13/01/2017
এয়ার কন্ডিশনারের যত্নে করণীয় ৩টি প্রয়োজনীয় বিষয়
Air conditioner is very essential household device for summer countries like Bangladesh. But to keep up the efficient service from this device, it need some maintenance tasks to follow regular basis. It is also useful to prolong the machine life span. There are some important steps to maintain your air conditioning device for best service.
বাংলাদেশ ক্রান্তিয় অঞ্চলে অবস্থিত নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর দেশ। সারা বছর আবহাওয়া মোটামুটি নাতিশীতোষ্ণ থাকলেও ক্রান্তিয় প্রভাবেই গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা কিছুটা অসহনীয় হয়ে ওঠে। এ সময়ে একটা এয়ার কন্ডিশনার আপনার পারিপার্শ্বিক আবহাওয়াকে আরামদায়ক অবস্থায় রাখার জন্য খুবই জরুরী ভূমিকা পালন করে। আজকাল অনেক বাসা বা অফিসেই এয়ার কুলার বা কন্ডিশনার ব্যবহার হয়ে থাকে। কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি যথাযথভাবে যত্ন না নেয়ার কারণে নানা ধরণের বিপত্তি ঘটে। এর মধ্যে অতিরিক্ত বিল থেকে শুরু করে এসি ঠিকমত কাজ না করার মত ঝামেলাগুলো অন্যতম। আজকের আলোচনায় এয়ার কুলার বা কন্ডিশনার রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে কিছু দিক নির্দেশনা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে আপনি দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় এ যন্ত্রটিকে আরও দক্ষতার সাথে ব্যবহার করতে পারেন।
১. নিয়মিত ফিল্টার চেক করুন:
এয়ার কুলারের সবচেয়ে ব্যবহৃত অংশগুলোর মধ্যে ফিল্টার অন্যতম। বেশিরভাগ উইন্ডো টাইপ মডেলের ফিল্টার ফ্রন্ট প্যানেল থেকে খোলা যায়। মাসে অন্তত একবার এই ফিল্টারটি খুলে গরম পানি এবং ডিস ওয়াশিং ডিটারজেন্ট বা সাদা ভিনেগার দিয়ে পরিস্কার করা উচিত। ধোয়ার পর ফিল্টারটি যথাস্থানে লাগানোর আগে এটাকে পুরোপুরি শুকিয়ে নিতে হবে। সব সময় না হলেও যে ঋতুতে এসি বেশি ব্যবহার হয়, সে সময়টায় ফিল্টারটিকে নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরী। যদি ঘরে পোষা প্রাণী থাকে বা আপনার এলার্জি জণিত সমস্যা থাকে, তবে আরও ঘনঘন ফিল্টার পরিষ্কার করতে পারলে ভাল হয়। ফিল্টারে কোন ধরণের ছেঁড়া-ফাটা থাকলে এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিবর্তন করে ফেলতে হবে।
২. কয়েলের যত্ন নিন:
ফিল্টারের মতই এয়ার কুলারের কন্ডেনশার কয়েল আরেকটি জরুরী যন্ত্রানুসঙ্গ। এটিতে ময়লা জমলে এসি ঠিকমত কাজ করতে পারে না এবং আপনি যথাযথ সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হন। এমনকি এ কারণে আপনার মাসিক ইলেকট্রিসিটি বিলও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হতে পারে। প্রতি ঋতুর শুরুতে অন্তত একবার কয়েল পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন মত পরিষ্কার করা জরুরী। শুরুতে এয়ার কন্ডিশনারটিকে পুরোপুরি খুলে কয়েলটিকে বের করে নিতে হবে। এয়ার ব্লোয়ার বা ছোট ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করে কয়েলের ময়লা পরিষ্কার করা যায়। প্রয়োজন হলে চিকন ব্রাশ এবং স্প্রে বোতল ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যাতে কোনভাবেই কয়েলের এ্যালুমিনিয়ামের ফিনগুলো বেঁকে না যায়। যদি বেঁকেও যায় তবে সেগুলোকে সোজা করে দিতে হবে। ফিনগুলো আঁকা-বাঁকা থাকলে কয়েল পরিষ্কার করেও কোন ফল পাওয়া যাবে না।
৩. ইনসেক্ট নেট এবং ওয়াটার ট্রে পরিষ্কার রাখুন:
ইদানীং কালের বেশিরভাগ এসির সঙ্গেই ইনসেক্ট নেট দেয়া থকে। এটি বাইরের বড় ময়লা এবং পোকা-মাকড় এসির মাধ্যমে ঘরে ঢুকতে বাধা দেয়। এটি নিয়মিত পরিষ্কার না রাখা হলেও সেটা এয়ার কুলারের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। তাই এটিকে সবসময়ই পরিষ্কার রাখা উচিত। সাধারণত এ অংশটি এসির বাইরের দিকেই থাকে। ফলে এটা পরিষ্কার করতে হলে খুব বেশি কষ্ট করতে হয় না। একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে, এসির বাষ্প নির্গমনের জন্য এর নিচে একটি ওয়াটার ট্রে থাকে। এই ট্রে-এর পানিটুকু নিয়মিত পরিষ্কার করা না হলে সেখানে মশা-মাছির মত ক্ষতিকারক কীটগুলো ডিম ছেড়ে বংশবিস্তার করতে পারে। পাশাপাশি ট্রেতে বেশি পানি জমে গেলে তা উপচিয়ে ঘর নোংরা হবার সম্ভাবনা থাকে।
মোটামুটি এ তিনটি বিষয় খেয়াল রাখলেই এয়ার কন্ডিশানারটি থেকে সবচেয়ে ভাল সার্ভিসটি আশা করতে পারেন। এছাড়াও মাঝে-মধ্যে কোন সমস্যা দেখা দিলে সেটাতে অবহেলা না করে যত দ্রুত সম্ভব সার্ভিসিং করে নিলে এ ডিভাইসটি আপনাকে সেবা দিয়ে যাবে বহুদিন পর্যন্ত।