13/03/2026
সিঙ্গাপুরে কর্মসংস্থান ও বিদেশি কর্মী নীতিতে বড় পরিবর্তন, EP-S Pass বেতনসীমা বাড়ছে 💰
সিঙ্গাপুর সরকার পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কর্মী ও ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করতে একাধিক নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। গত ৩ মার্চ-২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে Ministry of Manpower (MOM) জানায়, ভবিষ্যতের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিদেশি কর্মী নীতিতে ধাপে ধাপে বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হবে। সরকার জানিয়েছে, নতুন এই পরিকল্পনা তিনটি মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে, সিঙ্গাপুরিয়ানদের জীবনের প্রতিটি ধাপে দক্ষতা ও সুযোগ বাড়ানো, ব্যবসাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং এমন কর্মপরিবেশ তৈরি করা যাতে কেউ পিছিয়ে না থাকে। MOM জানায়, অনিশ্চিত অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন গ্র্যাজুয়েটদের সহায়তার জন্য Graduate Industry Traineeships (GRIT) কর্মসূচি চালু থাকবে। পাশাপাশি তরুণ পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে Overseas Markets Immersion Programme (OMIP) সম্প্রসারণ করা হবে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-ভিত্তিক দক্ষতা বাড়াতে নির্বাচিত SkillsFuture AI কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছয় মাসের জন্য প্রিমিয়াম AI টুল ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা বাস্তব কাজে AI ব্যবহার শিখতে পারেন।
কর্মজীবনের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার অবসরের বয়স ধীরে ধীরে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১ জুলাই-২০২৬ থেকে অবসরের বয়স ৬৪ বছর এবং পুনঃকর্মসংস্থানের বয়স ৬৯ বছর করা হবে। একই সঙ্গে বয়স্ক কর্মীদের কর্মসংস্থান ধরে রাখতে Senior Employment Credit সুবিধাও ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অবসরকালীন সঞ্চয় বাড়াতে Central Provident Fund (CPF) অবদানের হারও বাড়ানো হবে। ২০২৭ সাল থেকে ৫৫-৬০ ও ৬০-৬৫ বছর বয়সী কর্মীদের CPF অবদান যথাক্রমে ১.৫ এবং ১ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি CPF সদস্যদের জন্য ২০২৮ সালে নতুন একটি বিনিয়োগ স্কিম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা চাইলে বেশি মুনাফার জন্য বিনিয়োগ করতে পারেন।
অন্যদিকে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যবসাকে শক্তিশালী করতে Enterprise Workforce Transformation Package (EWTP) চালু করা হচ্ছে। এর আওতায় SkillsFuture Workforce Development Grant (Job Redesign+) এর মাধ্যমে কোম্পানিগুলো প্রকল্প ব্যয়ের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা পাবে।
বিদেশি দক্ষ কর্মী আকর্ষণেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সিঙ্গাপুরকে AI ও প্রযুক্তি খাতে বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে নতুন ONE Pass (AI and Tech) চালু করা হবে, যা বর্তমান Tech.Pass এর পরিবর্তে কার্যকর হবে। বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায়ও কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। উৎপাদন ও সেবা খাতে লেভি কাঠামো সহজ করা হবে এবং শিল্পভেদে ধাপে ধাপে নতুন হার নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে Non-Traditional Source Occupation List (NTS-OL) এ সামাজিক সেবা, খাদ্যসেবা ও বিমান পরিবহন খাতের আটটি নতুন পেশা যুক্ত করা হবে। এদিকে বিদেশি পেশাজীবীদের বেতনসীমাও বাড়ানো হচ্ছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে Employment Pass (EP) এর ন্যূনতম বেতন ৫,৬০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬,০০০ ডলার করা হবে এবং S Pass এর ন্যূনতম বেতন ৩,৩০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩,৬০০ ডলার নির্ধারণ করা হবে। ২০২৮ সাল থেকে এসব নতুন নিয়ম নবায়নের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। সরকার জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে S Pass এর ন্যূনতম বেতন প্রায় ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। নিম্ন আয়ের কর্মীদের জন্যও নতুন সহায়তা ঘোষণা করা হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে Local Qualifying Salary ১,৬০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১,৮০০ ডলার করা হবে। একই সঙ্গে Progressive Wage Credit Scheme (PWCS) ২০২৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং সরকারিভাবে সহায়তার হারও বৃদ্ধি করা হবে। সরকার বলছে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যবসার উৎপাদনশীলতা বাড়ানো এবং সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিকে ভবিষ্যতের জন্য আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে। এজন্য সরকার শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে
। প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে পেজটি ফলো করুন এবং সংবাদটি শেয়ার করুন।
SingaporeJobs