07/08/2026
করবর্ষ ২০২৬–২০২৭
আয়কর রিটার্ন দাখিল নির্দেশিকা
১ জুলাই ২০২৬ থেকে রিটার্ন দাখিল শুরু
আয়কর আইন, ২০২৩ এবং অর্থ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী করবর্ষ ২০২৬–২০২৭-এর আয়কর রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত আয়বর্ষ (২০২৫–২০২৬)-এ অর্জিত সকল করযোগ্য আয়, সম্পদ, দায়, বিনিয়োগ এবং কর অব্যাহতি-সংক্রান্ত তথ্য যথাযথভাবে উল্লেখ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করুন।
কেন সময়মতো রিটার্ন দাখিল করবেন?
✔ আইনগত বাধ্যবাধকতা পালন করা যায়।
✔ কর প্রণোদনা (Tax Rebate) পাওয়ার সুযোগ থাকে।
✔ অতিরিক্ত কর (Additional Tax) বা জরিমানা এড়ানো যায়।
✔ ব্যাংক ঋণ, ভিসা, টেন্ডার, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি কাজে Tax Return Acknowledgement প্রয়োজন হয়।
✔ একজন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা যায়।
অর্থ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী কর প্রণোদনা ও অতিরিক্ত কর
১ জুলাই – ৩০ সেপ্টেম্বর
কর প্রণোদনা
পরিশোধযোগ্য করের ৫% অথবা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা (যেটি কম)।
১ অক্টোবর – ৩১ ডিসেম্বর
কর প্রণোদনা
পরিশোধযোগ্য করের ৫% অথবা সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা (যেটি কম)।
১ জানুয়ারি – ৩১ মার্চ
কোনো কর প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর প্রযোজ্য নয়।
১ এপ্রিল – ৩০ জুন
অতিরিক্ত কর
পরিশোধযোগ্য করের ২% অথবা ৫০,০০০ টাকা (যেটি বেশি) অতিরিক্ত কর প্রদান করতে হবে।
কারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন?
যাদের Taxable Income রয়েছে।
যাদের TIN রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
কোম্পানি, ফার্ম, অংশীদারি ব্যবসা ও অন্যান্য করযোগ্য প্রতিষ্ঠান।
নির্ধারিত সম্পদ, গাড়ি, ফ্ল্যাট বা ব্যবসার মালিক।
সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী।
ভাড়ার আয়, মূলধনী মুনাফা বা বিদেশি আয় রয়েছে এমন ব্যক্তি।
নতুন করদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা
যারা পূর্বে কখনও আয়কর রিটার্ন দাখিল করেননি, তারা প্রথমবারের মতো TIN গ্রহণ করে প্রযোজ্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
প্রবাসী করদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধা
চাকরি, ব্যবসা, শিক্ষা, চিকিৎসা অথবা অন্য বৈধ কারণে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতারা দেশে ফেরার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
রিটার্ন দাখিলের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
✅ Salary Certificate / Income Statement
✅ ব্যাংক স্টেটমেন্ট
✅ TIN ও e-TIN তথ্য
✅ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
✅ বিনিয়োগ সংক্রান্ত দলিল
✅ DPS, FDR, সঞ্চয়পত্র ও জীবন বীমার তথ্য
✅ ভাড়ার আয়ের তথ্য
✅ ব্যবসায়িক আয়-ব্যয়ের হিসাব
✅ শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্যান্য মূলধনী বিনিয়োগের তথ্য
✅ যাকাত ও দানের প্রমাণপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
✅ পূর্ববর্তী বছরের রিটার্ন ও কর পরিশোধের চালান
রিটার্ন দাখিলের পূর্বে যা নিশ্চিত করবেন
সকল আয়ের উৎস সঠিকভাবে উল্লেখ করুন।
কর অব্যাহতি ও কর রেয়াতের দাবি যথাযথ প্রমাণসহ উপস্থাপন করুন।
সম্পদ ও দায়ের বিবরণ হালনাগাদ করুন।
ব্যাংক হিসাব ও বিনিয়োগের তথ্য মিলিয়ে নিন।
e-Return অথবা নির্ধারিত ফরমে সঠিকভাবে তথ্য পূরণ করুন।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
✔ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করুন।
✔ সঠিক তথ্য প্রদান করুন।
✔ সকল প্রয়োজনীয় দলিল সংরক্ষণ করুন।
✔ ভবিষ্যতে কর নিরীক্ষা (Tax Audit) বা যাচাইয়ের জন্য নথিপত্র প্রস্তুত রাখুন।
✔ একজন অভিজ্ঞ কর পরামর্শকের সহায়তায় রিটার্ন প্রস্তুত করলে ভুলের সম্ভাবনা কমে।
স্লোগান
"সময়মতো আয়কর রিটার্ন দাখিল করুন, কর প্রণোদনার সুবিধা গ্রহণ করুন, অতিরিক্ত কর এড়িয়ে চলুন এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখুন।"
RIZVI AHMED
CA(CC), ITP.
Tax Lawyer Associate Member,
Financial Analyst,
Trainer on Excel, PowerPoint, Tax, VAT & AI
📱 মোবাইল: 01580571353
📧 E-mail: [email protected]