15/01/2015
দেখা নেই পাইকারদের, বিনা পয়সায়ও মিলছে সব্জি
শীতের মাঝামাঝি এ সময়ে সাধারণত ঠাকুরগাঁওয়ের সব্জি চাষিদের মুখে হাসি থাকলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। টানা অবরোধে বিক্রেতা না পাওয়ায় নামমাত্র দরে কেউ কিছুটা কিনলে বিনামূল্যে তাকে সমপরিমাণ সব্জি দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
অন্যদিকে অবরোধের কারণে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে লবণ, তেলসহ নিত্য ভোগ্যপণ্য না আসায় জেলায় এসব পণ্যের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী আশরাফুল মণ্ডল জানিয়েছেন।
নিজেদের উৎপাদিত সব্জি নিয়ে বিক্রির আশায় স্থানীয় আড়তগুলোতে চাষিরা প্রতিদিন ভোর থেকেই বসে থাকলেও দেখা মিলছে না পাইকারদের।
SAM_0508.jpgজেলার সব্জির বড় আড়ৎ দূরামারীতে প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগে থেকেই জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চাষিরা নানা সব্জি নিয়ে আসেন। বেলা ১১-১২টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা।
মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদক পুরো সময় আড়তে অবস্থান করেও কোনো পাইকারের দেখা পাননি।
স্থানীয় খুচরা ক্রেতারা নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় দুই-এক কেজি সব্জি কিনলেও পঁচে যাওয়ার আশঙ্কায় চাষিদের একই পরিমাণ সব্জি তাদের বিনা পয়সায় দিয়ে দিতে দেখা যায়।
পরিস্থিতি এমন যে, ভ্যানে করে সব্জি বাজারে আনার খরচই উঠছে না বলে জানিয়েছেন একাধিক চাষি।
ফকদনপুর এলাকার চাষি কাদরে আলী জানান, আগের দিন সাত মন বেগুন ১৪০ টাকা ভ্যানভাড়া দিয়ে এনেছিলেন আড়তে।
“অবরোধের আগে বেগুনের পাইকারিতে প্রতিমন বেগুন ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ১০০ টাকাতেও কেউ কিনতে চাচ্ছে না।”
আখানগর থেকে কয়েকটি ভ্যানে করে ফুলকপি আনা লতিফুর রহমান জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে ফুলকপির চাষ করলেও এখন পর্যন্ত অর্ধেকও বিক্রি করতে পারেননি।
“অবরোধের কারণে সিলেট, বরিশাল, কুমিল্লা, ঢাকা থেকে পাইকাররা না আসায় ১২ টাকা কেজি দরের ফুলকপি এখন ২ টাকা কেজিতেও কেনার লোক নাই,” বলেন তিনি।
আড়তদাররা জানিয়েছেন, অবরোধের আগে প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) টমেটো মানভেদে ৫০-৬০ টাকা, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০-৫০ টাকা এবং বেগুন একই দামে বিক্রি হয়েছে।
মঙ্গলবার এসব সবজি পাল্লা প্রতি ১০-১৫ টাকা হেঁকেও ক্রেতা পাননি চাষিরা।
Untitled-3.jpgআড়তদার মুনশি আবুল হোসেন বলেন, অবরোধের আগে প্রায় প্রতিদিন কমপক্ষে দুই ট্রাক টমেটো, ৩/৪ ট্রাক ফুলকপি ও বাঁধাকপি ঢাকা, বরিশাল, কুমিল্লাসহ বিভিন্ন শহরের পাইকাররা নিয়ে যেতেন।
“অবরোধের মধ্যে এসব এলাকা থেকে আসা ট্রাকগুলো এখানে আটকা পড়ে গেছে। এতে প্রতিদিন পাইকারদের ট্রাকভাড়ার লোকসানও গুণতে হচ্ছে।”
এখন অবরোধ তুলে নিলেও সব্জির দাম আর বাড়বে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বিজিবি ও পুলিশের পাহারায় বেশ কয়েকটি গরু ও সবজির ট্রাক রাজধানীর উদ্দেশে ছেড়ে গেলেও তা প্রয়োজনের চেয়ে খুবই নগণ্য বলে জানান আড়তদার রফিকুল ইসলাম।
তার মতে, অবরোধ কৃষকের পুঁজির সঙ্গে ‘ভাগ্যও’ নষ্ট হয়েছে।
অবরোধের কারণে কৃষকদের ক্ষতি নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা করেও কোনো আশ্বাস পাননি বলে জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও চেম্বার অব কমার্সের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব।
তাই হরতাল, অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পরিহার করতে রাজনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আড়তদার ও চাষিরা।