14/10/2017
বার্মার নির্বিচার গণহত্যা ও কলম্বাসের ইতিহাস: অদ্ভুত কোনও পন্থায় ‘তিনি’ প্রতিশোধ নেবেন
--------
ক্রিস্টোফার কলম্বাস এমন একটা মহাদেশ ‘আবিষ্কার’ করেছিল যেটায় তখন ইতোমধ্যেই ৯ কোটি মানুষ ছিল- পৃথিবীর তখনকার জনসংখ্যার এক তৃতীয়াংশ।
কলম্বাস ও তার দলবল হাজির হয়েই স্থানীয়দের উপর অমানুষিক অত্যাচার শুরু করে, অত্যাচারটা এমনি, আপনি কষ্ট করেও কল্পনা করতে পারবেন না।
বাচ্চাদের শুধু শুধু আছড়ে মারে, তার দলবল তলোয়ারের ধার পরীক্ষার জন্য শত শত মানুষকে মেরে ফেলে হাসতে হাসতে। যে কথা শোনেনি দু একবার তাকেই ঝুলিয়ে তলায় আগুন দিয়ে ধীরে ধীরে সেদ্ধ করে মেরে ফেলে। কলম্বাসের পাইরেট নাবিকরা নিজের গায়ের শক্তি পরীক্ষার জন্য এক দু বছরের বাচ্চাদের টেনে ছিঁড়ে ফেলে। যে ‘যথেষ্ট স্বর্ণ’ আনতে না পারে তারই দু হাত কেটে ফেলে। এবং রক্তক্ষরণে তারা মারা যায়, কাউকে সহায়তা করতে দেয়া হয় না। হাজার হাজার মানুষকে দাস হিসেবে সাগর পাড়ি দেয়ায়, যাদের অর্ধেক খাবারও সাথে দেয় না। পথে মারা যায় শুধুশুধু অর্ধেক মানুষ। ছোট্ট ছোট্ট বাচ্চাদের উপর থেকে উল্টা করে ঝুলিয়ে কুকুর দিয়ে খাওয়ানো হতো।
নারীদের অবমাননা আরো কষ্টকর।
তাদের সামনে প্রথমে তাদের শিশুদের মেরে ফেলা হয়, এরপর মেরে ফেলা হয় তাদের। এরপর বিবস্ত্র অবস্থায় নারী ও শিশুর দেহ ঝুলিয়ে প্রদর্শন করা হয় গ্রামের পর গ্রাম।
অপছন্দ হলেই, ‘কথা না শুনলে’ই কলম্বাসের শাস্তি ছিল, চরম অবমাননা। বিবস্ত্র করে গ্রামের পর গ্রাম ঘোরানো।
কলম্বাসের লেখা, ‘শস্য উৎপাদনের চেয়ে একটা মেয়েকে ইউরোপে বিক্রি করে দেয়া বেশি লাভজনক... এখন ৯ ও ১০ বছরের মেয়েদের বেশি চাহিদা।’
হাজার হাজার শিশুকে তারা অকল্পনীয় নারকীয় অত্যাচারের ভিতর দিয়ে ইউরোপে চালান করে।
স্থানীয়দের ঘোড়া ছিল না, ছিল না তলোয়ার বা কোনও সমৃদ্ধ ধাতব অস্ত্র, ছিল না ভয়ানক শিকারী কুকুর, ছিল না সারা দেহ মুড়িয়ে রাখার মত ধাতব বর্ম।
তবু স্থানীয়রা স্বাধীনতার চেষ্টা করেছে।
সে চেষ্টার ফল হয়েছে আরো ভয়ানক।
এটা এক মানব পশুর কাজ নয়। একটা মানব পশুর চেয়ে পশু সমাজ বেশি পাপী। পশু সমাজ অনুমোদন দেয় বলেই পশু মানব পাশবিকতা করতে পারে।
এবং পশু সমাজের চেয়ে বেশি খারাপ পশু রাষ্ট্রব্যবস্থা, পশু জনসংখ্যা।
যে কোনও দেশে, যে কোনও কালে যখন কোনও অতি খারাপ কেউ অতি খারাপ কোনও কাজ করেছে, দেখা যায় তার পেছনে সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন বা সরাসরি সমর্থন থাকে।
সেটাই হতে দেখছি আমরা বার্মাতেও।
স্থানীয়রা স্বাধীনতার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।
এরপর শুরু হয় তাদের গর্ভপাত। তারা আর সন্তানের জন্ম দিবে না এই বীভৎস পৃথিবীতে। এত জঘন্য অবস্থায় কোনও শিশুকে তারা আসতে দেবে না।
এরপর শুরু হয় গণ-আত্মহত্যা।
স্থানীয়রা একেকবারে শতজনের দল একত্র হয়েও আত্মহত্যা করতে থাকে।
প্রথমে মায়েরা তাদের কোলের শিশুদের খাওয়ায় কাসাভা রস, যেন তারা অজ্ঞান অবস্থায় কম যন্ত্রণায় মারা যায়। তারপর নারী ও পুরুষরা নিজেদের হত্যা করে ফেলে।
এভাবে কলম্বাসের হাত থেকে, পাইরেট কালচারের হাত থেকে, স্প্যানিশ সভ্যতা ও ইউরোপীয় সভ্যতার হাত থেকে মুক্তি পাবার জন্য কয়েক লাখ মানুষ আত্মহত্যা করে। শুধু দু বছরে আত্মহত্যার পরিমাণ ছিল দু লাখেরও বেশি।
এই অকল্পনীয় অত্যাচারের কোনও কি সুষ্ঠু বিচার হওয়া সম্ভব? তাও সম্ভব ‘তাঁর’ পক্ষে। তাও হয়েছিল।
স্প্যানিয়ার্ডরাই কিন্তু স্পেনের বুক থেকে মুসলিমদের নাম নিশানা মুছে দিয়েছিল। গণহত্যা করে পুরোপুরি শেষ করে দিয়েছিল সকল মুসলিমকে।
তেমনি বিলুপ্তপ্রায় করে তুলেছিল কলম্বাস স্থানীয়দের। মানুষ মানুষের উপর যত অত্যাচার করার সামর্থ্য রাখে না তাও সে করে দেখিয়েছিল।
কী হল শেষ পর্যন্ত এর ফল?
কলম্বাস আক্রান্ত হল সিফিলিসে।
প্রথমে স্থানীয়দের দ্বারা সিফিলিসে আক্রান্ত হল তার জলদস্যু দল। তাদের দ্বারা দাস মেয়েরাও। ইউরোপ কখনো সিফিলিস দেখেনি, তাই ওই জীবাণুর বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ ছিল না ইউরোপীয়দের দেহে।
সিফিলিসে আক্রান্ত হল সেই মেয়ে শিশুরা, যাদের দেহদাস করে পাঠানো হয়েছে স্পেনে।
এবার পরের ধাপের পালা।
আক্রান্ত হল স্পেনের যত ব্যভিচারী জলদস্যু তাদের বেশিরভাগ।
আক্রান্ত হল নারী ও শিশু অবমাননাকারীরা।
তাদের দ্বারা আক্রান্ত হল তাদের স্ত্রীরা, তাদের অনাগত ও নবাগত শিশুরা।
এই জলদস্যুদের বড় একটা অংশ যুক্ত হয়েছিল বিভিন্ন সেনাবাহিনীতে। সেসব সেনাবাহিনী যত এলাকা দিয়ে গেল, তত এলাকার দেহব্যবসাপল্লী হল আক্রান্ত।
আক্রান্ত হল সেনাবাহিনীর পর সেনাবাহিনী। ইউরোপ জুড়ে হত্যাকারী, অত্যাচারী, লুটেরা, জুয়াড়ী, পাঁড় মদ্যপ আর ব্যভিচারীর দল সপরিবারে আক্রান্ত হল।
সিফিলিস যখন প্রথম আক্রমণ করে,
প্রথম ধাক্কায় ইউরোপের ৫০ লক্ষ অত্যাচারী ধর্ষক দাস ব্যবসায়ী সপরিবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।
এরপর আসে সিফিলিসের দ্বিতীয় ধাক্কা।
এরপর তৃতীয় ধাক্কা।
ইউরোপের জনসংখ্যা এম্নি এম্নি কম না।
বার্মার ব্যাপারে হতাশ হবার কিছু নেই, ‘তিনি’ আছেন। তিনি নিষ্ঠুরভাবে প্রতিশোধ গ্রহণ করেন,
কেননা তিনি বলেছেন,
‘আর আল্লাহ্ ভালবাসেন না অত্যাচারী জাতি ও গোত্রকে।’