04/10/2025
সকাল ৮টা বাজতেই ব্যস্ত হয়ে ওঠেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার শফি উল্লাহ। এলাকার দোকানদারদের কাছে তিনি এক পরিচিত মুখ। দিনভর দোকান থেকে দোকানে ঘুরে অর্ডার তোলেন, দুপুরের মধ্যেই পণ্য পৌঁছে দেন হাতে হাতে, আর রাত নামার আগেই সব টাকার হিসাব জমা দেন হাবে। প্রতিদিন একই ছন্দে চলা এই জীবনটাই হয়ে উঠেছে তার কাছে দায়িত্ব, সম্মান আর গর্বের জায়গা।
শফি উল্লাহ বলেন, “এই এলাকার সব ব্যবসায়ী আমাকে পরিবারের একজনের মতোই দেখে।”
তিনি কাজ করেন শপআপ-এর একটি ডিস্ট্রিবিউশন হাবে সিনিয়র সেলস অফিসার হিসেবে। প্রতিদিন শত শত দোকানে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধে। দোকানদাররা তার উপর ভরসা রাখেন, কারণ তারা জানেন—শফি উল্লাহ মানেই সময়মতো পণ্য আর নির্ভরযোগ্য হিসাব।
২০০৪ সাল থেকে সেলসের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। এত বছরের অভিজ্ঞতায় তিনি শুধু কাজেই নয়, জীবনের প্রতিটি ধাপেই হয়েছেন পরিণত। তার এই আয়ে বড় হয়ে উঠছে ৪ ছেলে। পাশাপাশি, নরসিংদীতে থাকা বাবা-মায়ের খোঁজখবরও রাখেন নিয়মিত। গর্বের সঙ্গে তিনি জানান, পাঁচ ভাইয়ের উপার্জনেই কয়েক বছর আগে মা-বাবাকে হজে পাঠাতে পেরেছেন—যা তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় স্মৃতিগুলোর একটি।
শপআপ-এ আজ তার মতো আরও ৫,০০০ কর্মী কাজ করছেন। প্রতিদিন এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের ৫ লাখের বেশি মুদি দোকানে পৌঁছে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। এসআর, ডিএসআর থেকে শুরু করে লোডার-আনলোডার—প্রতিটি মানুষ মিলে গড়ে তুলেছে এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। তাদের হাত ধরেই আসলে দেশের মানুষ প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সময়মতো পাচ্ছে।
শফি উল্লাহর মতো একজন সাধারণ মানুষকে হয়তো আমরা বড় করে দেখি না। কিন্তু আসলে তারাই এই নেটওয়ার্কের প্রাণ। তারা শুধু পণ্যই পৌঁছে দেন না, পৌঁছে দেন আস্থা, নির্ভরতা আর স্থিরতার অনুভূতি। তার মতো মানুষদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই দেশের ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থা এত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
আজ তার জীবন একটাই বার্তা দেয়—নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ আর সততার সাথে কাজ করলে একজন মানুষ নিজের পরিবার, সমাজ এমনকি পুরো দেশের জন্য অবদান রাখতে পারে। শফি উল্লাহর গল্পটা তাই শুধু একজন কর্মীর নয়; এটি বাংলাদেশের ডিস্ট্রিবিউশন ইকোনমির আসল শক্তির প্রতিচ্ছবি।