28/04/2014
‘বিলুপ্ত’ হচ্ছে লট প্রথা ..
লট প্রথা না থাকলে বিনিয়োগকারীরা ১ বা ২ টি করে তাদের ইচ্ছামত শেয়ার কিনতে পারবেন। এতে বিনিয়োগকারীরা অনেক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। বিনিয়োগের প্রতি বাধ্যতামূলক কোনো আচরণ থাকবে না। এতে বাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা আরো বাড়বে বলে মনে করছে ডিএসই।
যে কারণে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি লট প্রথা বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে পুঁজিবাজার থেকে। আর এ লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) আইন করে পুঁজিবাজার থেকে লট প্রথা বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা করেছে। আইন সংশোধন করে লট প্রথা তুলে দিতে শিগগীরই ডিএসই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে প্রস্তাব দেবে। তারা অনুমোদন করলেই কেবল এটি কার্যকর হবে। সোমবার ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
নতুন পদ্ধতি চালু হলে যাতে কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ঝামেলা না হয় সে বিষয়টিও ভাবছে ডিএসই। আর এ কারণে এজিএমে বিনিয়োগকারীদের উপস্থিত সংক্রান্ত একটি আইন করা হবে। আইন অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের এজিএমে উপস্থিত থাকার জন্য একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক শেয়ার থাকতে হবে। আর যেসব বিনিয়োগকারী এজিএমে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তারা লিখিত মতামত এজিএমে পাঠাতে পারবেন।
তবে এই লট প্রথা প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে থাকবে। কোম্পানিগুলো সেকেন্ডারি মার্কেটে আসলেই লট প্রথা ভেঙ্গে যাবে।
এ প্রসঙ্গে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্বপন কুমার বালা বলেন, পুঁজিবাজারে লট প্রথা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় ভোগান্তি। বিনিয়োগকারীরা তাদের ইচ্ছা মত শেয়ার কিনতে পারে না। কোম্পানির বেধে দেওয়া নির্দিষ্ট লটে তাদেরকে শেয়ার কিনতে হয়। কোম্পানিগুলো যখন বোনাস লভ্যাংশ দেয়, তখন এই ভোগান্তি আরো বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা যাতে স্বাচ্ছন্দে শেয়ার কেনা-বেচা করতে পারে এ জন্য বাজার থেকে লট প্রথা বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএসইর। আর এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা করতে বিএসইসির কাছে আমরা একটা প্রস্তাব করব।
উল্লেখ্য, মূল বাজারে শেয়ার কেনা-বেচা হয় লট বা গুচ্ছ আকারে। নির্দিষ্ট সংখ্যক শেয়ার নিয়ে মার্কেট লট গঠিত। বর্তমানে বাজারে ১০, ১০০, ২০০,২৫০ ও ৫০০ শেয়ার নিয়ে গঠিত লট আছে। লট বা গুচ্ছে নির্দিষ্ট সংখ্যার চেয়ে কম শেয়ার থাকলে সেটি অড লট হিসেবে বিবেচিত।
এতে কোন বিনিয়োগকারী চাইলে ১, ২, ৩, ৪, ৫ ইত্যাদি একক হিসাবে শেয়ার কিনতে পারে না। কোম্পানির বেধে দেওয়া লটে তাকে শেয়ার কিনতে হয়। আর এই লট থেকে তৈরী হয় অড লটের ভোগান্তি।
সাধারণত বোনাস লভ্যাংশ বা রাইট প্রস্তাব থেকে অড লট সৃষ্টি হয়। ধরা যাক, একজন ব্যাক্তির কাছে এবিসি কোম্পানির ৫০০ শেয়ার। প্রতি ১০০ শেয়ার নিয়ে এর মার্কেট লট। কোম্পানিটি ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে লভ্যাংশ হিসেবে বিনিয়োগকারী ৭৫ টি শেয়ার পাবেন। এটি মার্কেট লটের চেয়ে কম। এটিকে মার্কেট লটে পরিণত করতে হলে আরও ২৫ টি শেয়ার কিনতে হবে।
বিধি অনুসারে, অড লট শেয়ার বিক্রিতে দৃশ্যত কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কেনার ক্ষেত্রে শর্ত পরিপালন করতে হয়। বিধি অনুসারে একজন বিনিয়োগকারী লট পূরণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেয়ার কিনতে পারেন। কিন্তু তিনি এমন সংখ্যক শেয়ার কিনতে পারবেন না, যা লট পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেয়ারের চেয়ে বেশি। ধরা যাক, বাজারে এবিসি কোম্পানির ২৫ টি শেয়ার বিক্রির কোনো প্রস্তাব নেই। কিন্তু ৫০ টি শেয়ারের বিক্রেতা আছে। ওই বিনিয়োগকারী চাইলেও এ ৫০ টি শেয়ার কিনে তার লট পূরণ করতে পারবেন না, কারণ তাতে ২৫ টি শেয়ার বেশি হয়ে যাবে। এমন কঠিন ও অযৌক্তিক শর্তের কারণে অনেক সময় বিনিয়োগকারীরা অড লট শেয়ার নিয়ে বসে থাকেন।
বিনিয়োগকারীদের মতে, পুঁজিবাজার থেকে লট প্রথা বিলুপ্ত করা একটি প্রসংশনীয় উদ্যেগ ডিএসইর। লট প্রথা ভেঙ্গে গেলে বিনিয়োগকারীরা অল্প পুঁজিতেও পুঁজিবাজারে লেনদেন করতে পারেবে। এতে বাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়বে। আর অড লটের ভোগান্তি থেকে বিনিয়োগকারীরা মুক্তি পাবে।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু মুসা বলেন, পুঁজিবাজারে লট প্রথা না থাকলে অবশ্যই বাজারের জন্য ভালো হবে। কারণ বাইরের দেশে কোথাও এই পদ্ধতি চালু নেই। এখন কম্পিউটারের মাধ্যমে শেয়ার বাই -সেল করা হয়। তাই এই পদ্ধতি চালু হলে বাজারের জন্য কোন সমস্যা হবে না।
তিনি আরো বলেন, লট প্রথা থেকে অড লটের ভোগান্তি বাড়ে। অড লটে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কেনা-বেচা করতে হলে ক্রেতা কম থাকে। এতে কম দরে শেয়ার বেচে দিতে হয়।