12/12/2024
বাংলাদেশের আবাসন খাত বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও কিছু ইতিবাচক প্রবণতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সভাপতি মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানিয়েছেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) কার্যকর হওয়ার পর থেকে ঢাকার আবাসন খাতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ড্যাপের কারণে ভবন নির্মাণের উচ্চতা ও আয়তন সীমিত হওয়ায় নতুন প্রকল্প গ্রহণে ডেভেলপাররা আগ্রহ হারাচ্ছেন, যা আবাসন শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে। 
অন্যদিকে, চট্টগ্রামে রিহ্যাবের আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, দেশের রিয়েল এস্টেট সেক্টর বহুমুখী সমস্যার সম্মুখীন হলেও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এসব সমস্যা অতিক্রম করা সম্ভব। সভায় ডেভেলপারদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 
তবে, আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা সংস্থা স্ট্যাটিস্টা মার্কেট ইনসাইটস-এর তথ্যমতে, ২০২৪ সালের শেষে বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট বাজারের আকার ২.৬৮ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বার্ষিক ৭.১৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে বাজারের আকার ৩.৫৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, দ্রুত নগরায়ণ, সাশ্রয়ী মূল্যের ও বিলাসবহুল উভয় ধরনের আবাসনের চাহিদা বৃদ্ধি, কালো টাকা বিনিয়োগ এবং রেমিট্যান্সের বড় অংশ রিয়েল এস্টেট খাতে বিনিয়োগের কারণে এ খাতের আকার দ্রুত বাড়ছে। তবে, কালো টাকা বিনিয়োগের বিষয়টি বাজারকে বিকৃত করছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের রিয়েল এস্টেট খাত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মিশ্রণে একটি পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা ও সঠিক নীতিমালা গ্রহণের মাধ্যমে এ খাতের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।