07/08/2024
দেশে যতটুকু বিশৃংখলা তার জন্যে অন্যতম কারন সরকার ঘোষনায় বিলম্ব। অনতিবিলম্বে ছাত্রদের দাবী মেনে সরকার ঘোষনা করা হলে চেইন অব কমান্ড প্রতিষ্ঠা হবে এবং দ্রুত আইন শৃংখলা নিয়ন্ত্রনে চলে আসবে।
এই যে হাহাকার যারা করছে দেশ নাকি ধ্বংস স্তুপে পরিণত হচ্ছে, লোক মরে সাফ হয়ে যাচ্ছে, এদের টাইমলাইন ঘুরে আসুন, ৯০% এর টাইমলাইনে গত ১৫ তারিখ থেকে কোন ছাত্রদের খুনে সহমর্মিতার পোষ্ট পাবেন না। বরং কিছুর টাইমলাইনে পাবেন খুনের প্রতি নির্লজ্জ দালালী ও সমর্থন। এদের হাহাকার পাবেন মেট্রো রেল আর বিটিভি ভবনের জন্যে।
এই মানুষগুলোর মুখে কুলুপ আটা পাবেন বিগত ১৫ বছরে গুম, খুন, গনতন্ত্রহরন, বিডিআর বিদ্রোহ এবং দেশপ্রেমী সেনা হত্যা, মানবাধিকার লংগন, হেফাজতের গনহত্যা, দেশ বিক্রী, দুর্ণিতীর মহোৎসব নিয়ে। এরা বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে হত্যা, সুবর্ণচরে ২০১৮ ভোট দেবার অপরাধে জননী ধর্ষন, নৈশ ভোট, এবারের সাজানো ভোট নিয়ে কথা বলেনি। এরা তিলে তিলে এই খুনী দানব সৃষ্টি করেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর উন্নয়নের জিকির করে।
এরা দলান্ধ দালাল, আপনারা যারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন আপনাদের মনে রাখতে হবে শুধু লীগ পরিচয়ে কতো অন্যায়, অবিচার, জুলুম, খুন, লুট, দখল, ধর্ষন করে গেছে এই জালিমরা। নিরীহ বহু আবরারকে শিবির ট্যাগ দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে শুধুই দেশের জন্যে কথা বলায়। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গ্রাম, মহল্লা, থানাকে এরা নিজেদের রাজত্ব বানিয়ে সাধারন মানুষকে দাস বানিয়ে রেখেছিলো। তাদের মুখের ভাষা, সন্মান, সম্পদ লুটে নিয়েছিলো।তাদেরকে তো সেই ক্ষোভে পড়তে হবে যদিও আমরা কোন ধরনের আইন বহির্ভুত কাজ টলারেট করিনা।
এই যে সুদীর্ঘ ১৫ বছরের জুলুম সেটার পুন্জীভুত একটা ক্ষোভ রয়েছে, এই যে নিরাপদ ছাত্র আন্দোলনে হেলমেট বাহিনী শিশুদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিলো সেটা পুন্জিভুত হয়ে আছে, এই যে গত বিশ দিনে ২০০০+ মানুষ হত্যা করেছে তার প্রতিশোধের স্পৃহা রয়ে গেছে। এই মানুষগুলোই নিরস্র মিছিলে গুলিতে, কোপে নিহত সাথীর লাশ হাতে নিয়ে হসপিটালে হসপিটালে দৌড়েছে, তারা দেখেছে গুলিতে আহতকে সরকারের নির্দেশে হসপিটাল গুলো ট্রিটমেন্ট দিতে না দেয়ায় চোখের সামনে রক্তক্ষরনে মরে যেতে। এরা দেখেছে পুলিশ কিভাবে প্রানঘাতি অস্রে মানুষ মেরেছে, কিভাবে পুলিশ ছাত্রলীগের গুন্ডাদের পাশে রেখে খুন, হামলা করেছে। এরাতো কিছুটা ক্ষোভের ঝাল মিটাবে যদিও আমরা কোন ধরনের প্রতিহিংসা কামনা করিনা।
১৫ বছর দুঃশাসন চালিয়ে আজ মাত্র একদিনেই আপনাদের মায়াকান্নার রোলে দেশ ভাসাচ্ছেন? আপনাদের এক একজন সুবিধাভোগী একাই যে পরিমান হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, এই ক’দিনের মালের ক্ষয়ক্ষতি তার একটা ছোট অংশও হবেনা। যদিও আমরা এইটুকু ক্ষতিও সমর্থন করিনা।
এই যে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে তা সমাধানের একমাত্র পথ ছাত্রদের সব দাবী মেনে, ছাত্রদের সম্মতির সরকার প্রতিষ্ঠিত করে ছাত্রদের মায়ের কোলে যাবার ব্যাবস্থার মাঝে। তারা যখন মায়ের কোলে যাবে তখন বিদ্রোহের আগুন কমে যাবে, ক্ষোভ প্রশমিত হবে, তারা নির্মমতা ভুলতে শুরু করবে। কোন ক্ষতি করবে না, হতেও দিবেনা।
এই দেশের ছাত্ররা সবচেয়ে বেশী দেশ ভালবাসে বলেই অকাতরে প্রান বিলাতে জানে, যারা দেশ ভালবাসে তারা কখনোই দেশের সম্পদ ক্ষতি হতে দিবেনা।
আসুন আমরা ফ্যাসিষ্ট সরকারের সরাসরি ও মুখ লুকানো সমর্থকদের প্রচারনায় বিভ্রান্ত না হয়ে দ্রুত সরকার ঘোষনা ও সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবী তুলি এবং জন্জাল গুলো পরিষ্কার করে রাষ্ট্র মেরামত করি।