27/08/2026
সময় এগিয়ে গেছে অনেক দূর, কিন্তু রাজশাহীর তানোর উপজেলার মাদারিপুরের সাঁওতাল সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই তার প্রভাব কম।
নবম শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়েই সংসার জীবনে পা রাখেন সোনালী টুডু। বিয়ে হয়ে শ্বশুর বাড়িতে এসে দেখলেন দিনের আলোয় শৌচাগার ব্যবহার করবেন এমন কোন ব্যবস্থা নেই। রাতের আঁধারই ভরসা।
রাজশাহীতে কর্মরত মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক জান্নাতুল ফেরদৌসের কাছে মনে হয়েছিল এ যেন ভয়ানক এক সংগ্রাম।
অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে বাইরে যাওয়া শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিতেই ফেলত না, মনে জাগাত এক তীব্র ভয় আর নিরাপত্তার অভাব। একজন নারীর এই দৈনন্দিন যন্ত্রণা, শারীরিক ঝুঁকি আর আত্মসম্মানের সংকটই ছিল তার জীবনের সবচাইতে বড় বাস্তবতা।
এখানকার বাসিন্দা বেরজিতা টুডু, স্যামুয়েল কিসকো ও সেবাস্টিয়ান মার্ডির জীবনের গল্প যেন একই বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। আধুনিক সময়েও নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে তাদের প্রতিদিন কাটত স্বাস্থ্যঝুঁকি, অস্বস্তি আর অনিরাপত্তার মধ্যে।
সম্প্রতি তাদের ঘরে তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ স্যানিটারি শৌচাগার। বদলে গেছে শুধু একটি পরিবারের দৈনন্দিন অভ্যাস নয়—ফিরে এসেছে স্বস্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হওয়ায় পরিবর্তনের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে পরিবার ও আশপাশের সমাজেও।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে নতুন প্রজন্মের ওপর। সন্তানরা আজ শিক্ষার আলোয় এগিয়ে যাচ্ছে, আর পরিবারগুলো বুঝতে শিখছে—নিরাপদ স্যানিটেশন শুধু রোগ প্রতিরোধের বিষয় নয়, এটি সুস্থ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের একটি মৌলিক অধিকার।
একটি নিরাপদ শৌচাগার তাই তাদের কাছে শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি পরিবর্তনের দরজা। ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির সহায়তায় সেই দরজা খুলে তৈরি হচ্ছে আরও সচেতন, স্বাস্থ্যকর ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ—একটি পরিবার থেকে আরেকটি পরিবারে।