07/11/2025
একটা ছাত্র পড়াই।ক্লাস এইটে পড়ে।আমাকে সে ডাকে আপু।প্রচন্ড দুষ্টু,পড়াশোনায় ফাঁকিবাজ।
বয়ঃসন্ধি কাল পার করছে, ফলে নানান উদ্ভট কথা তার মাথায় ঘোরে।অকপটে আমার কাছে সেসব শেয়ারও করে।
আমিও বন্ধুসুলভ-ভাবেই শুনি সব কিছু।একদিন হুট করে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলে কি,আপু আমার না ম*দ খাওয়ার খুব শখ।জীবনে একবার হলেও জিনিসটা টেস্ট করে দেখতে হবে।
বলেই কাঁচুমাচু মুখ করে তাকিয়ে রইলো।হয়তো,ভাবছে আমি রাগ করবো! বাট,আমি কি আর অন্যসব শিক্ষকদের মতো?
আমি হাই তুলে বললাম,টেস্ট করিস।অবশ্য তেমন স্পেশাল কিছুই না।হুদাই হাইপ।
তার চোখ বড়বড় হয়ে গেলো মুহুর্তেই।এদিক ওদিক তাকিয়ে বললো,আপনি খাইছেন নাকি?
আমি নির্লিপ্ত ভাবে উত্তর দিলাম,হুহ!টেস্ট করছিলাম ১ বার।
আমার কথা শুনে তার মাথা ঘুরে যাচ্ছে আমি বুঝতেই পারছি।সে বললো,কই পাইছিলেন আপু?আমরা খোঁজ করি পাইনা।
আমি হেসে বললাম,তোরা খোঁজ করলেই পেয়ে যাবি এতোই বুঝি সোজা?অবশ্য পেতে পারিস ২ নম্বর মা"ল।ওগুলোই তোদের গছাবে বলদ পেয়ে।
সে বললো,আপু আপনি আসলটা ১ দিন আমাকে এনে দিবেন প্লিজ?
তার কন্ঠে আকুতি।আমি ভ্রুঁ কুঁচকে তাকালাম।
সে বললো,আপু আমি ১ বার খালি ১ শিশি খাবো।বেশি না।যাস্ট কৌতুহল দমন আরকি!কাউকে বলবো না।
আমি বললাম,না রে এসব অনুরোধ করে লাভ নেই।তোর যা পড়াশোনার অবস্থা আবার তোকে আমি ঐসব ছাইপাঁশ এনে গিলাবো?আমি অতো পা"গল নই।
এবার সে লাইনে এলো।বললো,আমি এখন থেকে রোজ হোমওয়ার্ক করবো যদি আমাকে এনে দেন।বার্ষিক পরিক্ষায় ১-৩ এর ভিতরে নিয়ে আসবো রোল প্রমিজ।প্লিজ না করবেন না।
আমি বললাম,বাকিতে বিশ্বাসী নই আমি।পরে,,খাওয়ানোর পর দেখবো তুই যেই লাউ সেই কদুই আছিস।
ও বারবার অনুনয় করতে থাকলো।আমি বললাম,শোন যদি এখন থেকে তিনমাস রোজ হোমওয়ার্ক করিস আর তিনমাস পর সত্যিই পরিক্ষায় ১-৩ এ আসতে পারিস।তবে,আমি তোকে ১ শিশি না,পুরো বোতলই এনে দিবো যাহ।
ওর চোখ চকচক করে উঠলো।কিন্তু,পরক্ষনেই হতাশ হয়ে বললো,এত্তো দেরী??
আমি বললাম,তোহ?সবুরে মেওয়া ফলে জানিস না?আর অথেন্টিক জিনিশ যোগার করতেও তো টাইম লাগবে নাকি?
ও মেনে নিলো।বললো,ঠিকাছে।কিন্তু, আপনি এসব কই পাবেন?
আমি ধমকে বললাম,তুই আদার ব্যাপারি আদা নিয়ে খুশি থাক জাহাজের খবর জেনে তোর দরকার কি?
ও এবার নিভলো।
আমি বললাম,আরেকটা কথা।জিনিশটা সিক্রেট রাখবি।যদি কেউ জানে, তুই বি""পদে পরবি মাথায় রাখিস।
ও বললো,,আরে নাহ আপু।আমি কি আর পে*টপাতলা নাকি?
পরদিন থেকে শুরু হলো ওর ভিতর আমূল পরিবর্তন। পড়াশোনায় চরম লেভেলের মনোযোগী। পরিক্ষায় ১ম ওর হতেই হবে।
পরের মাসে বেতন দেওয়ার সময় ছাত্রের মা আমার হাতে বেতনের পাশাপাশি এক্সট্রা ৫০০ টাকা গুঁজে দিলেন।উনি বেতন বাড়িয়েছেন।
আনন্দিত কন্ঠে বললেন,,কি বলবো নিশাত..আমার ছেলেটা কতো অমনোযোগী ছিলো আগে,খালি ফাঁকিবাজি করতো।কত টিচার যে পাল্টালাম,তবুও পড়ায় মন নেই।কিন্তু,তুমি আসার পর থেকে রোজ রাতে তোমার হোমওয়ার্ক করে মন দিয়ে বসে বসে রাত ১০/১১ টা অবধি।ফোন ধরার নেশাটাও কেটেছে অনেকটা।
আমি হেসে বললাম,আপনাকে আগেই বলেছিলাম আমি অন্যসব শিক্ষকদের মতো নই।
উনি তৃপ্তির হাসি হাসলেন।
দেখতে দেখতে তিনমাস কাটলো খুব ভালো ভাবেই।ওর মেধা আছে,কিন্তু পড়েনা।ইউনিভার্সাল সমস্যা আরকি।আমার বেতন এরভিতর টোটাল ১০০০ টাকা বাড়লো।দেখতে দেখতে ওর ফাইনাল পরিক্ষার রেজাল্টও বেরুলো।অবিশ্বাস্য ভাবে ও রোল নং ৪১ থেকে ০২ - এসেছে।ওর মা তো ফোন করে খুশিতে কাঁদতে কাঁদতে শেষ।আমাকে দাওয়াত করে রীতিমতো বিয়ে বাড়ির ভোজের মতো আয়োজন করলেন উনারা।গিফট দিলেন।বারংবার বলতে লাগলেন,মা তুমি টিউশনটা ছাইড়ো না ভুলেও।
আসার সময় ছাত্র এগিয়ে দিতে এলো আমাকে।সবগুলো দাঁত বের করে বললো,আপু আমার ইয়েটা!
আমি বললাম,হায়রে ২য় হইছিস সেই খুশিতেও ঐ জিনিশ ভুললি না কি রে তুই?
সে মুখ গোমড়া করে বললো,এসব বলছেন কেন?
আমি বললাম,আচ্ছা সন্ধ্যার পর দেখা করতে আসিস।আমাদের বাড়ির ছাদে।জিনিস পাবি।
সম্মতি জানিয়ে,ও খুশিতে লম্ফঝম্প দিতে লাগলো।
আমি বাড়ি এসে মদ বানানোর কাজ শুরু করে নিলাম।১টা জগে কোক/পেপসি/মোজো যা সামনে পেয়েছি ঢেলে নিলাম অর্ধেকটা জগ জুড়ে।এরপর,তাতে চা পাতা খানিকটা,কফির গুড়া খানিকটা মিশালাম।কিচেন হাতড়ে জিরার গুড়ো আর বিটনূন পেলাম ওগুলোও কিছুটা মিশালাম।
একটা আম ছিলো ঘরে,ঐটাও চিপে একটু দিলাম।মধুও খানিকটা দেওয়া হলো।কিছুটা সস,ম"রিচের গুড়া,আদাবাটা,ম্যাগি নুডুলসের মশলা....আরো যা যা পেলাম ঘর হাতড়ে সবই হালকা হালকা মিশিয়ে জম্পেশ ১ টা মিশ্রন তৈরি করলাম।
মিশমিশে কালো,ঝাঁঝালো বিচ্ছিরি খেতে জিনিশটা ঠিক কতটুকু বিচ্ছিরি তা আর টেস্ট করার সাহস আমার হলোনা।আমার ছোট বোন আর্ট করে নানান শৌখিন জিনিশ বানায়।কিছু কাঁচের বোতল ঘরে সে-ই এনে রেখেছে।ওগুলোতে নাকি রং করে কিসব ডিজাইন করবে।ওখান থেকেই একটা বোতল তুলে নিলাম আর আমার বানানো জম্পেশ জুসটা ওটায় ভরে ফ্রীজে রেখে দিলাম কিছুক্ষন।
ছাত্র যখন এলো ছাদে তখন মোটামুটি সন্ধ্যার আলো মিলিয়ে গেছে।চারপাশ অন্ধকার।
আমি ছাদে নিয়ে এলাম তার কাঙ্ক্ষিত বোতল।সে দেখেই ঢোক গিললো।আবছা যেটুকু আলো রয়েছে তাতে দেখলাম ২ চোখ তার লোভে,উৎসাহে একদম চকচক করছে।
বললাম,নে।একদম অথেন্টিক জিনিশ।ভুলেও আবার এ কথা কাউকে বলিস না।
ও বললো,জীবনেও বলবো না।বললে তো আমারই নাম খারাপ হবে।
সে হাত বাড়ালো অধীর আগ্রহে।
আমি বললাম,খুব বাজে কিন্তু খেতে।জানিস তো?
ও বলে,হুম হুম জানি জানি।শুনেছি অনেক বাজে খেতে।
ও হাসিমুখে বোতল হাতে নিয়ে কিছুক্ষণ এক দৃষ্টিতে চেয়ে রইলো।এরপর,চোখ বুজে এক ঢোক মুখে দিয়েই সাথে সাথে মুখ থেকে ফেলে দিলো।
আমি বললাম,কি রে??
সে ঢোক গিলে বললো।এতো বাজে আপু...
আগেই বলেছি।
এই ছাই মানুষ খায় কিভাবে??
এরপর,তবু সে অতিকষ্টে এক ঢোক খেলো।খেয়ে কাশতে লাগলো।চোখে তার পানি চলে এসেছে।
আমি বললাম,আর খাবিনা?পুরো বোতল তোরই।
ও বললো,মাফ চাই।কানে ধরছি।জীবনে মরে গেলেও এই ঘোড়ার ডিম আর খাবো না।মাথা ঘুরতেসে আমার এখনি।
আমি বললাম,নে*শা হইছে আরকি।
দেখি কয়টা আঙুল এখানে বলতো?
ওর মুখের সামনে তিনটা আঙুল উঁচিয়ে ধরলাম।
ও বললো,তিনটা।
আমি বললাম,হায়রে পুরো নে*শা হয়ে গেছে।ধরছি ১ টা আঙুল আর ছেলে বলে কিনা তিনটা।
ও চোখ ডলে আবার তাকালো।
আসলেই ১ টা ধরছেন আপু??
ওর চোখে মুখে বিস্ময়।আমি বললাম,নয়তো কি?
আকাশে ততক্ষনে অজস্র তারা ফুটে উঠেছে।ও আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলো।আমি বললাম,আজকে আকাশে একদম কম তারা উঠেছে তাইনা?
আবার,ওর চোখ বড়বড় হয়ে গেলো।বললো,কি বলেন?আমি তো অনেক বেশি দেখতেছি।
আমি বললাম,তাই স্বাভাবিক। ছাইপাঁশ গিলেছিস।
ও কাঁদতে লাগলো।বললো,,আপু আপনি আমার নিজের বোনের চেয়েও ভালো।আমার জীবনের একটা শখ ছিলো পূরন করছেন।
শখ যেহেতু পুরণ হয়েছে আর খাওয়ার দরকার নেই।
না না মোটেও না।বমি পাচ্ছে এখনো।যাই আপু।
যা সাবধানে।
ও ভেবেছে ওর নেশা ধরেছে।সিঁড়ির রেলিং ধরে ধরে নামছিলো,যদি পরে যায় তাই।পিছন ফিরে বললো,বাসায় যেয়েই কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পরবো।মা যদি বুঝি যায়।খবর করে ফেলবে।
হুঁ তাই থাকিস।
খুব গর্ব হচ্ছে একটু হলেও জীবনে নেশা কি সেটা টের পেলাম।
ভালো রে বিদায় হ আর,মন দিয়ে পড়বি কিন্তু।আবার,লাগলে বলবি।
না না পাগল নাকি?পশ্চিম দিক ফিরা বলতেসি আর জীবনে এসবের নাম নিবো না।বাজে এত!
(সমাপ্ত)
গল্প : নেশা
লেখক : Md Mazharul Haque Himu