Citytouch

Citytouch Digital Banking Service from City Bank brings you the simplest way to handle banking.
(1)

শতবর্ষে ডেভিড অ্যাটেনবরোপৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ কখনও আফ্রিকার সাভানায় যায়নি। গভীর সমুদ্রের অন্ধকার দেখেনি। আন্টার্কটিক...
08/05/2026

শতবর্ষে ডেভিড অ্যাটেনবরো

পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ কখনও আফ্রিকার সাভানায় যায়নি। গভীর সমুদ্রের অন্ধকার দেখেনি। আন্টার্কটিকার বরফঝড়ের মধ্যে দাঁড়ায়নি। তবু তারা সিংহের শিকার দেখেছে, তিমির গান শুনেছে, জঙ্গলের অদ্ভুত পাখির নাচ চিনে গেছে। একজন মানুষ সেই অভিজ্ঞতা তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন—নিজের কণ্ঠ, ক্যামেরা আর অদম্য কৌতূহল নিয়ে। সেই মানুষটির নাম ডেভিড অ্যাটেনবরো (Sir David Frederick Attenborough)।

আজ তার শততম জন্মদিন। ২০২৬ সালের ৮ মে। এটা শুধু বয়সের হিসাব নয়। এটা একটা পুরো শতাব্দীর সাক্ষ্য। ঘোড়ার গাড়ির যুগ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগ পর্যন্ত পৃথিবীর বদলে যাওয়া তিনি নিজের চোখে দেখেছেন। দেখেছেন প্রযুক্তি এগিয়েছে, আর একই তালে প্রকৃতি পিছিয়েছে।

তার শতবর্ষ তাই শুধু উদযাপনের বিষয় নয়। এটা হিসাব মেলানোর একটা মুহূর্ত।

শৈশব: কৌতূহল দিয়ে শুরু

ডেভিড অ্যাটেনবরো জন্মেছিলেন ১৯২৬ সালের ৮ মে, লন্ডনের কাছে ইসলওয়ার্থে। বড় হয়েছেন লেস্টারে। বাবা ফ্রেডরিক অ্যাটেনবরো ছিলেন ইউনিভার্সিটি কলেজ লেস্টারের অধ্যক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই ছিল পারিবারিক আবাসস্থল।

তিন ভাইয়ের মধ্যে ডেভিড মেজো। বড় ভাই রিচার্ড অ্যাটেনবরো (১৯২৩-২০১৪) হয়েছেন হলিউডের বিখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক—জুরাসিক পার্ক-এ ডাইনোসর পার্কের স্বপ্নদ্রষ্টার ভূমিকায় তাকে বিশ্বের মানুষ চিনেছে। ছোট ভাই জন কাজ করেছেন ইতালির গাড়ি কোম্পানি আলফা রোমেওতে। এক পরিবারে তিনটি সম্পূর্ণ আলাদা জীবন।

যুদ্ধের সময় অ্যাটেনবরো পরিবার দুটি জার্মান ইহুদি শরণার্থী মেয়েকে আশ্রয় দিয়েছিল। তাদের একজন পরে ডেভিডকে একটা অ্যাম্বারের টুকরো উপহার দেন। ভেতরে আটকে আছে কোটি বছরের পুরোনো পোকামাকড়। সেই এক টুকরো থেকে তৈরি শুরু হয় তার অ্যাম্বার সংগ্রহ। দশকের পর দশক পরে সেই সংগ্রহ থেকেই তৈরি হয় একটি পূর্ণ তথ্যচিত্র।

ছোটবেলায় অন্য বাচ্চারা খেলনা জমাত, ডেভিড জমাতেন পাথর, জীবাশ্ম আর পাখির ডিম। মাত্র ১১ বছর বয়সে শুনলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে নিউট (ছোট সরীসৃপ) দরকার। বাবার মাধ্যমে সরবরাহের প্রস্তাব পাঠালেন, প্রতিটির দাম ৩ পেনি।

১৯৩৬ সালে দুই ভাই মিলে লেস্টারের ডি মন্টফোর্ট হলে গেলেন Grey Owl-এর বক্তৃতা শুনতে। গ্রে আউল (১৮৮৮-১৯৩৮) ছিলেন কানাডার বনরক্ষক। সেদিন তিনি বলেছিলেন, মানুষ প্রকৃতি ধ্বংস করছে, ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। রিচার্ড পরে বলেছেন, সেই বক্তৃতা ডেভিডকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায়িত্বের ধারণাটা সেদিন থেকেই তার মধ্যে গেঁথে যায়।

পড়াশোনা ও পেশাজীবনের শুরু

কেমব্রিজে পড়েছেন প্রাকৃতিক বিজ্ঞান। প্রাণিবিদ্যা আর ভূতত্ত্বে বিশেষ আগ্রহ ছিল। পড়া শেষে দুই বছর রয়্যাল নেভিতে। তারপর শিশুদের বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক সম্পাদনার কাজ। সেই ডেস্কের জীবন বেশিদিন টেকেনি।

১৯৫০ সালে বিবিসির বেতার বিভাগে আবেদন করলেন। বেতার বিভাগ আগ্রহ দেখাল না। কিন্তু সেই আবেদনপত্র পড়লেন টেলিভিশন বিভাগের প্রধান মেরি অ্যাডামস। তিনি প্রশিক্ষণের প্রস্তাব দিলেন। মজার বিষয় হল, সেই সময় অ্যাটেনবরোর বাড়িতে টেলিভিশন ছিল না। জীবনে একটিমাত্র অনুষ্ঠান দেখেছিলেন। তবু রাজি হলেন।

১৯৫২ সালে পূর্ণ সময়ের কর্মী হিসাবে যোগ দিলেন। কিন্তু শুরুতেই একটা বাধা। মেরি অ্যাডামস জানালেন, ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো চলবে না, কারণ দাঁত নাকি বেশি বড়। পরে এই কথা বাইরে বেরোলে মানুষ হাসাহাসি করেছে।

বিবিসি ও প্রকৃতির নতুন ভাষা

১৯৫৪ সালে শুরু হল Zoo Quest। এর জন্মটাই ছিল একটু অদ্ভুত। লন্ডন চিড়িয়াখানার সরীসৃপ বিভাগের কিউরেটর জ্যাক লেস্টার ডেভিডকে নিয়ে গেলেন সিয়েরা লিওনে। লক্ষ্য White-necked Rockfowl ধরে আনা, যা আগে কোনো ইউরোপীয় চিড়িয়াখানায় ছিল না। দলে ছিলেন চেক আলোকচিত্রী চার্লস লেগাস। সিয়েরা লিওন থেকে শুরু, তারপর দক্ষিণ আমেরিকা, ইন্দোনেশিয়া, নিউ গিনি।

সিরিজ চলছে, দর্শক বাড়ছে। রাস্তায় বেরোলে লোকজন থামিয়ে জিজ্ঞেস করত, "ওই পাখিটা কি শেষ পর্যন্ত ধরতে পারবেন?" সিয়েরা লিওনের রকফাউল নিয়ে দর্শকের উৎকণ্ঠা এতটাই বেড়েছিল।

১৯৫৬ সালে কমোডো ড্রাগনের সন্ধানে বালি থেকে একটা জীর্ণ মাছ ধরার নৌকায় চেপে রওনা দিলেন। তিন সপ্তাহের সমুদ্রযাত্রা। খাবার শুধু সেদ্ধ ভাত, পানিতে মশা। ক্যাপ্টেন পথ হারিয়ে ফেলেছেন। কমোডো দ্বীপে পৌঁছে জানা গেল সেই ক্যাপ্টেন আসলে অস্ত্র পাচারকারী। তবু থামেননি, সেই অভিযানেই প্রথমবারের মত টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ল কমোডো ড্রাগন।

১৯৬৭ সালে পাপুয়া নিউ গিনিতে গিয়ে পড়লেন বিয়ামি আদিবাসীদের মুখোমুখি। নরখাদকের গুজব ছিল তাদের নিয়ে। অ্যাটেনবরোর শান্ত স্বভাব সেদিন কাজে লেগেছিল—সাক্ষাৎটা নিরাপদেই শেষ হল।

এরপর ‘Life on Earth’। টেলিভিশনে এত বিস্তৃতভাবে প্রাণের বিবর্তনের গল্প আগে কেউ বলেনি। তারপর একে একে The Living Planet, Planet Earth, Blue Planet, Frozen Planet। Planet Earth সিরিজ প্রকৃতি তথ্যচিত্রে যে মানদণ্ড তৈরি করেছে, এখন পর্যন্ত সেটা টপকানো যায়নি।

ডেভিড অ্যাটেনবরোর ভাষায়, "প্রাকৃতিক জগৎ আমার কাছে উত্তেজনার সবচেয়ে বড় উৎস, দৃশ্যসৌন্দর্যের সবচেয়ে বড় উৎস, বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রহের সবচেয়ে বড় উৎস। জীবনকে বাঁচার যোগ্য করে তোলে যা কিছু, তার বেশিরভাগই আসে এই প্রকৃতি থেকে।"

বিবিসির ক্ষমতার কেন্দ্রে—এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসা

১৯৬৫ সালে বিবিসি টু-র কন্ট্রোলার হলেন। ব্রিটেনে রঙিন টেলিভিশন চালু করার কৃতিত্ব তার। কোন অনুষ্ঠান দিয়ে রঙের জাদু দেখাবেন? বেছে নিলেন স্নুকার। সেই সিদ্ধান্তই পরে একটা সামান্য পাব-গেমকে জাতীয় খেলায় পরিণত করেছে।

১৯৬৯ সালে তার টেবিলেই অনুমোদন পেল ‘Monty Python's Flying Circus’। সেই অনুমতি না থাকলে ব্রিটিশ কমেডির ইতিহাস অন্যরকম হত।

১৯৭২ সালে বিবিসির মহাপরিচালক পদের জন্য তার নাম উঠল। সেদিন ভাই রিচার্ডকে ফোন করলেন—বললেন, এই কাজ তার পক্ষে হবে না। পরের বছরই পদ ছাড়লেন। আট বছর ডেস্কে কাটানো তার জন্য যথেষ্টের বেশি ছিল।

ব্যক্তিগত জীবন: ভালবাসা ও ক্ষতি

১৯৫০ সালে বিয়ে করলেন জেন এলিজাবেথ এবসওয়ার্থ ওরিয়েলকে। ওয়েলসের মেয়ে। ৪৭ বছরের সংসার। দুই সন্তান—রবার্ট আর সুসান।

কিন্তু সেই ৪৭ বছরের বড় একটা অংশ কেটেছে দূরে দূরে। কখনও সিয়েরা লিওন, কখনও কমোডো, কখনও আন্টার্কটিকা। পরে তিনি নিজেই বলেছেন, "শিশুর ছয় বা আট বছর বয়সে যদি তিন মাস কাছে না থাকেন, সেই সময়টা আর ফেরে না।" ছেলেমেয়েরা এখনও রসিকতা করেন, বাবা সবসময় কোথাও না কোথাও উড়ে যাচ্ছিলেন।

রবার্ট হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জৈব নৃবিজ্ঞান-এর প্রভাষক। সুসান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন, পরে বাবার পাশে কাজে এসেছেন।

১৯৯৭ সালে জেন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হলেন। তখন ডেভিড নিউজিল্যান্ডে শুটিংয়ে। সবকিছু ফেলে ছুটলেন। পৌঁছে দেখলেন জেন অচেতন। ডাক্তার হাত ধরতে বললেন। জেন হাত চেপে ধরলেন। অ্যাটেনবরো পরে স্মৃতিকথায় লিখেছেন, "আমার জীবনের নোঙর চলে গেল।" এরপর আর বিয়ে করেননি।

তার কণ্ঠের জাদু

ডেভিড অ্যাটেনবরোর কণ্ঠ পৃথিবীর সবচেয়ে পরিচিত কণ্ঠগুলির একটা। তিনি চিৎকার করেন না। নাটকীয়তা তৈরির চেষ্টাও করেন না। কিন্তু বর্ণনায় এমন একটা বিস্ময় থাকে, যা দর্শককে টেনে ধরে রাখে।

একটা ছোট পোকামাকড়ের জীবনও তিনি এমনভাবে বলেন, যেন এর চেয়ে জরুরি গল্প আর নেই।

নিজেকে "পশুপ্রেমী" বলতে নারাজ তিনি। বলেছেন, শব্দটায় অতিরিক্ত আবেগের গন্ধ। তার ভাষায়, "আমি কেঁচো বা মাকড়সাকে ভালবাসি না। কিন্তু তারা আমাকে বুদ্ধিগত আনন্দ দেয়।" এটাই অ্যাটেনবরোর সততা—অনুভূতির ভার না চাপিয়ে কৌতূহলের জায়গা থেকে কথা বলা।

"কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে, 'প্রাণীদের প্রতি আগ্রহ কীভাবে জন্মাল?' আমি উল্টা জিজ্ঞেস করি, 'কীভাবে তুমি সেই আগ্রহ হারালে?'"

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন

পানির নিচের ক্যামেরা (underwater camera), ধীরগতির দৃশ্যধারণ (time-lapse), রাতের দৃষ্টি (night vision), পরে ড্রোন—প্রতিটি নতুন প্রযুক্তি এসেছে আর তার দল সেটা ব্যবহার করে এমন সব দৃশ্য তুলেছেন, যা আগে সম্ভব ছিল না।

একটা মজার গল্প আছে। Zoo Quest-এর সময় বিবিসি ছোট ১৬ মিলিমিটার ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি দিল, শর্ত ছিল রঙিন ফিল্মে শুট করতে হবে। সেই রঙিন ফুটেজ সংরক্ষণাগারে ঢুকে গেল, সবাই ভুলে গেল। ২০১৫ সালে এক আর্কাইভিস্ট হঠাৎ সেই রিলগুলি খুঁজে পেলেন—ষাট বছরের বেশি পুরোনো, রঙ অবিকৃত। ২০১৬ সালে সেগুলি Zoo Quest in Colour নামে সম্প্রচারিত হল।

পরিবেশ রক্ষার কণ্ঠস্বর

প্রথম দিকের তথ্যচিত্রগুলিতে প্রকৃতির সৌন্দর্যই ছিল মূল বিষয়। ধীরে ধীরে সেই অবস্থান বদলেছে। বন উজাড়, প্লাস্টিক দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এসব দেখতে দেখতে তিনি বুঝেছেন, শুধু দেখানো যথেষ্ট নয়।

A Life on Our Planet-এ তিনি নিজের জীবনকেই প্রমাণ হিসাবে হাজির করেছেন। শৈশবের পৃথিবী আর এখনকার পৃথিবীর তুলনা। বন কমেছে, প্রাণী হারিয়েছে, সমুদ্র গরম হয়েছে—সব তার সামনে ঘটেছে। এটা তথ্য নয়, এটা একজনের জীবনের সাক্ষ্য।

"আমরা আমাদের নিজেদের তৈরি একটা বিপর্যয়ের ছায়ায় স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটাচ্ছি। আর সেই বিপর্যয় তৈরি হচ্ছে ঠিক সেই জিনিসগুলি দিয়ে, যেগুলি আমাদের স্বাচ্ছন্দ্য দিচ্ছে।"

পরিবেশ আন্দোলনের আলোচনায় তার নাম এখন অপরিহার্য।

শতবর্ষ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

১০০ বছর বয়সে মানুষ সাধারণত পেছনে তাকান। অ্যাটেনবরো তাকান, কিন্তু শুধু পেছনে নয়। তার শৈশবের পৃথিবী আর আজকের পৃথিবীর মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, সেটা পরিসংখ্যান নয়—একজন মানুষের জীবনের গল্প। বন কমেছে। প্রাণী বিলুপ্ত হয়েছে। সমুদ্র উষ্ণ হয়েছে। সব তার চোখের সামনে।

তার জীবন একটা জীবন্ত সময়রেখা এবং সেটা পড়তে পারাটা এখন খুব জরুরি।

১০০ বছর বয়সেও তিনি থামেননি। নতুন তথ্যচিত্র, বক্তৃতা, বিশ্বনেতাদের সামনে সরাসরি কথা বলা। বয়স কখনও কখনও কণ্ঠকে শুধু ভারি করে না, শক্তিশালীও করে।

"আমরা যদি আলাদাভাবে কাজ করে পৃথিবীকে অস্থির করতে পারি, তাহলে একসঙ্গে কাজ করলে পৃথিবীকে বাঁচাতেও পারব। আমার জীবদ্দশায় আমি একটা ভয়াবহ পতন দেখেছি। তোমাদের জীবদ্দশায় তোমরা একটা দারুণ পুনরুজ্জীবন দেখতে পারো এবং দেখা উচিত।"

বিশ্বজুড়ে শতবর্ষ উদযাপন

আজ লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে বিবিসির বিশেষ অনুষ্ঠান—"David Attenborough's 100 Years on Planet Earth"। উপস্থাপক Kirsty Young। তথ্যচিত্রের দৃশ্য, স্মৃতিচারণ, সংগীত, পরিবেশ আলোচনা—সব মিলিয়ে নব্বই মিনিটের অনুষ্ঠান।

Michael Palin, Chris Packham, Steve Backshall-এর মত পরিচিত মুখেরা আছেন। সংগীতে Bastille-এর কণ্ঠশিল্পী Dan Smith আর আইসল্যান্ডিক ব্যান্ড Sigur Rós।

ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম একটি বিশেষ উপহার দিয়েছে। নতুন আবিষ্কৃত এক ক্ষুদ্র পরজীবী বোলতার নাম রাখা হয়েছে Attenboroughnculus tau। চিলিতে পাওয়া, মাত্র সাড়ে তিন মিলিমিটার লম্বা, জীবন্ত পোষকের মধ্যে ডিম পাড়ে। ১৯৮৩ সালে সংগ্রহ করা নমুনা—চল্লিশ বছরেরও বেশি পরে শনাক্ত হল। তার সম্মানে নামকরণ হওয়া পঞ্চাশটিরও বেশি প্রজাতির সর্বশেষ।

কিউ গার্ডেনসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মসূচি পালন করছে। সপ্তাহজুড়ে বিবিসি পুরোনো তথ্যচিত্র, সাক্ষাৎকার আর বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। বিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ, চলচ্চিত্রকার, রাজনীতিক, রাজপরিবার—সবাই সম্মান জানিয়েছেন।

আজকের দিনে তার কথা

জন্মদিনের আগের রাতে একটি রেকর্ড করা বার্তায় অ্যাটেনবরো বলেছেন, "আমি ভেবেছিলাম শততম জন্মদিনটা চুপচাপ কাটাব। কিন্তু মনে হচ্ছে তোমাদের অন্য পরিকল্পনা ছিল।" বলেছেন, প্রি-স্কুলের শিশু থেকে বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা পর্যন্ত কত মানুষের শুভেচ্ছায় তিনি "সম্পূর্ণ অভিভূত"।

আর সেই সঙ্গে একটি কথা যা হয়ত তার পুরো জীবনের সারাংশ: "একটা জীবন প্রকৃতি অন্বেষণে কাটানোর পর আমি এখনও নিশ্চিত—যত বেশি মানুষ প্রাকৃতিক জগৎকে ভালবাসবে ও বুঝবে, আমাদের নিজেদের এবং এই পৃথিবীকে বাঁচানোর সম্ভাবনা তত বাড়বে। এই গল্পের শেষটা আমি দেখে যেতে পারব না। কিন্তু শেষটা কী হবে—তা এখনও লেখা হয়নি।"

কেন তিনি আলাদা?

ডেভিড অ্যাটেনবরো শুধু একজন উপস্থাপক নন। তিনি মানুষকে দেখতে শিখিয়েছেন, একটা পোকা, একটা গাছ, একটা প্রবালপ্রাচীর, বরফ গলার ঘটনা এসব তুচ্ছ নয়, এসবই সব।

তার তথ্যচিত্র দেখে অনেক শিশু জীববিজ্ঞানী হতে চেয়েছে। অনেক মানুষ প্রথমবার জলবায়ু পরিবর্তনের গুরুত্ব বুঝেছে। ব্রিটেনের ৩২টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডিগ্রি দিয়েছে। ২০০৬ সালে বিবিসির দর্শক ভোটে দেশের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মুখ হয়েছেন পল ম্যাককার্টনি আর মরিসিকে পেছনে ফেলে।

তিনি মানুষকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রকৃতির মালিক মানুষ নয়, মানুষও এই জীবমণ্ডলের একটা অংশ মাত্র।

"আমরা প্রকৃতির অংশ থেকে সরে গিয়ে প্রকৃতি থেকে আলাদা হয়ে গেছি।"

তার শতবর্ষ তাই শুধু একজন মানুষের জন্মদিন নয়। পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখার এক শতাব্দীর উদযাপন।

#শতবর্ষ #ডেভিড_অ্যাটেনবরো #প্রকৃতি

কোটেশন: ডেভিড অ্যাটেনবরো #কেঁচো  #মাকড়শা  #আনন্দ
08/05/2026

কোটেশন: ডেভিড অ্যাটেনবরো

#কেঁচো #মাকড়শা #আনন্দ

এআইকে প্রম্পট কোন ভাষায় দেবেন, বাংলা না ইংরেজি?এআই এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার টুল নয়। চ্যাটজিপিটির মত মডেল দিয়ে ...
05/05/2026

এআইকে প্রম্পট কোন ভাষায় দেবেন, বাংলা না ইংরেজি?

এআই এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার টুল নয়। চ্যাটজিপিটির মত মডেল দিয়ে লেখা তৈরি হচ্ছে, মিডজার্নি দিয়ে ছবি, সুনো দিয়ে গান। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যবহারকারী এআইকে নির্দেশনা পাঠান ভিন্ন ভিন্ন ভাষায়, যাকে বলে প্রম্পট।

বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা এখানে এসেই থেমে যান। বাংলায় লিখব, না ইংরেজিতে? বাংলায় লিখলে চিন্তাটা স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু ফলাফল ভাল হবে কি? ইংরেজিতে লিখলে হয়ত ফল ভাল আসবে, কিন্তু ভাষাটা যথেষ্ট দখলে না থাকলে নির্দেশনাই অস্পষ্ট হয়ে যায়। দ্বিধায় পড়ে অনেকেই এআইয়ের পরিপূর্ণ সুবিধা কাজে লাগাতে পারেন না।

দ্বন্দ্বটা কতটা বাস্তব, একটা উদাহরণে দেখা যাক। দুজন মানুষ একই ছবি চাইছেন, একজন বাংলাদেশী কৃষকের পোর্ট্রেট। প্রথমজন বাংলায় লিখলেন “একজন বাংলাদেশী বৃদ্ধ কৃষকের ছবি, মুখে বলিরেখা।” আরেকজন ইংরেজিতে লিখলেন “Photorealistic portrait of an elderly Bangladeshi farmer, weathered face, 85mm lens, golden hour lighting.”

ছবি দুটি এলো। বিষয়বস্তু একই, মান আলাদা। দ্বিতীয়টায় আলো পড়েছে নিখুঁতভাবে, চামড়ার টেক্সচার বোঝা যাচ্ছে, ব্যাকগ্রাউন্ড স্বাভাবিকভাবে ঝাপসা। প্রথমটা মাঝারি; বিষয়বস্তু ঠিক, কিন্তু পেশাদার মানের নয়।

এই পার্থক্য বাংলার দুর্বলতা নয়। মডেলগুলিকে যে ডেটা দিয়ে শেখানো হয়েছে, সেখানে ইংরেজির পাল্লাই ভারি। বিশাল সেই ডেটাভাণ্ডারে বাংলার অনুপাত তুলনামূলকভাবে অনেক কম। অর্থাৎ সমস্যাটা ভাষাগত নয়, ডেটাসেটের পক্ষপাত। সুতরাং এর সমাধান কেবল ইংরেজি ব্যবহারের ওপর নির্ভরশীলতা নয়। বরং কোন কাজে কোন ভাষা ভালো চলে, সেটা চিনে নিতে হবে।

কিছু কাজে বাংলা এগিয়ে, কিছুতে ইংরেজি, আর বেশিরভাগ বাস্তব কাজে দুটির মিশ্রণ, যাকে বলে হাইব্রিড প্রম্পট, সবচেয়ে ভাল ফল দেয়। কোথায় কোনটা কাজ করে এবং বাস্তবে দুই ভাষাকে কীভাবে কাজে লাগাবেন, এই লেখায় সেটাই দেখানো হবে।

টেক্সট মডেল বনাম ইমেজ মডেল

সব এআই একইভাবে বাংলা বোঝে না। টেক্সট-ভিত্তিক বড় ভাষা মডেল, যেমন ChatGPT, Claude, Gemini, আজকাল বাংলায় বেশ ভালই পারফর্ম করে। পুরো বাংলায় লিখেও মানসম্মত উত্তর, অনুবাদ, বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। কিন্তু ইমেজ ও ভিডিও জেনারেশন মডেল, যেমন Stable Diffusion, Midjourney, Flux বাংলায় অনেক সীমাবদ্ধ।

কারণটা ট্রেনিং ডেটায়। স্টেবল ডিফিউশন তৈরি হয়েছে LAION-5B ডেটাসেটে, যেখানে প্রায় সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ছবি-ক্যাপশন জোড়া আছে। কিন্তু এই বিশাল তালিকায় বাংলা ক্যাপশন আছে মাত্র কয়েক হাজার, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। বাকি প্রায় পুরোটাই ইংরেজি ও অন্যান্য বহুল-প্রচলিত ভাষা।

বাংলা ভাষার মাধ্যমে ছবির খুঁটিনাটি চেনার মত সক্ষমতা এই মডেলের ভেতরে সেভাবে গড়ে ওঠেনি। টেক্সট মডেলে ইংরেজির প্রাধান্য থাকলেও বাংলা কনটেন্টের পরিমাণ অনেক বেশি এবং মডেলের ভেতরকার গঠনও ভাষা-স্থানান্তরে (Language Transfer) ভাল কাজ করে।

যেখানে বাংলা এগিয়ে

অনেকে ধরেই নেন এআইয়ের সাথে কাজ মানেই ইংরেজিতে কাজ। ভুল ধারণা। আইডিয়া বের করা, গল্প লেখা, কবিতার খসড়া তৈরি, লোকাল কনটেক্সট বোঝানো, বাংলাদেশী বাস্তবতা তুলে ধরা—এসব কাজে বাংলা ব্যবহার করলে ভাবনাটা স্বাভাবিক থাকে, ইনপুটও ভাল হয়। এখানে টেকনিক্যাল নিখুঁততা নয় বরং অর্থ, সুর ও প্রসঙ্গ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ধরুন, কোনো গ্রামীণ চরিত্রের সংলাপ লিখতে চান। কিংবা ঈদের স্মৃতি নিয়ে একটা ছোটগল্পের প্লট। বাংলায় প্রম্পট দিলে মডেল সাংস্কৃতিক সূত্রগুলি ভালো ধরে। ইংরেজিতে একই জিনিস চাইলে অনুবাদ-গন্ধযুক্ত, অস্বাভাবিক ও কৃত্রিম একটা আউটপুট আসে।

ChatGPT বা Claude-এ সাধারণ আলোচনা, প্রশ্নোত্তর, সারাংশ তৈরি, ইমেইলের খসড়া—এসব কাজে বাংলা চালাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ছবি বানাতে বসলেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

ইমেজ তৈরিতে ইংরেজি কেন এগিয়ে

শুরুতে দেখানো সেই দুই কৃষকের ছবিতে ফিরে যাই। ইংরেজি প্রম্পটে যে শব্দগুলি জাদু দেখায়, যেমন “Photorealistic”, “HDR”, “skin pores”, “sharp focus”, “bokeh”, এগুলি শুধু বর্ণনা নয়। প্রতিটা শব্দ মডেলের ভেতরে নির্দিষ্ট ভিজ্যুয়াল প্যাটার্নের সাথে শক্তিশালী যোগসূত্র তৈরি করে।

প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিভাষায় এদের বলা হয় উচ্চ-ওজনের টোকেন (High-weight Token), যেগুলি আউটপুটে জোরালো প্রভাব ফেলে।

এর সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ ছিল “trending on artstation” শব্দবন্ধটি। ২০২২-২৩ সালে যে কেউ মিডজার্নি বা স্টেবল ডিফিউশনে কোনো প্রম্পটের শেষে এই পাঁচটি শব্দ যোগ করলেই ছবির মান হঠাৎ বদলে যেত। একই বিষয়বস্তু, কিন্তু এই শব্দ যোগ করলে আউটপুট হঠাৎ অভিজ্ঞ ডিজিটাল আর্টিস্টের তৈরি আর্টওয়ার্কের মত দেখাত।

কারণ ArtStation নামের ওয়েবসাইটটি পেশাদার ডিজিটাল শিল্পীদের প্ল্যাটফর্ম এবং সেখান থেকে আসা ছবিগুলি ট্রেনিং ডেটায় এই ক্যাপশনের সাথে যুক্ত ছিল। এই একটা শব্দবন্ধ ইংরেজি প্রম্পটের শক্তি আর ট্রেনিং ডেটার পক্ষপাত, দুটিই একসাথে দেখিয়ে দেয়।

এই শব্দগুলি বাংলায় অনুবাদ করলে অর্থ ঠিক থাকে, কিন্তু প্রভাব কমে যায়। মডেল আংশিকভাবে বোঝে। কিছু বাদ দেয়। কম নির্ভুলভাবে তৈরি করে। আউটপুটের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়।

লাইটিং, ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল, ফোকাস, টেক্সচার, যেখানে সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ দরকার, সেখানে আজকের বাস্তবতায় ইংরেজি ছাড়া উপায় নেই। ইমেজ মডেলে ইংরেজির প্রয়োজনীয়তা অবশ্য এখানেই শেষ নয়। আরেকটা বড় জায়গা আছে যেখানে বাংলা কাজই করে না।

নেগেটিভ প্রম্পট

সেই জায়গাটার নাম নেগেটিভ প্রম্পট, অর্থাৎ কী চান না, সেটা বলা। ইমেজ জেনারেশনে শুধু কী চান বললেই হয় না। কী এড়াতে চান, সেটাও বলতে হয়। যেমন “blurry, low quality, extra fingers, watermark, deformed hands, bad anatomy”; এই শব্দগুলি আলাদা ফিল্ডে দিলে মডেল ত্রুটিগুলি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে।

এটা প্রায় পুরাটাই ইংরেজিতে কাজ করে। কারণ ক্যাপশন ডেটায় এই গুণগত দুর্বলতা বোঝানো শব্দগুলি ইংরেজিতেই ট্যাগ করা ছিল। বাংলায় “ঝাপসা” বা “খারাপ হাত” লিখলে মডেল কার্যকরভাবে ফিল্টার করতে পারে না।

প্রম্পটের কাঠামো—কিওয়ার্ড বনাম বাক্য

ভাষা ছাড়াও প্রম্পটের গঠন গুরুত্বপূর্ণ। এখানেও টেক্সট ও ইমেজ মডেলের মধ্যে পার্থক্য আছে। ইমেজ মডেল সাধারণত কমা দিয়ে আলাদা করা কিওয়ার্ড লিস্ট (Comma-separated Keywords) ভাল বোঝে। যেমন “young woman, red saree, monsoon rain, cinematic lighting, shallow depth of field”।

টেক্সট মডেল চায় পূর্ণ বাক্য আর প্রাকৃতিক ভাষায় লেখা নির্দেশনা। যেমন: “একজন তরুণীর ছবি বর্ণনা করুন যিনি বর্ষার মধ্যে লাল শাড়ি পরে দাঁড়িয়ে আছেন।” বিষয়বস্তু এক, কিন্তু কাঠামো দুই রকম।

মিডজার্নির মত টুলে আবার কিছু ভাষা-নিরপেক্ষ কমান্ড-প্যারামিটার আছে, যেমন --ar 16:9 (Aspect Ratio), --s 750 (Stylize Value), --c 50 (Chaos)। বাংলা বা ইংরেজি যেকোনো প্রম্পটের শেষে যোগ করা যায়। সম্পূর্ণ সিনট্যাক্সভিত্তিক।

এই কমান্ড দেওয়ার পদ্ধতির পেছনে মিডজার্নির শুরুর ইতিহাস কাজ করছে; ২০২২ সালে এটি চালু হয়েছিল একটি Discord সার্ভার হিসাবে, কোনো অ্যাপ বা ওয়েবসাইট-ইন্টারফেস ছিল না। ব্যবহারকারীরা চ্যাট রুমে কমান্ড টাইপ করে ছবি আঁকাতেন এবং সেই সিনট্যাক্স আজও টুলটির স্বাক্ষর হয়ে আছে।

ভাষা নির্বাচনের পাশে আরেকটা হিসাব আছে, যেটা অনেকের চোখ এড়িয়ে যায়—খরচ।

টোকেন: খরচের একটা লুকানো দিক

যারা এপিআই (API) দিয়ে কাজ করেন, কিংবা সীমিত ক্রেডিটে চলেন, তাদের জন্য এটা মাথায় রাখা জরুরি। এআই মডেল টেক্সটকে টোকেন নামক ছোট ছোট অংশে ভেঙে প্রসেস করে। খরচ ও সীমা, সব হিসাব এই টোকেন সংখ্যার উপর। বাংলার মত অ-ল্যাটিন লিপি টোকেনাইজেশনে অনেক বেশি জায়গা নেয়।

ইংরেজিতে “The weather is nice today” বাক্যটি প্রায় ৬ টোকেন। বাংলায় এর সমার্থক “আজকের আবহাওয়া চমৎকার” বাক্যে লাগে প্রায় ২০-২৫ টোকেন। অর্থাৎ একই কাজ বাংলায় করলে খরচ তিন থেকে চার গুণ বেশি, আর কনটেক্সট উইন্ডোও দ্রুত ভরে যায়।

অক্সফোর্ডের গবেষক আলেকজান্দার পেট্রভ ও তার সহকর্মীরা ২০২৩ সালে এই সমস্যাটিকে নাম দিয়েছেন “language tax” বা ভাষা-কর। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, একই অর্থ প্রকাশ করতে ইংরেজির তুলনায় কিছু ভাষায় ১৫ গুণ পর্যন্ত বেশি টোকেন লাগে। মিয়ানমারের ভাষায় এই অনুপাত সর্বাধিক। বাংলার অবস্থা মাঝামাঝি, কিন্তু পার্থক্যটা তবু যথেষ্ট বড়।

এর অর্থ পরিষ্কার: যে ভাষায় কথা বলেন, প্রযুক্তির খরচও সে অনুপাতে দিতে হয়। চ্যাট ইন্টারফেসে সাবস্ক্রিপশন দিয়ে কাজ করলে এটা নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার নেই। কিন্তু ডেভেলপার বা বাল্ক প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য বড় প্রভাব ফেলে। এত হিসাবের পর প্রশ্ন ওঠে: তাহলে বাস্তবে কী করবেন?

হাইব্রিড প্রম্পট: সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি

উত্তর সরাসরি বলি। দুই ভাষার মিশ্র ব্যবহারই সবচেয়ে যৌক্তিক। অনেকে আগে বাংলায় ভাবেন, তারপর ইংরেজিতে প্রম্পট লেখেন। আবার কেউ সরাসরি হাইব্রিড প্রম্পটে যান—বিষয়বস্তু বাংলায়, টেকনিক্যাল নির্দেশনা ইংরেজিতে।

শুরুর সেই কৃষকের উদাহরণে ফিরি। শুধু বাংলায় বললে যে মাঝারি ফলাফল আসে, হাইব্রিড করলে সেটা পাল্টে যায়:

“একজন বাংলাদেশি বৃদ্ধ কৃষকের মুখ, মাথায় গামছা, পেছনে ধানের ক্ষেত—photorealistic portrait, soft natural light, golden hour, shallow depth of field, 85mm lens, ultra-detailed skin texture, cinematic composition --ar 3:4 --s 250”

বিষয়বস্তু ও সাংস্কৃতিক বিবরণ বাংলায়, ভিজ্যুয়াল কন্ট্রোল ইংরেজিতে, কমান্ড-প্যারামিটার সিনট্যাক্সে। মডেল তিন স্তরে আলাদাভাবে প্রসেস করে। কী আঁকতে হবে, কীভাবে আঁকতে হবে, কোন আকারে দিতে হবে, তিনটাই স্পষ্ট। ফলাফল হয় অত্যন্ত উচ্চমানের।

টেক্সট মডেলেও একই কৌশল কাজ করে। যেমন: “নিচের প্যারাগ্রাফটি academic tone-এ rewrite করুন, avoid passive voice”। কাজের নির্দেশনা বাংলায়, স্টাইলের প্যারামিটার ইংরেজিতে।

ট্রান্সলেশন-ব্রিজ

হাইব্রিড কঠিন মনে হলে আরেকটা সহজ পথ আছে, যাকে বলা যায় ট্রান্সলেশন-ব্রিজ। প্রথমে বাংলায় পুরা প্রম্পট লিখুন বিস্তারিতভাবে। তারপর সেটাই এআইকে দিয়ে ইংরেজিতে অনুবাদ করান। অনূদিত প্রম্পট ইমেজ মডেলে পেস্ট করেন। বাংলায় ভাবার সুবিধা আর ইংরেজি প্রম্পটের নির্ভুলতা, দুটিই একসাথে পাওয়া যায়।

যারা ইংরেজি প্রম্পটিং এখনও শিখছেন, তাদের জন্য এটা ভাল সেতু। তবে একটা সতর্কতা আছে: এআইয়ের অনুবাদ সবসময় সঠিক টেকনিক্যাল পরিভাষা ব্যবহার করে না। অনূদিত প্রম্পটটা একবার চোখ বুলিয়ে ঠিক করে নেওয়া দরকার।

ভয়েস ও অডিও মডেল

এতক্ষণ কথা হল টেক্সট আর ইমেজ নিয়ে। কিন্তু ভয়েস ও মিউজিক জেনারেশন টুলের ব্যবহারও বাড়ছে এবং এখানে ভাষার সমস্যা আরও তীব্র। ElevenLabs দিয়ে ভয়েসওভার, Suno বা Udio দিয়ে গান, এসব এখন সহজলভ্য। কিন্তু বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে এই টুলগুলির কার্যকারিতা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।

ইলেভেন ল্যাবস বাংলা টেক্সট উচ্চারণ করতে পারে, কিন্তু উচ্চারণ অস্বাভাবিক। আবেগের সঠিক বহিঃপ্রকাশের দিক থেকে এটি ইংরেজির মানের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। সুনোতে বাংলা গানের লিরিক্স দিলে মডেল চেষ্টা করে, কিন্তু উচ্চারণ-সুরের মিল প্রায়ই দুর্বল।

এটা শুধু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নয়, এটি মূলত বিশ্ববাজারে কোন ভাষার চাহিদা কত বেশি, তার ওপর নির্ভর করে। কোম্পানিগুলি যে ভাষা থেকে বেশি ব্যবহারকারী আসে, সেদিকেই আগে মনোযোগ দেয়। বাংলাভাষীরা এই টুলগুলি যত বেশি ব্যবহার করবেন, ফিডব্যাক যত বেশি যাবে, বাংলা সাপোর্ট তত দ্রুত উন্নত হবে। এই কারণেই বাংলার বর্তমান অবস্থা স্থায়ী নয়, বরং পরিবর্তনশীল।

ভবিষ্যৎ

মডেলগুলি প্রতি কয়েক মাসে উন্নত হচ্ছে। বহুভাষিক ট্রেনিং বাড়ছে। বাংলার সাপোর্টও ধীরে ধীরে ভাল হচ্ছে। Google, Meta, OpenAI দক্ষিণ এশীয় ভাষার উপর আলাদা মনোযোগ দিচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারতের গবেষকরাও ওপেন-সোর্স বাংলা মডেল বানাচ্ছেন।

আগামী কয়েক বছরে বাংলা প্রম্পটের কার্যকারিতা আজকের চেয়ে অনেক ভাল হবে, বিশেষ করে টেক্সট মডেলে। ইমেজ মডেলে পরিবর্তন আসবে, তবে বাংলা ও ইংরেজি ক্যাপশন ডেটার ভারসাম্য ঠিক হতে সময় লাগবে।

তবে এই উন্নতি আপনাআপনি ঘটবে না। বাংলাভাষীরা এআই টুল যত বেশি ব্যবহার করবেন, যত বেশি ফিডব্যাক দেবেন, বাংলা কনটেন্ট যত বেশি অনলাইনে আসবে, ট্রেনিং ডেটায় বাংলার প্রতিনিধিত্ব তত বাড়বে। প্রযুক্তি বাজারের চাহিদায় এগোয়। আজকের এই কৌশলগুলিই শেষ কথা নয়, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে এগুলিও বদলে যাবে।

শুরুর সেই দুজন মানুষের গল্পে ফিরি। তাদের চাওয়া এক, ভাষা আলাদা, ফলাফলও আলাদা। দ্বিতীয়জন কোনো জাদু জানে না। সে শুধু জানে কোন ভাষা কখন কাজে লাগে।

একটা সহজ থাম্ব রুল মনে রাখা যায়: যেখানে অর্থ ও প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে বাংলা। যেখানে টেকনিক্যাল নিয়ন্ত্রণ দরকার, সেখানে ইংরেজি—দুটিই লাগলে হাইব্রিড।

#এআই #ইংরেজি #বাংলা

মাধ্যাকর্ষণ ব্যাটারি: পুরোনো ধারণায় নতুন সম্ভাবনাসুইজারল্যান্ডের একটা ছোট শিল্পশহরে ২০২০ সালে একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যে...
05/05/2026

মাধ্যাকর্ষণ ব্যাটারি: পুরোনো ধারণায় নতুন সম্ভাবনা

সুইজারল্যান্ডের একটা ছোট শিল্পশহরে ২০২০ সালে একটা অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যেত। একটা ৭০ মিটার উঁচু (মানে প্রায় বিশতলা) স্টিলের টাওয়ার থেকে ছয়টা ক্রেনের বাহু বেরিয়ে আছে। সেই বাহুগুলি ৩৫ টন ওজনের কংক্রিটের ব্লক একটার পর একটা আকাশে তুলছে। নামাচ্ছে। আবার তুলছে।

প্রতিবেশীরা ভেবেছিলেন কোনো নির্মাণকাজ। আসলে ওটা ছিল একটা ব্যাটারি।

এই টাওয়ার অ্যানার্জি ভোল্ট কোম্পানির তৈরি। ধারণাটা একেবারে সোজা: বাড়তি বিদ্যুৎ থাকলে মোটর চালিয়ে ব্লক ওপরে তোলো। ব্যস, শক্তি জমা হয়ে গেল।

পদার্থবিজ্ঞানে এটাকে বলে স্থিতিশক্তি (potential energy)—কোনো বস্তু উঁচুতে থাকলে তার মধ্যে যে শক্তি জমে থাকে। পাথর পাহাড়ের চূড়ায় থাকলে যে শক্তি থাকে, নিচে নামলে সেটা গতিশক্তিতে (kinetic energy) রূপান্তরিত হয়। মাধ্যাকর্ষণ ব্যাটারি এই রূপান্তরকেই কাজে লাগায়। ব্লক নামার সময় তার সাথে যুক্ত জেনারেটর ঘোরে।

ঠিক যেভাবে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পানির স্রোতে টারবাইন ঘোরে। আর জেনারেটর ঘুরলেই বিদ্যুৎ। মোটরে বিদ্যুৎ ঢোকালে ব্লক ওঠে, জেনারেটর থেকে বিদ্যুৎ বের হয় ব্লক নামলে—পুরো চক্রটা এইটুকুই।

শক্তি জমা রাখার এই পদ্ধতি নতুন না। কিন্তু এখন সৌর আর বাতাসের বিদ্যুতের সময়ে এটা আবার দরকারি হয়ে উঠছে।

যে সমস্যার উত্তর খোঁজা হচ্ছে

সৌরবিদ্যুৎ আর বায়ুবিদ্যুৎ দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু একটা সমস্যা কাটছে না, এই বিদ্যুৎ কোথায় রাখবেন? সূর্য থাকলে উৎপাদন হয়, না থাকলে হয় না। বাতাস বইলে হয়, থেমে গেলে বন্ধ। আর যখন উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হয়, অতিরিক্তটুকু নষ্ট হয়ে যায়।

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি (যেটা মোবাইল ফোন বা ইলেকট্রিক গাড়িতে ব্যবহার হয়) এই সমস্যার কিছুটা সমাধান দিয়েছে। কিন্তু রাসায়নিক ব্যাটারির একটা মৌলিক দুর্বলতা আছে। বার বার চার্জ-ডিসচার্জে ক্ষমতা কমে যায়, কয়েক বছরের মধ্যে কার্যকারিতা কমতে শুরু করে। আর কোবাল্ট-লিথিয়ামের মত বিরল খনিজের উপর নির্ভরতার কারণে খরচও বেশি।

মাধ্যাকর্ষণ ব্যাটারিতে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া নেই। কপিকল, তার, ভারি ওজন—এসব যন্ত্রাংশে কোনো রাসায়নিক নেই, তাই দশকের পর দশক টিকে থাকে।

পদার্থবিজ্ঞান সহজ, কিন্তু সংখ্যাটা কঠিন

ব্যাপারটা স্কুলের স্থিতিশক্তির সূত্র থেকে বোঝা যায়—ভারি জিনিস যত উঁচুতে, তত বেশি শক্তি জমা। কিন্তু সংখ্যায় গেলে সমস্যার গভীরতা উপলব্ধি করা যায়।

মাত্র ১ কিলোওয়াট-ঘণ্টা শক্তি জমাতে (এটুকু দিয়ে একটা সিলিং ফ্যান প্রায় ১০ ঘণ্টা চলে) ১ টন ওজনকে প্রায় ৩৬৭ মিটার উপরে তুলতে হয়। একটা AA ব্যাটারির সমান শক্তি পেতে ১০০ কেজি ওজনকে ১০ মিটার উঁচুতে নিয়ে যেতে হবে।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী টম মারফি ২০১১ সালে এই হিসাব কষে দেখান—মাধ্যাকর্ষণ ভিত্তিক পদ্ধতিতে শক্তি-ঘনত্ব এত কম যে এক গ্যালন পেট্রলের সমান শক্তি পেতে ১৩ টন পানিকে এক কিলোমিটার উঁচুতে তুলতে হবে।

এই সীমাবদ্ধতাটা বাস্তব। বড় পরিসরে গেলে খরচ বাড়তে থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে লিথিয়াম-আয়ন এখনও বেশি সাশ্রয়ী।

তবু ইঞ্জিনিয়াররা এই পথে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণটা সরল, কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে রাসায়নিক ব্যাটারি সত্যিই উপযুক্ত নয়।

পাম্পড স্টোরেজ: যেটা আসলে কাজ করছে

মাধ্যাকর্ষণ ব্যাটারির সবচেয়ে পরিপক্ক রূপ হল পাম্পড স্টোরেজ—যেখানে কংক্রিটের ব্লকের বদলে "ওজন" হিসাবে ব্যবহার হয় পানি। থিওরি একই, শুধু ভারি বস্তুটা ভিন্ন। পানিও ভারি, উঁচুতে পাঠালে সেটাও স্থিতিশক্তি জমায়। পাহাড়ের উপরে আর নিচে দুটি জলাধার। বাড়তি বিদ্যুৎ থাকলে পানি পাম্প করে উপরে পাঠাও, দরকার হলে নামিয়ে টারবাইন ঘোরাও—বিদ্যুৎ তৈরি হয়।

প্রথম এই ধরনের কেন্দ্র তৈরি হয়েছিল ১৯০৭ সালে, সুইজারল্যান্ডে। সেই সময় রিভার্সিবল টারবাইন ছিল না। পাম্প করা আর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা দুটি আলাদা যন্ত্রে হত। অবাক করা বিষয় হল, সেই ১৯০৭ সালের কেন্দ্রটা এখনও চালু। ১৯৯০-এর দশকে নবায়ন করা হয়েছে, ২০৫২ পর্যন্ত চালানোর পরিকল্পনা আছে।

১০০ বছরের বেশি পুরোনো একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র এখনও গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে—এটাই মাধ্যাকর্ষণ ব্যাটারির সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে পাম্পড স্টোরেজের মোট সক্ষমতা ছিল ১৮৯ গিগাওয়াট। তুলনার জন্য বলা যায়, বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২৫ গিগাওয়াট—সারা বিশ্বের পাম্পড স্টোরেজ মজুত তার ৭ গুণেরও বেশি। ওই বছর নতুন যোগ হওয়া ৮.৪ গিগাওয়াটের ৯০ শতাংশ এসেছে চীন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রযুক্তি দেশটির মোট বড়-মাপের বিদ্যুৎ সংরক্ষণের ৮৮ শতাংশ।

কিন্তু এর একটা কঠিন শর্ত আছে—পাহাড় আর পানি ছাড়া চলে না। সমতল বা শুষ্ক অঞ্চলে এই পদ্ধতি কাজ করে না। সমতল ভূমিতে এটা তৈরি করা প্রায় অসম্ভব।

ব্লক, খনি, রেল

পানির বিকল্প হিসাবে কঠিন ওজন ব্যবহার করলে ভূগোলের সীমা পেরোনো যায়—এই ভাবনায় কাজ করছে কয়েকটা কোম্পানি।

অ্যানার্জি ভল্ট সুইজারল্যান্ডের সেই টাওয়ার দুই বছর পরীক্ষার পর ভেঙে ফেলে। ছয়-বাহু ক্রেনের নকশাটা যতটা ভাবা হয়েছিল ততটা কার্যকর ছিল না। নতুন নকশায় (যার নাম EVx) বড় ক্রেনের বদলে ধাতব ফ্রেম ও রেললাইন, ব্লক এখন উপর-নিচের পাশাপাশি সোজা পাশের দিকে সরানো যায়।

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চীনের রুদং শহরে এই প্রযুক্তির একটা বাণিজ্যিক স্থাপনা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। এর সংরক্ষণ ক্ষমতা ১০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা—অর্থাৎ ঢাকার একটা মাঝারি আবাসিক এলাকাকে প্রায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেওয়া যাবে। পাম্পড হাইড্রোর বাইরে এই আকারের মাধ্যাকর্ষণ সংরক্ষণ ব্যবস্থা এটাই প্রথম।

গ্রাভিট্রিসিটি একেবারে উল্টা পথে গেছে—মাটির উপরে উঁচু টাওয়ার নয়, পরিত্যক্ত খনির গভীর গর্তে। ধারণাটা চমৎকার: কোনো কোনো পুরোনো কয়লাখনির গর্ত ৩ কিলোমিটার পর্যন্ত গভীর, যা পৃথিবীর যেকোনো আকাশচুম্বী ইমারতের চেয়ে বেশি লম্বা। স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় তারা দুটি ২৫ টন ওজনের ব্লক নিয়ে একটা ছোট পরীক্ষামূলক কাঠামো বানায়, যা ২০২১ সালে গ্রিডে যুক্ত হয়।

পরীক্ষার আগে কোম্পানির প্রকৌশলী মাইলস ফ্রাংকলিন বলেছিলেন, তাদের তারগুলিকে যে চাপ সামলাতে হবে সেটা অনেকটা "স্ট্যাচু অফ লিবার্টিকে মাথার দিক নিচে করে ঝুলিয়ে রাখার" মত। কথাটা রসিকতার ছলে বলা, কিন্তু এর মধ্যে প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জটা স্পষ্ট।

এই ব্যবস্থার বিশেষত্ব হল গতি। এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে পূর্ণ ক্ষমতায় পৌঁছানো যায়। কোনো কারণে গ্রিডে হঠাৎ বিদ্যুৎ কমে গেলে (বড় কেন্দ্র বিকল হয়ে গেলে বা হঠাৎ চাহিদা বাড়লে) এই মুহূর্তের সাড়া দেওয়ার ক্ষমতাটা অনেক মূল্যবান।

এখন তারা ফিনল্যান্ডে ইউরোপের সবচেয়ে গভীর একটা পরিত্যক্ত খনিতে পূর্ণ-মাত্রার স্থাপনার পরিকল্পনা করছে। ৫৩০ মিটার গভীর সেই গর্ত, প্রায় ১৭৬ তলা বিল্ডিংয়ের সমান।

তৃতীয় পরীক্ষাটা রেলে। ভারি মালগাড়ি বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে পাহাড়ে উঠে যায়, নামার সময় ব্রেক করতে গিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। ব্রেকের সময় গতিশক্তিটা তাপ হিসাবে নষ্ট না করে জেনারেটরে ঢুকিয়ে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হয়। হাইব্রিড গাড়িতেও এই একই কৌশল কাজে লাগে। Advanced Rail Energy Storage নামের একটা কোম্পানি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা মরুভূমিতে ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটা স্থাপনার কাজ শুরু করেছে।

খরচের হিসাব—এখনও অনিশ্চিত

প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা আর অর্থনৈতিক বাস্তবতা সবসময় একসাথে চলে না। পাম্পড হাইড্রোর পরিচালন খরচ প্রতি মেগাওয়াট-ঘণ্টায় প্রায় ১৬৫ ডলার, দক্ষতা ৯০ শতাংশ পর্যন্ত। গ্রাভিট্রিসিটির এডিনবরা প্রোটোটাইপে খরচ হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড, আর তারা ৫০ বছরের আয়ু ও ৮০-৯০ শতাংশ দক্ষতার দাবি করছে।

টম মারফির গাণিতিক আপত্তিটা এখনও বৈধ—শক্তি-ঘনত্বের সমস্যা সত্যিকারের এবং বড় পরিসরে গেলে খরচ দ্রুত বাড়ে। রুদংয়ের মত স্থাপনাগুলি তাই একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক পরীক্ষা। দীর্ঘমেয়াদে এগুলি কতটা সস্তা পড়ে, সেটাই আসল প্রশ্ন।

কোথায় কাজ করবে এই প্রযুক্তি

মাধ্যাকর্ষণ ব্যাটারি লিথিয়াম-আয়নকে সরিয়ে দেবে না। এই দুটি আসলে একে অপরের প্রতিযোগী নয়, বরংভিন্ন সমস্যার ভিন্ন সমাধান।

লিথিয়াম-আয়ন ভাল কাজ করে কয়েক ঘণ্টার সংরক্ষণে। কিন্তু কয়েক দিন বা সপ্তাহের সংরক্ষণে রাসায়নিক ব্যাটারি টেকে না। এই দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণে মাধ্যাকর্ষণ ব্যাটারির আসল সুবিধা—উপরে থাকা একটা ব্লক বা পাহাড়ের জলাধারের পানি বছরের পর বছর শক্তি ধরে রাখে, কোনো ক্ষয় নেই।

সুইজারল্যান্ডের ১৯০৭ সালের কেন্দ্রটার কথা মনে করুন—এখনও চালু। এই দীর্ঘস্থায়িত্ব লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি কখনও দিতে পারবে না।

পুনর্নবায়নযোগ্য শক্তি যত বাড়বে, দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণের চাহিদাও তত বাড়বে। মাধ্যাকর্ষণ ব্যাটারি সেই জায়গাটা কতটুকু নিতে পারবে, সেটা নির্ভর করছে রুদং আর ফিনল্যান্ডের খনির মত পরীক্ষাগুলি বাস্তবে কতটা সফল হয় তার উপর। প্রযুক্তিটা সম্ভাবনাময়, এটুকু এখন নিশ্চিত। বাকিটা প্রমাণের পথে।

#ব্যাটারি #মাধ্যাকর্ষণ #বিদ্যুৎ

কোটেশন: স্টিভ জবস #সময়  #জীবন  #অপচয়
05/05/2026

কোটেশন: স্টিভ জবস

#সময় #জীবন #অপচয়

ওমর ইয়াগি: বাতাস থেকে পানি, এক শরণার্থীর নোবেলযাত্রা ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক আর গরম জায়গাগুলির এ...
05/05/2026

ওমর ইয়াগি: বাতাস থেকে পানি, এক শরণার্থীর নোবেলযাত্রা

ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক আর গরম জায়গাগুলির একটি। আগস্ট মাসের দুপুরে সেখানে এত গরম পড়ে যে মাটির ওপরের আসফল্ট পর্যন্ত গলে যেতে পারে। অতিরিক্ত তাপে স্মার্টফোন বন্ধ হয়ে যায়। বাতাসে আর্দ্রতা থাকে মাত্র ১৪ শতাংশ, মানে প্রায় একদম শুকনা পরিবেশ। এমন জায়গায় পানি থাকার কথা নয়।

কিন্তু ২০২২ সালে বিজ্ঞানীরা সেখানে একটি যন্ত্র রেখে পরীক্ষা করেন। এই যন্ত্রের কোনো বিদ্যুৎ সংযোগ নেই, কোনো পাম্প নেই, এমনকি কোনো ব্যাটারিও নেই। শুধু সূর্যের আলো ব্যবহার করে এটি কাজ করে। অবাক করার মত বিষয় হল, পরদিন সকালে সেই যন্ত্র থেকে পরিষ্কার পানি বের হতে দেখা যায়।

এই যন্ত্রটি তৈরি করেছেন ওমার ইয়াগি (Omar Yaghi)। তিনি একজন রসায়নবিদ, উদ্ভাবক এবং ২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।

যে শৈশব তাকে বিজ্ঞানী বানিয়েছিল

ওমার ইয়াগি ১৯৬৫ সালে জর্ডানের আম্মানে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা-মা ছিলেন ফিলিস্তিনি শরণার্থী। ১৯৪৮ সালে গাজার কাছে আল-মাসমিয়া নামের একটি গ্রাম থেকে তাদের পরিবারকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হয়, তারপর তারা জর্ডানে এসে আশ্রয় নেন।

তার পরিবার ছিল দীর্ঘদিনের অভাব-অনটনের মধ্যে। বাবা মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন, আর মা পড়তে-লিখতে জানতেন না। ১০ ভাইবোনের সবাই মিলে তারা একটি ছোট ঘরে থাকতেন—এমনকি সেই ঘরেই গবাদিপশুও রাখা হত। সেখানে কোনো বিদ্যুৎ ছিল না, এমনকি কলের পানিও ছিল না।

তাদের এলাকায় সরকারি পানি আসত মাত্র দুই সপ্তাহে একবার, তাও কয়েক ঘণ্টার জন্য। ছোট্ট ওমারকে ভোরে উঠে কল খুলে বসে থাকতে হত, কখন পানি আসবে সেই অপেক্ষায়। পানি আসা শুরু হলে যত দ্রুত সম্ভব পাত্র ভরে নিতে হত, কারণ কিছুক্ষণের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যেত। এই অভিজ্ঞতাগুলি তার মনে গভীরভাবে গেঁথে যায়।

মাত্র ১০ বছর বয়সে, একদিন স্কুলের লাইব্রেরিতে তিনি একটি বইয়ে অণুর (molecule) গঠন বা কাঠামোর ছবি দেখেন। সেটা তাকে এতটাই আকর্ষণ করে যে, সেই মুহূর্ত থেকেই তার জীবনের লক্ষ্য বদলে যায়।

তার বাবার উৎসাহে, মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি একা আমেরিকায় চলে যান। তখন তিনি ইংরেজি ভালভাবে জানতেন না, কিন্তু তার মধ্যে ছিল প্রবল আগ্রহ আর জেদ। এরপর তিনি ধাপে ধাপে এগিয়েছেন। প্রথমে কমিউনিটি কলেজ, তারপর বিশ্ববিদ্যালয়, তারপর ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি, হার্ভার্ডে পোস্টডক্টরাল গবেষণা এবং শেষ পর্যন্ত ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলেতে অধ্যাপক হিসাবে কাজ শুরু করেন।

যে বিজ্ঞান অসম্ভবকে সম্ভব করেছে

রসায়নে আমরা জানি, পরমাণু (atom) আর অণু (molecule) দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাঠামো তৈরি করা যায়। কিন্তু আসল সমস্যা হল: এই কাঠামোগুলিকে কীভাবে ঠিকঠাক, নিয়ম মেনে সাজানো যায়।

এটা বুঝতে একটা সহজ উদাহরণ ভাবুন: লেগো খেলনা। লেগোর প্রতিটি খণ্ড খাপে খাপে নির্দিষ্ট জায়গায় বসে, তাই আপনি যা বানাতে চান, ঠিক সেটাই তৈরি করা যায়। কিন্তু বাস্তবে রাসায়নিক পদার্থ এমন নয়; এগুলি একসঙ্গে মেশালে বেশিরভাগ সময় এলোমেলোভাবে জট পাকিয়ে যায়।
এখানেই ওমার ইয়াগি বড় পরিবর্তনটি আনেন। তিনি দেখান, যদি সঠিক ধাতু (metal) আর সঠিক জৈব যৌগ (organic compound) বেছে নেওয়া যায়, তাহলে এগুলিও লেগোর মত নিয়ম মেনে সাজানো সম্ভব।

এইভাবে তৈরি হয় একটি বিশেষ ধরনের কাঠামো, যার ভেতরে থাকে অসংখ্য ছোট ছোট ফাঁপা জায়গা, মৌচাকের মত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই ফাঁপা জায়গাগুলির আকার আগে থেকেই ঠিক করে দেওয়া যায়। ফলে নির্দিষ্ট অণু ধরার জন্য আলাদা করে “কাস্টম” উপাদান তৈরি করা সম্ভব হয়।

১৯৯৫ সালের আগে বেশিরভাগ বিজ্ঞানীই মনে করতেন, এভাবে এত নিয়ম মেনে কাঠামো তৈরি করা সম্ভব না। কিন্তু ইয়াগি সেটাই করে দেখান।

এই গবেষণা থেকে তৈরি হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান M*F (Metal-Organic Framework)।

M*F আসলে দেখতে গুঁড়া পাউডারের মত, কিন্তু এর ভেতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র (pore) থাকে। এই ছিদ্রগুলি এত বেশি যে, মাত্র এক চা-চামচ M*F-এর ভেতরের মোট পৃষ্ঠতল একটি ফুটবল মাঠের সমান হতে পারে।

এখন প্রশ্ন: এটা পানি বানায় কীভাবে?

যখন বাতাস M*F-এর ভেতর দিয়ে যায়, তখন বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প এই ছিদ্রগুলির মধ্যে আটকে যায়। তারপর যখন সামান্য তাপ দেওয়া হয়, যেমন সূর্যের আলো, তখন সেই পানি আবার বের হয়ে আসে। পরে ঠাণ্ডা হয়ে সেটি তরল পানিতে পরিণত হয়।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, এই প্রক্রিয়া এমন জায়গাতেও কাজ করে, যেখানে বাতাসে আর্দ্রতা মাত্র ১০% থেকে ২০%। মানে প্রায় মরুভূমির মত শুষ্ক জায়গাতেও এটি পানি তৈরি করতে পারে।

২০২৫ সালের নোবেল পুরস্কার ইয়াগি একা পাননি। কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুসুমু কিতাগাওয়া এবং মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের রিচার্ড রবসন তার সহ-বিজয়ী—তিনজন মিলে M*F-এর ভিত্তি তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন।

ডেথ ভ্যালি থেকে ক্যারিবিয়ান: যন্ত্রটি যেখানে যেতে পারে

ওমার ইয়াগি শুধু ল্যাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; তিনি চেয়েছেন তার আবিষ্কার বাস্তব জীবনে কাজে লাগুক। সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন Atoco, যারা এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছে যা দেখতে অনেকটা ২০ ফুটের শিপিং কন্টেইনারের মত। বাইরে থেকে সাধারণ, কিন্তু ভেতরে কাজ করছে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি।

এই যন্ত্রের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হল, এটি বিদ্যুৎ ছাড়াই পানি তৈরি করতে পারে, শুধু বাতাস আর সূর্যের আলো ব্যবহার করে। ভেতরে থাকা M*F উপাদান বাতাস থেকে জলীয় বাষ্প ধরে, আর সূর্যের তাপে সেটিকে পানিতে রূপান্তর করে। এক কথায় যেন “হাওয়াকে চেপে পানি বের করা।”

বাস্তবে দেখা গেছে, এমন একটি যন্ত্র প্রতিদিন প্রায় ১,০০০ লিটার বিশুদ্ধ পানি তৈরি করতে পারে, এমনকি মরুভূমির মত জায়গাতেও, যেখানে আর্দ্রতা খুবই কম। একজন মানুষ যদি দিনে গড়ে ২ লিটার পানি পান করে, তাহলে এই একটি যন্ত্রই প্রায় ৫০০ মানুষের দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটাতে পারে। মানে, একটি মেশিনই পানির চাহিদা মেটাতে সক্ষম ছোট একটি গ্রামের। আর যদি এই যন্ত্র বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তাহলে উৎপাদন আরও বেড়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু পানীয় জলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, কৃষিতেও এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন, কারখানায় যে অতিরিক্ত তাপ অপচয় হয়, সেটিকে কাজে লাগিয়ে গ্রিনহাউসে পানি তৈরি করা যেতে পারে। ফলে একই সঙ্গে শক্তির অপচয় কমানো এবং পানি উৎপাদন দুটি সমস্যারই সমাধান সম্ভব।

ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও অ্যারিজোনায় এই প্রযুক্তির পাইলট প্রকল্প শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

পানি-সংকট: সংখ্যাটা যতটা ভয়ঙ্কর

পৃথিবীতে পানি আছে, কিন্তু নিরাপদ, ব্যবহারযোগ্য পানি ক্রমেই মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষ এমন জায়গায় বাস করে, যেখানে পানি পাওয়া অনিশ্চিত বা ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ বছরের অন্তত এক মাস এমন সময় পার করে, যখন পানির তীব্র অভাব দেখা দেয়।

এই সংকট মোকাবিলায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ আলাদা করার পদ্ধতি—ডিস্যালিনেশন। প্রযুক্তিটি কার্যকর, কিন্তু এর একটি বড় সমস্যা আছে: এতে যে অতিরিক্ত ঘন লবণাক্ত পানি (brine) তৈরি হয়, তা আবার সমুদ্রে ফেলে দিতে হয়, যা ধীরে ধীরে সামুদ্রিক প্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে। ঠিক এখানেই M*F-ভিত্তিক প্রযুক্তি আলাদা জায়গা করে নেয়।

সীমাবদ্ধতা: পথ এখনও দীর্ঘ

প্রযুক্তিটি যতই চমকপ্রদ শোনাক, বাস্তবতা একটু বেশি কঠিন। বিজ্ঞানীরাও সরাসরি বলছেন, এখনও এই পথ পুরোপুরি তৈরি হয়নি। বাতাস থেকে পানি সংগ্রহের ধারণা কাজ করছে ঠিকই, কিন্তু বড় পরিসরে ব্যবহার করতে গেলে সবচেয়ে বড় বাধা হল খরচ। বর্তমানে এই পদ্ধতিতে পানি তৈরি করা ডিস্যালিনেশনের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল।

এর মূল কারণ M*F নিজেই। এই উপাদানটি তৈরি করা জটিল, এবং বড় আকারে উৎপাদন করতে গেলে খরচ দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে প্রযুক্তিটি এখনও সস্তা, সহজলভ্য সমাধান হয়ে উঠতে পারেনি। শুধু তাই নয়, M*F-এর আরেকটি সীমাবদ্ধতা হল, এর তাপ পরিবাহিতা কম। এর মানে, বড় আকারের যন্ত্রে দ্রুত ও কার্যকরভাবে তাপ ছড়িয়ে দেওয়া কঠিন হয়ে যায়, যা পুরো সিস্টেমের দক্ষতাকে কমিয়ে দেয়। তাই বড় স্কেলে এই প্রযুক্তি চালাতে গেলে নতুন ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং সমাধান দরকার।

নোবেল মঞ্চে এক শরণার্থীর বার্তা

স্টকহোমে নোবেল ভোজসভায় দাঁড়িয়ে ওমার ইয়াগি ফিরে গিয়েছিলেন তার শৈশবে। সেই জর্ডানের ধুলিমাখা পাড়ায়। যেখানে পানি আসত ফিসফিস করে ছড়িয়ে পড়া এক খবরের মত। সবাই হুড়াহুড়ি করে কলের দিকে ছুটত, কারণ সময় খুব কম; প্রবাহ বন্ধ হওয়ার আগেই যতটা সম্ভব পানি তুলে নিতে হত।

সেই এক ঘরের জীবন থেকে নোবেল মঞ্চে পৌঁছানোর এই যাত্রা আসলে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি দেখায় বিজ্ঞান কীভাবে মানুষের জীবন বদলাতে পারে, আর কোথা থেকে শুরু করেছেন তা শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করে না আপনি কোথায় পৌঁছাবেন। ইয়াগি নিজেই বলেছেন, “বিজ্ঞান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সমতা-নির্মাতা।”

তার স্বপ্ন খুব সরল, কিন্তু গভীর—“ব্যক্তিগত পানি স্বাধীনতা।” যেখানে পানি আর কারো নিয়ন্ত্রণে পাওয়া কোনো সুবিধা নয়, বরং নিজের হাতে নিশ্চিত করা এক মৌলিক অধিকার।

যেমন আজ অনেকেই নিজের বাড়িতে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে, ঠিক তেমনি একদিন হয়ত প্রতিটি পরিবার নিজের প্রয়োজনের পানি নিজেই তৈরি করতে পারবে, কোনো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করেই।

#পানি #বাতাস #বিজ্ঞান

Address

City Bank Center, 28, Gulshan Avenue, Gulshan 1, Bangladesh
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Citytouch posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Citytouch:

Share