১৯১৫ ইং সনে ডা. রায় বেনী মোহন দাশ বাহাদুর ও চট্টল গৌরব মহিম চন্দ্র দাশ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত উপমহাদেশের প্রাচীনতম সমবায় প্রতিষ্ঠান “দি চিটাগাং আর্বান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি:” যা জেলা সমবায় কার্যালয়, চট্টগ্রাম কর্তৃক নিবন্ধিত। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জেলা সমবায় অফিস চট্টগ্রাম কর্তৃক নিবন্ধিত সমবায় সমিতি “দি চিটাগাং আর্বান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি:”। যার নিবন্ধন নম্বর-২৫৩/৬
=======================
===============
এ উপমহাদেশে কৃষকসমাজ খড়া, বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জমিদার, জোতদার ও মহাজন শ্রেণীর নিকট ঋণগ্রস্থ হয়ে পড়ার ফলশ্রুতিতে তৎকালে কৃষক সমাজ ভিটেমাটিসহ সব কিছু হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শোষক শ্রেণীর বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে আন্দোলন গড়ে তোলে। এ আন্দোলন ও কৃষক বিদ্রোহ রোধে ব্রিটিশ সরকার বঙ্গীয় সমবায় সমিতি আইন ১৯০৪ জারীর মাধ্যমে এ উপমহাদেশে সমবায়ের গোড়াপত্তন ঘটায়। ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে “সমবায় কর্জ দাদন সমিতি বিষয়ক আইন” প্রবর্তনের মাধ্যমে সমবায়ের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। সমবায়ের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সদস্যদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজিকে একত্রিত করে তা লাভজনক খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে স্বীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিজেদের আর্থ- সামাজিক অবস্থার উন্নতি সাধন করা। পল্লী উন্নয়ন, দারিদ্র বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমবায় একটি পরীক্ষিত মাধ্যম। কারণ সমবায় সমিতি হচ্ছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত একটি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। উপমহাদেশে সমবায় আন্দোলনের প্রায় শুরুতেই “দি চিটাগাং আর্বান কো-অপারেটিভ ব্যাংক লিঃ” গঠিত হয় ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে। এ ব্যাংকটি জন্মলগ্ন থেকে চট্টগ্রামের সমবায়ী কৃষককূলকে কৃষি ঋণ দাদন করে গরীব কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নে এক অনন্য ভূমিকা পালন করে এসেছে। সমাজের বিত্তশালী, ধনী, মহাজন এবং পুঁজিবাদের অত্যাচার, নিপীড়ন হতে দরিদ্র মেহনতী সমবায়ী কৃষক কূলকে বাঁচানোর জন্য কৃষি ঋণ দাদনের মাধ্যমে আমাদের গরীব কৃষকদের জীবন যাত্রার আর্থিক উন্নয়ন সাধনে সার্বিক সহায়তা করাই ছিল এ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পুঁজিকে লাভজনক খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের সম্মিলিত প্রয়াস হলেও এ সমিতি শুরু থেকে অর্জিত মুনাফার সিংহভাগ দেশ মাতৃকার স্বাধীনতা ও নিপীড়িত দীন-দরিদ্র জনতার সেবায় উৎসর্গ করার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অত্র ব্যাংক ছিল উপমহাদেশের একটি অন্যতম অগ্রণী ও সুখ্যাতি সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান। ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে সর্বমোট ১৫জন সদস্যের অগ্রণী ভূমিকাকে কেন্দ্র করে এ সমিতি গড়ে উঠে। চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান স্বর্গীয় ডাক্তার বেনী মোহন দাশ বাহাদুর, চট্টলগৌরব স্বর্গীয় মহিম চন্দ্র দাশ ভ্রাতৃদ্বয় মাত্র ৭৩৮.০০ টাকা মূলধন নিয়ে এ ব্যাংকের কাজ শুরু করেন। কালের পরিক্রমায় এ ব্যাংকই সমগ্র উপমহাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনসেবার মহান ভূমিকা পালন করে। বৃটিশ উপনিবেশবাদ থেকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা লাভের জন্য এ ব্যাংকের মহান দেশপ্রেমিক সদস্যবৃন্দ ও ব্যাংকটি এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপরোক্ত ভ্রাতৃদ্বয়ের মহতী প্রচেষ্ঠায় স্বাধীনতা সংগ্রামী মরহুম শের-ই-চাটগাঁ কাজেম আলী মাষ্টার, মৌলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, আবদুল হক দোভাষ, জে.এন.রায়, কে.কে.সেন, গিরিজা শংকর দাশ, নেলী সেনগুপ্তা, বিপ্লবী বিনোদ বিহারী চৌধুরী প্রমুখ ব্যক্তিত্ব অত্র ব্যাংকের সদস্য হয়েছিলেন। বৃটিশ পরাধীনতা হতে উপমহাদেশকে স্বাধীন করার জন্য চট্টগ্রামের অবদান ছিল শীর্ষে। আর এই স্বাধীনতার সূর্যসেনারা অত্র ব্যাংকে বসেই এদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথ নির্দেশ করতেন। সমাজসেবামূলক কাজেরও যথেষ্ট খতিয়ান রয়েছে এ ব্যাংকের। বর্তমান চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল একদিন অত্র ব্যাংকের সিংহভাগ সাহায্যে প্রতিষ্ঠিত ও পরিপোষক হয়েছিল। চট্টগ্রামের অনাথাশ্রমেও অত্র ব্যাংক নিয়মিত আর্থিক সাহায্য দিয়ে আসত, বহু অনাথ হিন্দু মেয়েকে অত্র ব্যাংকের আর্থিক সাহায্য দ্বারা বিবাহ দেওয়া হয়। জমিদারগণের দৌর্দন্ড প্রতাপের কালে প্রজাদের রেহাই দেবার জন্য অত্র ব্যাংকের ছিল বিশাল জমিদারী তালুক। চট্টগ্রামের প্রাথমিক সমবায় সমিতির মধ্যে যে কয়টি সমবায় সমিতি অতীতের গৌরবোজ্জ্বল ও ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে সগৌরবে অদ্যাবধি টিকে আছে তার মধ্যে “দি চিটাগাং আর্বান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ” অন্যতম। ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এ সমিতি সমাজ সেবামূলক কার্যক্রমে আর্থিক সাহায্য প্রদান করার পরও মাত্র ৮ বৎসরের অর্জিত মুনাফায় উদ্বৃত্ত দিয়ে ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে আন্দরকিল্লায় সমিতির নিজস্ব ভবন ক্রয় করে। এ বিরাট ভবনে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক লিঃ এর প্রথম দপ্তর স্থাপিত হয়। যা পরবর্তীতে সিরাজদৌল্লা সড়কে স্থানান্তরিত হয়। সমিতির মূল ভবনটি একসময় চট্টগ্রামের খ্যাতনামা ব্যবসায়ী স্বর্গীয় ঈশ্বর চন্দ্র দাশগুপ্ত মহোদয়ের বাসভবন ছিল। সমিতির কর্মধারার মধ্যে স্বল্প-মধ্যবিত্ত সমাজের সভ্যকে শিক্ষা, বিবাহ, ভরণপোষণ, বাসস্থান সংস্কার, দায় থেকে উদ্ধার, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কৃষি ব্যয় নির্বাহের জন্য ঋণ দানের পাশাপাশি আর্ত-মানবতার সেবায় বহু সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ও পরিচালনার জন্য অনুদান দেয়া হত। এ সমিতির অতীতের রেকর্ডপত্রে দেখা যায় সমিতির ব্যাপক কার্যক্রম দেশ ও জনসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের কারণে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার, পাকিস্তান সরকার, তৎপরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের সমবায় মন্ত্রী, সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিভিন্ন সময়ে সমবায় সমিতি সমূহের নিবন্ধক মহোদয়গণ এ সমিতি পরিদর্শন করেছেন। বহু জনের হিতায় এ সমিতির অর্থানুকূল্য ও সহযোগিতার কথা চট্টল ইতিহাসে অমলিন থেকে যাবে।
সমিতির মহতী কর্মপ্রয়াসের কিছু তথ্য নিম্নরূপ :
চিকিৎসা সেবা :
চট্টগ্রাম বিভাগে চিকিৎসা শিক্ষা বিস্তারের জন্য স্বর্গীয় ডাঃ বেনী মোহন দাশের নেতৃত্বে আর্বান ব্যাংকের অর্থানুকূল্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল স্কুল স্থাপন করা হয়। যা পরবর্তী পর্যায়ে উন্নীত হয়ে বর্তমানের চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে রূপান্তরিত হয়েছে। শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সার্বজনীন দাতব্য চিকিৎসালয়ের সেবা কার্যে আর্বান কো-অপারেটিভ ব্যাংক নিয়মিত অর্থ সাহায্য ছাড়াও গরীব সদস্যদের চিকিৎসার জন্যও এ ব্যাংক আর্থিক সহায়তা প্রদান করত।
অনাথের সেবা :
(ক) ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীযুত বিনোদ লাল চক্রবর্তীর নেতৃত্বে বার্মা অয়েল কোম্পানীর কর্মচারীদের ধর্মঘট আন্দোলনে যোগদানকারীদের অভাব মোচনে এ ব্যাংক সাময়িক ঋণ দানের ব্যবস্থা করেছিল।
(খ) ১৯২১ খ্রিষ্টাব্দে দেশপ্রিয় যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্তের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বেঙ্গল রেলওয়ে কর্মচারী ধর্মঘট আন্দোলনে (আসাম চা বাগানের শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে) ধর্মঘটকারীদেরকে আর্থিক সাহায্য প্রদানের জন্য আর্বান ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণে দেশপ্রিয় বাধ্য হয়েছিলেন। দেশপ্রিয়-এর সহধর্মিনী এবং সমিতির সদস্য ও প্রাক্তণ চেয়ারম্যান স্বর্গীয়া নেলী সেনগুপ্তা ধর্মঘটকারীদের সেবায় নিয়োজিত ছিলেন।
গণসমাবেশ ও সম্মেলনের সহায়তা :
দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ-এর অন্তরীণ অবস্থায় দেশনেত্রী বাসন্তী দেবীর সভাপতিত্বে ১৯২২ খ্রিষ্টাব্দে বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনের প্রাক্কালে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত বিশাল প্যান্ডেল পুন: নির্মাণে আর্বান ব্যাংক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এছাড়াও ১৯২৯ খ্রিষ্টাব্দে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত নিখিল বঙ্গ আর্বান কো-অপারেটিভ ব্যাংক সমূহের সম্মেলন আয়োজনে আর্থিক সাহায্য ও সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে এ ব্যাংক।
গণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনে সহায়তা :
চট্টলগৌরব মহিম চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিষদের কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট সদস্যবৃন্দের মহতী উদ্যোগে মহাত্মা গান্ধী, মৌলানা মোহাম্মদ আলী, মৌলানা শওকত আলী, শেরে-এ বাংলা এ,কে, ফজলুল হক, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, পন্ডিত জহর লাল নেহেরু তনয়া প্রিয়দর্শিনী ইন্দিরা গান্ধীর শুভাগমন উপলক্ষ্যে ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে এক বিরাট নাগরিক সম্বর্ধনার আয়োজন করা হয়। আর্বান কো-অপারেটিভ ব্যাংক-এর অর্থায়নে।
সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে পৃষ্ঠপোষকতা :
চট্টলার সুর সাধক স্বর্গীয় সুরেন্দ্র লাল দাশ মহোদয়ের প্রতিষ্ঠিত “আর্য সঙ্গীত সমিতি” এ ব্যাংকের আর্থিক সাহায্য লাভ করত।
৬. স্বর্ণ পদক লাভ :
উপমহাদেশে সমবায় আন্দোলনে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ চিটাগাং আর্বান কো-অপারেটিভ ব্যাংক লি: উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি হিসেবে ব্রিটিশ শাসন আমলে স্বর্ণ পদক লাভ করে। অবিভক্ত ভারতবর্ষের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্ঠা চট্টগ্রামের কতিপয় কৃতিসন্তানের সার্থকস্বপ্ন এ ব্যাংক বর্তমান দি চিটাগাং আর্বান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিঃ এর ১৯১৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত ক্রমোন্নতি সাধিত হয়, ১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দ সময়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দেশভাগ ও স্বচ্ছল অবস্থার বহু সদস্য ও কর্মকর্তার দেশত্যাগ, ১৯৬৫-১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ সময়ে রাষ্ট্রীয় আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রাম ইত্যাদি কারণে অর্থনীতিতে বিরাট প্রভাব পড়ায় এ ব্যাংকের ক্রমাবনতি শুরু হয়।
৯. চট্টগ্রাম মহানগরীর শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতি নির্বাচিত :
ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার কারণে সমবায় আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সমিতি পরিচালিত হওয়ায় দি চিটাগাং আর্বান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লি: ২০১১ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে মহান সমবায় দিবসে চট্টগ্রাম সমবায় বিভাগ কর্তৃক চট্টগ্রাম মহানগরীর শ্রেষ্ঠ সমবায় সমিতির পুরষ্কার লাভ করে।
অত্র সমিতির কার্যকরী এলাকায় এ সমিতি একটি ঐতিহ্যবাহী সমবায় সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এ সমিতি সমবায়ের মূল দর্শনের ধারক হিসেবে একটি মডেল। সমিতি তার স্বকীয়তা নিয়ে যুগের পর যুগ দেশের ও সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে সুদৃঢ় আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলেছে। বর্তমানে সমিতির আর্থিক বুনিয়াদ সুদৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। যা অন্যান্য সমবায় সমিতির জন্য অনুকরণীয়। সমিতির উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির এ ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে প্রয়োজন সৎ-নিষ্ঠাবান ও যোগ্য কর্মকর্তার সমন্বয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। আর এ মুহূর্তে সমিতির সকল সম্মানিত সদস্যদের সক্রিয় সহযোগিতা ও সতর্ক সচেতনতা অতীব প্রয়োজন। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে ও সমবায়ী চেতনায় এ সমিতির গৌরবোজ্জল অতীত ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করে সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে এ সমিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাবে।