Citytouch

Citytouch Digital Banking Service from City Bank brings you the simplest way to handle banking.
(1)

এআই হ্যালুসিনেশন কী এবং কেন এটা থামছে না?২০২৪ সালের ২ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নতুন একটা চ্যাটবট চালু করে, যা...
05/08/2026

এআই হ্যালুসিনেশন কী এবং কেন এটা থামছে না?

২০২৪ সালের ২ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) নতুন একটা চ্যাটবট চালু করে, যার নাম ছিল SARAH (Smart AI Resource Assistant for Health)। মুখের অভিব্যক্তি বদলাতে সক্ষম এই ভার্চুয়াল সহকারী GPT-3.5 প্রযুক্তির ওপর তৈরি। ৮টি ভাষায়, দিনরাত ২৪ ঘণ্টা মানুষের সঙ্গে এটা কথা বলে। আর এর কাজও গুরুত্বপূর্ণ—স্বাস্থ্যকর খাবার, ধূমপান ছাড়া, মানসিক চাপ সামলানোসহ নানা বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া।

কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই একটা সমস্যা ধরা পড়ে। SARAH এমন তথ্য দিতে শুরু করে, যেগুলি বাস্তবে নেই। একবার তো সান ফ্রান্সিসকোর কয়েকটা ক্লিনিকের নাম-ঠিকানাই বানিয়ে বলেছিল, বাস্তবে যেগুলির কোনো অস্তিত্বই নেই।

শেষ পর্যন্ত WHO নিজেদের ওয়েবসাইটেই সতর্কবার্তা দিয়ে জানায়, চ্যাটবটের দেওয়া উত্তর সব সময় সঠিক নাও হতে পারে।

ঘটনাটা কয়েক দিনের মধ্যেই চাপা পড়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন ঠিকই থেকে যায় যে, কোটি কোটি তথ্য শিখেও এআই কেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল তথ্য বানিয়ে বলে? আর এত পরিচিত সমস্যা এখনও পুরোপুরি দূর করা যায়নি কেন?

এই বানিয়ে ফেলা তথ্যের নামই হ্যালুসিনেশন (hallucination)। সহজ করে বললে, এমন উত্তর যা পড়তে বা শুনতে একেবারে বিশ্বাসযোগ্য লাগে, অথচ বাস্তবের সঙ্গে তার কোনো মিল নেই।

কখনও সরাসরি ভুল তথ্য, কখনো আগাগোড়া বানানো রেফারেন্স, কখনো যুক্তির ভেতরে ফাঁক, আবার কখনো প্রশ্নের প্রেক্ষাপটটাই ভুল বোঝা। চেহারা যেমনই হোক, মূল ব্যাপারটা একই থাকে, যন্ত্র আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এমন কথা বলছে, যা সত্য নয়।

চ্যাটবট প্রযুক্তির সবচেয়ে আলোচিত এবং জটিল সমস্যাগুলির একটা তাই এটা। তবে শুরুতেই পরিষ্কার করে নেওয়া দরকার, এটা কোনো সফটওয়্যার ত্রুটি বা সাময়িক গোলযোগ নয়। বরং ভাষা মডেল যেভাবে কাজ করে, সেই পদ্ধতির মধ্যেই এই সীমাবদ্ধতার শিকড় লুকিয়ে আছে।

যন্ত্র আসলে করছে কী

অনেকের ধারণা, চ্যাটবট কোনো ডেটাবেজ থেকে উত্তর খুঁজে আনে। আসলে বড় ভাষা মডেল (LLM) সাধারণ অবস্থায় তা করে না। এটা সার্চ ইঞ্জিন বা বিশ্বকোষ নয়; ভাষার সম্পর্ক শিখে নেওয়া একটা গাণিতিক ব্যবস্থা।

একটা সহজ উদাহরণ ধরা যাক। কেউ যদি লেখে, "বাংলাদেশের রাজধানী..."—আপনি প্রায় না ভেবেই বলতে পারবেন, "ঢাকা"। আবার, "আজ আকাশটা..."—তখন আপনার মাথায় আসতে পারে "নীল", "মেঘলা" বা "পরিষ্কার"।

কারণ এই শব্দগুলির সঙ্গে আগের শব্দগুলির সম্পর্ক আপনি অসংখ্যবার দেখেছেন। বড় ভাষা মডেলও অনেকটা এমনভাবেই কাজ করে। তবে পার্থক্য হল, মানুষের মত বোঝার চেষ্টা না করে সে গাণিতিক হিসাবের মাধ্যমে অনুমান করে এরপর কোন শব্দ আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

এই কাজ করতে গিয়ে মডেল কোনো বইয়ের পাতা উল্টায় না। তার ভেতরে থাকে কোটি কোটি গাণিতিক মান, যেগুলিকে বলা হয় প্যারামিটার।

এগুলিকে অনেকটা ভাষা শেখার অভিজ্ঞতার ছাপ বলা যায়। প্রশিক্ষণের সময় মডেল ইন্টারনেট, বই, গবেষণাপত্রসহ বিপুল পরিমাণ লেখা পড়ে। সেই লেখাগুলি মুখস্থ করে না; বরং কোন শব্দের সঙ্গে কোন শব্দের সম্পর্ক, কোন প্রসঙ্গে কী ধরনের বাক্য গড়ে ওঠে, সেগুলির পরিসংখ্যানগত ছাঁদ শিখে নেয়।

আর উত্তর লেখার সময়ও সে একসঙ্গে পুরো বাক্য তৈরি করে না। বরং ধাপে ধাপে আগায়। প্রথমে একটা শব্দ বা শব্দাংশ বেছে নেয়, তারপর সেটাকে সামনে রেখে পরের শব্দের সম্ভাবনা হিসাব করে। এরপর নতুন অবস্থান থেকে একই হিসাব চালায়।

এভাবেই একটার পর একটা শব্দ জুড়ে তৈরি হয় বাক্য, অনুচ্ছেদ, এমনকি পুরো একটা নিবন্ধ। এই প্রক্রিয়ার নাম next-token prediction।

এখানেই লুকিয়ে আছে হ্যালুসিনেশনের বীজ। মডেল আসলে সত্য-মিথ্যা যাচাই করে না; সে কেবল হিসাব করে কোন উত্তর ভাষার দিক থেকে সবচেয়ে সম্ভাব্য। ফলে অনেক সময় এমন উত্তর তৈরি হয়, যা পড়তে বিশ্বাসযোগ্য লাগে, কিন্তু বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। অর্থাৎ তার কাছে "সবচেয়ে সম্ভাব্য" আর "সবচেয়ে সত্য", এই দুই বিষয় এক নয়।

উত্তর কতটা সতর্ক হবে, আর কতটা সৃজনশীল হবে, সেটাও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর জন্য ব্যবহৃত হয় temperature নামের সেটিং। মান কম হলে মডেল তুলনামূলক নিরাপদ ও অনুমেয় উত্তর দেয়।

মান বাড়ালে নতুন ধরনের উত্তর দেওয়ার প্রবণতা বাড়ে, তবে ভুল করার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। কিন্তু একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি, temperature শূন্যে নামিয়ে দিলেও হ্যালুসিনেশন পুরাপুরি দূর হয় না। কারণ সমস্যা শুধু অনুমানের মাত্রায় নয়; ভাষা মডেলের কাজ করার মৌলিক পদ্ধতির মধ্যেই এর শিকড় রয়েছে।

যেখান থেকে হ্যালুসিনেশন শুরু

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুগল তাদের নতুন চ্যাটবট Bard–এর (বর্তমান Gemini) প্রথম ডেমো প্রকাশ করে। সেখানে চ্যাটবট দাবি করেছিল, জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সৌরজগতের বাইরের একটা গ্রহের প্রথম ছবি তুলেছে।

এই তথ্য ভুল ছিল। প্রথম ছবি তুলেছিল ইউরোপিয়ান সাদার্ন অবজারভেটরির ভেরি লার্জ টেলিস্কোপ, সেটাও ২০০৪ সালে, অথার্ৎ জেমস ওয়েব উৎক্ষেপণের বহু বছর আগে।

একই বছরে আরেকটা ঘটনা দেখায়, এই সমস্যা কত গুরুতর হতে পারে।

২০২৩ সালে নিউইয়র্কের আইনজীবী স্টিভেন শোয়ার্টজ আদালতে একটা মামলার নথি জমা দেন। সেখানে ছয়টা আদালতের রায় উদ্ধৃত করা হয়েছিল। পরে দেখা যায়, একটারও অস্তিত্ব নেই। সবগুলিই ChatGPT বানিয়ে দিয়েছিল।

আরও উদ্বেগের বিষয়, আইনজীবী যখন চ্যাটবটকে জিজ্ঞেস করেন, মামলাগুলি সত্যি কিনা, সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দেয়, “হ্যাঁ, এগুলি বাস্তব।” পরে বিচারক আইনজীবীদের ৫,০০০ ডলার জরিমানা করেন।

এই দুই ঘটনা একই শিক্ষা দেয়। একটা ভাষা মডেল খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলতে পারে, কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস কখনোই তার নির্ভুলতার প্রমাণ নয়। বরং সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হল, ভুল তথ্যও সে এমন ভঙ্গিতে বলে, যেন তাতে কোনো সন্দেহেরই অবকাশ নেই।

“জানি না” বলতে না পারার আসল কারণ

এই সমস্যা বোঝার জন্য একটা ছোট ঘটনা দিয়ে শুরু করা যাক।

এআই কেন ভুল তথ্য বানায়, তা নিয়ে গবেষণা করছেন কম্পিউটার বিজ্ঞানী অ্যাডাম কালাই (Adam Kalai)। একদিন একটা চ্যাটবটকে তার নিজের পিএইচডি অভিসন্দর্ভের নাম জিজ্ঞেস করা হল। চ্যাটবট পুরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তিনবারে তিনটা ভিন্ন নাম বলল, যার একটাও সঠিক নয়।

এরপর তার জন্মতারিখ জানতে চাইলে আবারও তিনটা আলাদা উত্তর দিল, সেগুলিও সব ভুল। যে গবেষক এ সমস্যা নিয়ে কাজ করছেন, তার সম্পর্কেই মডেলের এমন আত্মবিশ্বাসী ভুল গবেষকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

২০২৫ সালে OpenAI ও জর্জিয়া টেকের একদল গবেষক (অ্যাডাম কালাই, ওফির নাখুম, সন্তোষ ভেম্পালা ও এডউইন ঝাং) এই বিষয় নতুনভাবে ব্যাখ্যা করেন। পরে ২০২৬ সালে তাদের গবেষণা Nature-এ প্রকাশিত হয়। যুক্তি ছিল, হ্যালুসিনেশন শুধু মডেলের সমস্যা নয়; আমরা যেভাবে মডেলের দক্ষতা মাপি, সেই পদ্ধতিও এর জন্য দায়ী।

গবেষকেরা এর জন্য সহজ উদাহরণ দেন। পরীক্ষার হলে এমন একজন শিক্ষার্থীর কথা ভাবুন, যে একটা কঠিন প্রশ্নেরও উত্তর জানে না। খাতা ফাঁকা রাখলে যদি নিশ্চিতভাবেই শূন্য পেতে হয়, সে আন্দাজেই কিছু একটা লিখে দেয়।

ভুল হলেও হয়ত কিছু নম্বর পাওয়ার সুযোগ থাকবে। ভাষা মডেলের অবস্থাও অনেকটা এমন। তাকে এমনভাবে মূল্যায়ন করা হয়, যেখানে প্রতিটা প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই লাভজনক। ফলে "জানি না" বলার চেয়ে আন্দাজ করে উত্তর দেওয়াই তার কাছে বেশি যুক্তিসংগত হয়ে ওঠে।

গবেষকেরা আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। একটা উত্তর তৈরি করা আর সেটা সত্য কিনা যাচাই করা, এই দুই বিষয়ও এক নয়।

ভুলের হার কমানো যায় কতটা

হ্যালুসিনেশন পুরাপুরি দূর করা না গেলেও, এর হার কমানোর জন্য কাজ চলছে।

সবচেয়ে সহজ উপায় হল আরও উন্নত ও নির্ভুল তথ্য দিয়ে মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। এতে ভুলের হার কিছুটা কমে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলো RAG (Retrieval-Augmented Generation)।

এতে ভাষা মডেলকে নির্ভরযোগ্য ডেটাবেজ বা সার্চব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। ফলে শুধু নিজের শেখা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে, প্রয়োজন হলে সে বাইরের উৎস থেকেও তথ্য নিয়ে উত্তর দিতে পারে।

ধাপে ধাপে যুক্তি সাজিয়ে উত্তর দেওয়া, মানুষের প্রতিক্রিয়া থেকে শেখানো এবং নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে ভুলের হার মাপাও হ্যালুসিনেশন কমাতে সাহায্য করছে। তবে এগুলি ভুল পুরা দূর করতে পারে না।

বিভিন্ন মডেলের মধ্যেও পার্থক্য আছে। যেমন, Claude অনেক সময় নিজের অনিশ্চয়তা সম্পর্কে বেশি সতর্ক থাকে। এতে ভুল তথ্য বলার ঝুঁকি কমে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে সে উত্তর না দেওয়াকেই বেছে নেয়। অর্থাৎ নির্ভুলতা আর সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যে এখনও একটা টানাপোড়েন রয়ে গেছে।

যে সীমা থেকেই যায়

সব উন্নতির পরেও একটা মৌলিক বিষয় বদলায় না। বড় ভাষা মডেল মূলত সম্ভাবনার ভিত্তিতে কাজ করে। অর্থাৎ কোন উত্তর সবচেয়ে সম্ভাব্য, সেটা হিসাব করে; কোনটা শতভাগ সত্য, সেটা নিশ্চিত করে না। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানই বাস্তবসম্মতভাবে বলতে পারে না যে তাদের ভাষা মডেল ভুল করবে না।

এখানেই আসে alignment-এর প্রশ্ন। একটা মডেলের প্রধান লক্ষ্য কী? সব সময় সত্যের সবচেয়ে কাছাকাছি উত্তর দেওয়া, নাকি ব্যবহারকারীর কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর তৈরি করা? বাস্তবে এই দুই লক্ষ্য সব সময় এক নয়।

যখন তাদের মধ্যে সংঘাত তৈরি হয়, তখন অনেক সময় মডেল এমন উত্তর বেছে নেয়, যা শুনতে বেশি বিশ্বাসযোগ্য, কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে পুরাপুরি মেলে না।

দায়টা তাহলে কার

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন শুধু প্রযুক্তির নয়, মানুষেরও।

ভাষা মডেল যে ভুল করতে পারে, এটা এখন আর নতুন খবর নয়। কিন্তু সেই ভুল তথ্য যাচাই না করেই বিশ্বাস করা বা ছড়িয়ে দেওয়ার দায় আমাদের। এই ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি চিকিৎসা, আইন, শিক্ষা ও সংবাদমাধ্যমে হয়ে থাকে। যেখানে একটা ভুল তথ্যের প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত গড়াতে পারে।

তাই এআই-কে শেষ কথা নয়, বরং একজন দক্ষ সহকারি হিসাবে ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, তারিখ, সংখ্যা ও রেফারেন্স নির্ভরযোগ্য উৎসে মিলিয়ে দেখার অভ্যাসই বেশির ভাগ ভুল এড়াতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, হ্যালুসিনেশন কোনো সাময়িক ত্রুটি নয়, এটা ভাষা মডেলের কাজ করার পদ্ধতির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে। ভবিষ্যতে সার্চভিত্তিক উত্তর, এজেন্টের মাধ্যমে তথ্য যাচাই, আলাদা verification স্তর এবং আরও উন্নত প্রশিক্ষণ-পদ্ধতি এই সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে।

কিন্তু সম্পূর্ণ দূর করতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা আজ কেউ দিতে পারে না। কেননা এআইকে বুঝে ব্যবহার করলে এটা আসলে অসাধারণ শক্তিশালী একটা সহকারী হতে পারে আপনার জন্য। কিন্তু অন্ধভাবে বিশ্বাস করলে একই প্রযুক্তি বিভ্রান্তির উৎসও হয়ে উঠতে পারে।

এআই হয়ত একদিন আরও ভালভাবে "জানি না" বলতে শিখবে। কিন্তু তত দিন পর্যন্ত যে তথ্য সত্য হওয়া জরুরি, সেটা যাচাই করার দায় আমাদেরই। কারণ যন্ত্র এখনও "জানি না" বলতে শেখেনি।

#এআই #হ্যালুসিনেশন #ভুল

মস্তিষ্কের ভেতরের অদেখা মহাবিশ্ব: চালের দানার সমান পরিসরে নিউরনের বিস্ময়কর জগৎ প্রাচীন মিশরে মমি বানানোর সময় শরীরের নান...
04/08/2026

মস্তিষ্কের ভেতরের অদেখা মহাবিশ্ব: চালের দানার সমান পরিসরে নিউরনের বিস্ময়কর জগৎ

প্রাচীন মিশরে মমি বানানোর সময় শরীরের নানা অঙ্গ যত্ন করে আলাদা পাত্রে রাখা হত। কিন্তু মস্তিষ্ক? সেটা নাক দিয়ে বের করে ফেলে দেওয়া হত, অপ্রয়োজনীয় ভেবে।

মানুষ তখন বিশ্বাস করত, চিন্তা আর অনুভূতির আসল আসন হৃদয়। মস্তিষ্ককে এই অবহেলা থেকে বের করে আনতে লেগে গেছে হাজার বছর।

আজ আমরা জানি, সব ভাবনা, স্মৃতি, ভাষা আর অনুভূতির পেছনে ওই ধূসর অঙ্গটাই। এর ভেতরে আছে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরন আর শত শত ট্রিলিয়ন সংযোগ।

তবু একটা প্রশ্ন এতদিন অধরাই ছিল যে এই কোটি কোটি নিউরন ভেতরে ঠিক কীভাবে একে অপরের সঙ্গে জোড়া লাগে? বিজ্ঞানীরা মস্তিষ্কের কোন অংশ কী করে তা জানতেন, কিছু পথও চিনতেন, কিন্তু একটা ছোট অংশের ভেতরে প্রতিটা কোষের জোড়ার পুরো ছবি কারও হাতে ছিল না।

অর্ধেক চালের দানা

২০২৪ সালে হার্ভার্ড, গুগল আর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা প্রথমবারের মত সেই ছবিটা এঁকে দেখালেন। তারা নিলেন মস্তিষ্কের মাত্র এক ঘন মিলিমিটার টুকরা।

অর্ধেক চালের দানার চেয়েও ছোট। কিন্তু ওইটুকুর ভেতরেই ছিল প্রায় ৫৭ হাজার কোষ, ১৫ কোটি সংযোগ আর প্রায় ২৩ সেন্টিমিটার রক্তনালি। সবকিছুর অবস্থান আর জোড়া তারা এঁকে ফেললেন চুলের চেয়েও অনেক সূক্ষ্মভাবে।

কতটা তথ্য জমল, জানেন? ১.৪ পেটাবাইট। এক পেটাবাইট মানে হাজার টেরাবাইট। একটা সাধারণ ল্যাপটপে ধরে বড়জোর এক টেরাবাইট। অর্থাৎ এই এক টুকরো টিস্যুর ছবি রাখতে লাগবে হাজারখানেক ল্যাপটপ। সিএনএনের এক হিসাবে, এই তথ্য একশ কোটিরও বেশি বইয়ের সমান। এইটুকু এক ফোঁটা টিস্যু, অথচ তথ্যের পাহাড়।

কীভাবে বানানো হল

কাজটা মোটেই সহজ ছিল না। এক মৃগীরোগীর মস্তিষ্ক থেকে, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসার প্রয়োজনেই যেটুকু সরানো হয়েছিল। রোগীর অনুমতি নিয়ে গবেষকেরা ছোট্ট একটা টুকরা নেন।

তারপর সেটাকে কাটা হয় প্রায় পাঁচ হাজার পাতলা ফালিতে, প্রতিটা স্তর মোটে ৩৪ ন্যানোমিটার। চুলের চেয়ে কয়েক হাজার গুণ সরু। প্রতিটা ফালির ছবি তোলা হয় শক্তিশালী ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে।

এত ছবির স্তূপ থেকে কোনটা নিউরন, কোনটা তার, কোথায় সংযোগ এসব খুঁজে বের করা মানুষের একার কাজ নয়। এখানেই এলো গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। তবে সব ভার এআইয়ের ওপর ছাড়া হয়নি।

একটা সংযোগ ভুল ধরা পড়লে গোটা নকশাই বদলে যায়, তাই গবেষকেরা বারবার নিজে হাতে মিলিয়ে দেখেছেন। শেষে এই বিশাল মানচিত্র তারা সবার জন্য খুলে দিয়েছেন, যেন পৃথিবীর যেকোনো বিজ্ঞানী তা থেকে নতুন কিছু খুঁজে নিতে পারেন।

যা দেখে অবাক হলেন বিজ্ঞানীরাও

ছবিগুলি সাজানোর পর কিছু জিনিস চোখে পড়ল, যা আগে মানুষের মস্তিষ্কে কেউ এত স্পষ্ট দেখেনি। কিছু অ্যাক্সন, নিউরনের লম্বা বার্তাবাহক লেজ। নিজের চারপাশে অদ্ভুতভাবে পাক খেয়ে জট পাকিয়ে বসে আছে। গবেষকেরা এর নাম দিলেন ‘ঘূর্ণি’। কেন এমন হল? সেটা কি স্বাভাবিক, নাকি রোগ, বয়স বা ওষুধের ছাপ তারা নিজেরাও নিশ্চিত নন।

আরেকটা জিনিসও অবাক করল তাদের। সাধারণত দুটো নিউরন জোড়া লাগে দু-একটা সংযোগে। কিন্তু কিছু বিরল জোড়া মিলল, যেখানে একটা নিউরন আরেকটার সঙ্গে বাঁধা ৫০টি পর্যন্ত সংযোগে। অস্বাভাবিক রকম শক্ত বাঁধন, যার মানে কী তা এখনও ধোঁয়াশা। শুধু এই দুটো রহস্যই হয়ত সামনে অনেক নতুন গবেষণার জন্ম দেবে।

মস্তিষ্কের গুগল ম্যাপ

মস্তিষ্কে কোন কোষ কোথায় আছে, সেটা জানা এক জিনিস। কিন্তু সেই কোষগুলি জোড়া লেগে কীভাবে একটা ভাবনা বা একটা স্মৃতি বানায়, সেটাই আসল ধাঁধা। এই সংযোগের পুরো নকশাকে বিজ্ঞানীরা বলেন কনেক্টোম। সহজ করে বললে, জিন যদি হয় শরীর বানানোর রেসিপি, কনেক্টোম তবে মস্তিষ্কের ‘তারের ম্যাপ’—কোন নিউরন কার সঙ্গে জোড়া, কোন পথে খবর চলে।

গুগল ম্যাপে যেমন শহরের প্রতিটা রাস্তা, গলি আর মোড় দেখা যায়, এই কাজটাও তেমনই। তবে একটা মস্তিষ্কের ক্ষুদ্র টুকরার। আগে বিজ্ঞানীরা যেন শুধু বড় সড়কগুলি চিনতেন; এখন ছোট্ট গলিটাও চোখের সামনে।

তবে ভুললে চলবে না, এটা গোটা মস্তিষ্কের ছবি নয়, মাত্র এক ঘন মিলিমিটারের। পুরো মস্তিষ্ক এর চেয়ে প্রায় দশ লক্ষ গুণ বড়। পুরোটা এভাবে আঁকতে যে সময়, টাকা আর কম্পিউটিং লাগবে, তা এখনও কল্পনার বাইরে। তবু বড় আবিষ্কার তো এমন ছোট এক পা দিয়েই শুরু হয়।

গোলকৃমি থেকে মানুষ

মস্তিষ্কের তারের নকশা আঁকার স্বপ্ন অবশ্য নতুন নয়। আশির দশকে বিজ্ঞানীরা প্রথম যে প্রাণীর পুরো স্নায়ু-নকশা এঁকে ফেলেছিলেন, সেটি এক ক্ষুদ্র গোলকৃমি—C. elegans, মোটে ৩০২টি নিউরন। ওই সামান্য নকশা থেকেই শরীর আর স্নায়ুর কথোপকথন নিয়ে কত কিছু জানা গেছে।

এরপর এল ফলের মাছি, সম্প্রতি যার গোটা মস্তিষ্কের নকশাও সম্পূর্ণ হয়েছে। সেই সিঁড়ি বেয়েই এবার এল মানুষের মস্তিষ্কের এক টুকরো। ৩০২টি নিউরন থেকে ৫৭ হাজার কোষ। দূরত্বটা বিশাল, কিন্তু পথটা একটাই।

এতে লাভ কী

এই গবেষণা আজই কোনো ওষুধ এনে দেবে না। এর আসল দাম বোঝা যাবে দশ-বিশ বছর পর। সবচেয়ে বড় আশা আলঝেইমার নিয়ে। এই রোগে মস্তিষ্কের কোষ ধীরে ধীরে মরে, সংযোগ ছিঁড়ে যায়। কিন্তু শুরুটা ঠিক কোথায়, কোন কোষ আগে বিগড়ায়, তা এখনও পুরো জানা নেই।

সুস্থ আর রোগা মস্তিষ্কের এমন সূক্ষ্ম ছবি মিলিয়ে দেখলে রোগের প্রথম ধাক্কাটা ধরা সহজ হতে পারে। অটিজম, স্কিজোফ্রেনিয়া বা পারকিনসনসের মত রোগেও—যেখানে গোলমালটা প্রায়ই একটা কোষে নয়, গোটা সংযোগের জালে—এই ম্যাপ পথ দেখাতে পারে।

আরেকটা দিক হল, মস্তিষ্কের সংকেত পড়ে যন্ত্র চালানোর প্রযুক্তি, ব্রেন-কম্পিউটার ইন্টারফেস। সংকেত কোন পথে চলে তা যত ভাল বোঝা যাবে, পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের নড়াচড়া বা কথা বলার নতুন উপায় তত কাছে আসবে। এআই গবেষণাও এতে ঋদ্ধ হতে পারে। কারণ আজকের এআই মস্তিষ্ক থেকে অনুপ্রাণিত হলেও, আসল মস্তিষ্কের ধারেকাছেও নয়। তবে একটা কথা পরিষ্কার: এই গবেষণার লক্ষ্য মস্তিষ্ককে কম্পিউটারে তুলে ফেলা নয়, শুধু তাকে আরও ভাল করে চেনা।

জিনোমের মত এক শুরু

নব্বইয়ের দশকে বিজ্ঞানীরা যখন মানুষের পুরো জিন-নকশা আঁকতে নামলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন, এত সময় আর টাকা ঢেলে লাভ কী? অথচ ২০০৩ সালে সেই হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট শেষ হওয়ার পরই খুলে গেল ক্যানসার থেকে জিন-চিকিৎসার কত দরজা। মস্তিষ্কের এই মানচিত্রও হয়ত তেমনই একটা শুরু।

গবেষকেরা নিজেরাই বলছেন, এটা শেষ নয়, সবে প্রথম পা। সামনের লক্ষ্যটাও ঠিক করা আছে, আমেরিকার BRAIN Initiative-এর সমর্থনে একটা গোটা ইঁদুরের মস্তিষ্ক। কিন্তু শুধু সেটুকুর জন্যই লাগবে এই মানুষের টুকরার প্রায় হাজার গুণ তথ্য।

আর গোটা মানুষের মস্তিষ্ক তো লক্ষ গুণ বড়। এত তথ্য জমানো আর বিশ্লেষণ করাই হবে আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রযুক্তিগত লড়াই।

কেউ কেউ আরও দূরের স্বপ্ন দেখছেন। মস্তিষ্কের এমন বিস্তারিত নকশা থেকে একদিন হয়ত কম্পিউটারে তার আচরণ খানিকটা নকল করা যাবে। তখন কোনো ওষুধ স্নায়ু-সংযোগে কী করে, বা কোনো রোগ কীভাবে ছড়ায় তা আসল রোগীর ওপর পরীক্ষার আগেই তা যাচাই করা যাবে একটা ভার্চুয়াল মডেলে। সেই দিন এখনও অনেক দূরে, তবে ভিতটা তৈরি হচ্ছে আজ থেকেই।

#মস্তিষ্ক #নিউরন #গবেষণা

ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার ৮ উপায়সফল ক্যারিয়ার গড়া একটি দীর্ঘ যাত্রা। যার প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। এগিয়ে যাওয়ার পথ সবার ...
04/08/2026

ক্যারিয়ারে সফল হওয়ার ৮ উপায়

সফল ক্যারিয়ার গড়া একটি দীর্ঘ যাত্রা। যার প্রতিটি ধাপ গুরুত্বপূর্ণ। এগিয়ে যাওয়ার পথ সবার জন্য এক নয়, তবে কিছু মৌলিক নীতি প্রায় সব ক্ষেত্রেই সমান কার্যকর। সেগুলিরই সংক্ষিপ্ত উপস্থাপন এই ইনফোগ্রাফিক।

কোটেশন: ফেই-ফেই লি #মানুষ  #এআই  #কৃ্ত্রিমবুদ্ধিমত্তা
04/08/2026

কোটেশন: ফেই-ফেই লি

#মানুষ #এআই #কৃ্ত্রিমবুদ্ধিমত্তা

যেভাবে ক্লাসরুমের বিকল্প হয়ে উঠছে এআই এজেন্টরাত ১১টা। পরদিন পরীক্ষা। একটা অঙ্ক বারবার ভুল হচ্ছে, কিন্তু সাহায্য করার মত...
04/08/2026

যেভাবে ক্লাসরুমের বিকল্প হয়ে উঠছে এআই এজেন্ট

রাত ১১টা। পরদিন পরীক্ষা। একটা অঙ্ক বারবার ভুল হচ্ছে, কিন্তু সাহায্য করার মত কেউ নেই। আপনি ফোনে প্রশ্নটা লিখলেন। কয়েক সেকেন্ডেই উত্তর এল। শুধু উত্তর নয়, কোথায় ভুল হল আর কেন হল, সেটাও ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দিল। তারপর আরও কয়েকটা সহজ উদাহরণ। একই প্রশ্ন দশবার করলেও বিরক্ত হল না; যতক্ষণ না বুঝছেন, ততক্ষণ ধৈর্য ধরে শেখাতে থাকল।

কয়েক বছর আগেও এমন দৃশ্য কল্পবিজ্ঞান মনে হত; আজ তা বাস্তব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু তথ্য খুঁজে দেওয়ার যন্ত্র নয়। এটি শেখাতে পারে, ভুল ধরিয়ে দিতে পারে, একজন ব্যক্তিগত শিক্ষকের মত প্রতিটি শিক্ষার্থীর প্রয়োজন বুঝে পাশে থাকতে পারে।

ছাপাখানা বা ইন্টারনেট যেখানে শুধু তথ্য পৌঁছে দিত, এআই সেই তথ্য বুঝতে আর নতুন কিছু গড়তে সাহায্য করে। ভবিষ্যৎবিশ্লেষক থমাস ফ্রের মতে, আগামী দিনে ডিগ্রি বা মুখস্থ বিদ্যার চেয়ে বেশি মূল্য পাবে একজন মানুষ কত দ্রুত শিখতে পারে আর সেই জ্ঞান দিয়ে কী তৈরি করতে পারে।

কিন্তু ‘এআই এজেন্ট’ বলতে ঠিক কী বোঝায়? সাধারণ একটা চ্যাটবট প্রশ্নের উত্তর দিয়েই থেমে যায়। এজেন্ট তার চেয়ে বেশি কিছু। সে একটা লক্ষ্য মাথায় রেখে এগোয়, বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করে, আগের কথা মনে রাখে, দরকারে নিজে থেকেই অন্য সরঞ্জাম বা তথ্য টেনে আনে, আর একটানা পাশে থেকে কাজটা এগিয়ে নেয়।

শিক্ষায় এর মানে, এজেন্ট শুধু উত্তর বলে না—সে শিক্ষার্থীর গতি বোঝে, শেখার পথ সাজায় আর প্রতিটি ধাপে সঙ্গী হয়। আজকের বেশির ভাগ টুল এখনও পুরোপুরি এজেন্ট নয়, বরং বুদ্ধিমান সহকারী; কিন্তু ধীরে ধীরে সেগুলি সেই এজেন্টের রূপ নিচ্ছে।

কিন্তু এই পরিবর্তন শুধু নতুন প্রযুক্তির গল্প নয়। এটি আরও বড় একটি প্রশ্ন সামনে আনছে: যদি এআই একজন শিক্ষকের অনেক কাজ করতে পারে, তাহলে স্কুলের আসল কাজ কী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আগে দেখতে হবে, বাস্তবে বিভিন্ন দেশে কী ঘটছে।

১. দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা পড়াশোনা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অস্টিন শহরের Alpha School এই বদলের অন্যতম আলোচিত উদাহরণ। এখানে শিক্ষার্থীরা এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যারের সাহায্যে দিনে প্রায় দুই ঘণ্টায় মূল একাডেমিক পড়া শেষ করে।

দীর্ঘ ক্লাস নেওয়া শিক্ষকের বদলে আছেন ‘গাইড’, যাদের কাজ পড়ানো নয়—অনুপ্রাণিত করা, লক্ষ্য ঠিক করতে সাহায্য করা আর বাস্তব দক্ষতা গড়ে তুলতে পাশে থাকা। বাকি সময় যায় নেতৃত্ব, যোগাযোগ, উদ্যোক্তা-দক্ষতা আর আর্থিক শিক্ষার মত বিষয়ে।

স্কুলটির দাবি, তাদের শিক্ষার্থীরা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে দ্রুত শেখে। যদিও এটি এখনও স্বাধীন গবেষণায় পুরাপুরি প্রমাণিত নয়। তবু এটি দেখিয়ে দিয়েছে, এআইকে কেন্দ্রে রেখে একটা স্কুল কতটা ভিন্নভাবে চলতে পারে।

এই মডেলের মূল ধারণা হল, তথ্য শেখানোর যান্ত্রিক অংশটি এআই সামলাবে, আর মানুষের সময় ব্যয় হবে অনুপ্রেরণা, নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরিতে। অর্থাৎ, শিক্ষক পুরোপুরি হারিয়ে যাচ্ছেন না, তার ভূমিকা বদলে যাচ্ছে।

তবে এই মডেল নিয়ে বিতর্কও কম নয়। সমালোচকদের মতে, শেখা শুধু তথ্য আয়ত্ত করার বিষয় নয়; বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করা, মতভেদ সামলানো, একসঙ্গে বড় হওয়ার মত সামাজিক অভিজ্ঞতাও শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানুষের ভূমিকা পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া সম্ভব কিনা, সেই প্রশ্ন এখনও খোলা।

২. এস্তোনিয়া: গোটা দেশের শিক্ষায় এআই

একটা স্কুল নয়, পুরো দেশের শিক্ষায় এআই যুক্ত করার সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপের ছোট দেশ এস্তোনিয়া। ১৯৯০-এর দশকে Tiger Leap কর্মসূচিতে দেশটি সব স্কুলে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট পৌঁছে দিয়ে ডিজিটাল শিক্ষার ভিত গড়েছিল, যা পরে তাদের বিশ্বের অন্যতম ডিজিটাল রাষ্ট্রে পরিণত করে। সেই ধারাতেই এবার শুরু হয়েছে AI Leap।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে প্রথম ধাপে দেশটির প্রায় ২০ হাজার দশম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ৩ হাজার শিক্ষক ChatGPT Edu-এর মত শিক্ষা-উপযোগী এআই টুল বিনা মূল্যে ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন; পরের বছর যুক্ত হবে আরও ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী।

তবে লক্ষ্য শুধু এআই ব্যবহার শেখানো নয়। অর্থাৎ, তারা এআইকে উত্তর দেওয়ার যন্ত্র হিসাবে নয়, সমালোচনামূলক চিন্তা গড়ে তোলার সহকারী হিসাবে ব্যবহার করতে চায়।

শিক্ষার্থীরা কীভাবে সঠিক প্রশ্ন করবে, উত্তর যাচাই করবে, ভুল তথ্য চিনবে আর নিজের বুদ্ধি খাটিয়ে সমস্যা সমাধান করবে, সেটাও শেখানো হচ্ছে। শিক্ষকদের জন্যও আলাদা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা আছে।

প্রেসিডেন্ট আলার কারিসের ভাষায়, তিন দশক আগে Tiger Leap যেমন দেশকে ডিজিটাল যুগে এনেছিল, AI Leap তেমনি শিক্ষাকে এআইয়ের যুগের জন্য প্রস্তুত করবে। অনেক বিশেষজ্ঞ তাই একে দেখছেন ভবিষ্যৎ-শিক্ষার একটা বৈশ্বিক পরীক্ষাগার হিসেবে।

৩. নাইজেরিয়া: এআই কি সত্যিই শেখার গতি বাড়ায়?

এআই নিয়ে দাবির অভাব নেই। কিন্তু বাস্তবে এটি শেখায় কতটা সাহায্য করে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই ২০২৪ সালে নাইজেরিয়ার এদো রাজ্যে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি পরীক্ষা চালানো হয়। প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থীকে স্কুল শেষে ছয় সপ্তাহ ধরে Microsoft Copilot (GPT-4–চালিত) দিয়ে ইংরেজি শেখানো হয়, পুরোটাই শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে।

ফল গবেষকদেরও অবাক করে। তাদের হিসাবে, এই ছয় সপ্তাহের অগ্রগতি প্রচলিত ব্যবস্থায় দেড় থেকে দুই বছরে যা হয়, তার সমান।

তবে গবেষণাটি একটা সতর্কবার্তাও দিয়েছে। “দেড় থেকে দুই বছর” সরাসরি পর্যবেক্ষণ নয়, ছয় সপ্তাহের ফল থেকে করা একটা পরিসংখ্যানগত হিসাব। আর সবাই সমান উপকৃত হয়নি। আগে থেকেই ভাল করা শিক্ষার্থীদের উন্নতি ছিল বেশি।

অর্থাৎ এআই একাই শিক্ষার সব সমস্যা মিটিয়ে দেবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ এখনও নেই।

৪. Khanmigo: উত্তর নয়, চিন্তা করতে শেখায়

এআইভিত্তিক শিক্ষার আরেকটি বড় উদাহরণ Khan Academy-এর Khanmigo। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক স্কুলে এটি শ্রেণিকক্ষের সহকারী হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। এর বিশেষত্ব হল, এটি সরাসরি উত্তর বলে দেয় না; বরং পাল্টা প্রশ্ন করে শিক্ষার্থীকে নিজেই সমাধান খুঁজতে উৎসাহ দেয়।

মুখস্থ নয়, চিন্তা করার অভ্যাস গড়াই এর লক্ষ্য। তবে এ পর্যন্ত পাওয়া ফলাফল বলছে, শুধু টুল ব্যবহার করলেই শেখার মান নাটকীয়ভাবে বাড়ে না। সবচেয়ে ভাল ফল মেলে তখনই, যখন এআই একজন শিক্ষকের সঙ্গে মিলে কাজ করে। প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, শেখায় মানুষের ভূমিকা এখনও কেন্দ্রীয়।

এতে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়—সবচেয়ে কার্যকর শিক্ষা তখনই হয়, যখন যন্ত্র তথ্য ব্যাখ্যা করার কাজ করে, আর মানুষ কৌতূহল, আত্মবিশ্বাস ও শেখার আগ্রহ তৈরি করে।

এআই এজেন্ট আসলে কীভাবে শেখায়?

এতগুলি উদাহরণের পেছনে কাজ করছে একই মূল কৌশল। এআই এজেন্ট ভেতরে ভেতরে ঠিক কীভাবে শেখায়? এখানেই একটা সাধারণ টুল আর এজেন্টের তফাত স্পষ্ট হয়। একজন শিক্ষককে একসঙ্গে অনেককে পড়াতে হয়; এজেন্ট প্রতিটি শিক্ষার্থীর সঙ্গে আলাদাভাবে কাজ করতে পারে।

কেউ প্রশ্ন করলে সে প্রথমে তার আগের ভুলগুলি বিশ্লেষণ করে, তারপর বোঝার স্তর অনুযায়ী ব্যাখ্যা দেয়, বাড়তি উদাহরণ দেখায়, দরকার হলে একই জিনিস অন্যভাবে বোঝায়। কেউ দ্রুত শিখলে তাকে কঠিন অনুশীলন দেয়, পিছিয়ে থাকলে গোড়া থেকে শুরু করে। আর যেহেতু সে আগের আলাপ মনে রাখে, একই ভুল বারবার হলে সেটাও ধরে ফেলে।

এজেন্ট একবারে পুরো কাজটা করে দেয় না; বড় কাজকে ছোট ধাপে ভাগ করে এগোতে সাহায্য করে। একটা প্রতিবেদন লেখা, নতুন ভাষা শেখা বা প্রোগ্রামিং—বিষয় বাছাই, তথ্য সংগ্রহ, খসড়া, ভুল সংশোধন, অনুশীলন—প্রতি ধাপে পাশে থাকে। এখান থেকেই তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যৎ-শিক্ষার নতুন সম্ভাবনা।

তবে শেখার এমন কিছু দিক আছে, যেগুলি এখনও এআইয়ের নাগালের বাইরে। একজন সহপাঠীর সঙ্গে তর্ক, ব্যর্থতার পর আবার চেষ্টা করা, দল বেঁধে কাজ শেখা কিংবা একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত উৎসাহ—এসব অভিজ্ঞতা এখনও মানুষের মাধ্যমেই সবচেয়ে ভাল তৈরি হয়।

এরপর কী?

এখনকার এআই মূলত লেখা, ছবি ও কথার মাধ্যমে শেখায়। কিন্তু এটা কেবল শুরু। যত দিন যাবে, এই সহকারীগুলি তত বেশি এজেন্টের রূপ নেবে। নিজে থেকে শেখার পথ সাজাবে, নানা সরঞ্জাম মিলিয়ে কাজ করবে, মাসের পর মাস অগ্রগতি মনে রাখবে, এমনকি পরের কোন প্রকল্পটা ধরা উচিত তা-ও এগিয়ে দেবে।

ধরুন, ইতিহাস পড়ার সময় শুধু বই নয়, ভিআর হেডসেট পরে প্রাচীন রোম বা মিসরের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতেই শেখা। বিজ্ঞানে ভার্চুয়াল পরীক্ষাগারে ঝুঁকি বা খরচ ছাড়াই বারবার পরীক্ষা।

মূল্যায়নের ধরনও বদলাতে পারে। বছরশেষের একটা পরীক্ষার বদলে এজেন্ট সারা বছরের কাজ ও অগ্রগতি বিশ্লেষণ করে শেখার ধারাবাহিক ছবি তুলে ধরবে। এর ছায়া পড়বে চাকরির বাজারেও—শুধু ডিগ্রি নয়, একজন কী শিখেছে, কী তৈরি করেছে, বাস্তব সমস্যা সমাধান করতে পারে কি না, সেটাই বড় হয়ে উঠবে।

এআই শিক্ষার সব সমস্যার সমাধান নয়, কিন্তু শেখার পদ্ধতিকে আমূল বদলে দিতে পারে। আর সেই পরীক্ষা নানা দেশে শুরুও হয়ে গেছে। ভবিষ্যতের গল্পটা মানুষ বনাম এআই নয়; মানুষ আর এআই এজেন্ট একসঙ্গে কীভাবে আরও ভাল শেখার পরিবেশ গড়বে, সেটাই আসল প্রশ্ন।

সবচেয়ে বড় বদলটা হয়ত কোনো সফটওয়্যার নয়, শেখার ধারণাতেই। মুখস্থের বদলে সমস্যা সমাধান, সৃজনশীলতা আর সারা জীবন শেখার মানসিকতা। সেই সূচনা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে।

তাই ভবিষ্যতের প্রশ্নটা শুধু "এআই কি শিক্ষককে বদলে দেবে?" নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল, "স্কুলের এমন কী কাজ আছে, যা কোনো যন্ত্র করতে পারে না?" সম্ভবত সেই উত্তরই আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থার রূপ ঠিক করবে।

#শিক্ষা #এআই #এআইএজেন্ট

02/08/2026

কী আছে নতুন সিটিটাচ-এ?

সিটিটাচ থেকে সিটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন এখন ঘরে বসেই। কয়েকটি ধাপেই খুলুন অ্যাকাউন্ট, আর উপভোগ করুন ব্যাংকিংয়ের সব সার্...
26/07/2026

সিটিটাচ থেকে সিটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলুন এখন ঘরে বসেই। কয়েকটি ধাপেই খুলুন অ্যাকাউন্ট, আর উপভোগ করুন ব্যাংকিংয়ের সব সার্ভিস। এখনই অ্যাকাউন্ট খুলুন নতুন সিটিটাচ-এ।

সিটিটাচ থেকে উপায়-এ ওয়ালেট ট্রান্সফার করেই Samsung Galaxy S26 Ultra জিতুন। অফার চলাকালীন সর্বোচ্চ মোট উপায় ওয়ালেট ট্রান্...
25/07/2026

সিটিটাচ থেকে উপায়-এ ওয়ালেট ট্রান্সফার করেই Samsung Galaxy S26 Ultra জিতুন। অফার চলাকালীন সর্বোচ্চ মোট উপায় ওয়ালেট ট্রান্সফারকারী হবেন এই আকর্ষণীয় পুরস্কারের বিজয়ী। এছাড়াও প্রতিদিন থাকছে ১,০০০ টাকা ক্যাশ রিওয়ার্ড জেতার সুযোগ। অফারটি চলবে ৩১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত।

এখন কোনো চার্জ ছাড়াই NESCO-এর প্রিপেইড ও পোস্টপেইড বিল পে করুন সিটিটাচে, মুহূর্তেই।
25/07/2026

এখন কোনো চার্জ ছাড়াই NESCO-এর প্রিপেইড ও পোস্টপেইড বিল পে করুন সিটিটাচে, মুহূর্তেই।

সিটিটাচ থেকে নগদ ওয়ালেটে অ্যাড মানি করলেই ইনস্ট্যান্ট বোনাস! ৳৫,০৫০ অ্যাড মানিতে ৳৫০ এবং ৳৭,০৭০ অ্যাড মানিতে ৳৭০ বোনাস। ...
21/07/2026

সিটিটাচ থেকে নগদ ওয়ালেটে অ্যাড মানি করলেই ইনস্ট্যান্ট বোনাস! ৳৫,০৫০ অ্যাড মানিতে ৳৫০ এবং ৳৭,০৭০ অ্যাড মানিতে ৳৭০ বোনাস। অফারটি চলবে ৩১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত।

Address

City Bank Center, 28, Gulshan Avenue, Gulshan 1, Bangladesh
Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Citytouch posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Citytouch:

Shortcuts

Share