28/06/2025
প্রশ্ন: আমি তো কোম্পানির মালিকপক্ষের কাউকে চিনি না। তাহলে কিভাবে বুঝব কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট সৎ এবং দক্ষ?
উত্তর: ধরুন আপনি আপনার বাসার নিচের মুদির দোকানদারকে ব্যবসা বাড়ানোর জন্য টাকা দিলেন। আপনি তার থেকে মূলত কি প্রত্যাশা করবেন? আপনি মূলত ৩টি প্রত্যাশা করবেন:
১। আপনার টাকা সে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করুক।
২। টাকা পাবার পর সে আপনাকে এড়িয়ে না যাক বরং ব্যবসার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করুক।
৩। আপনাকে নিয়মিত প্রফিট শেয়ার করুক।
সে এই ৩টা কাজ করলেই আপনার চলবে। সে শিক্ষিত নাকি অশিক্ষিত, ধার্মিক নাকি অধার্মিক কিছুই জানার দরকার নাই।
ঠিক একইভাবে কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট ভাল কিনা জানবেন একইরকম ৩টি উপায়ে:
১। ক্যাপিটেল এলোকেশন: ম্যানেজমেন্ট কিভাবে শেয়ারহোল্ডারদের টাকা বিনিয়োগ করেছে এতদিন? তাদের আগের বিনিয়োগগুলো কি সফল? সেই বিনিয়োগ থেকে রিটার্ন কেমন আসছে? সবকিছুই আপনি ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট স্টাডি করলেই পেয়ে যাবেন। ROIC এবং ROIC এর Trend ক্যাপিটেল এলোকেশনের ভালমন্দ বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ রেশিও। এছাড়াও ম্যানেজমেন্ট অপ্রাসংগিক ক্যাপেক্স করছে কিনা, ক্যাপেক্স করতে গিয়ে প্রচুর লোন নিয়ে ব্যালেন্স শিট দুর্বল করে ফেলছে কিনা ইত্যাদি সবকিছুই ক্যাপিটেল এলোকেশন বোঝার জন্য জরুরি। অপ্রাসংগিক ক্যাপেক্স হতে পারে সম্পূর্ণ আনরিলেটেড বিজনেস শুরু করে ডাইভার্সিফাই করা, যে বিজনেসে তাদের কোন এক্সপার্টিজ নেই। পিটার লিঞ্চ এটাকে বলেছেন "Diworsification", কারন এটা কোম্পানির অবস্থা "Worse" করার সম্ভাবনাই বেশি।
২। এনুয়াল রিপোর্টে কোম্পানির চেয়ারম্যান, এমডি এবং ডিরেক্টরদের চিঠি থাকে। ঐগুলা পড়ে আপনি বুঝতে পারবেন তারা কি দায়সারা কথাবার্তা বলছে নাকি আসলেই আপনাকে শেয়ারহোল্ডার হিসাবে সম্মান করে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ইত্যাদি শেয়ার করছে। ফাইন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট স্টাডি করেও আপনি বুঝতে পারবেন তারা কতটুকু লুকাতে চায়, কতটুকু মিথ্যা বলে আর কতটুকু সত্যি বলে। বিলিয়নিয়ার ইনভেস্টর রামদেও আগ্রাওয়াল বলেন, "শুধুমাত্র রেশিও এনালাইসিস যদি কেউ খুব গভীরভাবে করে, ম্যানেজমেন্টের এমন কোন জারিজুরি নেই যা বের হবে না"। সেই সাথে একাউন্টিং শার্প প্র্যাক্টিস বা ফ্রড বুঝার মত দক্ষতা থাকতে হবে। সেজন্য সত্যম কম্পিউটার, এনরন, ওয়ার্ল্ডকম ইত্যাদি কেইস স্টাডিগুলো বোঝা জরুরি।
৩। কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের কাজ একটাই- শেয়ারহোল্ডারের ভ্যালু বাড়ানো। তারা আপনার টাকা দিয়ে ব্যবসা করে প্রফিট করে আপনাকে প্রফিটের একটা অংশ শেয়ার করবে। বাকি টাকা ব্যবসায় আবার বিনিয়োগ করে ব্যবসার ভ্যালু বাড়াবে। এতে করে আপনি ডিভিডেন্ড এবং ক্যাপিটেল গেইন দুইভাবে মুনাফা করবেন। যদি ডিভিডেন্ড না দেয়, তাহলে পুরো প্রফিট কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে আরও বেশি করে ভ্যালু বাড়াবে। অর্থাৎ শেয়ারহোল্ডারকে যে করেই হোক টাকা বানিয়ে দিবে। এ কাজটা কি তারা এতদিন করেছে কিনা দেখতে হবে। যদি ডিভিডেন্ড না দেয় তাহলে অধিক পরিমাণ রিটেইনড আর্নিং দিয়ে তারা কী করছে, সেই কাজের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডার উপকার পাচ্ছে কিনা দেখতে হবে।
বুঝতেই পারছেন, কথায় নয়, কাজে পরিচয়। কোম্পানির মালিকের সাথে পরিচয় না থেকেও শুধু তার আচরণ এবং কাজ দেখেই আপনি প্রায় নিশ্চিত ধারণা করতে পারবেন ম্যানেজমেন্ট ভাল নাকি খারাপ। সেই সাথে গুগলে অল্পবিস্তর সার্চ দিয়ে এদের নামে কোন ভায়োলেশন/মামলা/রেগুলেটরের কোন জরিমানা আছে কিনা সেগুলোও দেখে নিতে পারবেন। আশা করি উত্তরটি বুঝতে পেরেছেন।