Sagor's Blog

Sagor's Blog নতুন নতুন ভালোবাসার গল্প পড়তে আমাদের পেইজ এ লাইক দিয়ে সাথে থাকুন।

22/12/2023

মাঝ রাতে যখন বউয়ের আদর পেতে মন চাইছে, বউ তখন ঘুমে বিভোর। কি করি ডাকবো? ওর ঘুমটা ভাঙাবো?
কিন্তু আমার যে খুব মন চাইছে, না ডেকে ওকে চুমু দিয়ে আমি হালকা আদর করতে লাগলাম, খেয়াল করলাম ও একটু নড়ে উঠছে মানে ওর ঘুমটাও পাতলা হয়ে গেছে,
আমি আদরের মাত্রা আর একটু বাড়ায় দিলাম, নতুন বিয়ে করেছি আদর ছাড়া কি থাকা যায়। বউ (শশী) ঘুম ঘুম চোখে, কি হয়েছে আমি ঘুমাচ্ছিতো।

আমার নামম নিরব, আমি বললাম পড়ে ঘুমিও আগে আদর দাও, আমার খুব মন চাইছে।

শশীঃ হুম।

নিরবঃ ও হুম বলাতে, আমি ওর গায়ের উপর উঠে পড়লাম।

শশীঃ আরে আরে কি করছেন?

নিরবঃ কি করছি মানে, তুমিই তো বললে হুম তাই তো করছি।

শশীঃ সব কিছুতেই আপনার তাড়াহুড়া বেশি।

নিরবঃ কি তারাহুড়া করলাম, আর শোন আমায় তুমি করে বলবা, তোমার মুখে মুখে আপনি ডাক ভালো লাগে না, পর পর মনে হয়।
আমি এখন কিছু শুনবো না, ঘুম ভেঙেছে আদর নেবো।

শশীঃ হুম বলেছি তো দেবো। আগে মাঝ রাতে ঘুম ভাঙলো একটু আল্লাহর শুকুর করি, সুবাহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবর, ইয়া আর হামার রাহিমিন।

নিরবঃ হয়েছে, শেষ, এবার আসো শুরু করি।

শশীঃ হুম কিন্তু তার আগে দোয়া পড়তে হবে, আমার সাথে পড়ো।

নিরবঃ আদর করবো তাতে আবার দোয়া, কি শুরু করলে মাঝ রাতে আদর চেয়েছি তাই এতো বাহানা করছো?

শশীঃ না বর মশাই। যে কোন কাজ আল্লাহর নামেই শুরু করতে হয়, সব কিছুরই আলাদা আলাদা দোয়া আছে তা না পারলে অন্তত বিসমিল্লাহ বলে সব করতে হয়।

তাছাড়া সহবাসের সময় দোয়া না পড়লে, দুজনার মাঝখানে শয়তান প্রবেশ করে মজা নেয়, আর সে মিলনটাকে অবিত্র করে দেয়, তখন যে সন্তান গর্ভে আসে সে সন্তান কখনও ঈমানদার হয় না।
জেনে শুনে এ ভূল কেন করবো?
যে সম্পর্কটা জান্নাত থেকে এসেছে, যে সম্পর্ক টা পবিত্র তাকে পবিত্র রাখাই তো উচিৎ।
আসুন আমার সাথে দোয়া পড়ুন তারপর শুরু করুনঃ
""বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়তনা ওয়া জান্নিবিশ শায়তনা মা রাজাকতানা""

নিরবঃ কখন থেকে মন চাইছিলো, বিয়ে করেই যেন আদর পাগলা হয়ে গেছি, তোমার আদর না পেলে ঘুমই আসতে চায় না, কেমন লাগছে??

শশীঃ হুম ভালো,

নিরবঃ কষ্ট হচ্ছে নাতো।

শশীঃ একটু লজ্জা পেয়ে ধ্যাত, এতে আবার কষ্ট হয় নাকি।

নিরবঃ ওকে তাহলে গাড়ি চলতে থাক।

শশীঃ মানে কি হুম, সারারাত চলবে নাকি।

নিরবঃ তুমি চাইলে চলতেই পারে।
শশী কিছু না বলে হেসে দিয়ে, আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো।
কিছুক্ষন পর সেই তৃপ্তি মিললো, আহ শান্তি। আমি এখন ঘুমাই।

শশীঃ কি, কোন ঘুম চলবে না এখন।

নিরবঃ কেন আরও চাই? আর পারবো না এখন, তাইলে সকালে।

শশীঃ আদর ছাড়া আর কোন ভালো কথা নাই, আমি বলেছি যে আমার চাই।
যাও উঠে গোসল করো, দুজন তাহাজ্জুদ পড়বো।

নিরবঃ কি বলো তুমি, এখন গোসল করলে ঘুম পালিয়ে যাবে এ শাস্তি দিও না। তুমি যাও না তুমি পড়ো, আমি ঘুমাই।

শশীঃ আমার কথা না শুনলে আমি কিন্তু পানি এনে মাথায় ঠেলে দেবো!!!

নিরবঃ ধুর কি বউরে বাবা, ভালো লাগে না। মাঝ রাতে আদর চেয়ে যেন বিপদে পড়েছি বলে উঠে চলে গেলাম ওয়াসরুমে।
এসে তাহাজ্জুদ পড়লাম দুজনে, ঘুমাতে যাবো ওমনি ফজরের আজান। জানি ঘুমাতে দেবে না এখন তাই আজান শেষ করার অপেক্ষায় না থেকে, ফজর ও পড়া শুরু করলাম।
ঘুমাতে যাবো তখন বউ এখনই ঘুমাতে হবে ১০টা মিনিট তো একটু তেলাওয়াত করা যায়।

নিরবঃ দেখো সকালে আমাকে অফিস যেতে হবে এখন ঘুমাবো আর কিছু বলো না।

শশীঃ বেশ ফজরের নামাজের পর কিছু দোয়া ও আমল থাকে সেগুলো একটু পড়ো, আমি বলছি আমার সাথে পড়ো।
ওতো কিছু না হোক "আয়াতুল কুরসি" আর সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াতটা পড়ো।

নিরবঃ আমি ঘুম ৮ টার আগে আমার সাথে কোন কথা বলবা না।

শশীঃ হুম বুঝেছি এক সাথে হবে না, ধীরে ধীরে করাতে হবে। আমি ছোট ছোট দোয়া ও আমল গুলো করে সূরা ওয়াকিয়াহ ও আর রহমান পড়ে এবার আমিও ঘুমাতে গেলাম। ৭:৩০ টায় উঠে ওর জন্য ব্রেক ফাস্ট বানাতে গেলাম। ৮ টার এলার্ম বাজলে নিরবকে ডাকতে এলে ও আমায় টেনে বিছানায় নিয়ে গেলো, আমি কি হচ্ছে এটা সকাল সকাল।
ঘুম থেকে যে জাগতে পেরেছো তার শুকুর না করে দুষ্টুমি করছো।
ঘুম থেকে ওঠার দোয়া বলো?

নিরবঃ পারতাম চর্চা না করতে করতে ভূলে গেছি।

শশীঃ আমার সাথে বলো ""আলহামদু লিল্লাহিল্লাযী আহইয়ানা বা'দা মা আমাতানা ওয়া ইলায়হিন নুশুর""

যাও এবার ফ্রেশ হও খাবার দিচ্ছি
নিরব এসেই খেতে যাবে আমি হাত ধরে বসলাম

নিরবঃ কি হাত ধরলে যে খাওয়ায় দেবে?

শশীঃ জ্বী না। খাবার সামনে আসার দোয়া নাই পড়লে অনন্ত খাওয়ার আগে তো ""বিসমিল্লাহি আলা বরকাতুল্লাহ"" ও খাওয়া শেষে আলহামদুলিল্লাহ পড়বে।

নিরবঃ সরি শোনা, আসলে আমি সবই পারতাম চর্চা না করে করে সব দোয়া ভূলে গেছি। তুমি শিখিয়ে দিও আবার আমি শিখে নেবো।

শশীঃ হুম তাই তো দিতে হচ্ছে।

নিরবঃ আচ্ছা তাহলে আসি সাবধানে থেকো বলেই কপালে একটা চুমু দিয়ে চলে যাবো তখনই শশী হাত ধরে বসলো, আমি বললাম কি হয়েছে শোনা কিছু বলবে?

শশীঃ ঘর থেকে বের হবার সময় "আয়তুল কুরসি" ও "বের হবার দোয়া" পড়তে হয়, তাহলে বাইরে কোন বিপদ ঘটলে আল্লাহ তা থেকে হেফাজাত করেন।
পড়ো, ""বিসমিল্লাহি তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহি লা হাওলা ওয়ালা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ""।

নিরবঃ আচ্ছা আসি, আল্লাহ হাফেজ।

শশীঃ ফি আমান্নিল্লাহ। ২ টার দিকে নিরব ফোন দিলো।

নিরবঃ কি করো সুইট হার্ট, উম্মমমমমম

শশীঃ আসসালামু আলাইকুম, নামাজ পড়ে উঠলাম, তুমি পড়ছো?

নিরবঃ ওয়ালাইকুম আসসালাম। হুম পড়েছি।
আমাকে আবার সালাম দেওয়া লাগে নাকি।

শশীঃ কোথায় বলা আছে যে সব মানুষকে সালাম দিতে নাই। সালাম অর্থ শান্তি বর্ষিত হওয়া। যখন দুজন ব্যক্তি সালাম আদান প্রদান করে তখন তাদের মাঝে শান্তি বর্ষিত হয়। তাই সব সময় সালাম দিতে হয়ে ছোট বড় সবাইকেই।

নিরবঃ হুম, কি রান্না করছো। আমি আজ তাড়াতাড়ি চলে আসবো।

শশীঃ বলবো না কি রান্না করছি, আচ্ছা আসো সমস্যা নাই। গাড়িতে ওঠার আগে এই দোয়া টা পড়ো ""সুবহানাল্লাজি সাখখারা লানা হা-জা ওয়ামা কুননা লাহু মুক্বরিনীন, ওয়া ইন্না ইলা রাব্বিনা লামুনক্ববালিবুন""

নৌ চলাচলের সময় ""বিসমিল্লাহি মাজরিহা ওয়া মুরসাহা ইন্না রাব্বী লা গাফূরুর রাহীম""
রাখছি আল্লাহ হাফেজ।

বিকাল ৫টায় নিরব এসে কনিঙ্বেল দিচ্ছে,

শশীঃ কে?

নিরবঃ প্রিয়তমা আমি গো।

শশীঃ আসসালামু আলাইকুম।
নিরব উত্তর দিয়ে ঘরে ঠুকবে। আমি দাড়াও

নিরবঃ কি হয়েছে, ঠুকতে দাও টায়ার্ড আমি।

শশীঃ ঘরে ঠোকার দোয়া পড়""আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা খাইরাল মাউলাজি, ওয়া খাইরাল মাখরাজি বিসমিল্লাহি ওয়ালআজনা ওয়া বিসমিল্লাহি খারাজনা ওয়ালা রাব্বানা তাওয়াক্কালনা"" নিরব ঘরে ঠুকলো।

দরজায় নক করে প্রিয়তমা বলে ডাক না দিয়ে সালাম দিলেই তো হয়।

নিরবঃ হুম ঠিকাছে প্রিয়তমা যাই ফ্রেশ হয়ে আসি। বাথরুমে ঠুকতে যাবো শশী সামনে, দোয়া পড়ো ""আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিনাল খুবশি ওয়াল খাবাইস""।

আর বের হবার সময় পড়বা ""গুফরানাকা""

নিরবঃ ঠিকাছে, যাও কিছু খেতে দাও।
বাইরে এসে দেখি প্রিয়তমা খাবার রেডি করে রাখছে, খেতে যাবো তখনই

শশীঃ না নেবে না, আমার এখনো গুছানো হয় নি যাও আসরের নামাজ পড়ে নাও আমি বেলকুনিতে নিয়ে আসছি সব।

নিরবঃ আহ গরম গরম ভেলপুরি সে যে কি টেস্ট, সাথে সুজির রসভরি। কোনটা রেখে কোনটা খাই। দুজন মিলে খাচ্ছি আর মজা করছি। সন্ধা হয়ে এলো আজান দিচ্ছে আমি মসজিদে চলে গেলাম। বাসায় এসে শুনছি শশী তেলাওয়াত করছে, ও আসলে সুন্দর তেলাওয়াত করে। জীবনে হয়ত কোন এক ভালো কাজ করছিলাম যার জন্য আল্লাহ এতো ভালো একটা জীবন সঙ্গি পেলাম। পরকালেও যেন আল্লাহ ওকেই আমার জন্য রাখে।

আমি বসে আছি খাটে শশী তখন দোয়া পড়ছে যে সব আমল ও সব সময় করে সেসবই। সব শেষে মোনাজাত ধরলো, অনেকটা সময় পর মোনাজাত শেষ করে আমার পাশে এসে বসলো। আমার গায়ে একটা ফু দিয়ে আমায় জড়িয়ে ধরলো।

আমি কি ব্যাপার আমায় ফু দিলা কেন, বশ করার দোয়া টোয়া জানো নাকি আমায় বস করলে যাতে আর কোন বিয়ে না করি।

শশীঃ যাহ ফাজিল ছেলে একটা। বশ করবো কেন তুমি তো আর ছোট ছোট দোয়া গুলো আমল করো না, যে গুলো ফজর ও মাগরিব নামাজের পর পড়তে হয় তাই তোমায় ফু দিলাম যাতে আমার দোয়াতে তোমারও কাজ হয়।

নিরবঃ হুম বুঝলাম তা এতো সময় মোনাজাতে এতো কি দোয়া পড়ছিলে শুনি?

শশীঃ আল্লাহকে বলছিলাম, যাতে জান্নাতে দুজন দুজনার সাথী হতে পারি সেভাবে যেন দুজনকে আমলদার বানিয়ে দেন। আমার আগে তোমাকে যেন পৃথিবী থেকে না নিয়ে যান। যেন দুজনকেই এক সাথে নিয়ে যান বা আমাকে আগে, আর বাবা -মা, পরিবারের অন্য সবাই যেন ভালো থাকে সুস্থ থাকে, যত পরিজন কবরে শুয়ে সবার যেন কবরের আযাব মাফ হয়ে যায় এরকম সবার জন্য দোয়া করছিলাম।

নিরবঃ কথা গুলো যেন মন ছুয়ে গেলো, কত কিছু নিয়ে ভাবে ও। আমি তোমাকে জান্নাতে আমার পাশে চাই বলে জড়িয়ে ধরলাম শশীকে।

রাত হলো, এসার আজান হলো আমি মসজিদে চলে গেলাম নামাজ শেষে শশীর মতই বললাম। আরও বললাম আল্লাহ আমরা দুজন কেউ কাউকে ছাড়া থাকতে পারি না, আমাদের কখনও আলাদা করে দিও না, একা করে দিও না। মৃত্যু যখন দিবা দুজনকে এক সাথেই দিও। দুজনকে এক সাথে জান্নাতের সাথী করে দিও।

বাড়ি ফিরে দেখি শশী খাবার রেডি করে রাখছে, খেতে বসলাম শশীকে বললাম স্ত্রীকে খাওইয়ে দেওয়া নবীর সুন্নাত আজ তোমাকে আমি খাওইয়ে দেবো। শশী একটা মন জুড়ানো মিষ্টি হাসি দিলো।

খাওয়া শেষে ব্রাশ করে, ওযু করে দুজনে বিছানায় চলে গেলাম।
শশীঃ ঘুমাবার আগে কিছু আমল আছে, যেগুলো পড়ে ঘুমালে দুষ্টু জ্বীন বা শয়তান ঘুমের মধ্যে আক্রমন বা বিরক্ত করতে পারে না।

প্রথমে "আয়াতুল কুরসি" পড়ো, তারপর সূরা ফাতিহা একবার ও ইখলাস তিন বার পড়ো, সূরা নাস ও ফালাক পড়ো, দুরুদ পড়ো, তওবা পড়ো। মনে করে এ ঘুম থেকে তুমি আর কোনদিন জীবত হয়ে উঠবে না, সে ভাবে আর যেসব দোয়া পড়তে মন চায় সেগুলো পড়ো।
সাথে সূরা মূলক পড়ো নিয়মিত ঘুমানোর আগে এই সূরা পড়লে কবরে শাস্তি মওকুফ হয়।

সব শেষ ঘুমের দোয়া পড়ো ""আল্লাহুম্মা বিইসমিকা আ'মুতু ওয়া আহ ইয়া""

এবার উত্তর দিকে মাথা দিয়ে, ডান কাত হয়ে হাতের নিচে মাথা রেখে, দু পা এক করে আরবি 'হা' ও 'মীম' এর মত আকার নিয়ে মুদ্দার এর মত ঘুমিয়ে যাও।

দুজনেই এভাবে ঘুমিয়ে গেলো, বেশ কিছুদিন পর এসব আমল দুজানার দৈনিক রুটিন হয়ে গেলো। দুজনেই অনেক আমলদার হয়ে গেলো।
ঠিক একইভাবে তারা আবারও ঘুমিয়ে গেলো কিন্তু সকাল বেলা আর ঘুম থেকে জাগলো না দুজনই।
কিছু পড়ে মাইকে ঘোষনা হলো তারা মৃত।

বাড়ি ভরে গেলো মানুষের কলরবে, কেঁদেই চলেছে প্রিয়জনরা সবে।

গোসল করানো হলো, জানাযা পড়ানো হলো, সবশেষে পাশাপাশি কবরে দুজনকে দাফন করা হলো। সবাই যে যার মত চলে গেলো।

অন্ধকার কবরে দুজন দু কক্ষে শুয়ে, হঠাৎ কবরে একটা সুড়ঙ্গ পথ তৈরি হলো, দুজনকে জাগ্রত করে সে পথ ধরে এক সাথে জান্নাতে পাঠানো হলো।

তাদের অধিক আমলে আল্লাহ খুশি হয়ে তাদের কবরের আযাব মাফ করে জান্নাতবাসি করে দিলেন। আলহামদুলিল্লাহ

গল্পটা যদি নিজের জীবনে বাস্তবায়ন হতো কতো ভালোই না লাগতো, যদি মৃত্যু পরবর্তি জীবনে কোন শাস্তিই না হতো!!!

আল্লাহ তার সকল বান্দাকে আমলদার বানিয়ে দিক, সঠিক পথে চলার তৌফিক দিন।

সমাপ্ত
গল্প: সংগৃহীত

গল্পটা ভালো লাগলে একটা শে য়া র করুন❤️

11/10/2023
06/10/2023

🎥OUR SECRET (2021)
☑️STATUS :
☑️GENRES : ROMANCE, LIFE, YOUTH
☑️ COUNTRY : CHINA
☑️EPISODES : 24(ENGSUB)
☑️ORIGINAL NETWORKING : iQiyi MANGO TV
☑️DURATION : 45 MIN

©️ TO THE RIGHTFULLY OWNER

☑️ PLEASE FOLLOW OUR PAGE: Bunny Boo

📌LINKS

EPISODE 1
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133093719772108/?app=fbl

EPISODE 2
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133094206438726/?app=fbl

EPISODE 3
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133109343103879/?app=fbl

EPISODE 4
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133110223103791/?app=fbl

EPISODE 5
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133486613066152/?app=fbl

EPISODE 6
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133487579732722/?app=fbl

EPISODE 7
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133529783061835/?app=fbl

EPISODE 8
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133530423061771/?app=fbl

EPISODE 9
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133552746392872/?app=fbl

EPISODE 10
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133553409726139/?app=fbl

EPISODE 11
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133893876358759/?app=fbl

EPISODE 12
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/133894569692023/?app=fbl

EPISODE 13
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/134376192977194/?app=fbl

EPISODE 14
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/134377069643773/?app=fbl

EPISODE 15
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/134921909589289/?app=fbl

EPISODE 16
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/134922672922546/?app=fbl

EPISODE 17
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/134935212921292/?app=fbl

EPISODE 18
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/134957352919078/?app=fbl

EPISODE 19
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/134957896252357/?app=fbl

EPISODE 20
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/134974256250721/?app=fbl

EPISODE 21
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/134974786250668/?app=fbl

EPISODE 22
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/135211212893692/?app=fbl

EPISODE 23
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/135211522893661/?app=fbl

EPISODE 24 (FINALE)
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/135225426225604/?app=fbl

EXTRA EPISODE
https://www.facebook.com/groups/122029134211900/permalink/135507689530711/?app=fbl

Bunny Boo

05/10/2023

REQUESTED ‼️ UPDATED ‼️
𝗠𝗢𝗩𝗜𝗡𝗚

📽 MOVING
☑️ ENG SUB

KDrama: Moving (2023)
Status: completed
Genre: Supernatural, Action, Thriller, Drama
Cast: Ryu Seung-Ryong, Jo In-sung, Han Hyo-joo, Lee Jung-ha, Go Youn-jung, Kim Do-hoon
Episode: 20

Plot Synopsis:
Three teenagers concealing their superpowers and their parents who have lived with painful secrets facing great danger over generations.

EPISODE 1
https://recutt.com/hJP/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218369930028/

EPISODE 2
https://shrtq.com/ufw/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218373263361/

EPISODE 3
https://recutt.com/hJP/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218356596696/

EPISODE 4
https://shrtq.com/ufw/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218353263363/

EPISODE 5
https://recutt.com/hJP/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218349930030/

EPISODE 6
https://shrtq.com/ufw/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218343263364/

EPISODE 7
https://recutt.com/hJP/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218316596700/

EPISODE 8
https://shrtq.com/ufw/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218346596697/

EPISODE 9
https://recutt.com/hJP/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218363263362/

EPISODE 10
https://shrtq.com/ufw/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218359930029/

EPISODE 11
https://recutt.com/hJP/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218313263367/

EPISODE 12
https://shrtq.com/ufw/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218323263366/

EPISODE 13
https://recutt.com/hJP/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218339930031/

EPISODE 14
https://shrtq.com/ufw/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218319930033/

EPISODE 15
https://recutt.com/hJP/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218333263365/

EPISODE 16
https://shrtq.com/ufw/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218309930034/

EPISODE 17
https://recutt.com/hJP/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218329930032/

EPISODE 18
https://shrtq.com/ufw/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218326596699/

EPISODE 19
https://recutt.com/hJP/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231403323244866/

EPISODE 20
https://shrtq.com/ufw/96496264
https://www.facebook.com/groups/223094167409115/permalink/231218336596698/

26/09/2023

যারা ফ্রি মিক্সিং কে এত বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, আপনারা এখন হাত পা গুটিয়ে বশে আছেন কেন।আপনাদের কুত্তা মার্কা মুখ দিয়ে এখন কিছু বের হচ্ছে না বুঝি। যত্তসব আবালের দল।

01/06/2023

#জলনূপুর

#পর্ব ৪

আমান মুচকি হাসলো। একটা কফির‌ জার ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,

-কথাটা আংশিক সত্য। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরছিলাম। আপনার বাবাকে ফোন দিলে উনি জানান -আপনি এখানে। তাই স্টক করতে চলে এলাম। বিরক্ত হলে চলে যাচ্ছি।

-উহু, যেতে হবে না। আপনাকে অনেকগুলো প্রশ্ন করার আছে।

-করুন।

-আমি যেই আমানকে দেখছি, এটা আপনি নন। তাই না? যা আমার সামনে দেখাচ্ছেন,তা সম্পূর্ণ ভূয়া। আর একটা সত্যি কথা বলুন তো। আপনি আমার সম্পর্কে এত তথ্য কেন আর কিভাবে পেলেন?

আমান নির্বাক হয়ে ওর দিকে তাকালো। সে যেমন মানুষ, ঠিক তেমনটাই নবনীর কাছে প্রকাশ করেছে। কোনো ভনিতা নেই, মিথ্যা নেই, অহেতুক প্রেম নিবেদন নেই। এর বাইরে আবার কেমন রুপ থাকতে পারে?ব্যাপারটা কিছুতেই বুঝে আসেনা ওর। সে এরকম হতভম্ব হয়েই নবনীর‌ দিকে চেয়ে আছে। কিন্তু নবনীর এতে বিন্দুমাত্র মায়া হলোনা। মানুষের উপর থেকে তার সমস্ত মায়া তার অনেক আগেই উঠে গেছে। যা আছে, তা মানুষ হিসেবে সামান্য আবেগ। নবনী মনে করে -পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বোকামো হচ্ছে অন্যকে বিশ্বাস করা। একটা মানুষ যতো বড়ই বিশ্বাস অর্জন করুক না কেন, একদিন না একদিন ঠিকই সে বিশ্বাস ভঙ্গ করবেই করবে।

আমান একবার দীর্ঘশ্বাস ফেলে পাল্টা প্রশ্ন করে,

-আমার বয়স কত জানেন? ঊনত্রিশ। এই বয়সে এসে আমি বাচ্চা ছেলেদের মতো প্রেমিকা পটানোর নাটক করবো? আপনিই বলুন।

-,করতেই পারেন। প্রেমিকা পটানো নাটক না হলেও ভিতরে ভিতরে কিছু না কিছু তো একটা আছেই। নাহলে আপনি আমাকে বিয়ে করতে চাওয়ার মতো এতবড় সিদ্ধান্ত নিবেন,এটা ভাবলেই আমার শ্বাস আটকে আসছে। আমি একজন ডিভোর্সি,এটা জানার পরেও আপনি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। শুধু আপনি নন, আপনার বাবা আরমান খান,বোন ফৌজিয়া পুরো গোষ্ঠী‌ এতো সহজে মেনে নিচ্ছেন। এই একুশ শতকে এসে এটাও আমাকে মেনে নিতে হবে? পৃথিবী এতো তাড়াতাড়ি বদলে গেল কিভাবে? আশ্চর্য লাগে।

আমান যেন একবারেই থমকে গেল। কফি ঠান্ডা হয়ে আসছে। সেদিকে দুজনের একজনেরও মনোযোগ নেই। আমার ইচ্ছে করছে, এখুনি মাটির তলায় নিজে নিজেই পুঁতে যেতে। সে তো স্বচ্ছ মনেই ওকে ভালোবাসে ।

মুহুর্ত খানিক পর আনামের হঠাৎ খেয়াল হলো -নবনীর এত আপত্তির কারণ কি? সে ডিভোর্সী বলে নিজেকে এত ক্ষুদ্র মনে করছে! সে ভাবছে, আমান‌ নিশ্চয় তাকে করুনা করে বিয়ে করতে চায়। ডিভোর্স হবার পর মেয়েটা আশেপাশের পরিবেশ, পরিস্থিতি আর মানুষের কাছ থেকে এতো বেশি কটুক্তির স্বীকার হয়েছে যে, এই দুনিয়ার সবকিছুই তার কাছে বিষাক্ত অনুভব হয়।

আমান একবার নবনীর চোখের দিকে তাকালো। কি সুন্দর চোখ! চোখের পাপড়ি গুলো আলতো করে কাঁপছে। চোখেমুখে যেন সৃষ্টিকর্তার পরম মায়া ঢেলে দেওয়া। এই মেয়েটি শহরের একশো সুন্দরীর সারিতে প্রথম হবে না। এমনকি দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা একশো হবার সম্ভাবনাও নেই তবুও কি ভীষন আকর্ষণ তার মধ্যে আছে,তা যদি নবনী জানতো-তবে নিজেকে সোনার কৌটায় যত্ন করে তুলে রাখতে চাইতো। আমান তো ওর জন্য সেই সোনার কৌটাটিই হতে চায়। অথচ মেয়েটা অতীতের বিষাক্ত স্মৃতি থেকে বের হতে পারছেনা। ভালোবাসার মানুষকে নিজের অনুভূতি বুঝাতে না পারার মতো যন্ত্রনা একজন প্রেমিকের কাছে আর কিইবা হতে পারে!

আমান সামান্য হাসির চেষ্টা করে বললো
-আপনার বাবা এবং বোন মনে করে আপনি অত্যন্ত চৌকস একজন নারী। অথচ আপনি জানেন , আপনি কতো বোকা?

নবনী ঘাড় ঘুরিয়ে ওর দিকে পাশ ফিরে তাকালো। বার দুয়েক চোখের পলক ফেলে বললো,

-কী অদ্ভুত! এই কথাটা আমিও ভাবি । ওদের কোনোভাবেই বুঝাতে পারিনা_আমি আসলেই একজন বোকা মেয়ে। আমার মাথাটা অন্তঃস্যারশূন্যতায় বদ্ধ। কিন্তু আপনি কিভাবে বুঝলেন আমি বোকা?

-বলতে পারি। তবে এক শর্তে।

-আমাকে শর্ত দিবেন না প্লীজ । শর্ত প্রতিশ্রুতি এসব আমি আমার থেকে শত কিলোমিটার দূরে রাখি। এসব ভন্ড মানুষের অভ্যাসের শব্দ। যাই হোক, কিছু বলার থাকলে,তা সরাসরি বলুন।

-আচ্ছা। আমি আপনাকে বলবো, যদি আপনি আমার সাথে কোথাও বসে ঠান্ডা মাথায় একটু গরম কফি খান।

-আপনার কফিটা প্রায় ঠান্ডা‌ হয়ে গেছে। এই না, না,ওয়েট। খাওয়ার মতো এখনো গরম আছে। এখান থেকে পশ্চিম দিকের গলিটা পেরিয়ে শুনে শুনে ঠিক একশো পা এগোলেই শহীদ চত্ত্বরের ছোট্ট একটি পার্ক আছে । ওখানেই বসি।

আমান মাথা দুলিয়ে সায় দেয়। নবনী তার কথায় সহজ হয়ে আসছে। মেয়েটার সরলতা তাকে ঠিক এই মূহুর্তে একটা জিনিসই উপলব্ধি করালো-মেয়েটির আসলে লাইফ পার্টনার চায় না। আগে চায় তাকে বোঝার মতো একজন বন্ধু। নিজেকে লুকোতে লুকোতে সে মানুষের ভিড় থেকে অনেক দূরে সরিয়ে ফেলেছে। বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

পার্কের একটা বেঞ্চে বসে নবনী ঠান্ডা কফি খাচ্ছে। ঠিক ঠান্ডা বললে ভুল হবে, হালকা গরম কিংবা কুসুম গরমই বলা যায়। কফির এই অবস্থায়ও আলাদা একটা স্বাদ আছে, যা আগে কখনো টের পায়নি। গরম কফি ঠান্ডা হয়ে এলে তখন কফির ফ্লেভারটাই বেশি পাওয়া যায়। হঠাৎ কি মনে হলো, মুখ থেকে কফির জার সরিয়ে সে উচ্চস্বরে হেসে উঠে। আমান ব্যাপারটা ধরতে না পেরে বোকার মতো চেয়ে আছে। নবনী তখন হাসতে হাসতেই বলে,

-আমান সাহেব, আপনি কি ভাবছেন? আমি কেন বোকা - এটা আপনি কিভাবে বুঝেছেন, তা জানার জন্য আমি এখানে এসে বসবো?

আমান কি জবাব দেবে, ভেবে পায় না। নবনীর সাথে সাথে সেও হেসে ফেলে। নবনী আবার বললো,

-আমি মোটেও এসব জানার জন্য এখানে আসিনি।

-তাহলে?

-তখন আপনার সাথে হয়তো কড়াভাবে কথা বলে ফেলেছি। কথাগুলো আপনার কাছে খারাপ লেগেছে হয়তো। তাই এজ এ হিউম্যান বিং, আপনাকে একটু সঙ্গ দিচ্ছি।

-আপনাকে তখন বোকা বলাটা আমার ভুল হয়েছে। কড়জোরে আমি মাফ চাই। এবার বলুন, চাকরিটা কি হয়েছে? আমার কেন জানি মনে হচ্ছে, হয়েছে।

-হয়েছে। কিন্তু এই মনে হবার কারন?

-সব ব্যাপারে এতো কারন‌ খোঁজেন কেন? কারণ ছাড়া কি দুনিয়ার কিছু হয় না?

-না, হয়না। এই দুনিয়ার সবকিছুতেই কারন থাকে। এই যে,ওরা আমাকে চাকরি দিলো, এখানে কারন‌ আছে। আজ যে মানুষগুলো যাচ্ছে,তারও কারন‌ আছে। আর এইযে আপনি‌ নিজের চেম্বার‌ থেকে ছুটি নিয়ে আমার জন্য কফি নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তার পেছনেও কারন আছে।

-তাহলে আপনার প্রাক্তন স্বামীর সাথে ডিভোর্স হবার কারন কি?

নবনী চুপ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ শুধু ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল মাটির দিকে। আমান আবার বলে,

-সেদিন কিন্তু এই ব্যাপারে কথা বলতে চেয়েছিলেন।

-সেকারনেই কি আজ ক্ষতটাকে খোঁচাতে চাচ্ছেন?

-না, আমার নিজের জন্য আমি জানার প্রয়োজনও মনে করি না। কিন্তু আপনি শুধুমাত্র এই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জীবনটাকে একটা বৃত্তের মধ্যে আটকে ফেলেছেন। আমি সেই বৃত্তের গোলকধাঁধা আপনাকে মুক্ত দেখতে চাই। আপনার স্বার্থেই আজ আমি জানতে চাই।।

নবনী অকস্মাৎ উঠে দাঁড়ালো। ডানে-বামে কোথাও না তাকিয়ে দ্রুত পায়ে সে পার্ক থেকে বের হয়ে যায়। আমান বেঞ্চে বসেই পিছন থেকে লজ্জিত স্বরে বলছে,

-নবনী আই এম সরি। আমি এভাবে বলতে চাইনি...

কিন্তু নবনী কোনো কথাই শুনলো না। তার মন আর মস্তিষ্কে সে কি নিয়ে আরাধনা করে, তা কেবল মাত্র সেই জানে।

ক্লাসের ঠিক সামনেই দেয়াল হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাতুল। আর তার সামনে রিতু। রাতুল কিছুটা কৌতুহলি হয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করছে,

-তোমাদের বাড়ি থেকে সেদিন আসার পর আমার মাথায় শুধু একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

-প্রশ্ন? কি? আমার আপনাকে নিয়ে?

-হ্যা। উনার মতো একটা মানুষের ডিভোর্স কিভাবে হতে পারে? উনার প্রাক্তন স্বামী বোকা নাহলে উনাকে ডিভোর্স দেয়?

রিতু জবাব দেয়,

-নকীব ভাইয়া আপুকে ডিভোর্স দেয়নি । আপুই উনাকে ডিভোর্স দিয়েছেন। নিজেদের কাবিনের সমস্ত দায় থেকে মুক্ত করে দিয়েছেন। আমার ধারণা, নবনী আপা আজও নকীব ভাইয়াকে ভালোবাসেন। তবে তার চেয়েও বেশি করে ঘৃনা।

-মানে! এতো ভালোবেসেও ডিভোর্স দিলেন? তাও আবার স্বেচ্ছায়? আমার তো মাথা আউলিয়ে যাচ্ছে!

চলবে.....

30/05/2023

#জলনূপুর

#পর্ব ৩

কিন্তু আমি রাজি নই। বাবা, তোমরা নিজেদের ইচ্ছামতো মত দিতে পারো না। বিয়েটা যেহেতু আমার, তাই আমার মতামত নেওয়াটাও জরুরি। আমি আমান সাহেবকে বিয়ে করতে পারব না।

সবাই যখন বিজয়োউল্লাসের সূচনা করতে যাচ্ছে, ঠিক এমন মুহূর্তেই বেঁকে বসল নবনী। এত কষ্টে সবাইকে ম্যানেজ করেও সে যে ফিরে এসে তরী ডুবিয়ে দিচ্ছে, এই ভেবেই রিতুর যেন মাথায় হাত। নবনী যদি আমানকে বিয়ে না করতে চায়, তবে বাবা ফরিদ হোসেন এখন কি ভয়ানক সিদ্ধান্ত নিবেন, কে জানে! সে অসহায় দৃষ্টিতে অবনীর দিকে তাকালো। নবনী আবার বললো,

-রিতুকে উনার পছন্দ নয়, ঠিক আছে। বিয়ে হবে না। কিন্তু তাই বলে রিতুর রিপ্লেছে আমাকে দুধভাত হিসেবে চালিয়ে দেবার তো কোন মানে নেই। আচ্ছা আমান সাহেব, আপনি এলেন। আমাকেই আপনার পছন্দ এটাও হুট করে বলে দিলেন। কিন্তু আপনি কিভাবে ভাবলেন যে, আপনাকে আমি বিয়ে করবো। আপনি কি আমার অতীত জানেন?

-কি অতীত জানবো? ডিভোর্স আপনার দোষে হয়েছে কি-না, সেটা? আমি জানার আগ্রহ বোধ করছি না। এরপরও আপনি জানতে চাইলে আমার আপত্তি নেই। কখন বলবেন বলুন?

আমানের প্রশ্নে নবনী ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। সে ভেবেছিল, পাত্রপক্ষের থেকে অন্তত ডিভোর্সের কারণটুকু অন্তত জানতে চাইবে। অথচ এই মানুষগুলো সম্পূর্ণই উল্টো। প্রসঙ্গ পাল্টে নবনী আবার জিজ্ঞাসা করল,

-আমাকে আপনি কতটুকু চেনেন? দুজন মানুষ পরস্পরকে না চিনেই এভাবে বিয়ের কথা ভাবাটা ছেলেমানুষি।

আমান একবার উপস্থিত সবার দিকে চোখ বুলিয়ে নেয়। ক্রিকেট ম্যাচের শেষ বলের কারিশমা দেখার উৎসুক জনতার মত সবাই ওর দিকে ড্যাব ড্যাব চোখে চেয়ে আছে। আমান মৃদু হেসে বলে উঠলো,

-আপনাকে আমি রিতুকে চেনার আগে থেকেই চিনি। যে আপনার পছন্দের রং বেগুনি, পাহাড় পাহাড় বেশি টানে। টয়েনবি,হুমায়ুন আহমেদকে বেশি পড়েন। নজরুল করেন। দুধ কপি, ঠান্ডা ভাত আর ঘিয়ের সাথে ডিম এবং মাংসের টুকরো দিয়ে ভাজি আপনার প্রিয় খাবার। আন্টি দারুন বানান।

এতক্ষণে নবনীর মা তরু বেগম চুপচাপ বসেছিলেন। স্বামীর পাশে দুই একটা মতামত ফিসফিসিয়ে দিলেও মেয়েদের সিদ্ধান্তের মধ্যে তিনি কথা বলার প্রয়োজন বোধ করেননি। তার অবশ্য কারণও আছে। মুখের একপাশ প্যারালাইজড হয়ে যাবার পর থেকে যৎসামান্যই আওয়াজ করেন। আমাদের মুখে নিজেদের নিজস্ব রেসিপি কথা শুনে চোখ মুখ যেন চিকচিক করে উঠলো তার। আমান আবার বলল,

-এখন পর্যন্ত যেটুকু জানলাম, এর বাইরেও কি আপনাকে উত্তর দেবার প্রয়োজন আছে? থাকলে বলুন।

নবনী একেবারে চুপ হয়ে গেল। এই মানুষটা তাকে জানলো কিভাবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সে মিটিমিটি চোখে বাড়ির অন্যসব সদস্যদের দিকে তাকিয়ে লক্ষ্য করে, সবাই তার হ্যা বোধক উত্তরের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহ চেয়ে আছে। নবনী কিছুক্ষণ চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে বাবা ফরিদ হোসেন কে বলল,

-আই নিড টাইম। বাবা, তোমরা কি আমাকে একটু সময় দিবে প্লিজ?

-দেখো নবনী, আমার ভাই বলে বলছি না। আমানের মত ছেলে লাকি একটা মিলে। আমি জানি, একবার ঠকে গিয়ে তুমি মানসিকভাবে মানুষের উপর থেকে কতখানি বিশ্বাস হারিয়েছো। ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আমানের সম্পর্কে এতোটুকুই বলবো তুমি ঠকবে না।

নবনীকে আমান বিয়ে করলে ফৌজিয়া হবে তার নন। একজন ডিভোর্সি মেয়ের প্রতিও তাঁর সমান আগ্রহ দেখি ফরিদ হোসেন মুগ্ধ হয়ে গেলেন। এই পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তা করার বিন্দুমাত্র অবকাশ তার নেই। কিন্তু মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি কোন রিক্স নিতে চাইলেন না। আরমান খানের হাত ধরে বললেন,

-আমি জোর করলে আমার মেয়ে ঠিকই রাজি হবে। কিন্তু আমি সেটা চাই না। কারন, পূর্বের সিদ্ধান্তটাও আমারই ছিল। আমি চাই আমার মেয়ে মুক্তমনে সিদ্ধান্ত নিতে শিখুক। নিজের ইচ্ছায় বাঁচুক। আরমান ভাই, আমার কাছে নবনীর সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত। ওর সময় চায়। আর আমি বাবা হিসেবে ওকে সেটা দেবো।

-আমি আর কি বলবো বলুন? সেটা নবনি আর আমান মিলেই ঠিক করুন। প্রথমবার আমার ছেলের মুখ ফুটে বলেছে ও কোন মেয়েকে পছন্দ করে। আমার কাছেও ওর সিদ্ধান্তই আসল। আমরা বরং ওদের উপরেই বাকিটা ছেড়ে দেই।

সেদিনের মত আরমান খান তার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে বের হয়ে গেলেন। বাড়ির সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। সবচেয়ে খুশির ফোয়ারা ছুটেছিল তাথলের ঠোঁটে। শুধু নবনীই হতবিহ্বল হয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে। এই আমান ছেলেটা তার সম্পর্কে সব জানে।কিন্তু এটা কিভাবে সম্ভব! নবনী পাশ ফিরে ঘরের দিকে পা বাড়াতেই রাতুলের উপর ওর দৃষ্টি পড়ে। আগের সেই চিন্তিত ফ্যাকাশে মুখের ভঙ্গি এখন আর তার নেই। রিতুর দিকে চেয়ে মুচকি হাসছে সে। নবনী বলল,

-তোদের মধ্যে সম্পর্ক আছে, এটা আগে বললেই হতো। মাঝখানে আমাকে এভাবে ফাঁসানোর মানে কি?

রিতু ভয়েস চমকে উঠে। তার বোন যে অতি বুদ্ধিমতী নারী, তা কি তার অজানা ছিল? নিশ্চয় না। তবুও সেধে বলার সাহস রিতুর হয়নি। লজ্জিত হয়ে সে বলে,

-আপা, বাবা জানতে পারলে আস্ত রাখবে না। তুমি তো জানোই, উনি হুটহাট নিজের মতই সিদ্ধান্ত নিতে পছন্দ করেন। তুমি প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও।

রিতু ওকে জড়িয়ে ধরার জন্য এগিয়ে গেলে সে থামিয়ে দিয়ে বলে ওঠে,

-কাছে আসিস না। এখন আমি দুই ঘন্টা ধরে গোসল করবো। তোরা কেউ বিরক্ত করবি না একদম। আর হ্যাঁ, আজকের ঘটনার পর আশা করি বাবা খুব সহজে তোর মতামত মেনে নিবেন।

-সত্যি? কিভাবে?

জানি না। মন বলছে, তাই বললাম। রাতুল, গেস্টদের উপলক্ষ করে আজ বাসায় ভালো আইটেম রান্না হয়েছে। খেয়ে যেও। আর রিতু, রাকিবের ভার্সিটি কাল থেকে চার দিনের ছুটি। ও বাসায় আসছে, বাবাকে বলে দিস।

নবনী আর পিছে ফিরে তাকায় না। যন্ত্রের মতো হেঁটে হেঁটে নিজের ঘরে চলে যায়। রাতুল মুগ্ধ হয়ে ভাবে নবনী আপা সত্যিই এমন স্নিগ্ধ কেন! কিন্তু নবনীর তা মনে হয় না। সে নিজেকে ভীষণ কাঠখোট্টা টাইপ মনে করে। ঠিক যেন শিমুল তুলার গাছ। কন্টকযুক্ত। বাইরে বের হতে ভালো লাগেনা, মিষ্টি ভালো লাগেনা কথাও বলে সামান্য। এই অভ্যাসটা ডিভোর্সের পর নয় বরং আজন্মই সে এমন। অথচ রিতু ঠিক তার উল্টো।

ফরিদ হোসেনের কোন এক বন্ধুর দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের কোম্পানি থেকে চাকরির ভাইবা দিয়ে বাসায় ফিরেছে নবনী। এভাবে বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগছে না ওর। হঠাৎ হঠাৎ নতুন মানুষের সাথে আলাপ জমাতে ভীষণ ইচ্ছে করছে। সেকারণেই সেদিন ঘুম থেকে উঠেই ব্রাশ না করে সোজা বাবার ঘরে গিয়ে বলল,

-বাবা, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি চাকরি করব।

-আমার ব্যবসা থেকে কি কম উপার্জন হচ্ছে?

-না। তুমি দারুন ব্যবসায়ী। এ নিয়ে আমার আপত্তি নেই। কিন্তু আমি মেয়ে হয়ে তো ওসব দোকান, আড়ৎ সামলাতে পারিনা। ভার্সিটি শেষ করি ওসব করবে রাকিব। কারণ পাশ করে বেরোলেও তোমার ব্যবসার দশভাগের এক ভাগ বেতনের চাকরিও ও পাবেনা। যাই হোক, আমি চাকরি করতে চাই। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি।

-আচ্ছা, ঠিক আছে। তবে অপরিচিত কোথাও যেতে দেব না। দেখি, আমার এক বন্ধুকে বিকেলে কল দিবোনি।

সবার আগে এই গল্পটি পড়তে আমার এই পেইজে ফললো করে রাখুন
পেইজের লিংকঃ
https://www.facebook.com/ভালোবাসার-গল্প-101901581410034/
বাবা সূত্রেই এখানে ভাইবা দিতে আসা। চাকরি প্রায় নিশ্চিত, নবনী তখনই ভাইবা বোর্ডে বলে উঠেছে দেখুন, আমি কিন্তু ডিভোর্সি। আপনাদের কোন সমস্যা হবেনা তো?

উপস্থিত সবাই হতবাক হয়ে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে জানান তাদের কোন সমস্যা নেই। নবনী সালাম দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। এই মুহূর্তে কেন জানি আর চাকরিটা টানছে না। বিরক্ত লাগছে। তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে সে রিক্সার অপেক্ষায় আছে, এমন সময় পাশ থেকে আমান বলে উঠলো,

-আপনি এখানে?

-আমার তো এখানেই থাকার কথা। বরং এই প্রশ্নটা তো আমার করার কথা। কাজকর্ম ফেলে স্টক করতে এসেছেন?

আমান মুচকি হাসলো। একটা কপির জার ওর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে,

-কথাটা আংশিক সত্য। হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরছিলাম। আপনার বাবাকে ফোন দিলে উনি জানান আপনি এখানে। তাই স্টক করতে চলে এলাম বিরক্ত হলে চলে যাচ্ছি।

_উহু, যেতে হবে না। আপনাকে অনেকগুলো প্রশ্ন করার আছে।

-করুন।

-আমি যেই আমানকে দেখছি, এটা আপনি নন। তাই না? আর আপনি আমার সম্পর্কে এত তথ্য কেন আর কিভাবে পেলেন?

আমানির নির্বাক হয়ে ওর দিকে তাকালো।

চলবে.....

21/05/2023

#জলনূপুর ২য় পর্ব
- Sharifa Suhasini

তোমার আপুকে আমার সত্যিই পছন্দ হয়েছে। আমি প্রথম দেখায় উনার শুভ্রতার প্রেমে পড়েছি। উনার চোখের গভীর দৃষ্টির প্রেমে পড়েছি। আর বিয়ে করলে উনাকেই করবো। এটাই সত্যি, এটাই আমার শেষকথা।

রিতু হতবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। একটা মানুষ তারই সবচেয়ে প্রিয় মানুষ নবনী আপাকে তার সামনে ভালোবাসার নির্মল সত্য স্বীকার করছে-এর চেয়ে সুখকর আর কী আছে!

এদিকে বাইরে ঘরের এককোণে লজ্জায় গুটিসুটি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নবনী। আমান নামক ভদ্রলোক এতগুলো মানুষের সামনে এটা কী বললেন! তাছাড়া এরপরই বা কী করবে সে! নিজের বোনের বিয়ের সময় এমন ভয়ানক ঘটনার মুখোমুখি তাকে হতে হবে- এই বি.চ্ছি/রি কল্পনা কী সে করতে পেরেছে? বাবার সামনে মেয়েটা মুখ তুলে তাকাতেও পারছে না। ফরিদ হোসেন মুখ কাচুমাচু করে আমানের বাবা আরমান খানকে বললেন,
-ভাইসাব, আমি আপনাদেরকে লজ্জায় ফেললাম নাকি আপনারা আমাকে ফেললেন, বুঝতে পারছি না।

আরমান খান দুশ্চিন্তায় একবার সম্মুখের দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরলেন। মেয়েপক্ষের সামনে লজ্জায় তার মাথা কা*টা যাচ্ছে। নবনীকে পছন্দ, একথা আগে বললে কী এমন ক্ষতি হত তার! আরমান খান সারাজীবন আর্মির মেজর হিসেবে বড় দায়িত্ব পালন করেছেন। নিজের কর্ম ছাড়া আর কারো কাছে তাকে মাথা নত করতে হয়নি। অথচ আজ কি-না তার ছেলের কারণে এই অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

ফরিদ হোসেন আবার বললেন,
-ভাই, আমান যদি আমার ছোট মেয়েকে বাদ রেখে বড় মেয়েকে পছন্দ করে, তবে আমি এই বিয়েতে মত দিতে পারবো না। আমি নবনীর সাথে আমানের বিয়ে দিলে রিতুকে কী জবাব দেবো? আর তাছাড়া, সারাজীবন আমার ছোট মেয়েটা মানুষের কটুক্তির স্বীকার হবে। বাবা হয়ে আমি কীভাবে মেনে নেবো বলুন?

-ফরিদ সাহেব, আমি একজন সাবেক মেজর। আমার এক কথা, এক কাজ। আপনার সম্মানের হানি হয়, এমন কাজ আমি কখনোই হতে দেবো না। হয় রিতুকে ও বিয়ে করবে, আর নাহয় এই বিয়ে ক্যান্সেল করবো।

এরপর তিনি নবনীর কাছে এগিয়ে গেলেন। তারও তো একটা আত্মসম্মান আছে। মেয়েটা নিশ্চয় ভাবতেই পারে- ডিভোর্সি বলেই ছেলেপক্ষ থেকে রিতুর প্রতি এই সহানুভূতি, আর তার প্রতি এমন তীব্র বিমুখতা! আরমান খান নবনীর মাথায় হাত রেখে বললেন,
- নবনী মা, আমাদের পক্ষ-বিপক্ষের কথার ভীড়ে তুমি নিজেকে নিয়ে খুব সংকোচবোধ করছো,আমি তা বুঝতে পারছি। মা রে, তুমি ডিভোর্সি-একথা আমরা সবাই জানি, একথা সত্য। কিন্তু ডিভোর্সি বলে আমান তোমাকে পছন্দ করলেও ওর সাথে তোমাকে বিয়ে দিচ্ছি না-এমনটা কিন্তু মোটেও না।

নবনী একবার স্মিত হাসি হাসলো। তারপর বললো,
-আংকেল, আমি একজন শিক্ষিত মেয়ে। এই ব্যাপারগুলো আমি বুঝি। আমান যদি সরাসরি আমাকে পছন্দ করে দেখতে আসতো, তবে ব্যাপারটা অন্যরকম হত। কিন্তু সে এখানে রিতুকে দেখতে এসে আমাকে বিয়ে করতে চাইছে৷ ব্যাপারটা সাংঘর্ষিকই। যদিও আমার মনে হচ্ছে, এখানে রিতুকে নিয়ে অন্য কিছু রহস্য লুকিয়ে আছে।

-অন্য রহস্য? মানে! আমি ঠিক বুঝলাম না। একটু ক্লিয়ার করে বলো তো। কী সেটা?

-নিশ্চিত নই। রিতুরা ফিরে আসুক। তখন বুঝতে পারবেন। তবে যাই ঘটুক, আমি আমান সাহেবের সাথে বিয়ের সম্মতি দিচ্ছি না। এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকুন।

নবনীর কথা শেষ হতে না হতেই একটি অপরিচিত ছেলে বাসার ভিতর ঢুকলো। চুল উসকোখুসকো, চোখেমুখে দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। ভিতরে ভিতরে কোনো বিষয় নিয়ে ভীষণ ভয়ে ছেলেটা যে চুপসে আছে, তা ওর চোখের দৃষ্টির সীমাই বুঝিয়ে দিচ্ছে। নবনী ওর বুকের ভিতরকার ভাবনাগুলো অনুভব করার চেষ্টা করলেও উপস্থিত অন্যরা অবাক হওয়া ছাড়া বিশেষ কোনো ভাবনা তাদের মস্তিষ্কে এলো না। ফরিদ সাহেব কিছুটা ভ্রু কুঁচকে বলে উঠলেন,
-রাতুল! ভালো হয়েছে বাবা, তুমি এসেছো। এই দেখো, তোমার বন্ধু রিতুকে পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছে। আমি তোমাকে বলবো ভেবেছিলাম। কিন্তু বিয়েটা তো এখনও কনফার্ম করা হয়নি, তাই সেভাবে ভাবিনি আর কী…

-সমস্যা নেই আংকেল। আমি রিতুর কাছ থেকে আগেই শুনেছি। আংকেল, আপনাকে একটা কথা বলা হয়নি। রিতু…

রাতুলের কথা শেষ হয় না। তার আগেই আমানের পিছু পিছু রিতু এসে উপস্থিত হলো। রাতুলকে দেখেই সে চমকে উঠে বাবা ফিরোজ খানের মুখের দিকে তাকায়। এই রাতুলই তার মেডিকেল কলেজের ফার্স্ট বয়, তার প্রেমিক। যদিও তার বাবা রাতুলকে রিতুর খুব ভালো একজন বন্ধু হিসেবেই চিনেন।

আচ্ছা, বাবাকে রাতুল সব বলে দিয়েছে? ওর কী এত সাহস সত্যিই আছে? রিতুর মাথায় যেন আকাশ-পাতাল চিন্তা এসে ভর করতে শুর করলো। যদিও সেই চিন্তার সময়সীমা খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। আমান আবারও পূর্বের মত দৃঢ়চিত্তে বললো,
-বাবা, আপনারা গুরুজনেরা উপস্থিত আছেন। আমি কিছুক্ষণ আগেই বলেছি, আমি রিতুকে নয়, নবনীকে বিয়ে করতে চাই। আমি সত্যিই উনাকে বিয়ে করতে চাই। জানি, আপনারা প্রচন্ড রাগ করবেন। কিন্তু আমার ব্যাপারটাও একটু বুঝার চেষ্টা করুন প্লিজ।

আরমান সাহেব গলার স্বর বেশ কঠিন করেই প্রশ্ন করলেন,
-তোমার ব্যাপার? তোমার কোন ব্যাপার বুঝার চেষ্টা করবো শুনি। একটা মেয়েকে দেখতে এসে আরেকটা মেয়েকে নিয়ে তেনা পেচাচ্ছো। আমার এইসব ভন্ডামি কিন্তু ভালো লাগে না আমান। এভাবে বিয়ে ক্যান্সেল করে দিলে রিতুর কী হবে, ভাবতে পারছো?

এবার আর আমানকে উত্তর দিতে হলো না। রিতুই এগিয়ে এসে বললো,
-আংকেল, আপনারা উতলা হবেন না প্লিজ। আমানের সাথে আমার কথা হয়েছে। আমিও চাই উনি আমার বড় আপাকেই বিয়ে করুন। দেখুন, বিয়েটা হচ্ছে দুটি মানুষের মনের ব্যাপার, ভালো-মন্দ অনুভূতির ব্যাপার। আমাকে উনার পছন্দ নয়। এখন বাড়িসুদ্ধ লোক জোর করে বিয়ে দিয়ে আসলেই কী আমাদের সুখী করতে পারবেন? পারবেন না। তাছাড়া আমার সাথে জোর করে বিয়ে দিয়ে পরে যতবার এ বাড়িতে আসবো, আমার আপা কারো সামনে মুখ তুলে তাকাতেও পারবে না।

এরপর সে ফরিদ সাহেবের কাছে হাতজোড় করে বলে,
-বাবা, নবনী আপাকে উনি বিয়ে করলে আমার সত্যিই কোনো সমস্যা নেই। আমান সাহেব অত্যন্ত ভালো মানুষ, এই বিষয়ে আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। আর নবনী আপা কতটা সফট, স্নিগ্ধ মনের মানুষ,সেকথা তুমি নিজে অস্বীকার করতে পারবে? শুধু আমান কেন, এ পৃথিবীর যেকোনো বুঝদার পুরুষই আমার আপাকে যদি একবার কাছ থেকে দেখে, সেই প্রেমে পড়ে যাবে। তার অতীতের সাথে যেটা ঘটেছে, তা তো আর আপার হাতে ছিল না। তাই না? বাবা, আমান সাহেবের মত মানুষের পাশে আপাকেই মানায়।

আরমান খান এবং ফরিদ হোসেন একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন। আমান যে জিদ ধরে হলেও নবনীকে বিয়ে করতে পারে, সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত। তাহলে এরমধ্যে অযথা বয়োজ্যেষ্ঠরা ঝামেলা সৃষ্টি করে লাভ কী? নিজের প্রতিশ্রুতি গোল্লায় যাক। ছেলেমেয়ের সুখই তাদের কাছে বড় বিষয়। আরমান খান সহাস্যে বললেন,
-তাহলে আর কী! রিতু যখন বলছেই, তখন আমার আর আপত্তি নেই। আমাদের নবনী মাকেই আমার ঘরের পুত্রবধূ করবো। কী বলেন ফরিদ ভাই?

-সবাই যখন রাজি, তখন আমি আর বাধা দেই কী করে বলুন তো?

-কিন্তু আমি রাজি নই। বাবা, তোমরা নিজেদের ইচ্ছেমতো মত দিতে পারো না। বিয়েটা যেহেতু আমার, তাই আমার মতামত নেওয়াটাও জরুরি। আমি আমান সাহেবকে বিয়ে করতে পারবো না।

সবাই যখন বিজয়োল্লাসের সুচনা করতে যাচ্ছে, ঠিক এমন মুহুর্তেই বেঁকে বসলো নবনী।

(চলবে..)

Address

Chaharia, Cox's Bazaar
Chakaria
4740

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sagor's Blog posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Sagor's Blog:

Share

Category