13/08/2026
🚨 নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন না দিলে এবার বাড়বে করের বোঝা!
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭৪-এ বড় পরিবর্তন — বিলম্ব রিটার্নে দিতে হবে অতিরিক্ত কর। অনেক করদাতা মনে করেন—
> “সময়মতো রিটার্ন দিতে পারিনি, পরে দিলেই তো হবে!”
কিন্তু আয়কর আইন, ২০২৩-এর বর্তমান বিধান বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করলে পরবর্তীতে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে ধারা ১৭৪-এর নতুন বিধান করদাতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🔴 ধারা ১৭৪ — বিলম্ব রিটার্ন কী?
ধারা ১৬৬ অনুযায়ী যাদের রিটার্ন দাখিল করা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক, তারা নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করে পরে স্বপ্রণোদিতভাবে রিটার্ন দাখিল করলে সেটি “বিলম্ব রিটার্ন” (Late Return) হিসেবে গণ্য হবে।
এছাড়া করবর্ষ অতিক্রান্ত হওয়ার পর ধারা ২১২-এর অধীন নোটিশের প্রেক্ষিতে দাখিল করা রিটার্নও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিলম্ব রিটার্ন হিসেবে বিবেচিত হবে।
⚠️ ১. নির্ধারিত তারিখের পরে রিটার্ন দিলে অতিরিক্ত ১০%!
ধারা ১৭৪-এর উপ-ধারা (২) অনুযায়ী, নির্ধারিত তারিখ পার হওয়ার পর করদাতা স্বপ্রণোদিতভাবে বিলম্ব রিটার্ন দাখিল করলে—
✅ ধারা ১৭৩ অনুযায়ী প্রযোজ্য কর পরিশোধ করতে হবে এবং
✅ অতিরিক্ত কর হিসেবে পরিশোধযোগ্য করের ১০% অথবা ৫,০০০ টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ** দিতে হবে।
অর্থাৎ, শুধু মূল কর দিলেই দায় শেষ হবে না।
#উদাহরণ:
ধরা যাক, সময়মতো রিটার্ন দাখিল করলে আপনার পরিশোধযোগ্য কর হতো— ৫০,০০০ টাকা।
নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন দাখিল করলে অতিরিক্ত কর:
৫০,০০০ × ১০% = ৫,০০০ টাকা
সুতরাং বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা দিতে হবে।
আবার কারও ক্ষেত্রে ১০% হিসাব ৫,০০০ টাকার কম হলেও ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা প্রযোজ্য হবে।
🚨 ২. করবর্ষ পার হওয়ার পর নোটিশ পেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন-
এখানেই করদাতাদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক হতে হবে। করবর্ষ অতিক্রান্ত হওয়ার পর ধারা ২১২-এর অধীন নোটিশের প্রেক্ষিতে রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে ধারা ১৭৪-এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী—
🔴 পরিশোধযোগ্য করের ১৫% অথবা ১০,০০০ টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ অতিরিক্ত কর দিতে হবে।
অর্থাৎ, করদাতা যদি সময়মতো রিটার্ন না দিয়ে বিষয়টি আরও দীর্ঘায়িত করেন এবং পরবর্তীতে নোটিশের পর্যায়ে চলে যান, তাহলে আর্থিক দায় আরও বেড়ে যেতে পারে।
🔥 ৩. শুধু অতিরিক্ত টাকা নয়—কর অব্যাহতির বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ-
ধারা ১৭৪-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কর অব্যাহতি/Tax Exemption। নির্দিষ্ট কিছু কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয় এবং চাকরি হতে আয়ের ক্ষেত্রে যে কর অব্যাহতি বা সুবিধা পাওয়া যায়, বিলম্ব রিটার্নের ক্ষেত্রে সেই সুবিধা সবসময় আগের মতো পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ—
সময়মতো রিটার্ন = আইন অনুযায়ী প্রাপ্য কর অব্যাহতি/সুবিধা কিন্তু
বিলম্ব রিটার্ন = নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অব্যাহতি না দিয়ে কর পুনঃপরিগণনা করার বিধান।
ফলে শুধু “Late Fee” ভেবে বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
📌 একটি সহজ উদাহরণ
ধরা যাক একজন চাকরিজীবীর মোট আয় এমন যে, নিয়মিত সময়ে রিটার্ন দাখিল করলে বিভিন্ন প্রযোজ্য কর অব্যাহতি/সুবিধা বিবেচনার পর তার করদায় দাঁড়াত ৩০,০০০ টাকা।
কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলেন না।
পরবর্তীতে বিলম্ব রিটার্ন দাখিলের সময় আইন অনুযায়ী যদি কোনো নির্দিষ্ট কর অব্যাহতি প্রযোজ্য না হয়, তাহলে তার করযোগ্য আয় ও করদায় পুনরায় হিসাব করতে হবে।
ফলে করদায় শুধু ৩০,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
এর সঙ্গে ধারা ১৭৪ অনুযায়ী অতিরিক্ত করও যুক্ত হতে পারে। অর্থাৎ—
❌ “দেরিতে রিটার্ন দেব, শুধু সামান্য জরিমানা দেব”—এই ধারণা এখন বিপজ্জনক।
🟢 তাহলে করদাতার করণীয় কী?
#⃣ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রিটার্ন দাখিল করুন:
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ব্যক্তি করদাতার স্বাভাবিক করদিবস ৩০ নভেম্বর। করদিবসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে ধারা ১৭৩ অনুযায়ী কর পরিশোধ করে রিটার্ন দাখিল করা যায় এবং বিলম্বজনিত অতিরিক্ত অর্থের প্রশ্ন আসে না।
#⃣ শুধু আয় নয়, সম্পদ-দায়ও সঠিকভাবে দেখান:
রিটার্নে আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায়, বিনিয়োগ, ব্যাংক হিসাবসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
#⃣ পুরোনো রিটার্ন দেখে হুবহু নতুন রিটার্ন তৈরি করবেন না:
প্রতি করবর্ষে আয়, সম্পদ, দায় ও বিনিয়োগের প্রকৃত পরিবর্তন বিবেচনা করে রিটার্ন প্রস্তুত করা উচিত।
⃣ সময় চলে গেলে বিষয়টি ফেলে রাখবেন না:
নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব আইন অনুযায়ী করদায় নির্ধারণ করে রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা করা উচিত। কারণ সময় যত গড়াবে, পরিস্থিতি তত জটিল হতে পারে।
⚠️ করদাতাদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা:
অনেকেই এখনো ভাবেন— “TIN আছে, রিটার্ন পরে দিলেও সমস্যা নেই।” আবার কেউ বলেন— “কম্পিউটার অপারেটর দিয়ে ২০০/৫০০ টাকায় রিটার্ন করে নেব।” কিন্তু আয়কর রিটার্ন শুধু একটি অনলাইন ফরম পূরণ নয়।
একটি ভুল আয়, ভুল ব্যয়, ভুল সম্পদ, ভুল দায় কিংবা ভুল কর অব্যাহতি ভবিষ্যতে করদাতার জন্য বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বিশেষ করে বিলম্ব রিটার্নের ক্ষেত্রে করদায়, অতিরিক্ত কর এবং প্রাপ্য কর সুবিধা—সবকিছুই আইন অনুযায়ী যাচাই করে রিটার্ন প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
🔴 মনে রাখবেন- সময়মতো রিটার্ন দাখিল করুন। কারণ—
> “রিটার্ন দাখিল না করার চেয়ে দেরিতে রিটার্ন দাখিল ভালো—কিন্তু সময়মতো সঠিক রিটার্ন দাখিল করাই সবচেয়ে নিরাপদ।”
আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১৭৪ এখন করদাতাদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।
📌 রিটার্ন দাখিলের আগে আপনার আয়, ব্যয়, সম্পদ, দায়, বিনিয়োগ ও করদায় সঠিকভাবে যাচাই করুন।
সঠিক রিটার্ন, সঠিক কর—নিরাপদ করদাতা।