15/10/2017
কেন ক্যাপচা বা এড এ ক্লিক টাইপ আয় থেকে দূরে থাকবেন?
অনলাইনে আয় করা একটু বেশি পপুলার হয়ে যাওয়ায় যেটা হয়, অনেকের মধ্যেই একটা ধারণা চলে আসে যে তার যেহেতু কম্পিউটার আছে এবং ইন্টারনেট আছে, সেও পারবে অনলাইনে আয় করতে। বাস্তবতা টা একটু আলাদা এবং এই মানুষ গুলোই সবচেয়ে বেশি ধোঁকার শিকার হয় অনলাইন জগতে।
প্রথমেই আপনার একটা ফিলসফি বুঝতে হবে। অনলাইনে যখন ই, কোন কিছু দিয়ে আয় করতে যাবেন বা কেউ আপনাকে এসে বলবে যে ভাই এই মেথড বা উপায়ে অনলাইনে আয় করা যায়, নিজেকে ২ টা প্রশ্ন করবেন।
প্রশ্ন একঃ এই নিয়ম এ আয় কেন করা যায়? কার লাভ কি?
প্রশ্ন দুইঃ এই নিয়ম এ আয় করে কি আমি আগামী ৫ বছর জীবন চালাতে পারবো?
এই ২টা প্রশ্ন যদি আপনি সব সময় নিজেকে করেন, আপনার কখনোই লাইফে আর অনলাইনে কোন কাজ নিয়ে ধোঁকা খেতে হবে না এবং আপনি সব সময় এমন লাইনে থাকতে পারবেন যেন অনলাইন আয় দিয়ে আপনার ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।
উদাহরণ দিচ্ছি।
ধরুন আপনি এড এ ক্লিক করছেন বসে বসে, সারাদিন এ ৬ ঘণ্টা ক্লিক করে ২ ডলার ইনকাম করে নিজেকে খুব বড় ভাবছেন যখন একজন রিকশাচালক ও খুব কম সময়ে এর থেকে অনেক বেশি আয় করে। শুধু আপনি ডলার এ ইনকাম করছেন দেখে নিজেকে আলাদা ভাবছেন। তো ধরুন আপনি ৬ ঘণ্টা ক্লিক করলেন, নিজেকে প্রশ্ন করুন, আমি আসলে কি করলাম? আমার কাজের ভ্যালু টা কি? লাভ কার হল? কি লাভ?
আসলে কারো ই লাভ হয় না মাঝখানের কিছু কোম্পানি ছাড়া। বড় কোম্পানি গুলো এড দেয় যেন তাদের টার্গেট মার্কেট, তাদের কনজিউমার রা এড দেখে এবং ভাল লাগলে আরো জানতে ক্লিক করে। সেই কোম্পানি গুলো ভাবে যে এত ক্লিক হচ্ছে, আমাদের হয়তো অনেক লাভ হবে, তা তো হয় না কারণ সব ভুয়া ক্লিক। এছাড়া আপনার দিকেও লাভ নেই কারণ যেই কোম্পানি আপনাকে এই কাজ দিচ্ছে, তারা ২ দিন পর হাওয়া হয়ে যাবে কারণ ব্যপার টাই লিগাল না। এই ব্যপার টাকে বলা হয় ক্লিক ফার্মিং এবং এই ব্যপার টার জন্য এশিয়া বিখ্যাত।
এশিয়া বিখ্যাত হওয়ার কারণ আছে। এশিয়ার মানুষের মধ্যে একটা ধারণা আছে যে অনলাইনে ইনকাম করলে বা কোন কিউবিকল এ বসে ইনকাম করলে সেটা ভাল, কিন্তু দোকানে যেয়ে কাজ করলে বা কায়িক পরিশ্রম করলে সেটা খারাপ। এই ফিলসফি থেকেই ক্লিক ফার্ম গুলো এশিয়া তে বড় হয়। আমরা দিনে ৮ ঘণ্টা ইন্টারনেট এ বসে ২ ডলার আয় করতে রাজি থাকি কিন্তু আমরা একটা ফাস্ট ফুড রেস্টুরেন্ট এ চাকরি করাকে ছোট ভাবি।
যাই হোক, অফ টপিক এ চলে যাচ্ছি। অন টপিক এ আসি।
২য় যেই প্রশ্ন আপনাকে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে তা হল ৫ বছর পরে কি আপনার আয়ের এই মেথড টা থাকবে? একজন ডিজাইনার সবাইকে বলতে পারবে, দেখো, এই লোগো টা বা এই সাইট টা আমি ডিজাইন করেছি। তাই আমাকে আরো কাজ দাও। একজন এফিলিয়েট মার্কেটার তার ওয়েবসাইট দেখাতে পারবে। একজন ইউটিউবার তার চ্যানেল দেখাতে পারবে। আপনি কি বলবেন? আমি বসে বসে ক্যাপচা লিখতাম? তা তো সবাই পারে। এটা করার কি আছে, তাই না?
এই ব্যপার গুলো নিয়ে বলার অনেক কিছু আছে তবে আমি আর্টিকেল লম্বা করবো না। শুধু এতটুকুই বলি। আপনি তখন ই আয় করবেন ভাল ভাবে যখন আপনি বদলে আসলে একটা ভ্যালু দেবেন। ভ্যালু ছাড়া আয় হয় না। একজন ব্যাঙ্ক এর টেলার আয় করে কারণ সে টাকা গুনে রাখে, আবার চেক ভাঙ্গিয়ে টাকা ফেরত দেয়। এতে ব্যাঙ্ক এর গ্রাহক ভ্যালু পায়, ব্যাঙ্ক ভ্যালু পায়। একজন ক্যাপচা লিখে কি করে? সে নিজেও জানে না কি করে। এতে কার লাভ হয়, কেন হয়। সে শুধু শুনেছে ইন্টারনেট এ আয় করা যায় এবং তার যেহেতু কোন স্ক্লিল শেখার ডেডিকেশন নেই, সে ঝাঁপিয়ে পড়ে সোজা কোন মাধ্যমে।
এখন ই সময়। ভাল একটি স্ক্লিল শিখুন এবং ক্যারিয়ার গড়ায় সময় দিন।
ধন্যবাদ collected to passivejournaluniversity.com