09/10/2025
আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫
• ব্যাংক আমানতকারীদের সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে ‘Bank Deposit Insurance Ordinance, 1984' প্রণীত হয়। পরবর্তীতে উক্ত অধ্যাদেশটি রহিত করে বাংলায় 'ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০' প্রণয়ন করা হয়। বিদ্যমান এ আইনের আওতায় তফসিলি ব্যাংকসমূহের নিকট থেকে প্রিমিয়াম সংগ্রহের মাধ্যমে 'আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল গঠনপূর্বক শুধু তফসিলি ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার বিধান করা হয়;
• তফসিলি ব্যাংক ছাড়াও বিভিন্ন ফাইন্যান্স কোম্পানি জনগণের নিকট থেকে আমানত সংগ্রহ করে থাকে- যেসকল আমানতকারীদের সুরক্ষার বিষয়টি বিদ্যমান আইনে আওতাভুক্ত করা হয়নি। ফলে বিদ্যমান আইনের মাধ্যমে ফাইন্যান্স কোম্পানিসমূহের আমানতকারীর স্বার্থ সুরক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া, বিদ্যমান আইনে সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা এক লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিলো, যা যুগোপযোগী করা প্রয়োজন এবং এর পরিমাণ হ্রাস/বৃদ্ধি করার সুযোগও বিদ্যমান আইনে নেই;
• এ পরিপ্রেক্ষিতে, 'ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০'কে অধিকতর যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে পরিমার্জনপূর্বক 'আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫'-এর খসড়া প্রস্তুত করা হয়। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক উত্তমচর্চা অনুশীলনের জন্য উন্নয়ন সহযোগীদের (আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক) পরামর্শ গ্রহণ করা হয়; • প্রণীত খসড়া অধ্যাদেশের উপর জনগণের মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধিগণের সমন্বয়ে অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভার আলোচনা ও সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রস্তাবিত খসড়া অধ্যাদেশে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়। পরবর্তীতে এ খসড়ার উপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ গ্রহণ করা হয়।
• প্রস্তাবিত খসড়া অধ্যাদেশে ৬টি অধ্যায় ও ৩৩টি ধারা রয়েছে। এ আইনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যসমূহ (Salient Feature) সভায় উপস্থাপন করছি:
এ অধ্যাদেশে ‘আমানত সুরক্ষা তহবিল (ব্যাংক কোম্পানি)’ এবং ‘আমানত সুরক্ষা তহবিল (ফাইন্যান্স কোম্পানি)' নামে দু'টি পৃথক তহবিলের বিধান রাখা হয়েছে- ধারা ৫ (২ ও ৩)। এ তহবিল দুটি পরস্পর বিনিময়যোগ্য হবে না এবং পরস্পরের মধ্যে ঋণ আদান-প্রদান করতে পারবে না- ধারা ৫ (৪)
এ তহবিল দুটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য তহবিল হতে স্বতন্ত্র হবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় ও সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হবে না- ধারা ৫ (৫);
তহবিল পরিচালনা ও প্রশাসনের জন্য একটি ট্রাস্টি বোর্ড থাকবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদ তহবিলের ট্রাস্টি বোর্ড হবে- ধারা- ৫ (৭)
আমানত সুরক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনে আমানত সুরক্ষা বিভাগ নামে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠন করা যাবে যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য বিভাগ হতে স্বতন্ত্র ও পৃথক হবে- ধারা- ৫ (৮)
এ অধ্যাদেশ জারীর পর পূর্বের আইন অনুযায়ী অন্তর্ভুক্ত তফসিলি ব্যাংক কোম্পানিসমূহ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তহবিলের সদস্য হিসেবে গন্য হবে ধারা ১০ (৩)। নতুনভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত তফসিলি ব্যাংক কোম্পানিসমূহ এ অধ্যাদেশের অধীনে সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গন্য হবে এবং লাইসেন্স প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম জমা দিবে (ধারা ১০ (১ ও ২)।
বিদ্যমান লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও নতুন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সকল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে ০১ জুলাই ২০২৮ থেকে এ অধ্যাদেশের অধীন সদস্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে গন্য হবে এবং ৩১ জুলাই, ২০২৮ তারিখের মধ্যে প্রারম্ভিক প্রমিয়াম জমা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে- ধারা ১০ এর ১(খ) ও (৪);
প্রারম্ভিক প্রিমিয়াম পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ০.৫০ শতাংশ হারে অথবা ট্রাষ্টি বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত হারে বা পরিমানে হবে। তবে তা কোনভাবেই পরিশোধিত মূলধনের ০.৫০ শতাংশের কম হবে না- (ধারা ১০ (২);
‘আমানত সুরক্ষা তহবিল থেকে ব্যাংক কোম্পানি ও ফাইন্যান্স কোম্পানিসমূহের রেজল্যুশনের ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে আর্থিক সহায়তা প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে- ধারা ১৩ (২ ও ৩)।
(এ কারণে অর্থ বিভাগ থেকে পাঁচটি ব্যাংক রেজ্যুলেশন করে একটি ইসলামী ব্যাংক গঠনের প্রস্তাবনায় এ তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা প্রদান করার প্রস্তাবনা রয়েছে)
• তহবিলের অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অধিক মুনাফা অর্জন অপেক্ষা নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্র, বৈচিত্র ও তহবিলের তারল্য সংরক্ষণকে প্রাধান্য দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে- ধারা ১৫ (১)
• প্রত্যেক আমানতকারীর জন্য সুরক্ষিত আমানতের সর্বোচ্চ সীমা ১ (এক) লক্ষ টাকার পরিবর্তে ২ (দুই) লক্ষ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে- ধারা ১৮ (১)। এতে প্রায় ৯৩ শতাংশ আমানতকারীকে সুরক্ষা দেয়া সম্ভব হবে। যা বাংলাদেশ ব্যাংকের Statistics Department এর প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়। এছাড়া প্রতি ০৩ (তিন) বৎসরে কমপক্ষে একবার ট্রাস্টি বোর্ডের সুপারিশক্রমে এ সর্বোচ্চ সীমা পুনঃনির্ধারণ করার বিধান রাখা হয়েছে- ধারা ১৮ (২);
• সুরক্ষিত আমানত পরিশোধের সময়সীমা ১৮০ দিনের পরিবর্তে ১৭ কার্যদিবসে পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে- ধারা ২০ (১ ও ২);
বর্ণিত অবস্থায় ‘আমানত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫'-এর খসড়া Rules of Business, 1996 এর Rule 16 (1) অনুযায়ী উপদেষ্টা পরিষদের নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।