05/01/2026
বাংলাদেশ চাষি পার্টির মূল চেতনা হলো—"কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, চাষি পার্টির বাংলাদেশ।"
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জনগণের ভাগ্যোন্নয়ন এবং একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভিশন নিচে তুলে ধরা হলো:
🌾 ভিশন: সমৃদ্ধ কৃষক, শক্তিশালী বাংলাদেশ
আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বিশ্বের দরবারে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, যখন বাংলার মাঠের কৃষক হাসবে, তখন পুরো দেশ হাসবে।
১. কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ
* মধ্যস্বত্বভোগীদের অবসান: কৃষক যাতে সরাসরি বাজারে তার পণ্য বিক্রি করতে পারে, সেজন্য বিশেষায়িত ‘কৃষক বাজার’ (Farmers' Market) প্রতিষ্ঠা করা হবে।
* ন্যূনতম সহায়ক মূল্য (MSP): প্রতিটি ফসলের জন্য সরকারিভাবে একটি ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হবে, যাতে কৃষক কখনোই লোকসানের শিকার না হয়।
২. কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তি
* স্মার্ট এগ্রিকালচার: ড্রোন প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থা এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হবে।
* কৃষি অ্যাপ ও কল সেন্টার: কৃষকদের তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল কৃষি সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
৩. বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ ও সার
* ভর্তুকি নয়, অধিকার: প্রতিটি নিবন্ধিত কৃষক পরিবারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ সার, উচ্চফলনশীল বীজ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে সরবরাহ করা হবে।
* ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণ: কৃষিকাজে ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের দাম কৃষকদের জন্য বিশেষ ছাড়ে নিশ্চিত করা হবে।
৪. কৃষকবান্ধব ঋণ ও শস্য বীমা
* বিনা সুদে ঋণ: প্রান্তিক চাষিদের জন্য জামানতবিহীন ও বিনা সুদে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।
* শস্য বীমা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে (বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়) ফসল নষ্ট হলে সেই ক্ষতিপূরণ সরাসরি কৃষকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাধ্যতামূলক শস্য বীমা চালু করা হবে।
৫. পল্লী উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন
* উপজেলা পর্যায়ে কোল্ড স্টোরেজ: পচনশীল সবজি ও ফলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় অত্যাধুনিক হিমাগার (Cold Storage) তৈরি করা হবে।
* কৃষিভিত্তিক কারখানা: প্রতিটি জেলায় স্থানীয় ফসলের ওপর ভিত্তি করে ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি বা খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে তোলা হবে, যা বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে।
৬. সামাজিক নিরাপত্তা ও শিক্ষা
* কৃষক পেনশন স্কিম: ৬০ বছর বয়সের পর প্রতিটি নিঃস্বার্থ কৃষকের জন্য সরকারি মাসিক পেনশনের ব্যবস্থা করা হবে।
* বিনামূল্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য: কৃষক সন্তানদের জন্য উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিশেষ স্কলারশিপ এবং কৃষি পরিবারের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা কার্ড প্রদান করা হবে।
"কৃষকের অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার।" আসুন, লাঙল আর কাস্তের এই লড়াইয়ে শামিল হই। যে হাত মাটি চিরে সোনার ফসল ফলায়, সেই হাতই গড়বে আগামী দিনের সোনার বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ চাষি পার্টির সাথে থাকুন—দেশের ভাগ্য বদলান।