে পারবেন। এটি ক্ষতি সামলে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।

প্রতিকূলতা যতই থাকুক, সঠিক সহায়তা ও সুরক্ষা থাকলে গড়ে তোলা সম্ভব আরও স্থিতিশীল ও সুন্দর ভবিষ্যৎ।

“আমরার কলসিন্দুর গ্রামডা অনেক মানুষ চিনতোই না, আমরার মেয়েরাই সারা বিশ্বরে চেনাইসে.."- ফুটবলার বোনের প্রসঙ্গে বলছিলেন কলস...
24/08/2026

“আমরার কলসিন্দুর গ্রামডা অনেক মানুষ চিনতোই না, আমরার মেয়েরাই সারা বিশ্বরে চেনাইসে.."- ফুটবলার বোনের প্রসঙ্গে বলছিলেন কলসিন্দুর গ্রামের একজন বাসিন্দা।

তার কথা তো ঠিকই; নারী ফুটবলে এই গ্রামের অনেক মেয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের হয়ে লড়ছে মাথা উঁচু করে। তাদের হাত ধরেই তো হলো এক নতুন দিনের শুরু!

তাই ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার কলসিন্দুর গ্রামের কথা শুনলে অনেকের চোখেই ভেসে ওঠে কিছু দুরন্ত কিশোরীর ফুটবল পায়ে ছুটে চলা আর প্রতিপক্ষের জালে একের পর এক গোল! স্বপ্নই তাদের শক্তি, সাথে আছে মনোবল আর দৃঢ় প্রত্যয়।

পুষ্প রবিদাস এই মেয়েদেরই একজন। কলসিন্দুরের আরও অনেক কিশোরীর মতো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী পুষ্পও জাতীয় দলের জার্সিতে খেলার স্বপ্ন দেখেন।

পুষ্প একজন আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। তিনি ইতিমধ্যেই খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৪ এবং অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়ে; এছাড়াও নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন আরও বিভিন্ন টুর্নামেন্টে।

ফুটবলের প্রতি আগ্রহ ছাড়াও কলসিন্দুরের আরও অনেকের সাথে তার একটি বিষয়ে মিল আছে।

ছোটবেলা থেকে অভাবের সাথে বেড়ে ওঠা; দু’বেলা খাবার, নূন্যতম আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং পরিবারে সুখ যেখানে এক অধরা অনুভূতি।

ফুটবলই পুষ্পের সবকিছু। এটি একই সাথে যেমন তার এগিয়ে চলার শক্তি, পাশাপাশি তার পরিচয়, আশা এবং এগিয়ে যাবার পথ।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ফুটবলের সঙ্গে পুষ্পের পরিচয়। জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করা নিজের গ্রামের নাজমা ও সানজীদার খেলা তাকে অনুপ্রাণিত করেছিল; সেই থেকে ফুটবলকে ঘীরে তিনি তার জীবন সাজাতে থাকেন।

কিন্তু প্রতিকূল এ পথে সংকট কম নয়। মাঠের লড়াই ফুরোলেও ঘরে নিত্য লেগে থাকে দারিদ্র‍্যের সাথে লড়াই। বাবা একজন সেলুনকর্মী, মা সংসার সামলান। বাবার একার সীমিত আয়ে পড়ালেখার খরচ চালানো কঠিন। অর্থসংকটে তার বড়ো বোনের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া হয়নি। পুষ্পের নিজেরও লেখাপড়া শুরু হয়েছে দেরীতে। নানান সহায়তার ওপর নির্ভর করেই চালিয়ে যেতে হয়েছে পড়ালেখা, মেটাতে হয়েছে পুষ্টি চাহিদা।

তবু সবকিছু ছাপিয়ে নিজের ফুটবলার হবার স্বপ্নটাই তার কাছে সবচেয়ে বড়। আর এই স্বপ্নযাত্রার সঙ্গী হিসেবে পুষ্পের পাশে আছে মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি।

প্রতি মাসে এই কর্মসূচি থেকে পাওয়া উপবৃত্তি তার পড়ালেখা ও খেলাধুলা চালিয়ে নিতে সহায়তা করছে। বাবা-মায়ের ওপর চাপ কমে যাওয়ায় তার জীবনে এখন কিছুটা স্বস্তি, মাঠে বাড়তি মনোযোগ। তবু এখনও পরীক্ষার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হয়।

পুষ্প বিশ্বাস করেন সুযোগ পেলে তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে নিয়মিত প্রশিক্ষণের সুযোগ, নিরাপদ পরিবেশ, পুষ্টিকর খাবার এবং আশেপাশের সবার সমর্থনই তার প্রত্যাশা।

খেলার প্রতি পুষ্প এবং তার মতো অন্যদের আছে প্রবল আত্মবিশ্বাস ও আন্তরিক নিবেদন। তাদের জাতীয় দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন পূরণ হলেই তো গর্বের সাফল্যে ভাসবে দেশ, পূর্ণতা পাবে এই যাত্রায় পাশে থাকা সকলের প্রচেষ্টা, অনুপ্রাণিত হবে পরবর্তী প্রজন্ম।

এগিয়ে যাক পুষ্প, সাথে সফলতার পথে এগিয়ে যাক লড়াকু মানুষেরাও।

সুযোগ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যেকোন ব্যক্তি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন; পারেন নিজের অবস্থার পরিবর্তন ...
23/08/2026

সুযোগ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যেকোন ব্যক্তি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন; পারেন নিজের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে। কল্পনার মতো অদম্য নারীদের নিয়ে এমনটাই ভাবছিলেন মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির গাইবান্ধা জেলার একজন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক লাইলি পারভিন।

গাইবান্ধার টেপা পুদুমশহর গ্রামের কল্পনা আক্তার একসময় ঘরে সংসার সামলাতেন। কিন্তু নিজের এলাকার চারপাশে সবুজ ধানের ক্ষেত, মাঝে বয়ে চলা ছোট খাল তার মনে কিছু স্বপ্ন এঁকে দিল।

নিজে কিছু করা, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সেই স্বপ্ন থেকে ভার্মি কম্পোস্ট প্রশিক্ষণ নিলেন কল্পনা। মাত্র তিনটি রিং দিয়ে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। মাটির বন্ধু কেঁচো আর জৈব সারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন নতুন এক উদ্যোগ।

প্রথম প্রথম প্রতিবেশীরা হাসতেন, 'কী হবে এইসব পোকামাকড় দিয়ে?' শুনে কোন জবাব দেননি কল্পনা, নীরবে নিজের কাজ করে গেছেন। তিনি জানতেন, মাটির বন্ধু এই কেঁচোগুলোই একদিন তার ভাগ্য পরিবর্তন করবে।

কিছুদিনের মধ্যেই তিনি এর সুফল পেলেন; জৈব সারে ফসল ভালো হয় শুনে অনেক কৃষক তার কাছে এলেন। তিনি নিজের উদ্যোগে গ্রামের আরও ১৫ জন নারীকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে যুক্ত করেছেন ভার্মি কম্পোস্ট তৈরিতে।

তিনি বলছিলেন, 'আমি একা বড় হবার চেয়ে সবাই মিলে বড় হলে পুরো গ্রামের ভালো হবে।'

এখন তারা নিজেরাই সার উৎপাদন করেন। আর কল্পনা আক্তার তাদের কাছ থেকে সার কিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে দেন। গত চার মাসে তিনি বিক্রি করেছেন ৬০০ মণ ভার্মি কম্পোস্ট (প্রতি কেজি ১০ টাকা) এবং ৬০ কেজি কেঁচো (প্রতি কেজি ১০০০ টাকা) যা তার উদ্যোগের সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে। গ্রামের একজন সাধারণ গৃহিণী হয়ে তিনি গ্রহণ করলেন এক অসাধারন উদ্যোগ।

কল্পনার স্বপ্ন এখন আরও বড়—গড়ে তুলতে চান নিজস্ব প্যাকেজিং ইউনিট, পৌঁছে দেবেন জৈব সার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তার এই স্বপ্নযাত্রার শুরুর প্রশিক্ষণ পর্যায় থেকে পাশে আছে মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি।

একজনের উদ্যোগ যখন অনেকের কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করে, তখন বদলে যেতে শুরু করে একটি পরিবার, একটি গ্রাম, এমনকি একটি সমাজ।

“আগে ভাবতাম চাষে লাভ করতে অনেক টাকা লাগবে। কিন্তু ৫ হাজার টাকা দিয়েই যখন শুরু করলাম, তখন বুঝলাম অল্প বিনিয়োগেও ভালো ফলন ...
19/08/2026

“আগে ভাবতাম চাষে লাভ করতে অনেক টাকা লাগবে। কিন্তু ৫ হাজার টাকা দিয়েই যখন শুরু করলাম, তখন বুঝলাম অল্প বিনিয়োগেও ভালো ফলন করা যায়” – মানিকগঞ্জের নওহাটার কৃষকের অভিজ্ঞতা বলছে, সঠিক প্রযুক্তি ও পদ্ধতি কৃষিতে আনতে পারে বড় পরিবর্তন।

পড়ুন পুরো ব্লগটি: https://www.brac.net/bn/the-good-feed/modern-farming-changing-onion-chilli-cultivation/

সংকটে মানুষের কাছে পৌঁছে যায় আমাদের মানবতার হাত। বিশ্ব মানবতা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার—মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকা, সংকটে সা...
19/08/2026

সংকটে মানুষের কাছে পৌঁছে যায় আমাদের মানবতার হাত।

বিশ্ব মানবতা দিবসে আমাদের অঙ্গীকার—মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকা, সংকটে সাহস জোগানো এবং ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি তৈরি করা।

যমুনার ভাঙনে বারবার ঘর হারিয়েছেন, তবুও হার মানেননি গাইবান্ধার কামারজানির জান্নাতি।নতুন করে ঘর তুলে সংসার গুছিয়ে নেওয়ার চ...
17/08/2026

যমুনার ভাঙনে বারবার ঘর হারিয়েছেন, তবুও হার মানেননি গাইবান্ধার কামারজানির জান্নাতি।

নতুন করে ঘর তুলে সংসার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে গেছেন দীর্ঘদিন ধরে। ঘরে একদিকে অসুস্থ স্বামী, কায়িক শ্রমের ধকল নেয়া যার পক্ষে অসম্ভব; আরেকদিকে চার সন্তান। জান্নাতিই তাই অনেক আগে থেকে সংসার চালান।

দায়িত্বে অবহেলা করেননি তিনি, তাই নিজের জীবনে পরিবর্তন আনতে পেরেছেন। কঠিন বাস্তবতার মাঝে তিনি নিজেই খুঁজে নিয়েছেন ​এগিয়ে যাবার পথ।

৩৫ বছর ধরে কৃষিকাজ করছেন।​ নিজের কোন জমি নেই, বর্গা নিয়ে চাষ করেন। চার ছেলের সবাই কৃষক, মেয়ে​র বিয়ে দিয়েছেন; তিনি ঘর সামলান। এতো বছর ধরে কৃষিকাজ করলেও ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যা​ন্সের সহায়তায় তিনি সম্প্রতি প্রথমবারের মতো ১৬ হর্স পাওয়ারের​ একটি টিলার পেয়েছেন। সেই টিলার এখন তার আয়ের উৎস ​তো বটেই,​ এটি এলাকার কৃষকদের​ কাছেও সময়মতো জমি চাষের ভরসা​ হয়ে উঠেছে।

​পাওয়ার টিলার এলাকার অন্য কৃষকদের কাছে ভাড়া দেয়ার মাধ্যমে গত আম​নের মৌসুমে প্রায় ২৩০ বিঘা জমি চাষ করা হয়েছে। ​এ থেকে আয়​ হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকারও বেশি​। ​প্রযুক্তির সুবিধা ভাগাভাগির এ উদ্যোগে উপকৃত হচ্ছে প্রায় ১৬০টি পরিবার।​ ​ ​

জান্নাতি আপা​ তো তাই শুধু একজন কৃষক নন—তিনি একজন উদ্যোক্তা ও পরিবর্তনের সাহসী দিশারি। তার স্বপ্ন আরও জমি ​বর্গা নিয়ে চাষের পরিধি বাড়ানো এবং এলাকায় কৃষি সরঞ্জাম ভাড়ার কেন্দ্র গড়ে তোলা।

যে নারী একদিন নদীর ভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছিলেন, আজ তিনিই অন্যের জীবনে নতুন সম্ভাবনার বীজ বুনছেন।

সঠিক সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে লোনা মাটিতেও সোনা ফলানো যায়। তারই এক অনন্য উদাহরণ বরগুনার কলাপাড়া...
16/08/2026

সঠিক সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে লোনা মাটিতেও সোনা ফলানো যায়। তারই এক অনন্য উদাহরণ বরগুনার কলাপাড়ার পাখিমারা গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা রুহুল আমিন।

লবণাক্ততা, অতিবৃষ্টি আর জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রতিকূলতার মাঝেও থেমে থাকেননি তিনি। পুরনো পাওয়ার টিলারটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর যখন তার কৃষিকাজ ও স্বপ্ন দুটোই অনিশ্চয়তার মুখে, তখন পাশে দাঁড়ায় ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স। আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তাকে দেওয়া হয় একটি আধুনিক গার্ডেন টিলার।

নতুন উদ্যমে আবারও মাটির কাছে ফিরে আসেন রুহুল। মাত্র ৫ শতক জমিতে শুরু করেন বোম্বাই মরিচের পলিহাউজ চাষ। লবণাক্ততা ও অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি থেকে ফসল রক্ষায় পলিথিন মালচিং এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে নেটের ছাউনি ব্যবহার করে গড়ে তোলেন একটি জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদ পদ্ধতি।

মাত্র ২০ হাজার টাকা বিনিয়োগে শুরু করা সেই উদ্যোগে এরই মধ্যে ৩০ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করেছেন রুহুল। মাঠে থাকা ফসল থেকে আরও প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে— অর্থাৎ ৫ শতক জমি থেকেই সম্ভাব্য মোট বিক্রয় ১ লাখ টাকা। এই সাফল্য তাকে আরও জমি লিজ নিয়ে চাষের পরিধি বাড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।

রুহুলের কণ্ঠে তাই এখন আত্মবিশ্বাসের সুর—“সেদিন মনে হয়েছিল সব শেষ। আজ বুঝেছি, থেমে গেলে চলবে না। মাটিকে ভালোবাসলে মাটিও আপনাকে ফেরাবে না।”

পরিস্থিতি যতই প্রতিকূল হোক, অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর নিজের ওপর বিশ্বাস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। প্রতিকূলতা পথ আটকায় না, বরং সাহসী মানুষকে নতুন পথ তৈরি করতে শেখায়।

13/08/2026

ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর সৃজনশীলতায় উদ্‌যাপিত হলো নানা জাতিগোষ্ঠীর উদ্যোক্তা মেলা।

সবার জন্য নিশ্চিত হোক সমান মর্যাদা ও সুযোগ।

Address

BRAC Centre, 75 Mohakhali
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when BRAC Microfinance posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to BRAC Microfinance:

Shortcuts

Share