Krishi Beez Bank

Krishi Beez Bank দেশের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন নিশ্চিত করণ-ই কৃষি বীজ ব্যাংকের মূল লক্ষ্য!

পুদিনার উপকারিতা ১) গরমে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও ফুসকুরি সমস্যায় কয়েকটি পুদিনার পাতা চটকে গোসলের জলতে মিশিয়ে স্নান করলে ...
27/03/2025

পুদিনার উপকারিতা
১) গরমে ত্বকের জ্বালাপোড়া ও ফুসকুরি সমস্যায় কয়েকটি পুদিনার পাতা চটকে গোসলের জলতে মিশিয়ে স্নান করলে ভালো কাজ হয়।
২) মুখের দুর্গন্ধ দুর করতে পুদিনা পাতা জলের সাথে মিশিয়ে কুলি করুন।উপকার পাবেন।
৩) পুদিনা পাতা হজম শক্তি বাড়ায়,মুখের অরুচি ও গ্যাসের সমস্যা দুর করে, কর্মক্ষমতা বৃদ্বি করে ও শরীর ঠান্ডা রাখে।
৪) পুদিনা ত্বকের যে কোনো সংক্রমণকে ঠেকাতে অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। শুকনো পুদিনা পাতা ফুটিয়ে পুদিনার জল তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন। এক বালতি জলতে দশ থেকে পনেরো চামচ পুদিনার জল মিশিয়ে স্নান করুন। এর ফলে গরমকালে শরীরে ব্যাকটেরিয়া জনিত বিশ্রী দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পাবেন, কেননা পুদিনার অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট গুণ অতুলনীয়। ঘামাচি, অ্যালার্জিও হবে না।
৫) পুদিনা পাতার রস তাত্‍ক্ষণিক ব্যথানাশক উপাদান হিসেবে কাজ করে। পুদিনা পাতার রস চামড়ার ভেতর দিয়ে নার্ভে পৌঁছে নার্ভ শান্ত করতে সহায়তা করে। তাই মাথা ব্যথা বা জয়েন্টে ব্যথা উপশমে পুদিনা পাতা ব্যবহার করা যায়। মাথা ব্যথা হলে পুদিনা পাতার চা পান করতে পারেন। অথবা তাজা কিছু পুদিনা পাতা চিবিয়ে খেতে পারেন। জয়েন্টে ব্যথায় পুদিনা পাতা বেটে প্রলেপ দিতে পারেন।
৬) পুদিনা পাতার চা শরীরের ব্যাথা দুর করতে খুবই উপকারি।
৭) মাইগ্রেনের ব্যাথা দুর করতে নাকের কাছে টাটকা পুদিনা পাতা ধরুন।এর গন্ধ মাথাব্যাথা সারাতে খুবই উপকারি।
৮) কোন ব্যাক্তি হঠাত করে অগ্গান হয়ে গেলে তার নাকের কাছে পুদিনা পাতা ধরুন।সেন্স ফিরে আসবে।
৯) অনবরত হেচকি উঠলে পুদিনা পাতার সাথে গোলমরিচ পিষে ছেকে নিয়ে রসটুকু পান করুন।কিছুক্ষনের মধ্যেই হেচকি বন্ধ হয়ে যাবে।
১০) গোলাপ, পুদিনা, আমলা, বাঁধাকপি ও শশার নির্যাস একসঙ্গে মিশিয়ে টোনার তৈরি করে মুখে লাগালে তা ত্বককে মসৃণ করে তোলে।
১১) পুদিনা পাতায় রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইটোনিউট্রিয়েন্টসের চমত্‍কারী গুনাগুণ যা পেটের যে কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে খুব দ্রুত। যারা হজমের সমস্যা এবং পেটের ব্যথা কিংবা পেটের অন্যান্য সমস্যায় ভুগে থাকেন তারা খাবার পর এককাপ পুদিনা পাতার চা খাওয়ার অভ্যাস করুন। ৬/৭টি তাজা পুদিনা পাতা গরম জলতে ফুটিয়ে মধু মিশিয়ে খুব সহজে পুদিনা পাতার চা তৈরি করতে পারেন ঘরে।
১২) পুদিনাপাতা পুড়িয়ে ছাই দিয়ে মাজন বানিয়ে দাত মাজলে মাড়ি থাকবে সুস্থ, দাত হবে শক্ত ও মজবুত।
১৩) দীর্ঘদিন রোগে ভুগলে বা কোষ্ঠ্যকাঠিন্য থাকলে অনেক সময় অরুচি হয়।এক্ষেত্রে পুদিনা পাতার রস ২ চা চামচ,কাগজি লেবুর রস ৮-১০ ফোটা,লবণ হালকা গরম জলতে মিশিয়ে সকাল বিকাল ২ বেলা খান।এভাবে ৪-৫ দিন খেলে অরুচি দুর হয়ে যাবে।
১৪) তাত্ক্ষনিকভাবে ক্লান্তি দুর করতে পুদিনা পাতার রস ও লেবুর রস মিশিয়ে পান করুন। ক্লান্তি নিমিষেই দুর হয়ে যাবে।
১৫) কফ দুর করতে পুদিনা পাতার রস,তুলসী পাতার রস,আদার রস ও মধু একসাথে মিশিয়ে খান। পুরোনো কফ দুর করতেও এই মিশ্রণ অতুলনীয়।
১৬) সুস্থ হার্টের জন্য পুদিনা পাতা অনেক উপকারী। এটি রক্তে কলেস্টরেল জমতে বাধা প্রদান করে। ফলে হার্ট থাকে সুস্থ।
১৭) যেকোনো কারনে পেটে গ্যাস জমে গেলে পুদিনা পাতা কার্যকরী ভুমিকা পালন করে। পুদিনার রস ২ চা চামচ, সামান্য লবন, কাগজী লেবুর রস ৮/১০ ফোঁটা, হালকা গরম জলর সাথে মিশিয়ে সারাদিন ২-৩ বার খেলে পেটে গ্যাস ভাব কমে আসে।
১৮) পিত্তে শ্লেষ্মার জ্বর, অম্লপিত্ত, আমাশা, অজীর্ণ, উদরশূল, প্রভৃতির কারনে অনেকসময় আমাদের বমি বমি ভাব আসে। এসময় পুদিনার শরবতের সাথে এক চা চামুচ তেঁতুল মাড় ও চিনি মিশিয়ে খেলে বমিভাদ দূর হয়ে যায়।
১৯) পুদিনা পাতার রস উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত পুদিনা পাতার রস খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে।
২০) পুদিনার শেকড়ের রস উকুননাশক হিসেবে খুবই কার্যকরী, এমনকি পাতাও। পুদিনার পাতা বা শেকড়ের রস চুলের গোড়ায় লাগান। এরপর একটি পাতলা কাপড় মাথায় পেঁচিয়ে রাখুন। এক ঘণ্টা পর চুল শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দু বার এটা করুন। এক মাসের মধ্য চুল হবে উকুনমুক্ত।
২১) মেয়েদের অনিয়মিত পিরিয়ডের যন্ত্রণা থেকে সেরে ওঠার জন্য পুদিনা পাতা বেশ উপকারী।
২২) পুদিনা ত্বককে শীতল করে। খাবারের সঙ্গে নিয়মিত খেলে শরীরের ত্বক সতেজ হয়, সজীব ভাব বজায় থাকে। মৃত কোষকে দূর করে মৃসণ করে তোলে ত্বক। সেজন্য, আধা কাপ পুদিনা পাতা বাটা ও পরিমিত বেসন দিয়ে পেস্ট করে মুখে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট পর মুখ ধুয়ে নিলে, উপকার পাওয়া যায়।

💥পুদিনার ভর্তা মুখের রুচিও বাড়ায়,সাথে মুড়িমাখা সেই স্বাধ💥

লাভের সবজি কচুর লতির চাষ পদ্ধতিবাংলাদেশে কচুর মুখী ও কচুর লতি জনপ্রিয় সবজি। এ ছাড়া কচুর শাক ও কচুর ডগা পুষ্টিকর সবজি হ...
21/03/2025

লাভের সবজি কচুর লতির চাষ পদ্ধতি

বাংলাদেশে কচুর মুখী ও কচুর লতি জনপ্রিয় সবজি। এ ছাড়া কচুর শাক ও কচুর ডগা পুষ্টিকর সবজি হিসেবে প্রচলিত। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের এক হিসাব মতে, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে পানিকচুর চাষ হচ্ছে, যা থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টন লতি পাওয়া যাচ্ছে। বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে চাষ করা হলে উৎপাদনের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়ানো সম্ভব।

জাত: বাংলাদেশে লতিকচুর অনেক জাত থাকলেও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে অবমুক্ত লতিকচুর জাত ‘লতিরাজ’ চাষ বেশ লাভজনক।

মাটি: জৈব পদার্থসমৃদ্ধ পলি দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ। বেলেমাটিতে রস ধরে রাখা যায় না বলে চাষের জন্য এ ধরনের মাটি ভালো নয়।

জমি: মাঝারি নিচু থেকে উঁচু যেকোনো জমি। বৃষ্টির পানি জমে না, কিন্তু প্রয়োজনে সহজেই পানি ধরে রাখা যায়।

জমি তৈরি: কচুর লতি পানিকচু থেকে পাওয়া যায়। লতি উৎপাদনের জন্য পানিকচুর জমি শুকনো ও ভেজা উভয় অবস্খাতেই তৈরি করা যায়। শুকনোভাবে তৈরির জন্য চার থেকে পাঁচটি আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটি ঝুরঝুরে ও সমান করতে হয়। ভেজা জমি তৈরির জন্য ধান রোপণে যেভাবে জমি কাদা করা হয় সেভাবে তৈরি করতে হয়।

রোপণ সময়: খরিপ মৌসুমে কচুর লতি পাওয়া যায় বা সংগ্রহ করা যায় বলে জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস রোপণের জন্য উপযুক্ত সময়।

বংশবিস্তার : পূর্ণবয়স্ক পানিকচুর গোড়া থেকে যেসব ছোট ছোট চারা উৎপন্ন হয় সেগুলোই বীজ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

চারা রোপণ পদ্ধতি: পানিকচুর চারা কম বয়সী হতে হয়। চার থেকে ছয় পাতার সতেজ চারাগুলোই রোপণের জন্য নির্বাচন করতে হয়। রোপণের সময় চারার ওপরের দুই থেকে তিনটি পাতা রেখে নিচের বাকি সব পাতা ছাঁটাই করে দিতে হয়। চারার গুঁড়ি বা গোড়া বেশি লম্বা হলে কিছুটা শিকড়সহ গুঁড়ির অংশবিশেষ ছাঁটাই করে দেয়া যেতে পারে। সারি থেকে সারি ৬০ সেন্টিমিটার এবং গাছ থেকে গাছ ৪৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে চারা রোপণ করতে হয়। চারা রোপণে মাটির গভীরতা ৫ থেকে ৬ সেন্টিমিটার রাখতে হয়।

পরিচর্যা : গুঁড়ি থেকে চারা উৎপন্ন হওয়ার পর যদি মূল জমিতে চারা রোপণে দেরি হয় তাহলে সেগুলো ভেজা মাটি ও ছায়া আছে এমন স্খানে রেখে দিতে হয়। চারাগুলো আঁটি বেঁধে বা কাছাকাছি রাখতে হয়। রোপণের সময় বা পরে কিছু দিন পর্যন্ত জমিতে বেশি পানি থাকার কারণে যাতে চারা হেলে না পড়ে সে জন্য মাটি কাদা করার সময় খুব বেশি নরম করা উচিত নয়। গাছ কিছুটা বড় হলে গোড়ার হলুদ হয়ে যাওয়া বা শুকিয়ে যাওয়া পাতা সরিয়ে ফেলতে হয়। ক্ষেতের আগাছা পরিষ্কার করে জমি পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়। রোপণের এক থেকে তিন মাসের মধ্যে ক্ষেতে কোনো প্রকার আগাছা যেন না থাকে সে দিকে লক্ষ রাখতে হয়। পানি কচুর গাছে লতি আসার সময় ক্ষেতে পানি রাখা উচিত নয়। তবে একেবারে শুকনো রাখলেও আবার লতি কম বের হয় বা লতির দৈর্ঘ্য কম হয়। সে জন্য জো অবস্খা রাখতে হয়।

সার প্রয়োগ: হেক্টর প্রতি জৈবসার ১৫ টন, ইউরিয়া ১৫০ কেজি, টিএসপি ১২৫ কেজি, এমওপি ১৭৫ কেজি ব্যবহার করতে হয়। ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সার জমি তৈরি শেষ চাষের সময় ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হয়। ইউরিয়া সার দুই কিস্তিতে রোপণের ৩০ দিন ও ৬০ দিন পর সারির মাঝে ছিটিয়ে দিয়ে হালকা সেচ দিতে হয়। জমিতে দস্তা ও জিংকের অভাব থাকলে জিংক সালফেট ও জিপসাম সার হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। জয়পুরহাট অঞ্চলের লতিকচুর চাষিরা প্রতিবার লতি সংগ্রহ করার পর ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করেন।

সেচ ও নিকাশ: এটি একটি জলজ উদ্ভিদ হলেও দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। বিশেষ করে লতি উৎপাদনের সময় পানি ধরে রাখা ঠিক নয়। পানি থাকলে কম বা না থাকলে (শুধু জো অবস্খা থাকলে) বেশি লতি বের হয়।

 #বস্তায়/ #ব্যাগে  #আদা_চাষ #বস্তায়/ #ব্যাগে আদা লাগানোর সময়ঃ বস্তায় আদা চাষের জন্য এপ্রিল-মে মাসে আদা রোপন করতে হয়।তবে...
24/11/2024

#বস্তায়/ #ব্যাগে #আদা_চাষ
#বস্তায়/ #ব্যাগে আদা লাগানোর সময়ঃ
বস্তায় আদা চাষের জন্য এপ্রিল-মে মাসে আদা রোপন করতে হয়।তবে এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে উপযুক্ত সময়।
#উপযুক্ত_মাটিঃ
আদা চাষের জন্য উচু জায়গা ও জৈব সার সমৃদ্ধ দোঁআশ ও বেলে দোঁআশ মাটি সবথেকে উত্তম।
#বস্তায়/ #ব্যাগে আদা লাগানোর স্থানঃ
বসতবাড়িতে বা বাগানে ৩০%-৪০% ছায়াযুক্ত স্থানে আদা ভালো হয়। সম্পূর্ণ ছায়া বা আলোতে আদা ভালো হয় না৷ তাই দিনের ২/৩ ভাগ আলো আসে এরকম জায়গায় বস্তা রাখতে হবে।
#আদার জাত নির্বাচনঃ
বস্তায় চাষের জন্য জনপ্রিয় জাত
বারি আদা_১ ও
বারি আদা_২
বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্র, শিবগঞ্জ, বগুড়া থেকে আদার বীজ ক্রয় করতে পারেন।
#আদার কন্দের সাইজ নির্বাচনঃ
মাটি তৈরি হয়ে গেলে বস্তায় রোপনের জন্যে ৪০-৫০ গ্রাম সাইজেট আদার কন্দ প্রয়োজন।
#বীজ_শোধনঃ
আদার কন্দ লাগানোর আগে কার্বোডাজিম গ্রুপের ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানিতে ৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে নিয়ে এক কেজি আদার কন্দ শোধন করে নিতে হবে। শোধনের পর কন্দগুলো সাথে সাথে রোপন করা যাবে না কমপক্ষে একঘণ্টা ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। রোদে শুকানো যাবে না
#মাটি_প্রস্তুতঃ
বস্তায় আদা চাষের জন্য আদার কন্দ রোপনের ১৫ দিন আগে মাটি ও সার প্রস্তুত করতে হবে।
#মাটি_তৈরিঃ
আদা কন্দ বা রাইজোম জাতীয় মসলা ফসল তাই মাটি যত নরম ও ঝড়ঝড়ে হবে তত ভালো। এতে রাইজম সহজেই মাটির নিচে বড় হতে পারে। শক্ত মাটিতে আদার ফলন কম হয় কারণ মাটি শক্ত হওয়ায় রাইজোম বড় হতে পারে না।
#বস্তা_নির্বাচনঃ
বস্তায় আদা চাষের জন্য বস্তা সিমেন্টের বস্তা/জিও ব্যাগে আদা চাষের জন্য উত্তম। ১টি সিমেন্টের ব্যাগ কেটে দুইটি করে আদার বস্তা হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে বস্তার খরচ ৫০% কমে যাবে।
প্রতি বস্তার জন্য ঝুর ঝুরে পরিস্কার
#মাটি ১৫ কেজি
#পঁচা গোবর ৫-৬ কেজি
#টিএসপি ২০ গ্রাম
#এমওপি (পটাশ) ১০ গ্রাম
#জিপসাম ১০ গ্রাম
#জিংক ৫ গ্রাম
#বোরন ৫ গ্রাম
#দানাদার কীটনাশক ১০ গ্রাম
#কাঠের গুড়া ১ কেজি
ছাই ১ কেজি (সম্ভব হলে)
ভার্মিকম্পোষ্ট ১ কেজি (সম্ভব হলে)
বালু ১ কেজি (বেলে দোআঁশ মাটি হলে দরকার নেই)
#মাটি_মিশ্রণ_তৈরি_পদ্ধতিঃ
সমস্ত সার মাটি দানাদার কীটনাশক, কাঠের গুড়া বালু ভালোভাবে মিশিয়ে ১২-১৫ দিন কালো পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ১২-১৫ দিন পর পলিথিন উঠিয়ে মাটি উল্টাপাল্টা করে কমপক্ষে ২৪ ঘন্টা রেখে দিতে হবে। তার পর বস্তায় ভরে ২-৩ দিন রেখে আদার বীজ বপন করতে হবে।
বস্তায় সার মিশ্রিত মাটি ভরাটঃ
বস্তায় সার মিশ্রিত মাটি এমন ভাবে ভর্তি করতে হবে যাতে বস্তার উপরের অংশ ২-৩ ইঞ্চি ফাঁকা থাকে।
#বস্তা_স্থাপন_পদ্ধতিঃ
বৃষ্টির পানি জমাট বাধে না এমন যায়গায় সারিতে ৮-১০ ইঞ্চি পর পর পাশাপাশি ২ টি বস্তা স্থাপন করতে হবে। মাঝ খান দিয়ে চলাচলের জন্য রাস্তা রাখতে হবে যাতে সহজে চলাফেরা করা যায় এবং আন্তপরিচর্যা করতে সুবিধা হয়।
#আদা_কন্দ_রোপনের_গভীরতাঃ
আদার বীজ মাটির ভিতরে ৪ থেকে ৫ ইঞ্চি গভীরে লাগাতে হবে। বীজ লাগানোর পর মাটি দ্বারা ঢেকে দিতে হবে।
#আগাছাঃ
বস্তায় আদা চাষে তমন কোন আগাছা হয় না। যদি আগাছা দেখা যায় তাহলে হাত দিয়ে নিড়ানি দিয়ে গোড়া পরিস্কার রাখতে হবে।
#সেচ_প্রয়োগঃ
বৃষ্টি না হলে হালকা ছিটানো পানি দিতে হবে।
#পানি_নিষ্কাশনঃ
মাটি ভরাটের আগে বস্তার নিচে, সাইডে ৪-৫ টি ফুটা করে দিতে হবে যাতে অতিবৃষ্টিতে বস্তায় পানি জমে না থাকে।
#সার_প্রয়োগ:
✅প্রথম কিস্তিঃ
আদার কন্দ রোপনের ৫০ দিন পরে বস্তা প্রতি ১০ গ্রাম ইউরিয়া ও ৫ গ্রাম এমওপি একত্রে প্রয়োগ করতে হবে।
✅দ্বিতীয় কিস্তিঃ
আদার কন্দ রোপনের ৮০ দিন পরে বস্তা প্রতি ইউরিয়া ৫ গ্রাম পটাশ ৫ গ্রাম হারে গাছের চারি পশে ছিটিয়ে দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।
✅তৃতীয় কিস্তিঃ
আদার কন্দ রোপনের ১১০ দিন পরে ইউরিয়া ৫ গ্রাম পটাশ সার ৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে প্রয়োগ করতে হবে
#আদা_উত্তোলনঃ
জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারী মাসে তোলা যায়। আদার পাতা হলুদ হয়ে আসলে আদার পরিপক্ক হয়ে যায়।
#ফলনঃ
উপযুক্ত পরিচর্যায় প্রতি বস্তায় ১-৩ কেজি পর্যন্ত আদা পাওয়া যায়।
এছাড়াও রোগবালাইয়ের আক্রমণ দেখা গেলে আপনার নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা /উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

 #ভূট্টা_আবাদে_জরুরি_পরামর্শঃ #সারি থেকে সারি ২২" বা ৫৫ সে: মি: #বীজ থেকে বীজ ১০" বা ২৫ সে:মি: #ভাঙ্গা ও ছোট বীজ আলাদা ক...
22/11/2024

#ভূট্টা_আবাদে_জরুরি_পরামর্শঃ
#সারি থেকে সারি ২২" বা ৫৫ সে: মি:
#বীজ থেকে বীজ ১০" বা ২৫ সে:মি:
#ভাঙ্গা ও ছোট বীজ আলাদা করে বাদ দিতে হবে।
#জমিতে রস থাকলে বীজ ভেজানোর দরকার নেই
#জমিতে রস কম থাকলে ৬-৮ ঘন্টা বীজ ভিজিয়ে রোপন করতে পারেন।
#ভূট্টা বীজ রোপনের দিন বা পরের দিন পেন্ডামেথালিন গ্রুপের আগাছানাশক পানিডা৩৩ইসি ৩ মিলি হারে লিটারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন
#আগাছা জন্মানো ক্ষেতে ২৫ দিন বয়স হলে (এন্ট্রাজিন+মেসোট্রিন) গ্রুপের #ক্যালারিস_এক্সট্রা বা #মেসোট্রিন ৩ মিলি হারে লিটারে মিশিয়ে স্প্রে করে দিবেন
#ভূট্টা বীজ রোপনের ২৫-৩০ দিনে প্রথম সেচ দিয়ে ইউরিয়া সার ২০ কেজি ও পটাশ সার ২০ কেজি ছিটিয়ে দিবেন
মোঃ ফরিদুল ইসলাম
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা
কালিগঞ্জ লালমনিরহাট

আধুনিক পদ্ধতিতে রসুন 🧄 চাষ করে স্বাবলম্বী হন।🧄রসুন চাষের কৌশল রসুন বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। এ...
22/11/2024

আধুনিক পদ্ধতিতে রসুন 🧄 চাষ করে স্বাবলম্বী হন।
🧄রসুন চাষের কৌশল
রসুন বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য অর্থকরী মসলা জাতীয় ফসল। এটি রান্নার স্বাদ, গন্ধ ও রুচি বৃদ্ধিতে অনেক বেশি ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর বিদেশ থেকে আমদানী করে আমাদের দেশের রসুনের ঘাটতি মেটানো হয়ে থাকে, যা দেশের জন্য কাম্য নয়। বাংলাদেশের প্রায় ৬৬ হাজার একর জমিতে রসুনের আবাদ হয় এবং মোট উৎপাদন প্রায় ১০২ হাজার টন কিন্তু তা আমাদের চাহিদার মাত্র ৪ ভাগের এক ভাগ পূরণ করে।
🧄পুষ্টিমূল্য ও ভেষজ গুণঃ রসুনে আমিষ, প্রচুর ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন ‘সি’ থাকে। রসুন ব্যবহারে অজীণর্তা, পেটফাঁপা, শুলবেদনা, হৃদরোগ, অর্শ, ক্রিমি, সর্দি, কাশি, টাইফয়েড, ডিপথেরিয়া, বাতরোগ, গুরুপাক, বলবর্ধক, শুক্রবর্ধক ও যে কোন প্রকার চর্মরোগ সারে। এছাড়া রসুন থেকে তৈরি ঔষুধ নানা রোগ যেমন-ফুসফুসের রোগ, আন্ত্রিকরোগ, হুপিংকাশি, কানব্যাথা প্রভৃতিতে ব্যবহৃত হয়।
🧄উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ পানি জমে না এমন উর্বর দো-আঁশ মাটিতে রসুন ভাল জন্মে তবে এঁটেল দো-আঁশ মাটিতেও চাষ করা যায়। এঁটেল মাটিতে কন্দ সুগঠিত হয় না। জমিতে পানি বের হয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে কন্দ বড় হয় না এবং রসুনের রং খারাপ হয়ে যায়। বাংলাদেশের দিনাজপুর, রংপুর, নাটোরের গুরুদাসপুর ও বরাইগ্রাম, পাবনা জেলার চাটমহর এবং সিরাজগঞ্জ জেলার তারাশ উপজেলায় রসুন বেশি উৎপাদিত হয়।
👉জাত পরিচিতিঃ
🧄বারি রসুন-১: গড় উচ্চতা ২৫ ইঞ্চি, পাতার সংখ্যা (প্রতি গাছে) ৭-৮টি, কোয়ার সংখ্যা (প্রতি কন্দে) ২০-২২টি, কোয়ার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ইঞ্চি, বাল্বের ওজন ২০.০৮ গ্রাম, রোগ ও পোকার আক্রমণ খুব কম, জীবন কাল ১৪০-১৫০ দিন, ফলন (একর প্রতি) ২০০০-৩০০০ কেজি।
🧄বারি রসুন-২: গড় উচ্চতা ২২ ইঞ্চি, পাতার সংখ্যা (প্রতি গাছে) ৯-১০টি, কোয়ার সংখ্যা (প্রতি কন্দে) ২৩-২৪টি, কোয়ার দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ইঞ্চি, রোগ ও পোকার আক্রমণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ও সংরক্ষণ ক্ষমতা ভাল, জীবন কাল ১৪৫-১৫৫ দিন, ফলন (একর প্রতি) ৩০০০-৪০০০ কেজি।
🧄বাউ রসুন-১: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ হতে এ নামের একটি রসুনের জাত বের করা হয়েছে। এটি ব্যাকটেরিয়াল সফ্ট-রট প্রতিরোধী, ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কিছু রোগ প্রতিরোধী, উচ্চ ফলনশীল এবং সংরক্ষণ গুন ভাল।
🧄বাউ রসুন-২: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ দীর্ঘদিন যাবত গবেষণা চালিয়ে ভাইরাস প্রতিরোধী এ জাত বের করেছে। এটি উচ্চ ফলনশীল, ভাইরাস রোগ প্রতিরোধী, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম, সংরক্ষণ গুন ভাল এবং ফলন প্রতি একরে ৫০০০-৬০০০ কেজি।
🧄ইটালী (দেশী জাত): গাছগুলো শক্ত, চওড়া, পাতাগুলো উপরের দিকে থাকে এবং ফলন বেশি হয়।
🧄আউশী (দেশী জাত): পাতা অপেক্ষাকৃত ছোট ও চিকন, কন্দ ছোট, ঢলে পড়ে, ফলন কম, বাজারে চাহিদা ও মূল্য কম।
🧄বীজ বপনঃ শুকনো রসুনের বাহিরের সারির কোয়া লাগানো হয়। ১৫ সে.মি. দূরত্বে সারি করে ১০ সে.মি. দূরে ৩-৪ সে.মি. গভীরে রসুনের কোয়া লাগানো হয়। প্রতি হেক্টরে ৩০০-৩৫০ কেজি বীজ রসুনের প্রয়োজন হয়।
👉সার ব্যবস্থাপনাঃ রসুনে হেক্টর প্রতি সারের পরিমাণ হলো-গোবর ১০ টন, ইউরিয়া ২০০ কেজি, টিএসপি ১২৫ কেজি, এমওপি ১০০ কেজি, জিংক সালফেট ২০ কেজি, বোরাক্স ১০ কেজি ও জিপসাম ১০০ কেজি। জমি তৈরির সময় সমুদয় গোবর, টিএসপি, জিংক সালফেট, বোরাক্স ও জিপসাম মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। রসুন লাগানোর ৩০ দিন ও ৬০ দিন পর যথাক্রমে ১ম ও ২য় কিস্তির উপরি সার প্রয়োগ করা হয়। প্রতিবারে প্রতি হেক্টরে ১০০ কেজি ইউরিয়া ও ৫০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়।
👉চাষের সময় পরিচর্যাঃ
আগাছা দমনঃ রসুন লাগানোর ১৫ দিন পর আগাছা বেশি হলে অর্থাৎ আগাছাগুলো নাড়ার উপর দিয়ে যখন উঠে তখন রনষ্টার ৫০ মিলি প্রতি বিঘাতে ৪০-৫০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। জমিতে আগাছা হলে অবস্থা বুঝে একাধিকবার নিড়ানী দিতে হবে। বন্যা পস্নাবিত এলাকায় জিরো টিলেজে মালচিং এর মাধ্যমে রসুন লাগানো যাবে। তবে কোন কোন সময় বীজ রোপণ হতে রসুন উত্তোলন পর্যন্ত একটি নিড়ানী লাগতে পারে। তবে নিড়ানী নির্ভর করবে রসুন ক্ষেতে আগাছার পরিমাণের উপর।
👉সেচ ব্যবস্থাঃ রসুন লাগানোর পর জমির রস বুঝে সেচ দিতে হয়। রসুনের কোয়া লাগিয়েই একবার সেচ দেওয়া হয়। এর পর চারা বের না হওয়া পর্যন্ত জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকতে হবে। চারা একবার হয়ে গেলে ১০-১৫ দিন অন্তর সেচ দিলেও চলে। রসুনের জমিতে বিশেষ করে, কন্দ গঠনের সময় উপযুক্ত পরিমাণে রস থাকা দরকার। সে জন্য এ সময় অবশ্যই সেচ দিতে হবে। কন্দ যখন পরিপক্ক হতে থাকে তখন সেচ কম দিতে হয়। এই ফসলে মোটামুটি ৪-৫ টি সেচের দরকার হয়। ড্রেনের দু পাশের নালা দিয়ে জমিতে সেচ দেওয়া সুবিধাজনক। নালা দিয়ে জমিতে সমভাবে ও সহজেই পানি সেচ দেয়া এবং জমিতে বেশি পানি থাকলে তা বের করে দেওয়া যায়।
👉গাছের গোড়ায় মাটিঃ চারা গজালে সারির দু’ধার থেকে গোড়ায় মাটি তুলে দিতে হয়।
👉জমিতে খড় বিছানোঃ বীজ জমিতে বপনের পর পরই জমিতে খড় বিছিয়ে দেয়া যায়।
🐛🪳রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ
👉পোকার নামঃ থ্রিপস
এ পোকা ছোট কিন্তু পাতার রস চুষে খায় বিধায় গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। সে কারনে ক্ষেতের মধ্যে পাতা বিবর্ণ দেখালে কাছে গিয়ে মনোযোগ সহকারে দেখা উচিৎ, তা না হলে ফলন অনেক কমে যাবে। পোকা আকৃতিতে খুব ছোট। স্ত্রী পোকা সরু, হলুদাভ। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ গাঢ় বাদামী। বাচ্চা সাদা বা হলুদ। এদের পিঠের উপর লম্বা দাগ থাকে।
👉ক্ষতির নমুনাঃ এরা রস চুষে খায় বলে আক্রান্ত পাতা রূপালী রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতায় বাদামী দাগ বা ফোঁটা দেখা যায়। অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। রাইজোম আকারে ছোট ও বিকৃত হয়।
👉জীবন চক্রঃ স্ত্রী পোকা পাতার কোষের মধ্যে ৪৫-৫০ টি ডিম পাড়ে। ৫-১০ দিনে ডিম হতে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। নিম্ফ ১৫-৩০ দিনে দুটি ধাপ অতিক্রম করে। প্রথম ধাপে খাদ্য গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য গ্রহণ না করে মাটিতে থাকে। এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে। এবং স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই বাচ্চা দিতে সক্ষম।
👉ব্যবস্থাপনাঃ সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার। ক্ষেতে মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়। আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেক্সিন গ্রুপের সাইপেরিন, সাইপার অথবা ইমাডিক্লোরো ফিড গ্রুপের এডমায়ার প্রতি লিটারে ১ মিলি সাইপারমেক্সিন অথবা ইমিডা ক্লোরোফিড প্রতি লিটারে ০.৫ মিলি গাছে ৪ থেকে ৫ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।
👉রোগের নামঃ কান্ড পঁচা
স্কেলরোসিয়াম রলফসি ও ফিউজারিয়াম নামক ছত্রাক দ্ধারা এ রোগ হয়। যে কোন বয়সে গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কন্দ ও শিকড়ে এর আক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত কন্দে পচন ধরে এবং আক্রান্ত কন্দ গুদামজাত করে বেশী দিন রাখা যায় না।
👉ক্ষতির নমুনাঃ আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। টান দিলে আক্রান্ত গাছ খুব সহজে মাটি থেকে কন্দসহ উঠে আসে। আক্রান্ত স্থানে সাদা সাদা ছত্রাক এবং বাদামী বর্ণের গোলাকার ছত্রাক গুটিকা (স্কেলরোসিয়াম ) দেখা যায়। অধিক তাপ ও আর্দ্রতা পূর্ণ মাটিতে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ক্ষেতে সেচ দিলেও এ রোগ বৃদ্ধি পায়। এ রোগের জীবাণু মাটিতে বসবাস করে বিধায় সেচের পানির মাধ্যমে ও মাটিতে আন্ত পরিচর্যার সময় কাজের হাতিয়ারের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার হয়।
👉ব্যবস্থাপনাঃ আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংশ করতে হবে। মাটি সব সময় স্যাঁত স্যাঁতে রাখা যাবে না। আক্রান্ত জমিতে প্রতি বছর পেঁয়াজ /রসুন চাষ করা যাবে না। ম্যানকোজেব গ্রুপের এগ্রিজে ডাইথেনএম-৪৫ অথবা ব্যাভিষ্টিন (কার্ববোন্ডাজিম) ছত্রাকনাশক প্রতি কেজি বীজে ১০০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধণ করে বপন করতে হবে।
ফসল সংগ্রহঃ রসুন গাছের পাতা শুকিয়ে বাদামী রং ধারণ করলে ঢলে পড়ে তখন রসুন তোলার উপযোগী হয়। গাছসহ রসুন তোলা হয় এবং ঐ ভাবে ছায়াতে ভালভাবে শুকিয়ে মরা পাতা কেটে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ১০-১২ টন ফলন পাওয়া যায়।
👉ফসল সংগ্রহের পর করণীয়ঃ
ছায়াতে শুকাতে পারলে ভাল গুণাগুণ বজায় থাকে।
রোদে শুকালে রসুন নরম হয়ে যেতে পারে।
ফুতি পোকার র্লাভা থেকে রক্ষা পেতে হলে সংরক্ষণের সময় সেভিন পাউডার ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম করে স্প্রে করে দিতে হবে।
রসুন খুব ভালোভাবে পরিপক্ক করে নিয়ে ক্ষেত থেকে তুলতে হবে। অপরিপক্ক রসুন তুললে সেটা থেকে বীজ করা যাবে না। জমিতে ফুলকা হলে বুঝতে হবে রসুন পরিপক্ক হয়েছে।
🧄বাছাইঃ রসুন মাঠ থেকে সংগ্রহের পর ছোট, মাঝারি ও বড় এই তিনটি গ্রেডে ভাগ করতে হবে।
🧄বীজ হিসাবে সংরক্ষণ পদ্ধতিঃ রসুন সংগ্রহের পর ৫-৭ দিন ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে হয়। একে রসুনের কিউরিং বলে। পরে পরিমাণ মতো (৪-৫ কেজি) রসুনের শুকানো গাছ বেনি তৈরি করে বাতাস চলাচল করে এমন ঘরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। এক ঝোপা থেকে অন্য ঝোপা কিছুটা দূরে/ফাঁকা করে রাখতে হবে যাতে করে বাতাস চলাচল করতে পারে। এছাড়া রসুন উত্তোলনের পর পাতা ও শিকড় কেটে ব্যাগে এবং বাঁশের র‌্যাক, মাচায় এবং চটের বস্তাতেও সংরক্ষণ করা যায়। বীজের জন্য এভাবে সংরক্ষণ করার আগে যেটা মোটা, সুস্থ, সবল, রোগব্যাধি বিহীন রসুন বাছাই করতে হবে।
👉 কৃষি সম্পর্কে আরো কিছু জানতে হলে অবশ্যই নিকটস্থ কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করবেন।
"সংগৃহীত তথ্য"

যারা বেকার আছেন, কৃষিতে কিছু করতে চান এই পোস্ট টা তার জন্য।           একটা পতিত জমি, সামান্য কিছু বিনিয়োগ আর একটু পরিশ্...
22/11/2024

যারা বেকার আছেন, কৃষিতে কিছু করতে চান এই পোস্ট টা তার জন্য।
একটা পতিত জমি, সামান্য কিছু বিনিয়োগ আর একটু পরিশ্রম এর মাধ্যমে নিজের এবং পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারেন।

🎄 1 বিঘা জমি থেকে প্রতি সপ্তাহে ৫/৬ মন লতি বিক্রি করা যায়। যার বাজার মূল্য নূন্যতম ৬০০০/৮০০০ টাকা।

লতিরাজ কচু আমাদের দেশে একটি অতি পরিচিত নাম। কচুর লতি মূলত পানি কচুই।যে সব জমিতে পানি আটকায় থাকে, ছায়া পড়ে, ফসল ভালো হয় না , সেসব জমিতে ও লতিরাজ কচু চাষ করার জন্য বেছে নিন।ধানের চেয়ে তিনগুন লাভ বেশি দিবে লতিরাজ কচু ইনশাআল্লাহ।

↔️ লতিরাজ কচুর জীবনকাল ২৪০-৩০০ দিন। লতিরাজ কচু আমাদের দেশের সব অঞ্চলেই চাষ করা যায়।

লতিরাজ কচুর লতি উষ্ণ জলবায়ু পছন্দ করে।এ জাতের কচুর লতি চাষের জন্য জমি হতে হবে নিচু, মাঝারি নিচু যেখানে বৃষ্টির পানি জমে। লতি কচু অল্প আলো বা ছায়াতেও ভাল জন্মাতে পারে। প্রখর রোদে ভাল ফলন হয়। প্রায় সব ধরনের মাটিতে কচুর লতির চাষ করা যায়। তবে পলি দো-আঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটিতে কচুর লতি চাষ করা উত্তম।

🎄লতিরাজ কচুর চারা আগাম ফসলের জন্য আগস্ট-থেকে ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত লাগানোর উপুযুক্ত সময় ।
তবে লতির কচু/লতিরাজ বারি 1/3 বারো মাস চাষ করা যায়।

🎄🎄চারা রোপণের ৪৫ দিন পর থেকে ১০ মাস বয়স পর্যন্ত লতি সংগ্রহ করা যায়।

🎄🎄🎄২০০-২২০ দিন বয়সে কাঠকচু বিক্রির উপযুক্ত হয়।

↔️ বাংলাদেশের অনেক জেলাতেই লতিরাজ কচু চাষ করে বেকার সমস্যার সমাধান ও ভাগ্য পরিবর্তন করেছে । লতিরাজ কচু চাষ পদ্ধতি জেনে বুঝে করলে আর্থিক ভাবে ভালো লাভবান হওয়া যায়। তবে কষ্ট করার মন মানসিকতা থাকতে হবে। তাহলে ভালো ইনকাম সম্ভব।

★★ #হাইব্রিড_ধান_বীজ_জার্মিনেশন_করার_আদর্শ_প্রক্রিয়াঃপ্যাকেট কেটে ৩০ মিনিট হালকা রোদে শুকাতে হবে। অতপর ছায়াযুক্ত জায়গায় ...
22/11/2024

★★ #হাইব্রিড_ধান_বীজ_জার্মিনেশন_করার_আদর্শ_প্রক্রিয়াঃ

প্যাকেট কেটে ৩০ মিনিট হালকা রোদে শুকাতে হবে। অতপর ছায়াযুক্ত জায়গায় বীজ ভালোভাবে ঠান্ডা করতে হবে।

• তারপর আয়রনমুক্ত পরিষ্কার পানিতে ৩ থেকে ৪ বার ভালোভাবে ধুয়ে পানি ফেলে দিতে হবে।

- এরপর বীজ ১২ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।

তারপর পানি ফেলে দিয়ে আরও ১ থেকে ২ বার বীজ ধুয়ে আবারো ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ভিজাতে হবে।

॥ খেয়াল রাখতে হবে বীজের মুখ যদি সাদা হয়ে যায়, তাহলে আগেই বীজ পানি থেকে তুলে, পানি ঝরিয়ে মেঝেতে হালকা ভেজা চটের বস্তার উপর ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পুরু করে বিছিয়ে দিয়ে আরো ১টা হালকা ভেজা চটের বস্তা দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।

- এভাবে ৩৬ থেকে ৪৮ ঘন্টা পর সাধারণত বীজ অঙ্কুরিত হয়।

* লক্ষ্য রাখতে হবে বীজের উপরের বস্তা যেন শুকিয়ে না যায়। শুকিয়ে গেলে মাঝে মাঝে বস্তার উপর পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।

বিঃ দ্রঃ কোন অবস্থাতেই বীজ খড় কুটার ভিতরে জাগ দেওয়া উচিৎ না

মোঃ মাসুদ রানা
উপসহকারী কৃষি অফিসার
হাতিবান্ধা, লালমনিরহাট।

আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষের কৌশল। (A to Z)পেঁয়াজ গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। মসলা ও সবজি হিসাবে ব্যবহার হয়। বর্তমানে আমাদ...
22/11/2024

আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ চাষের কৌশল। (A to Z)

পেঁয়াজ গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। মসলা ও সবজি হিসাবে ব্যবহার হয়। বর্তমানে আমাদের দেশে মাত্র ২৮৫.৬৬ হাজার একর জমিতে প্রতি বছর প্রায় ৭ লক্ষ ৬৯ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই পেঁয়াজের চাষ দেখা যায়। পেঁয়াজের চাষ শুধু শীতকালেই হয় না এখন বর্ষাকালেও চাষ করা হচ্ছে।

👉পুষ্টিমূল্যঃ এত প্রচুর ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন ‘সি’ আছে।

ভেষজ গুণঃ

উত্তেজক হিসেবে কাজ করে

প্রস্রাবের বেগ বাড়ায়

শ্বাসনালীর মিউকাস কমায়

ঋতুস্রাব বাড়ায়

হজমি নালার জ্বালা কমায়

রক্ত পরিশোধন করে

এ্যাজমা ও কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়

পোকার কামড়ে বিশুদ্ধ মধুসহ প্রলেপ দিলে জ্বালা কমায়

কাঁচা পেঁয়াজের রস চুলের বৃদ্ধিতে সহায়ক

ব্যবহারঃ তরকারীতে মসলা হিসেবে ব্যবহার ছাড়াও বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরিতে পেঁয়াজের ব্যবহার রয়েছে।

উপযুক্ত জমি ও মাটিঃ উর্বর বেলে-দো-আঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য অতি উত্তম। বর্ষায় পেঁয়াজ চাষের জন্য উঁচু জমি দরকার যেখানে বৃষ্টির পানি জমেনা। জমিতে সেচ ও পানি নিকাশের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

🧅জাত পরিচিতিঃ

👉বারি পেঁয়াজ-১: জাতটির কন্দ অধিক ঝাঁঝযুক্ত। প্রতিটি গাছে ১০-১২টি পাতা হয়। হেক্টর প্রতি ফলন ১২-১৬ টন। হেক্টর প্রতি বীজের ফলন ৬০০-৬৫০ কেজি। বারি পেঁয়াজ-১ পার্পল ব্লচ ও স্টেমফাইলাম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। জাতটি রবি মৌসুমে চাষ উপযোগী।

👉বারি পেঁয়াজ-২: জাতটি বিশেষভাবে খরিফ মৌসুমে অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে স্বল্প সময়ের ফসল। এটি দেখতে গোলাকার ও লাল রঙের। আগাম চাষের জন্য মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বীজ তলায় বীজ বোনা যায় এবং এপ্রিল মাসে ৪০-৪৫ দিনের চারা মাঠে রোপণ করা যায়। নাবী চাষের জন্য জুন-জুলাই মাসে বীজতলায় বীজ বুনতে হয়। প্রতি হেক্টরে (২৪৭ শতকে) ফলন ২২ টন।

👉বারি পেঁয়াজ-৩: জাতটি বিশেষভাবে খরিফ মৌসুমে অর্থাৎ গ্রীষ্মকালে স্বল্প সময়ের ফসল। এটি দেখতে গোলাকার ও লাল রঙের। বীজ বোনার জন্য মধ্য জুন থেকে মধ্য জুলাই মাস উপযুক্ত সময়। আগাম চাষে বীজ বোনার উপযুক্ত সময় হচ্ছে মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের প্রথম সপ্তাহ এবং এপ্রিল মাস চারা রোপণের উপযুক্ত সময়।

👉বারি পেঁয়াজ-৪: এটি উচ্চ ফলনশীল শীতকালীন পেঁয়াজ। আকৃতি গোলাকার, রং ধুসর লালচে বর্ণের ও ঝাঁঝযুক্ত। হেক্টর প্রতি ফলন ১৭-২২ টন।

👉বারি পেঁয়াজ-৫: এ জাতটি গ্রীষ্মকালে চাষের উপযোগী স্বল্প সময়ের ফসল। এটি সারা বছরব্যাপী চাষ করা যেতে পারে। বীজ থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত ৯৫-১১০ দিন সময় লাগে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন ১৮-২০ টন।

👉স্থানীয় জাতঃ স্থানীয় জাতের মধ্যে তাহেরপুরী, ফরিদপুরের ভাতি, ঝিটকা, কৈলাসনগর উল্লেখযোগ্য। আগাম রবি মৌসুমে এ জাত দুটির ফলন দ্বিগুন হয় এবং কন্দের মানও উন্নত হয়। উদ্ভাবিত ও উল্লেখিত পেঁয়াজের জাত দুইটি উত্তরবঙ্গ, কুষ্টিয়া, যশোর ও ফরিদপুর অঞ্চলে ব্যবসায়িক ভাবে চাষ করার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

🧅ভাল বীজের বৈশিষ্ট্যঃ

ভাল বীজ হাত নিয়ে চাপ দিলে চাপ বসবে না। খারাপ বীজ হলে চাপ বসবে।

মুখে নিয়ে দাঁত দিয়ে চাপ দিলে ভাল বীজ হলে ভেঙ্গে যাবে। খারাপ বীজ হলে চ্যাপ্টা হয়ে যাবে।

পানিতে দিলে ভাল হলে পানিতে ডুবে যাবে। খারাপ হলে ভেসে উঠবে।

চারা তৈরিঃ ৩x১ মিটার আকারের প্রতি বীজতলার জন্য ২৫-৩০ গ্রাম বীজের প্রয়োজন হয়। পেঁয়াজ রবি ও খরিপ মৌসুমে চাষ করা যায়। খরিপ মৌসুমে চাষের জন্য জুলাই-আগষ্ট (শ্রাবণ-ভাদ্র) ও রবি মৌসুমে চাষের জন্য ফেব্রুয়ারী-মার্চ (মাঘ-ফাল্গুন) মাসে বীজ তলায় বীজ বপন করতে হয়। জমির আগাছা পরিষ্কার করে ভালভাবে চাষও মই দিয়ে ৩x১ মিটার আকারের বীজতলা করে এক সপ্তাহ রাখা হয়। বীজ বপনের পূর্বে আগের দিন সন্ধ্যায় বীজ ভিজিয়ে রেখে পরের দিন তুলে ১ ঘন্টা রৌদ্রে শুকিয়ে তারপর বীজতলায় বপন করতে হবে। বীজ বপনের পর ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে বীজ ঢেকে দিতে হবে। বীজ বপনের পরদিন বেডে ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। দিনের বেলা বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে এবং রাত্রে খোলা রাখতে হবে। প্রয়োজনে ঝরনা দিয়ে পানি দিতে হবে।

👉চারা রোপনঃ ৫ টি চাষ ও মই দিয়ে জমি তৈরি করা হয়। ১৫x১০ সে.মি. দূরত্বে চারা রোপন করা হয়। বর্ষার সময় ১ মিটার চওড়া ও ১৫ সে.মি. উঁচু বেড তৈরি করে চারা রোপণ করা হয়। দুই বেডের মাঝে ৩০ সে.মি. চওড়া পানি নিকাশের নালা রাখা হয়। ৪০-৪৫ দিন বয়সের চারা লাগানোর উপযোগী হয়।

🧅🧅🧅সার ব্যবস্থাপনাঃ পেঁয়াজের জমিতে প্রতি হেক্টরে গোবর ৮-১০ টন, ইউরিয়া ২৫০-২৭০ কেজি, টিএসপি ১৯০-২০ কেজি এবং ১৫০-১৭০ কেজি এমওপি সার প্রয়োগ করা হয়। জমি তৈরির সময় ১৬০-১৭০ কেজি ইউরিয়া ও বাকী সমুদয় সার মাটিতে মেশাতে হয়। চারা রোপনের ২০ দিন পর বাকী ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ করা হয়।

🧅🧅সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনাঃ জমিতে রসের অভাব থাকলে সেচ দিতে হবে। বর্ষা মৌসুমে যাতে বৃষ্টির পানি দাঁড়াতে না পারে সেজন্য নিকাশ নালা রাখতে হবে। জমি আগাছামুক্ত রাখতে হবে। সেচের পর জমি নিড়ানি দিয়ে আলগা করে দিতে হবে। পেঁয়াজের কন্দ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ফুলের কুঁড়ি দেখামাত্র ভেঙ্গে দিতে হবে।

রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনাঃ🐛🪳🦗

👉পোকার নামঃ থ্রিপস

এ পোকা ছোট কিন্তু পাতার রস চুষে খায় বিধায় গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। সে কারনে ক্ষেতের মধ্যে পাতা বিবর্ণ দেখালে কাছে গিয়ে মনোযোগ সহকারে দেখা উচিৎ, তা না হলে ফলন অনেক কমে যাবে। পোকা আকৃতিতে খুব ছোট। স্ত্রী পোকা সরু, হলুদাভ। পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ গাঢ় বাদামী। বাচ্চা সাদা বা হলুদ। এদের পিঠের উপর লম্বা দাগ থাকে।

👉ক্ষতির নমুনাঃ এরা রস চুষে খায় বলে আক্রান্ত পাতা রূপালী রং ধারণ করে। আক্রান্ত পাতায় বাদামী দাগ বা ফোঁটা দেখা যায়। অধিক আক্রমণে পাতা শুকিয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। রাইজোম আকারে ছোট ও বিকৃত হয়।

👉জীবন চক্রঃ স্ত্রী পোকা পাতার কোষের মধ্যে ৪৫-৫০ টি ডিম পাড়ে। ৫-১০ দিনে ডিম হতে নিম্ফ (বাচ্চা) বের হয়। নিম্ফ ১৫-৩০ দিনে দুটি ধাপ অতিক্রম করে। প্রথম ধাপে খাদ্য গ্রহণ করে এবং দ্বিতীয় ধাপে খাদ্য গ্রহণ না করে মাটিতে থাকে। এরা বছরে ৮ বার বংশ বিস্তার করে। এবং স্ত্রী পোকা পুরুষ পোকার সাথে মিলন ছাড়াই বাচ্চা দিতে সক্ষম।

👉ব্যবস্থাপনাঃ সাদা রংয়ের আঠালো ফাঁদ ব্যবহার। ক্ষেতে মাকড়সার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এ পোকা দমন করা যায়। আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেক্সিন গ্রুপের সাইপেরিন, সাইপার অথবা ইমাডিক্লোরো ফিড গ্রুপের এডমায়ার প্রতি লিটারে ১ মিলি সাইপারমেক্সিন অথবা ইমিডা ক্লোরোফিড প্রতি লিটারে ০.৫ মিলি গাছে ৪ থেকে ৫ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।

👉পোকার নামঃ জাব পোকা

ক্ষতির নমুনাঃ জাব পোকা দলবদ্ধভাবে পেঁয়াজ পাতার রস চুষে খায়, ফলে গাছ দূর্বল ও হলুদাভ হয়ে যায়। জাব পোকার মলদ্বার দিয়ে যে তরল পদার্থ বের হয় তাকে ’হানিডিউ’ বলে যা পাতায় আটকে গেলে সুটি মোল্ড নামক কালো ছত্রাক জন্মায়। ফলে গাছের সবুজ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ব্যবস্থাপনাঃ আক্রমণ বেশি হলে সাইপারমেক্সিন গ্রুপের সাইপেরিন, সাইপার অথবা ইমাডিক্লোরো ফিড গ্রুপের এডমায়ার প্রতি লিটারে ১ মিলি সাইপারমেক্সিন অথবা ইমিডা ক্লোরোফিড প্রতি লিটারে ০.৫ মিলি গাছে ৪ থেকে ৫ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।

👉👉রোগের নামঃ পার্পল ব্লচ/ব্লাইট

এ রোগ পেঁয়াজের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। যে কোন বয়সে গাছের পাতা ও কান্ড আক্রান্ত হয়। অধিক আক্রমনে পেঁয়াজে ফুল আসে না ও ফসল কম হয়। আক্রান্ত বীজ বেশিদিন গুদামে রাখা যায়না। বাজার মূল্য কমে যায়। অল্টারনারিয়া পোরি ও স্টেমফাইলিয়াম বট্রাইওসাম নামক ছত্রাকদ্বয় দ্বারা এ রোগ হয়ে থাকে।

👉ক্ষতির নমুনাঃ কান্ডে প্রথমে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পানি ভেজা হালকা বেগুনী রংয়ের দাগের সৃষ্টি হয়। দাগগুলি বৃদ্ধি পেয়ে বড় দাগে পরিণত হয় এবং আক্রান্ত স্থান খড়ের মত হয়ে শুকিয়ে যায়। আক্রান্ত পাতা ক্রমান্বয়ে উপরের দিক হতে মরতে শুরু করে। পাতা বা কান্ডের গোড়ায় আক্রান্ত স্থানের দাগ বৃদ্ধি পেয়ে হঠাৎ পাতা বা বীজবাহী কান্ড ভেঙ্গে পড়ে এতে বীজ অপুষ্ট হয় ও ফলন কম হয়। বৃষ্টিপাত হলে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। আক্রান্ত বীজ, গাছের পরিত্যাক্ত অংশ ও বায়ুর মাধ্যমে এ রোগ বিস্তার লাভ করে।

👉ব্যবস্থাপনাঃ রোগ প্রতিরোধী বা সহনশীল জাত ব্যবহার। রোগমুক্ত বীজ ব্যবহার। ফসল পর্যায় অনুসরন করা অর্থ্যাৎ একই জমিতে পর পর কমপক্ষে ৪ বছর পেঁয়াজ না করা। পেঁয়াজ গাছের পরিত্যাক্ত অংশ, আগাছা ধ্বংস করা। ম্যানকোজেব গ্রুপের এগ্রিজে ডাইথেনএম-৪৫ অথবা ব্যাভিষ্টিন (কার্ববোন্ডাজিম) ছত্রাকনাশক প্রতি কেজি বীজে ১০০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধণ করে বপন করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতিলিটার পানিতে রোভরাল বা এন্ট্রাকল ২ গ্রাম ও এগ্রিজে, ডাইথেন এম-৪৫ বা ফলিকিউর (টেবুকোনাজল) ১০ লিটার পানিতে .০৫ মিলি মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

👉রোগের নামঃ কান্ড পঁচা

স্কেলরোসিয়াম রলফসি ও ফিউজারিয়াম নামক ছত্রাক দ্ধারা এ রোগ হয়। যে কোন বয়সে গাছ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। কন্দ ও শিকড়ে এর আক্রমণ দেখা যায়। আক্রান্ত কন্দে পচন ধরে এবং আক্রান্ত কন্দ গুদামজাত করে বেশী দিন রাখা যায় না।

ক্ষতির নমুনাঃ আক্রান্ত গাছের পাতা হলদে হয়ে যায় ও ঢলে পড়ে। টান দিলে আক্রান্ত গাছ খুব সহজে মাটি থেকে কন্দসহ উঠে আসে। আক্রান্ত স্থানে সাদা সাদা ছত্রাক এবং বাদামী বর্ণের গোলাকার ছত্রাক গুটিকা (স্কেলরোসিয়াম ) দেখা যায়। অধিক তাপ ও আর্দ্রতা পূর্ণ মাটিতে এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে। ক্ষেতে সেচ দিলেও এ রোগ বৃদ্ধি পায়। এ রোগের জীবাণু মাটিতে বসবাস করে বিধায় সেচের পানির মাধ্যমে ও মাটিতে আন্ত পরিচর্যার সময় কাজের হাতিয়ারের মাধ্যমে এ রোগের বিস্তার হয়।

ব্যবস্থাপনাঃ আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংশ করতে হবে। মাটি সব সময় স্যাঁত স্যাঁতে রাখা যাবে না। আক্রান্ত জমিতে প্রতি বছর পেঁয়াজ /রসুন চাষ করা যাবে না। ম্যানকোজেব গ্রুপের এগ্রিজে ডাইথেনএম-৪৫ অথবা ব্যাভিষ্টিন (কার্ববোন্ডাজিম) ছত্রাকনাশক প্রতি কেজি বীজে ১০০ গ্রাম হারে মিশিয়ে বীজ শোধণ করে বপন করতে হবে।

🧅ফসল সংগ্রহঃ

উপযোগী বৈশিষ্ট্যঃ পেঁয়াজ গাছ পরিপক্ক হলে পাতা ক্রমান্বয়ে হলুদ হয়ে হেলে পড়ে। জমির প্রায় ৭০-৮০% গাছের এ অবস্থা হলে পেঁয়াজ তোলার উপযোগী হয়।

সংগ্রহের সময়ঃ পেঁয়াজ গাছের ঘাড় বা গলা শুকিয়ে ভেঙ্গে গেলে বা নরম মনে হলে বুঝতে হবে যে পেঁয়াজের উত্তোলনের সময় হয়েছে।

কতদিন লাগবেঃ বীজ বপন থেকে ফসল উত্তোলন পর্যন্ত প্রায় ১১০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগে।

ফলনঃ সাধারণতঃ বর্ষা মৌসুমে ৩৫-৪৫ দিন এবং রবি মৌসুমে ৪০-৫৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ তোলার উপযুক্ত হয়। রবি মৌসুমে পেঁয়াজের পাতা মরে গেলে (গলা চিকন হলে) গাছ সমেত পেঁয়াজ তুলে এনে পাতা শুকিয়ে মরা পাতা কেটে সংরক্ষণ করা হয়। প্রতি হেক্টরে ফলন রবিতে ১২-১৬ টন ও খরিপ ১০-১২ টন।

🧅পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন

রোপণ সময়ঃ নভেম্বর মাসের প্রথম ভাগে শল্ককন্দ মাঠে রোপণ করতে হয়।

জীবনকালঃ ফসল উত্তোলন পর্যন্ত ৯০-১০০ দিন সময় লাগে। এ বীজ ফসল আবাদের জন্য দূরত্বঃ সারি থেকে সারি এবং গাছ থেকে গাছের দূরত্ব হবে ৮×৬ ইঞ্চি।

ওজনঃ প্রতিটি বীজ কন্দের ওজন ১২ থেকে ১৫ গ্রাম হওয়া দরকার।

সারঃ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ সারের প্রয়োজন হয়, বীজ উৎপাদনেও সে পরিমাণ সারের প্রয়োজন হয়। ফুল আসার পর একরপ্রতি অতিরিক্ত ৪০ কেজি ইউরিয়া ও ১০০ কেজি এমপি সার পেঁয়াজের জমিতে ছিটিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে এবং গাছের গোড়া ঝুরঝুরা মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া প্রয়োজন, যাতে রোপণকৃত বীজ পেয়াজগুলো মাটির নীচে থাকে।

লক্ষ্যণীয়ঃ পেঁয়াজের জাতকে ঠিক রাখার জন্য বীজ ফসলের চতুর্দিকে ১০০০ মিটারের মধ্যে অন্য কোনো পেঁয়াজের জাত থাকা ঠিক নয়।



🧅গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ

জাতঃ বাংলদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা পেঁয়াজের ঘাটতি মিটানোর জন্য গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের কয়েকটি জাত আবিষ্কার করেছেন। এগুলো হলো-

বারি পেঁয়াজ-২

বারি পেঁয়াজ-৩

বারি পেঁয়াজ-৫ (এটি শীত, গ্রীষ্ম সবসময়ই আবাদ করা যায়)

👉চাষের সুবিধাঃ

বসতবাড়িতে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের মাধ্যমে দারিদ্র বিমোচন ও আয় বৃদ্ধি সম্ভব।

অমৌসুমে এ পিয়াজ উৎপাদন হয় বলে দামও ভাল পাওয়া যায়।

স্থান নির্বাচনঃ বৃষ্টিপাত অল্প হয় এ রকম অঞ্চলের জন্য বারি পেঁয়াজ ২ ও বারি পেঁয়াজ ৩ চাষের জন্য উপযোগী।

চাষের জন্য পরিবেশ ও মাটি

জলবায়ু

তাপমাত্রা

মাটির ধরণ

গ্রীষ্ম কাল

পেঁয়াজ উৎপাদনের উপযোগী তাপমাত্রা ২৫ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সে.।

পানি জমে না এমন দো-আঁশ, এটেল দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও পলিযুক্ত মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য উত্তম।

👉জমি তৈরী

বীজতলা তৈরি ও চারা উৎপাদনঃ ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে চারা উৎপাদন

বেড তৈরি ও আগাছা পরিষ্কারঃ প্রথমে জমি ভালোভাবে চাষ দিয়ে আগাছা সম্পূর্ণরূপে তুলে ফেলতে হবে। তারপর বেড তৈরি করে এক সপ্তাহ রেখে দিতে হবে। এক সপ্তাহ পর বেডগুলি পুনরায় কুপিয়ে আগাছা বেছে ফেলে বীজ বপন করতে হবে।

👉বপনের জন্য বীজ প্রস্তত করাঃ বপনের আগে বীজ কমপক্ষে এক ঘন্টা রোদে শুকাতে হবে। তারপর বীজ ছায়ায় রেখে ঠান্ডা করে নিতে হবে। অতপর বীজ সন্ধ্যায় ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে উঠাতে হবে। বীজগুলি পানি থেকে উঠানোর পর গামছা বা পাতলা কাপড়ের ব্যাগে ঝুল অবস্থায় রেখে সম্পূর্ণ পানি মুক্ত করে নিয়ে ঝুরঝুরে অবস্থায় এলে বীজ বপন করতে হবে।

বীজ বপনের পর করণীয়ঃ বীজ বপনের পর আলাদা ঝুরঝুরে মাটি দিয়ে বীজগুলি ঢেকে দিতে হবে। তারপর হাত বা কলাগাছের টুকরা দিয়ে মাটি সুন্দরভাবে চেপে শক্ত করে দিতে হবে। বীজ ফেলার পরদিন বেডে ছায়া দেওয়ার জন্য প্রতি বেডে ৫টি করে বাঁশের বাতি অর্ধ চন্দ্রকারে এমনভাবে বসানো হয় যেন বাতির দুই মাথা ড্রেনের মধ্যে থাকে এং বেডের ঠিক মাঝখান হতে বাঁশের বাতির উচ্চতা ১৮ইঞ্চি হয়। পরের দিন পানি দিয়ে বীজতলা এমনভাবে চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যেন চটের দুই মাথা খোলা থাকে। বীজ গজানোর পূর্বে দিনের বেলা বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে এবং রাতে খোলা রাখতে হবে। প্রয়োজন বোধে বীজতলায় ঝরণা দিয়ে পানি দিতে হবে।

👉বীজ গজানোর পর করণীয়ঃ বীজ গজানোর পর সকাল ও বিকাল ছাড়া অবশিষ্ট সময় বীজতলা ঢেকে রাখতে হবে। চারা যত বড় হতে থাকবে ঢাকার সময় তত কমাতে হবে। চারার দৈর্ঘ্য .৫ থেকে ১ ইঞ্চি হলে আর ঢাকার প্রয়োজন হবে না। বীজতলায় এক সপ্তাহ পর পর রিডোমিল অথবা রোভরাল দুই গ্রাম হারে প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে ডেম্পিং অফ রোগ দমনের জন্য স্প্রে করতে হবে। ৩৫ থেকে ৪০ দিন বয়সের চারা রোপণের উপযুক্ত হয়।

বীজতলায় রস না থাকলে চারা উত্তোলনের এক ঘন্টা পূর্বে ঝরণা দিয়ে সেচ দিতে হবে আর রস থাকলে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।

চারা উঠানোর সময়ঃ চারা দিনের যে কোন সময় উঠানো যেতে পারে।

জুলাই ও আগস্ট মাসে চারা উৎপাদনঃ এই পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি, বীজবপন, বীজতলার যত্ন ও চারা উত্তোলন পদ্ধতি ছায়া পদ্ধতির ন্যায়। তবে এক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি বীজতলার চারা রৌদ্র পাওয়ার জন্য চটের পরিবর্তে পাতলা সাদা রংঙের পলিথিন পেপার দিয়ে বীজতলা ঢেকে দিতে হবে। বৃষ্টির সময় বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে এবং রৌদ্র হলে পলিথিন খুলে দিতে হবে। বীজতলার পরিচর্যা ও চারা উঠানো পদ্ধতি একই রকম।

উভয় সময়ের জন্য বীজ বপন

বীজতলায় বীজ বপনের সময়

মূল জমিতে চারা রোপণের ৪০ থেকে ৪৫ দিন পূর্বে

বীজতলার আকার

বীজতলা ৩x১ মিটার বা (১০x৩ ফুট) আকারে হতে হবে

বীজের প্রয়োজন

প্রতি বীজতলার জন্য ২৫-৩০ গ্রাম

একর প্রতি বীজ

১.৫ কেজি

বীজ গজানোর হার

৭০ থেকে ৭৫ ভাগ হতে হবে

প্রতি একর জমির জন্য বীজতলার প্রয়োজন

৪০ থেকে ৫০ টি

বীজ বপনের দূরত্ব

বীজতলায় ২ থেকে ৩ ইঞ্চি পরপর সারি করে বীজ বপন করতে হবে

মুল জমি তৈরিঃ অবস্থাভেদে ৩ থেকে ৪টি চাষ ও মই দিয়ে খুব ভালভাবে মাটি প্রস্তত করতে হয়।

👉রোপণ পদ্ধতিঃ

রোপণের সময়

আগামঃ ১ ফেব্রুয়ারি হতে ৩০ মার্চ (মধ্য মাঘ-মধ্য চৈত্র) মাসের মধ্যে এবং

নাবীঃ ২৫ আগস্ট হতে ১০ অক্টোবর (মধ্য ভাদ্র-আশ্বিনের শেষ) মধ্যে

চারার বয়স

৩৫ থেকে ৪০ দিন বয়সের চারা মূল জমিতে রোপণ করতে হয়

উচ্চতা

৬ থেকে ৮ ইঞ্চি

রোপণ দূরত্ব

সারি থেকে সারি ৬ ইঞ্চি এবং চারা থেকে চারা ৩ ইঞ্চি

রোপণের সময় করণীয়

চারার পাতার ১/৩অংশ এবং শিকড়ের ৩/৪ অংশ কেটে ফেলতে হবে

লক্ষ্যণীয়ঃ খরা মৌসুমে চারা রোপণ করলে রোপণের পর জমিতে প্লাবন সেচ দিতে হবে। অন্য মৌসুমে চারা রোপণ করলে সেচ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চারা রোপণের সময় কিছু চারা বীজতলায় রেখে দিতে হবে। কারণ রোপণের ১০/১২ দিন পর যদি জমিতে কোন চারা মারা যায় তাহলে সেই স্থানে বীজতলার চারা পুনঃ রোপণ করতে হবে।

চাষের সময়ের পরিচর্যা

👉সেচ ব্যবস্থাঃ

গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের চারা রোপণের পরপরই যদি কোন কারণে জমিতে রস না থাকে তবে একটা হালকা সেচ জরুরী। এছাড়া যদি জমিতে পর্যাপ্ত রস না থাকে এবং পরিমিত বৃষ্টি না হয় মাঝে মাঝে হালকা সেচ দিতে হবে।তাই গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সেচের গুরুত্ব অনেক। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন পরপর মোট ৫ থেকে ৬ টি সেচ প্রদান করতে হয়।

পানি বের করে দেওয়াঃ বর্ষাকালে জমিতে বৃষ্টি বা অন্য কোন কারণে যদি পানি জমে যায় তবে দ্রুত পানি বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ পেঁয়াজ গাছ জমানো পানি সহ্য করতে পারে না। তাই জমি তৈরীর পূর্বেই প্রয়োজনীয় নালা কেটে রাখতে হয়। বর্ষাকালে প্রতিটি বেডের চার পাশে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি উচুঁ আইল তৈরি করে দিতে হয়। তবে পানি বের করার জন্য এক পাশ দিয়ে আইল কেটে রাখতে হয়।

সারের মাত্রা ও প্রয়োগঃ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জমিতে নিম্ন বর্ণিত হারে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সার

মোট পরিমাণ (একর প্রতি)

শেষ চাষের সময় দেয়

পরবর্তী পরিচর্যা হিসাবে দেয়

(২০ দিন পর)

গোবর

২০০০ কেজি

সব

-

ইউরিয়া

৮২ কেজি

৫০ কেজি

৩২ কেজি

টিএসপি

১১০ কেজি

সব

-

এমপি

৬০ কেজি

সব

-

জিপসাম

৪৫ কেজি

সব

-

👉আগাছা দমনঃ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জমিতে প্রচুর আগাছা জন্মে। তাই চারা লাগানোর পর প্রথম ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে প্রথমবার আগাছা পরিস্কার করতে হয়। এই ভাবে মোট ৩ থেকে ৪ বার আগাছা পরিস্কার করার প্রয়োজন হয়। আগাছ পরিস্কারের জন্য ছোট কোদাল ব্যবহার করা ভাল।

👉জমিতে খড় বিছানোঃ পেঁয়াজের জমিতে মাটির জোঁ আসার সাথে সাথে ভালভাবে জমিতে খড় বিছিয়ে চটা ভেংগে দিতে হয়।

👉ফসল সংগ্রহঃ গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ আগাম চাষে সাধারণতঃ চারা রোপণের ৮০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে এবং নাবী চাষে চারা রোপণের ৯০ থেকে ১০০ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ সংগ্রহের উপযোগী হয়ে যায়। পেঁয়�

সংগ্রহীত তথ্য

Address

House # 06/14 (Hasina De Palace), Flat # 05B, Block # A, Lalmatia
Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Krishi Beez Bank posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Krishi Beez Bank:

Share