08/05/2026
শতবর্ষে ডেভিড অ্যাটেনবরো
পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ কখনও আফ্রিকার সাভানায় যায়নি। গভীর সমুদ্রের অন্ধকার দেখেনি। আন্টার্কটিকার বরফঝড়ের মধ্যে দাঁড়ায়নি। তবু তারা সিংহের শিকার দেখেছে, তিমির গান শুনেছে, জঙ্গলের অদ্ভুত পাখির নাচ চিনে গেছে। একজন মানুষ সেই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন—নিজের কণ্ঠ, ক্যামেরা আর অদম্য কৌতূহল নিয়ে। সেই মানুষটির নাম ডেভিড অ্যাটেনবরো (Sir David Frederick Attenborough)।
আজ তার শততম জন্মদিন। ২০২৬ সালের ৮ মে। এটা শুধু বয়সের হিসাব নয়। এটা একটা পুরো শতাব্দীর সাক্ষ্য। ঘোড়ার গাড়ির যুগ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ পর্যন্ত পৃথিবীর বদলে যাওয়া তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। দেখেছেন প্রযুক্তি এগিয়েছে, আর একই তালে প্রকৃতি পিছিয়েছে।
তার শতবর্ষ তাই শুধু উদযাপনের বিষয় নয়। এটা হিসাব মেলানোর একটা মুহূর্ত।
শৈশব: কৌতূহল দিয়ে শুরু
ডেভিড অ্যাটেনবরো জন্মেছিলেন ১৯২৬ সালের ৮ মে, লন্ডনের কাছে ইসলওয়ার্থে। বড় হয়েছেন লেস্টারে। বাবা ফ্রেডরিক অ্যাটেনবরো ছিলেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লেস্টারের অধ্যক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই ছিল পারিবারিক আবাসস্থল।
তিন ভাইয়ের মধ্যে ডেভিড মেজো। বড় ভাই রিচার্ড অ্যাটেনবরো (১৯২৩-২০১৪) হয়েছেন হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক—জুরাসিক পার্ক-এ ডাইনোসর পার্কের স্বপ্নদ্রষ্টার ভূমিকায় তাকে বিশ্বের মানুষ চিনেছে। ছোট ভাই জন কাজ করেছেন ইতালির গাড়ি কোম্পানি আলফা রোমেওতে। এক পরিবারে তিনটি সম্পূর্ণ আলাদা জীবন।
যুদ্ধের সময় অ্যাটেনবরো পরিবার দুটি জার্মান ইহুদি শরণার্থী মেয়েকে আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের একজন পরে ডেভিডকে একটা অ্যাম্বারের টুকরো উপহার দেন। ভেতরে আটকে আছে কোটি বছরের পুরোনো পোকামাকড়। সেই এক টুকরো থেকে তৈরি শুরু হয় তার অ্যাম্বার সংগ্রহ। দশকের পর দশক পরে সেই সংগ্রহ থেকেই তৈরি হয় একটি পূর্ণ তথ্যচিত্র।
ছোটবেলায় অন্য বাচ্চারা খেলনা জমাত, ডেভিড জমাতেন পাথর, জীবাশ্ম আর পাখির ডিম। মাত্র ১১ বছর বয়সে শুনলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে নিউট (ছোট সরীসৃপ) দরকার। বাবার মাধ্যমে সরবরাহের প্রস্তাব পাঠালেন, প্রতিটির দাম ৩ পেনি।
১৯৩৬ সালে দুই ভাই মিলে লেস্টারের ডি মন্টফোর্ট হলে গেলেন Grey Owl-এর বক্তৃতা শুনতে। গ্রে আউল (১৮৮৮-১৯৩৮) ছিলেন কানাডার বনরক্ষক। সেদিন তিনি বলেছিলেন, মানুষ প্রকৃতি ধ্বংস করছে, ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। রিচার্ড পরে বলেছেন, সেই বক্তৃতা ডেভিডকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্বের ধারণাটা সেদিন থেকেই তার মধ্যে গেঁথে যায়।
পড়াশোনা ও পেশাজীবনের শুরু
কেমব্রিজে পড়েছেন প্রাকৃতিক বিজ্ঞান। প্রাণিবিদ্যা আর ভূতত্ত্বে বিশেষ আগ্রহ ছিল। পড়া শেষে দুই বছর রয়্যাল নেভিতে। তারপর শিশুদের বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক সম্পাদনার কাজ। সেই ডেস্কের জীবন বেশিদিন টেকেনি।
১৯৫০ সালে বিবিসির বেতার বিভাগে আবেদন করলেন। বেতার বিভাগ আগ্রহ দেখাল না। কিন্তু সেই আবেদনপত্র পড়লেন টেলিভিশন বিভাগের প্রধান মেরি অ্যাডামস। তিনি প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিলেন। মজার বিষয় হল, সেই সময় অ্যাটেনবরোর বাড়িতে টেলিভিশন ছিল না। জীবনে একটিমাত্র অনুষ্ঠান দেখেছিলেন। তবু রাজি হলেন।
১৯৫২ সালে পূর্ণ সময়ের কর্মী হিসাবে যোগ দিলেন। কিন্তু শুরুতেই একটা বাধা। মেরি অ্যাডামস জানালেন, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো চলবে না, কারণ দাঁত নাকি বেশি বড়। পরে এই কথা বাইরে বেরোলে মানুষ হাসাহাসি করেছে।
বিবিসি ও প্রকৃতির নতুন ভাষা
১৯৫৪ সালে শুরু হল Zoo Quest। এর জন্মটাই ছিল একটু অদ্ভুত। লন্ডন চিড়িয়াখানার সরীসৃপ বিভাগের কিউরেটর জ্যাক লেস্টার ডেভিডকে নিয়ে গেলেন সিয়েরা লিওনে। লক্ষ্য White-necked Rockfowl ধরে আনা, যা আগে কোনো ইউরোপীয় চিড়িয়াখানায় ছিল না। দলে ছিলেন চেক আলোকচিত্রী চার্লস লেগাস। সিয়েরা লিওন থেকে শুরু, তারপর দক্ষিণ আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া, নিউ গিনি।
সিরিজ চলছে, দর্শক বাড়ছে। রাস্তায় বেরোলে লোকজন থামিয়ে জিজ্ঞেস করত, "ওই পাখিটা কি শেষ পর্যন্ত ধরতে পারবেন?" সিয়েরা লিওনের রকফাউল নিয়ে দর্শকের উৎকণ্ঠা এতটাই বেড়েছিল।
১৯৫৬ সালে কমোডো ড্রাগনের সন্ধানে বালি থেকে একটা জীর্ণ মাছ ধরার নৌকায় চেপে রওনা দিলেন। তিন সপ্তাহের সমুদ্রযাত্রা। খাবার শুধু সেদ্ধ ভাত, পানিতে মশা। ক্যাপ্টেন পথ হারিয়ে ফেলেছেন। কমোডো দ্বীপে পৌঁছে জানা গেল সেই ক্যাপ্টেন আসলে অস্ত্র পাচারকারী। তবু থামেননি, সেই অভিযানেই প্রথমবারের মত টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ল কমোডো ড্রাগন।
১৯৬৭ সালে পাপুয়া নিউ গিনিতে গিয়ে পড়লেন বিয়ামি আদিবাসীদের মুখোমুখি। নরখাদকের গুজব ছিল তাদের নিয়ে। অ্যাটেনবরোর শান্ত স্বভাব সেদিন কাজে লেগেছিল—সাক্ষাৎটা নিরাপদেই শেষ হল।
এরপর ‘Life on Earth’। টেলিভিশনে এত বিস্তৃতভাবে প্রাণের বিবর্তনের গল্প আগে কেউ বলেনি। তারপর একে একে The Living Planet, Planet Earth, Blue Planet, Frozen Planet। Planet Earth সিরিজ প্রকৃতি তথ্যচিত্রে যে মানদণ্ড তৈরি করেছে, এখন পর্যন্ত সেটা টপকানো যায়নি।
ডেভিড অ্যাটেনবরোর ভাষায়, "প্রাকৃতিক জগৎ আমার কাছে উত্তেজনার সবচেয়ে বড় উৎস, দৃশ্যসৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় উৎস, বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রহের সবচেয়ে বড় উৎস। জীবনকে বাঁচার যোগ্য করে তোলে যা কিছু, তার বেশিরভাগই আসে এই প্রকৃতি থেকে।"
বিবিসির ক্ষমতার কেন্দ্রে—এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসা
১৯৬৫ সালে বিবিসি টু-র কন্ট্রোলার হলেন। ব্রিটেনে রঙিন টেলিভিশন চালু করার কৃতিত্ব তার। কোন অনুষ্ঠান দিয়ে রঙের জাদু দেখাবেন? বেছে নিলেন স্নুকার। সেই সিদ্ধান্তই পরে একটা সামান্য পাব-গেমকে জাতীয় খেলায় পরিণত করেছে।
১৯৬৯ সালে তার টেবিলেই অনুমোদন পেল ‘Monty Python's Flying Circus’। সেই অনুমতি না থাকলে ব্রিটিশ কমেডির ইতিহাস অন্যরকম হত।
১৯৭২ সালে বিবিসির মহাপরিচালক পদের জন্য তার নাম উঠল। সেদিন ভাই রিচার্ডকে ফোন করলেন—বললেন, এই কাজ তার পক্ষে হবে না। পরের বছরই পদ ছাড়লেন। আট বছর ডেস্কে কাটানো তার জন্য যথেষ্টের বেশি ছিল।
ব্যক্তিগত জীবন: ভালবাসা ও ক্ষতি
১৯৫০ সালে বিয়ে করলেন জেন এলিজাবেথ এবসওয়ার্থ ওরিয়েলকে। ওয়েলসের মেয়ে। ৪৭ বছরের সংসার। দুই সন্তান—রবার্ট আর সুসান।
কিন্তু সেই ৪৭ বছরের বড় একটা অংশ কেটেছে দূরে দূরে। কখনও সিয়েরা লিওন, কখনও কমোডো, কখনও আন্টার্কটিকা। পরে তিনি নিজেই বলেছেন, "শিশুর ছয় বা আট বছর বয়সে যদি তিন মাস কাছে না থাকেন, সেই সময়টা আর ফেরে না।" ছেলেমেয়েরা এখনও রসিকতা করেন, বাবা সবসময় কোথাও না কোথাও উড়ে যাচ্ছিলেন।
রবার্ট হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জৈব নৃবিজ্ঞান-এর প্রভাষক। সুসান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন, পরে বাবার পাশে কাজে এসেছেন।
১৯৯৭ সালে জেন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হলেন। তখন ডেভিড নিউজিল্যান্ডে শুটিংয়ে। সবকিছু ফেলে ছুটলেন। পৌঁছে দেখলেন জেন অচেতন। ডাক্তার হাত ধরতে বললেন। জেন হাত চেপে ধরলেন। অ্যাটেনবরো পরে স্মৃতিকথায় লিখেছেন, "আমার জীবনের নোঙর চলে গেল।" এরপর আর বিয়ে করেননি।
তার কণ্ঠের জাদু
ডেভিড অ্যাটেনবরোর কণ্ঠ পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত কণ্ঠগুলির একটা। তিনি চিৎকার করেন না। নাটকীয়তা তৈরির চেষ্টাও করেন না। কিন্তু বর্ণনায় এমন একটা বিস্ময় থাকে, যা দর্শককে টেনে ধরে রাখে।
একটা ছোট পোকামাকড়ের জীবনও তিনি এমনভাবে বলেন, যেন এর চেয়ে জরুরি গল্প আর নেই।
নিজেকে "পশুপ্রেমী" বলতে নারাজ তিনি। বলেছেন, শব্দটায় অতিরিক্ত আবেগের গন্ধ। তার ভাষায়, "আমি কেঁচো বা মাকড়সাকে ভালবাসি না। কিন্তু তারা আমাকে বুদ্ধিগত আনন্দ দেয়।" এটাই অ্যাটেনবরোর সততা—অনুভূতির ভার না চাপিয়ে কৌতূহলের জায়গা থেকে কথা বলা।
"কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, 'প্রাণীদের প্রতি আগ্রহ কীভাবে জন্মাল?' আমি উল্টা জিজ্ঞেস করি, 'কীভাবে তুমি সেই আগ্রহ হারালে?'"
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন
পানির নিচের ক্যামেরা (underwater camera), ধীরগতির দৃশ্যধারণ (time-lapse), রাতের দৃষ্টি (night vision), পরে ড্রোন—প্রতিটি নতুন প্রযুক্তি এসেছে আর তার দল সেটা ব্যবহার করে এমন সব দৃশ্য তুলেছেন, যা আগে সম্ভব ছিল না।
একটা মজার গল্প আছে। Zoo Quest-এর সময় বিবিসি ছোট ১৬ মিলিমিটার ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি দিল, শর্ত ছিল রঙিন ফিল্মে শুট করতে হবে। সেই রঙিন ফুটেজ সংরক্ষণাগারে ঢুকে গেল, সবাই ভুলে গেল। ২০১৫ সালে এক আর্কাইভিস্ট হঠাৎ সেই রিলগুলি খুঁজে পেলেন—ষাট বছরের বেশি পুরোনো, রঙ অবিকৃত। ২০১৬ সালে সেগুলি Zoo Quest in Colour নামে সম্প্রচারিত হল।
পরিবেশ রক্ষার কণ্ঠস্বর
প্রথম দিকের তথ্যচিত্রগুলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্যই ছিল মূল বিষয়। ধীরে ধীরে সেই অবস্থান বদলেছে। বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এসব দেখতে দেখতে তিনি বুঝেছেন, শুধু দেখানো যথেষ্ট নয়।
A Life on Our Planet-এ তিনি নিজের জীবনকেই প্রমাণ হিসাবে হাজির করেছেন। শৈশবের পৃথিবী আর এখনকার পৃথিবীর তুলনা। বন কমেছে, প্রাণী হারিয়েছে, সমুদ্র গরম হয়েছে—সব তার সামনে ঘটেছে। এটা তথ্য নয়, এটা একজনের জীবনের সাক্ষ্য।
"আমরা আমাদের নিজেদের তৈরি একটা বিপর্যয়ের ছায়ায় স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটাচ্ছি। আর সেই বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে ঠিক সেই জিনিসগুলি দিয়ে, যেগুলি আমাদের স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছে।"
পরিবেশ আন্দোলনের আলোচনায় তার নাম এখন অপরিহার্য।
শতবর্ষ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
১০০ বছর বয়সে মানুষ সাধারণত পেছনে তাকান। অ্যাটেনবরো তাকান, কিন্তু শুধু পেছনে নয়। তার শৈশবের পৃথিবী আর আজকের পৃথিবীর মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, সেটা পরিসংখ্যান নয়—একজন মানুষের জীবনের গল্প। বন কমেছে। প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। সমুদ্র উষ্ণ হয়েছে। সব তার চোখের সামনে।
তার জীবন একটা জীবন্ত সময়রেখা এবং সেটা পড়তে পারাটা এখন খুব জরুরি।
১০০ বছর বয়সেও তিনি থামেননি। নতুন তথ্যচিত্র, বক্তৃতা, বিশ্বনেতাদের সামনে সরাসরি কথা বলা। বয়স কখনও কখনও কণ্ঠকে শুধু ভারি করে না, শক্তিশালীও করে।
"আমরা যদি আলাদাভাবে কাজ করে পৃথিবীকে অস্থির করতে পারি, তাহলে একসঙ্গে কাজ করলে পৃথিবীকে বাঁচাতেও পারব। আমার জীবদ্দশায় আমি একটা ভয়াবহ পতন দেখেছি। তোমাদের জীবদ্দশায় তোমরা একটা দারুণ পুনরুজ্জীবন দেখতে পারো এবং দেখা উচিত।"
বিশ্বজুড়ে শতবর্ষ উদযাপন
আজ লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে বিবিসির বিশেষ অনুষ্ঠান—"David Attenborough's 100 Years on Planet Earth"। উপস্থাপক Kirsty Young। তথ্যচিত্রের দৃশ্য, স্মৃতিচারণ, সংগীত, পরিবেশ আলোচনা—সব মিলিয়ে নব্বই মিনিটের অনুষ্ঠান।
Michael Palin, Chris Packham, Steve Backshall-এর মত পরিচিত মুখেরা আছেন। সংগীতে Bastille-এর কণ্ঠশিল্পী Dan Smith আর আইসল্যান্ডিক ব্যান্ড Sigur Rós।
ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম একটি বিশেষ উপহার দিয়েছে। নতুন আবিষ্কৃত এক ক্ষুদ্র পরজীবী বোলতার নাম রাখা হয়েছে Attenboroughnculus tau। চিলিতে পাওয়া, মাত্র সাড়ে তিন মিলিমিটার লম্বা, জীবন্ত পোষকের মধ্যে ডিম পাড়ে। ১৯৮৩ সালে সংগ্রহ করা নমুনা—চল্লিশ বছরেরও বেশি পরে শনাক্ত হল। তার সম্মানে নামকরণ হওয়া পঞ্চাশটিরও বেশি প্রজাতির সর্বশেষ।
কিউ গার্ডেনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি পালন করছে। সপ্তাহজুড়ে বিবিসি পুরোনো তথ্যচিত্র, সাক্ষাৎকার আর বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। বিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ, চলচ্চিত্রকার, রাজনীতিক, রাজপরিবার—সবাই সম্মান জানিয়েছেন।
আজকের দিনে তার কথা
জন্মদিনের আগের রাতে একটি রেকর্ড করা বার্তায় অ্যাটেনবরো বলেছেন, "আমি ভেবেছিলাম শততম জন্মদিনটা চুপচাপ কাটাব। কিন্তু মনে হচ্ছে তোমাদের অন্য পরিকল্পনা ছিল।" বলেছেন, প্রি-স্কুলের শিশু থেকে বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা পর্যন্ত কত মানুষের শুভেচ্ছায় তিনি "সম্পূর্ণ অভিভূত"।
আর সেই সঙ্গে একটি কথা যা হয়ত তার পুরো জীবনের সারাংশ: "একটা জীবন প্রকৃতি অন্বেষণে কাটানোর পর আমি এখনও নিশ্চিত—যত বেশি মানুষ প্রাকৃতিক জগৎকে ভালবাসবে ও বুঝবে, আমাদের নিজেদের এবং এই পৃথিবীকে বাঁচানোর সম্ভাবনা তত বাড়বে। এই গল্পের শেষটা আমি দেখে যেতে পারব না। কিন্তু শেষটা কী হবে—তা এখনও লেখা হয়নি।"
কেন তিনি আলাদা?
ডেভিড অ্যাটেনবরো শুধু একজন উপস্থাপক নন। তিনি মানুষকে দেখতে শিখিয়েছেন, একটা পোকা, একটা গাছ, একটা প্রবালপ্রাচীর, বরফ গলার ঘটনা এসব তুচ্ছ নয়, এসবই সব।
তার তথ্যচিত্র দেখে অনেক শিশু জীববিজ্ঞানী হতে চেয়েছে। অনেক মানুষ প্রথমবার জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্ব বুঝেছে। ব্রিটেনের ৩২টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দিয়েছে। ২০০৬ সালে বিবিসির দর্শক ভোটে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মুখ হয়েছেন পল ম্যাককার্টনি আর মরিসিকে পেছনে ফেলে।
তিনি মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রকৃতির মালিক মানুষ নয়, মানুষও এই জীবমণ্ডলের একটা অংশ মাত্র।
"আমরা প্রকৃতির অংশ থেকে সরে গিয়ে প্রকৃতি থেকে আলাদা হয়ে গেছি।"
তার শতবর্ষ তাই শুধু একজন মানুষের জন্মদিন নয়। পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখার এক শতাব্দীর উদযাপন।
#শতবর্ষ #ডেভিড_অ্যাটেনবরো #প্রকৃতি