27/04/2026
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) নিয়ে আমরা বড় বড় সেমিনার করি, রোডশো করি, কর ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিই—কিন্তু বাস্তবে বিনিয়োগকারীর সামনে যে দেয়াল তুলে রাখা হয়েছে, সেটি ভাঙার সাহস দেখাই না।
ফলাফল-কথায় ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি, বাস্তবে মাত্র ১.৬ বিলিয়ন ডলারের FDI।
বিদেশি বিনিয়োগ বাংলাদেশে শুরু হয় সাধারণত Bangladesh Investment Development Authority, Bangladesh Economic Zones Authority, Branch Office, Liaison Office, Project Office কিংবা JVCA–র মাধ্যমে।
কিন্তু প্রকৃত সমস্যা শুরু হয় এরপর—যখন সবকিছু অনশোরে এসে পড়ে এবং বিনিয়োগকারীকে এমন এক জটিল দেশীয় নিয়ন্ত্রক জালে ফেলে দেওয়া হয়, যেখানে ব্যবসার চেয়ে কাগজপত্রের ওজন বেশি।
বিদেশি বিনিয়োগকারী offshore mindset নিয়ে আসে—speed, predictability, compliance clarity এবং policy consistency আশা করে। কিন্তু এখানে তাকে স্বাগত জানায় overlapping regulation, NBR–এর আকস্মিক circular, contradictory ministry decisions, delayed approvals, forex restrictions এবং endless compliance burden।
বিনিয়োগকারী কর ছাড় চায় না—সে চায় নিশ্চয়তা।
সে tax holiday নয়—policy stability চায়।
সে incentive নয়—governance চায়।
একদিকে World Bank বলছে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ছাড়া incentive অর্থহীন, অন্যদিকে National Board of Revenue এমন আচরণ করছে যেন বিনিয়োগ নয়, শাস্তিই তাদের মূল লক্ষ্য।
সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে—আমরা offshore investor–কে onshore bureaucracy–র বন্দি বানিয়ে ফেলছি। বিদেশি বিনিয়োগকারীর onboarding হওয়া উচিত ছিল সহজ, transparent এবং internationally compatible।
কিন্তু বাস্তবে তাকে এমনভাবে domestic compliance–এর নিচে চাপা দেওয়া হয় যেন সে বিনিয়োগকারী নয়, সম্ভাব্য অপরাধী।
এই বাস্তবতায় FDI আসে না—পালিয়ে যায়।
বাংলাদেশ যদি সত্যিই বিনিয়োগ চায়, তাহলে BIDA, BEZA, NBR, Bangladesh Bank এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে policy alignment নিশ্চিত করতে হবে।
এক হাতে আমন্ত্রণ আর অন্য হাতে regulatory punishment—এই দ্বিচারিতা বন্ধ করতে হবে।
কারণ FDI কেবল টাকার প্রবাহ নয়—এটি আস্থার ভোট।
আর আস্থা কখনো circular দিয়ে আসে না—আসে বিশ্বাসযোগ্যতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং সম্মানজনক নীতির মাধ্যমে।