31/08/2026
অবশেষে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির খবর!**
১ জুলাই ২০২৬ থেকে ব্যবসার টার্নওভারের পরিমাণ যা-ই হোক না কেন, ১% হারে টার্নওভার কর প্রযোজ্য হওয়ার বিধান করা হয়েছিল। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
আজ, ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে জারি করা নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই বিধান সংশোধন করা হয়েছে।
✅ **সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী—**
🔹 টার্নওভার ২ কোটি টাকা পর্যন্ত হলে—টার্নওভার কর শূন্য (০%)।
🔹 টার্নওভার ২ কোটি টাকার বেশি কিন্তু ৪ কোটি টাকার বেশি নয় হলে—সম্পূর্ণ টার্নওভারের ওপর ০.৫০%।
🔹 টার্নওভার ৪ কোটি টাকার বেশি হলে—সম্পূর্ণ টার্নওভারের ওপর ১%।
📌 **উদাহরণের মাধ্যমে বুঝে নিই—**
উদাহরণ–১: টার্নওভার ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা
যেহেতু টার্নওভার ২ কোটি টাকার বেশি নয়, তাই—
টার্নওভার কর = ১,৮০,০০,০০০ × ০%
= শূন্য টাকা।
অর্থাৎ, এই ব্যবসায়ীকে কোনো টার্নওভার কর দিতে হবে না।
উদাহরণ–২: টার্নওভার ৩ কোটি টাকা
যেহেতু টার্নওভার ২ কোটি টাকার বেশি, কিন্তু ৪ কোটি টাকার বেশি নয়, তাই সম্পূর্ণ ৩ কোটি টাকার ওপর ০.৫০% হারে কর হিসাব হবে—
টার্নওভার কর = ৩,০০,০০,০০০ × ০.৫০%
= ১,৫০,০০০ টাকা।
এখানে শুধু ২ কোটি টাকার অতিরিক্ত ১ কোটি টাকার ওপর নয়; সম্পূর্ণ ৩ কোটি টাকার ওপর ০.৫০% হারে কর হিসাব হবে।
উদাহরণ–৩: টার্নওভার ৫ কোটি টাকা
যেহেতু টার্নওভার ৪ কোটি টাকার বেশি, তাই সম্পূর্ণ ৫ কোটি টাকার ওপর ১% হারে কর হিসাব হবে—
টার্নওভার কর = ৫,০০,০০,০০০ × ১%
= ৫,০০,০০০ টাকা।
এ ক্ষেত্রেও শুধু ৪ কোটি টাকার অতিরিক্ত অংশের ওপর নয়; সম্পূর্ণ ৫ কোটি টাকার ওপর ১% হারে কর হিসাব হবে।
অর্থাৎ, নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে ২ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভার রয়েছে—এমন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা টার্নওভার করের আওতামুক্ত হলেন। নিঃসন্দেহে এটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য একটি স্বস্তিদায়ক ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
তবে মনে রাখতে হবে, টার্নওভার কর শূন্য হওয়া মানে ব্যবসার নিয়মিত আয়করও শূন্য—এমন নয়। ব্যবসার করযোগ্য আয় থাকলে প্রচলিত নিয়মে আয়কর হিসাব করতে হবে।