Rhyme International

Rhyme International Rhyme International operates international courier services and IFIC mobile banking.

আল-কুরআনে শবে বরাতের কোন উল্লেখ নেইশবে বরাত বলুন আর লাইলাতুল বারায়াত বলুন কোন আকৃতিতে শব্দটি কুরআন মাজীদে খুজে পাবেন না।...
12/05/2017

আল-কুরআনে শবে বরাতের কোন উল্লেখ নেই

শবে বরাত বলুন আর লাইলাতুল বারায়াত বলুন কোন আকৃতিতে শব্দটি কুরআন মাজীদে খুজে পাবেন না। সত্য কথাটাকে সহজভাবে বলতে গেলে বলা যায় পবিত্র কুরআন মাজীদে শবে বরাতের কোন আলোচনা নেই। সরাসরি তো দূরের কথা আকার ইংগিতেও নেই।

অনেককে দেখা যায় শবে বরাতের গুরুত্ব আলোচনা করতে যেয়ে সূরা "দুখান" এর প্রথম চারটি আয়াত প্রমান হিসেবে দেখান। আয়াতসমূহ হল :
حم ﴿১﴾ وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ ﴿২﴾ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ ﴿৩﴾ فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ ﴿৪﴾ (الدخان: ১-৪)

অর্থ : হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের। আমিতো এটা অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রাতে। আমি তো সতর্ককারী। এই রাতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়। (সূরা দুখান, ১-৪)

শবে বরাত পন্থী আলেম উলামারা এখানে বরকতময় রাত বলতে ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন। আমি এখানে স্পষ্টভাবেই বলব যে, যারা এখানে বরকতময় রাতের অর্থ ১৫ শাবানের রাতকে বুঝিয়ে থাকেন তারা এমন বড় ভুল করেন যা আল্লাহর কালাম বিকৃত করার মত অপরাধ। কারণ :

১. কুরআন মাজীদের এ আয়াতের তাফসীর বা ব্যাখ্যা সূরা আল-কদর দ্বারা করা হয়। সেই সূরায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন :

إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ﴿১﴾ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ﴿২﴾ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ﴿৩﴾ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ ﴿৪﴾ سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ ﴿৫﴾

অর্থ : আমি এই কুরআন নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আপনি জানেন লাইলাতুল কদর কি? লাইলাতুল কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এতে প্রত্যেক কাজের জন্য মালাইকা (ফেরেশ্‌তাগণ) ও রূহ (জিবরাঈল আঃ) অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশে। এই শান্তি ও নিরাপত্তা ফজর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কাদর, ১-৫)

অতএব বরকতময় রাত হল লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল বরাত নয়। সূরা দুখানের প্রথম সাত আয়াতের ব্যাখ্যা হল এই সূরা আল-কদর। আর এ ধরনের ব্যাখ্যা অর্থাৎ আল-কুরআনের এক আয়াতের ব্যাখ্যা অন্য আয়াত দ্বারা করা হল সর্বোত্তম ব্যাখ্যা।

২. সূরা দুখানের লাইলাতুল মুবারাকার অর্থ যদি শবে বরাত হয় তাহলে এ আয়াতের অর্থ দাড়ায় আল কুরআন শাবান মাসের শবে বরাতে নাযিল হয়েছে। অথচ আমরা সকলে জানি আল-কুরআন নাযিল হয়েছে রামাযান মাসের লাইলাতুল কদরে।

যেমন সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ রাব্বুল 'আলামীন বলেন :

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآَنُ.

অর্থ : রামাযান মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে আল-কুরআন।

৩. অধিকাংশ মুফাচ্ছিরগণের মত হল উক্ত আয়াতে বরকতময় রাত বলতে লাইলাতুল কদরকেই বুঝানো হয়েছে লাইলাতুল বরাতকে নয় ।

শবে বরাত নামটি হাদীসের কোথাও উল্লেখ হয়নি

প্রশ্ন থেকে যায় হাদীসে কি লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত নেই? সত্যিই হাদীসের কোথাও আপনি শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত নামের কোন রাতের নাম খুজে পাবেন না। যে সকল হাদীসে এ রাতের কথা বলা হয়েছে তার ভাষা হল 'লাইলাতুন নিস্‌ফ মিন শাবান' অর্থাৎ মধ্য শাবানের রাত্রি। শবে বরাত বা লাইলাতুল বারায়াত শব্দ আল-কুরআনে নেই, হাদীসে রাসূলেও নেই। এটা মানুষের বানানো একটা শব্দ। ভাবলে অবাক লাগে যে, একটি প্রথা ইসলামের নামে শত শত বছর ধরে পালন করা হচ্ছে অথচ এর আলোচনা আল-কুরআনে নেই। সহীহ হাদীসেও নেই। অথচ আপনি দেখতে পাবেন যে, সামান্য নফল 'আমলের ব্যাপারেও হাদীসের কিতাবে এক একটি অধ্যায় বা শিরোনাম লেখা হয়েছে।

ইসলামের যাবতীয় বিষয়াবলী দু' প্রকার (ক) আকীদাহ বা বিশ্বাস (খ) 'আমল বা কাজ। কোন 'আমল বা কাজ ইসলামের শরীয়ত সম্মত হওয়ার জন্য অবশ্যই কুরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াস এই চারটির যে কোন একটি দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। কিন্তু আকীদাগত কোন বিষয় অবশ্যই কুরআন অথবা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হতে হবে। ইজমা অথবা কিয়াস দ্বারা আকীদাহর কোন বিষয় প্রমাণ করা যাবে না।

এ সকল বিষয় জেনে বুঝেও যারা 'শবে বরাত' এর অপপ্রচার চালায় এবং সাধারণ মানুষদের গোমরাহ করে তাদের প্রতি বিচার দিনের মালিকই ব্যাবস্থা নিবেন।

এখন একটি বিষয় হল, শবে বরাত সম্পর্কে যে সকল ধর্ম বিশ্বাস বা আকীদাহ পোষণ করা হয় তা কিন্তু কোন দুর্বল হাদীস দ্বারাও প্রমাণিত হয় না। যেমন ভাগ্যলিপি ও বাজেট প্রনয়নের বিষয়টি। যারা বলেন : ''আমলের ফাযীলাতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীস গ্রহণ করা যায়, অতএব এর উপর ভিত্তি করে শবে বরাতে 'আমল করা যায়, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন : তাহলে শবে বরাতের আকীদাহ সম্পর্কে কি দুর্বল হাদীসেরও দরকার নেই?

অথবা এ সকল প্রচলিত আকীদাহর ক্ষেত্রে যদি কোন দুর্বল হাদীস পাওয়াও যায় তাহলে তা দিয়ে কি আকীদাহগত কোন মাসয়ালা প্রমাণ করা যায়? আপনারা শবে বরাতের আমলের পক্ষ সমর্থন করলেন কিন্তু আকীদাহর ব্যাপারে কি জবাব দিবেন?

কাজেই শবে বরাত শুধু 'আমলের বিষয় নয়, আকীদাহরও বিষয়। তাই এ ব্যাপারে ইসলামের দা'য়ীদের সতর্ক হওয়ার দাওয়াত দিচ্ছি।

যদি শব-ই- বরাত সম্পর্কে এ বিশ্বাস পোষণ করা হয় যে, আল্লাহ তা'আলা এ রাতে আল-কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, তিনি এ রাতে মানুষের হায়াত, রিয্‌ক ও ভাগ্যের ফায়সালা করে থাকেন, এ রাতে ইবাদাত-বন্দেগীতে লিপ্ত হলে আল্লাহ হায়াত ও রিয্‌ক বাড়িয়ে সৌভাগ্যশালী করেন ইত্যাদি ইত্যাদি তাহলে এটা কি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি মিথ্যা আরোপ করার মত অন্যায় নয়?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলেন :

وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ. (الصف : ৭)

অর্থ : তার চেয়ে বড় যালিম আর কে যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে? (সূরা সাফ, ৭)

এখন যদি কোন একটা প্রথা যুগ যুগ ধরে কোন অঞ্চলের মুসলিম সমাজে চলে আসে, তাহলে তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার প্রমাণ বহন করেনা। এটা বলা ঠিক হবে না যে, শত শত বছর ধরে যা পালন করে আসছি তা না জায়েয হয় কিভাবে? বরং তা শরীয়ত সম্মত হওয়ার জন্য অবশ্যই শর'য়ী দলীল থাকতে হবে।

দুর্বল বা জাল হাদীসের উপর ভিত্তি করে ইসলামী শরীয়তে কোন আকীদাহ ও আমল চালু করা যায় না।

রসুল (স) বলেনঃ “যে ব্যক্তি দ্বীনে এমন কিছু শুরু করল যা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে তা প্রত্যখ্যান করা হবে”. [বুখারি ২৬৯৭, মুসলিম ১৭১৮]

তিনি আরো বলেনঃ “সর্বাপেক্ষা উত্তম বানী হল আল্লাহর, সর্বাপেক্ষা উত্তম পথনির্দেশ হল তাঁর রসুলের আর সর্বাপেক্ষা খারাপ কাজ হল নব উদ্ভাবিত বিষয় গুলো (বিদাত); সকল বিদাত ই পথভ্রষ্টতা” । (মুসলিম ৮৬৭)
এবং আরো একটি হাদিস বলতে চাইঃ
“সকল ভ্রষ্টতা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়” (নাসাঈ ১৪৮৭)
-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-
শবে বরাত নিয়ে জাল/জয়ীফ হাদীসের নমুনাঃ
আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষের আরবী বোঝার ক্ষমতা নাই, আর কুরআন-হাদীস সব হলো আরবীতে। তাই শরীয়ত জানার জন্য আমাদের অনেকেই বেদাতীদের অনুবাদ করা কিতাবের বা বেদাতীদের লেখা বইপত্র (যেমন বেহেশতি যেওর, মকসুদুল মুমিনিন, ফাযায়েলে আমল, নেওয়ামুল কুরআন সহ অন্যান্য বেদাতি বই পুস্তক) পড়ে। কোন ব্যক্তি যদি কানা হয়, তাহলে বেদাতীরা তাকে কুঁড়েঘর দেখিয়ে হাইকোর্ট বলে চালিয়ে দেবে, আর তিনি সেটা অন্ধ বিশ্বাসে মেনে নিবেন – এটাই সত্যি এবং স্বাভাবিক।
চলুন আজকে আমরা এমন একটা ঘটনা দেখি, যেখানে বেদাতী হুজুরেরা হাদীসের নামে প্রতারণা করে শবে বরাতের রাতে হালুয়া-রুটি খাওয়ার ধর্ম চালু করেছে।
শবে বরাত নিয়ে সুনানে তিরমিযীতে একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে, আর হাদীসটি একই সনদে সুনানে ইবনে মাজাহ সহ আরো দুই-একটা হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি নিন্মরূপ।
মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, একবার আমি রাতের বেলায় রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে খুঁজে পাচ্ছিলাম না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর হঠাত্‍ আমি দেখতে পেলাম যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ‘বাকী’ নামক কবরস্থানে অবস্থান করছেন। আমাকে দেখেই তিনি বললেন, হে আয়েশা! তুমি কি আল্লাহ ও রাসুলের পক্ষ থেকে তোমার উপর কোন জুলুমের আশংকা করছ? আমি আরয করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! আমি ধারণা করেছিলাম যে, আপনি হয়তো আপনার কোন বিবির ঘরে তাশরীফ নিয়েছেন। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন যে, আল্লাহ তায়ালা ১৫ই শাবানের রজনীতে দুনিয়ার আসমানে (অর্থাত্‍ প্রথম আসমানে) অবতরণ করেন এবং বনী ক্বালব নামক গোত্রের বকরীসমূহের পশমের চাইতেও বেশি সংখ্যক মানুষকে ক্ষমা করে দেন।
এখানে দেখা যাচ্ছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) শবে বরাতের রাতে কবর জিয়ারত করছেন আর এর ফযীলতের কথা বলছেন! তাহলে অনেকেই কেনো শবে বরাত পালন করাকে বেদাত বলছেন?
এবার আপনি হতভম্ব, কার কথা বিশ্বাস করবেন? সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আরেকটু যাচাই করুন।
ইমাম তিরমিযী (রহঃ) তার হাদীসের গ্রন্থে যে স্থানে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, ঠিক তার নীচে নিজেই হাদীসটি সম্পর্কে মন্তব্য লিখেছেনঃ
“আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত এই হাদীস আমি এই সনদ ছাড়া অন্য কোনো সূত্রের কথা জানিনা। এই হাদীসটি আমি হাজ্জাজ বিন আরকার কাছ থেকে, হাজ্জাজ ইহইয়া ইবনে কাসীর থেকে, ইহইয়া উওরওয়া থেকে, উরওয়া আয়িশাহ থেকে), এই সনদে জেনেছি। আমি মুহাম্মাদকে (ইমাম বুখারী রহঃ কে, যিনি ইমাম তিরমিযির ওস্তাদ ছিলেন), এই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাস করেছিলাম। তিনি (ইমাম বুখারী) এই হাদীসটিকে জয়ীফ (দুর্বল) বলতেন। এই হাদীসটি দুর্বল একারণে যে, এই হাদীস ইহইয়া বিন কাসীর উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন কিন্তু ইহইয়া উরওয়া থেকে এই হাদীস শুনেননি।”
এখানে ইমাম বুখারী বলতে চাচ্ছেন, দুই জন বর্ণনাকারী রাবীর মাঝে বিচ্ছিন্নতা আছে অর্থাৎ ইহইয়া উরওয়ার কাছ থেকে সরাসরি শুনেননি, মাঝখানে অন্য আরেকজন আছে যার নাম হাদীসের সনদে উল্লেখ করা হয়নি। এই ধরণের হাদীসকে ‘মুনকাতা’ (সূত্র বিচ্ছিন্ন) বলা হয়, যার কারণে হাদীসটি ‘জয়ীফ’ বলে গণ্য হয়। হাদীস মুনকাতা হলে সমস্যা হলো, এই হাদীসের সনদের মাঝখানে একজন অজ্ঞাত রাবী আছে, হতে পারে সে মুনাফেক, ধর্মের শত্রু, মিথ্যুক বা জাল হাদীস প্রচারকারী, অথবা সে সত্যবাদী। এই সন্দেহের জন্য হাদীসটি জয়ীফ, আর সন্দেহযুক্ত জিনিস শরীয়তে দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় না।
এছাড়া এই হাদীসটি জয়ীফ হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, হাজ্জাজ ইহইয়ার কাছ থেকেও সরাসরি শুনেননি।
তৃতীয় কারণ, মুহাদ্দিসদের (হাদীস বিশেষজ্ঞ) নিকট হাজ্জাজ হাদীস বর্ণনাকারী হিসেবে নিজেই জয়ীফ, তাই তার বর্ণিত হাদীসও জয়ীফ।
সুতরাং, শবে বরাতের রাতে কবর জিয়ারত একটি ভিত্তিহীন আমল – কারণ এর পক্ষে সহীহ কোন হাদীসের দলীল পাওয়া যায়না।
আমাদের দেশি কিছু হুজুর মাওলানাদের মিথ্যাচার ও ভন্ডামী প্রসঙ্গেঃ
‘মীনা বুক হাউস’ থেকে প্রকাশিত সুনানে তিরমিযীর অনুবাদে শুধু হাদীসটা কোট করা হয়েছে, কিন্তু ইমাম তিরমিযী ও ইমাম বুখারী যে হাদীসটিকে জয়ীফ বলে আলোচনা করেছেন, সেই অংশটুকু তারা গায়েব করে দিয়েছে। কারণ, সেই অংশ অনুবাদ করলে সাধারণ মানুষ জেনে যাবে, শবে বরাত সম্পর্কিত এই হাদীস সহীহ না, সুতরাং হালুয়া রুটি খাওয়া ধর্ম হতে পারেনা। আর এইরকম প্রতারণাপূর্ণ হাদীসের অনুবাদ পড়ে জামাতুল আসাদ ওরফে “জামাতুল ফাসাদ” এর মতো মুফতিরা এই হাদীস বর্ণনা করে শবে বরাত সম্পর্কিত বেদাতী আমল প্রচার করে থাকে। আমাদের দেশের অন্য একটি প্রকাশনী, তাওহীদ পাবলিকেশানের অনুবাদে তিরমিযিতে বর্ণিত উক্ত হাদীসের আরবীসহ বাংলা অনুবাদ করেছে। প্রমান হিসেবে আমি দুইটি অনুবাদের স্ক্রীনশট ছবিতে পাশাপাশি দিয়েছি।
শবে বরাতের দ্বিতীয় হাদীস নিয়ে মিথ্যাচারঃ
শবে বরাত সম্পর্কে আরেকটা (জাল) হাদীস খুব বেশি প্রচার করে বিদাতপন্থীরা। সেটি নিন্মরুপঃ
আলী (রা:) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যখন শাবানের ১৫ তারিখ আগমন করে, সে দিন তোমরা রোযা পালন কর এবং রজনীতে আল্লাহর ইবাদতে দন্ডায়মান থাক। কেননা, উক্ত দিবসে সূর্যাস্তের পর মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং জগতবাসীকে ডেকে বলেন, হে মানব জাতি! কেউ কি আছ তোমাদের মধ্যে ক্ষমা প্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। ওহে আছ কি তোমাদের কেউ অভাবী? আমি তার অভাব পূরণ করব। আছ কি কেউ বিপদগ্রস্থ? আমি তোমাদের বিপদ মুক্ত করব। আছ কি কেউ এই সমস্যায়? এমনি ভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ডাকতে থাকবেন ।
এই হাদীস বর্ণিত হয়েছে ইবনে মাজাহ ও মিশকাতে ১৩০৮ নাম্বার হাদীস।
সুনানে ইবনে মাজাতে অনেক সহীহ হাদীস রয়েছে, এর পাশাপাশি বহু জয়ীফ হাদীসতো রয়েছে, এমনকি কয়েক ডজন জাল হাদীসও রয়েছে। উক্ত সনদে বর্ণিত এউ হাদীসটি জাল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।
এই হাদীস হচ্ছে জাল (মানুষের বানানো কথা নবীর নামে চালানো হয়েছে)। কারণ এই হাদীস বর্ণনাকারীর একজন ইবন আবি বাসরাহ, যার সম্পর্ক ইমাম আহমাদ ও ইমাম ইবনে মাঈন বলেছেন,
“ইবনে আবি বাসরাহ হাদীস জাল করতো।”
এখন পছন্দ আপনার।
বিদাতী হুজুরদের প্রচার করা মিথ্যুক লোকদের থেকে বর্ণিত জাল হাদীসের উপর ভিত্তি করে শবে বরাত উদযাপন করবেন, নাকি বিদাতী আমল থেকে বিরত থেকে নবী (সাঃ) এর প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করবেন?
ইমাম ইবনে আল-জাওযী আলাদা একটা বই লিখেছেন, সমস্ত জাল হাদীসগুলোকে একত্রিত করে “আল মাওজুয়াত” নামে। আর সেই বইয়ে (২/১২৭) তিনি ইবনে মাজাহতে বর্ণিত এই জাল হাদীসটিকে জাল বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া এই হাদীসটিকে জাল বলেছেন ইমাম ইবনে কাইয়্যিম তার আল-মানার আল-মুনীফ ফিল সহীহ ওয়াল জয়ীফ (পৃষ্ঠা ৯৮), ইমাম শওকানী তার আল-ফাওয়ায়েদ আল-মাজমুয়াতে (পৃষ্ঠা ৫১)।
যেহেতু আমাদের দেশের অধিকাংশ হুজুর মাওলানাদের সহীহ/জয়ীফ নিয়ে কোনো পড়াশোনা নাই, তাই এই সমস্ত জাল জয়ীফ হাদীস একটা কিছু পেলেই হলো, সুন্নতী আমলগুলো বাদ দিয়ে বেদাতকে প্রতিষ্ঠা করতে তারা উঠে পড়ে লেগে যায়। কিন্তু যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের ইবাদত নিয়ে তাদেরকে এতো উচ্চ-বাচ্য করতে দেখা যায়না, অথচ কুরআন হাদীসে এই দিনগুলোর ইবাদত নিয়ে কত ফযীলতের কথা বর্ণিত হয়েছে।
শবে বরাত নিয়ে শায়খ মতিউর রাহমান মাদানী হা'ফিজাহুল্লাহর লেকচারঃ
পর্ব-১
https://youtu.be/jU9NLXcnJH0
পর্ব-২
https://youtu.be/AVrZez4snuQ

http://www.QuranerAlo.com. This video is published by Islamic Cultural Center, Dammam. You can download all the lecture from here: http://www.quraneralo.com/...

12/09/2016
CONGRESS.... Bangladeshi TigersScotland 318/8 (50.0 ov)Bangladesh 322/4 (48.1 ov)Bangladesh won by 6 wickets (with 11 ba...
05/03/2015

CONGRESS.... Bangladeshi Tigers
Scotland 318/8 (50.0 ov)
Bangladesh 322/4 (48.1 ov)
Bangladesh won by 6 wickets (with 11 balls remaining)

01/02/2015

This page represents Various Gameplay

29/12/2014

অর্ধচন্দ্র লেছ সহ লেডিস ব্যাগ। যেকোনো কালার। সম্পূর্ণ হাতে তৈরি। ডেলিভারীর সময় ৩ দিন। আকর্ষনীয় ও স্টাইলিশ। ... - Bags & Shoes in Uttara

25/05/2014

Account opening is now open for open for all.

IFIC mobile Banking Account For All.

Contact us for your personal IFIC Mobile Banking Account.

Why IFIC MOBILE BANK Account?

1. LoW COst.

a. Cash IN -
0.8% of transaction amount.

b. Cash Out-
0.8% of transaction amount

C. Fund Transfer
Tk. 3/Transaction.

D. Statement Enquiry
Free

E. Balance Enquiry
Free

2. Easy
3. Reliable
4. Available .
5.Bank first Party.

Contact us for more details.
Thank you.

Address

Dhaka
1213

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Rhyme International posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share